আন্তর্জাতিক নারী দিবস: এক জঙ্গি উদযাপন

প্রথম প্রকাশ- মস্কো ১৯২০                             ইংরেজি অনুবাদ- অ্যালিক্স হল্ট ১৯৭২

রুশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য আলেক্সান্দ্রা কোলনতাই। রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম কলোনতাই । পরবর্তীকালে, সোভিয়েতে মেয়েদের জন্য আলাদা করে ‘ঝেনোটডেল’ গঠন করেন। বিবাহ প্রতিষ্ঠান, পরিবারের শোষণ থেকে মেয়েদের মুক্ত করতে তিনি শিশু পালন ও গৃহশ্রমের সামাজিকরণের জন্য লড়েছিলেন। কোলনতাইয়ের লেখা যেমন পার্টির মধ্যেকার পিতৃতন্ত্র নিয়ে সোচ্চার তেমনই ক্ষুরধার তার কলম উদারবাদী নারীবাদের বিরুদ্ধে। 

নারী দিবস বা শ্রমজীবী নারী দিবস আন্তর্জাতিক সংহতির দিন, সর্বহারা নারীর শক্তি ও সংগঠন বুঝে নেওয়ার দিন।

শুধু মেয়েদেরই নয়, ৮ মার্চ শ্রমিক ও কৃষকেরও দিন। রাশিয়াসহ সারা পৃথিবীর শ্রমিকের জন্য ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন এই নারী দিবস। ১৯১৭ সালের এই দিনেই শুরু হয়েছিল মহান ফেব্রুয়ারি বিপ্লব, যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন পিটসবার্গ-এর শ্রমজীবী মহিলারা। তাঁরাই প্রথম জার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আর তাই, শ্রমজীবী নারী দিবস আমাদের কাছে দ্বিগুণ আনন্দ-উদযাপনের দিন।

কিন্তু ৮ মার্চ সাধারণভাবে সব সর্বহারার ছুটির দিন হলে আলাদা করে এই দিনটিকে “নারী দিবস” বলা হয় কেন? কেন এই দিনের যাবতীয় উদযাপন নারী শ্রমিক ও নারী কৃষকদের ঘিরে? কেন সব সভা কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকেন নারী শ্রমিক আর নারী কৃষকরা? এতে কি শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হয় না? এই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে আমাদের পিছনে তাকাতে হবে, ফিরে দেখতে হবে নারী দিবসের উৎস, জানতে হবে কী কারণে এই নারী দিবসের আয়োজন।

কীভাবে ও কেন আয়োজিত হয়েছিল নারীদিবস?

বেশিদিন আগের কথা না, বস্তুতঃ বছর দশেক আগেও, নারীর সমানাধিকারের প্রশ্নটি ঘিরে ছিল নানা বিতর্ক, পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের সরকারে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিমত ছিল সমাজের বিভিন্ন অংশে।  শ্রমজীবী নারীর অধিকারের দাবিতে, শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে লড়াই সংগঠিত হয় বিভিন্ন পুঁজিবাদী দেশে। সংসদে শ্রমিক শ্রেণির ভোটের অংশিদারিত্ব বৃদ্ধি বুর্জোয়াদের স্বার্থের পরিপন্থী, আর তাই এই প্রত্যেকটি দেশেই শ্রমজীবী মহিলাদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত আইন পাস হওয়ায় বাধা এসেছে তাদের তরফ থেকে।

উত্তর আমেরিকায় সমাজতন্ত্রীরা বলিষ্ঠতার সঙ্গে লাগাতারভাবে মহিলাদের ভোটাধিকারের দাবি জানিয়ে গেছেন। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, শ্রমজীবী মহিলাদের রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে দেশ জুড়ে বিপুল বিক্ষোভ ও সভার আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতন্ত্রী মহিলারা। উদযাপিত হয় প্রথম “নারী দিবস”। অর্থাৎ আমেরিকার এই শ্রমজীবী মহিলারাই প্রথমবার নারীদিবস সংগঠিত করেছিলেন ।

১৯১০ সালে, শ্রমজীবী মহিলাদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস পালনের প্রশ্নটি উত্থাপন করেন। সম্মেলনে ঠিক হয়, “মহিলাদের ভোটাধিকার, সমাজতন্ত্র স্থাপনের লড়াইয়ে আমাদের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করবে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছর, প্রতিটি দেশে একই দিনে নারী দিবস উদযাপিত হবে।

সেই সময়ের প্রেক্ষিতে, সংসদকে আরও গণতান্ত্রিক করে তোলা অর্থাৎ মহিলাদের ভোটাধিকার দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও ব্যাপক করে তোলা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বু্র্জোয়া দেশগুলিতে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেও শ্রমিকদের ভোটাধিকার ছিল। ভোটাধিকার ছিল না শুধু মহিলা ও মানসিক রুগীদের। কিন্তু এর পাশাপাশি, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কঠিন বাস্তব মহিলাদের দেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করছিল। প্রতিবছর, কারখানা ও কর্মশালায় কাজ করা, সর্বক্ষণ অথবা আংশিক সময়ের পরিচারিকার কাজ করা মহিলাদের সংখ্যা বাড়ছিল। পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে মহিলারাও কাজ করেন, তাদের হাতে তৈরি হয় দেশের সম্পদ, অথচ ভোটাধিকার থেকে তারা বঞ্চিতই থাকেন।  

কিন্তু যুদ্ধের আগের শেষ কয়েক বছর জিনিসেরপত্রে দাম ক্রমেই বাড়তে থাকে। ফলে ঘরের শান্তির ঘেরাটোপে থাকা গৃহিনীও রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতে বাধ্য হন। বুর্জোয়াদের লুটপাটের অর্থনীতির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন তাঁরা। “গৃহিনীদের বিক্ষোভ” ক্রমেই নিয়মিত ঘটনা হয়ে ওঠে, কখনও অস্ট্রিয়াতে, কখনও ইংল্যান্ডে, কখনও ফ্রান্স বা কখনও জার্মানিতে।

শ্রমজীবী মহিলারা বুঝতে পারছিলেন শুধুমাত্র দোকান-বাজার ভাঙচুর করে বা দোকানদারদের ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না। তাঁরা বুঝছিলেন জীবনযাপনের খরচ এতে কমবে না। দেশের সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনার আশু প্রয়োজন অনুভব করতে শুরু করেন তাঁরা । তাঁরা বুঝতে শুরু করেন এই পরিবর্তন আনার জন্য দরকার মহিলাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, এবং তা নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিক শ্রেণিকে। 

এই সময়েই স্থির করা হয়, প্রতিটি দেশে নারী দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে শ্রমজীবী মহিলাদের ভোটের দাবিকে সামনে রাখা হবে, নারী দিবস হবে মেয়েদের ভোটাধিকারের লড়াইয়ের একটি রূপ। দিনটি চিহ্নিত হয় আন্তর্জাতিক সংহতির দিন হিসেবে, সিদ্ধান্ত হয় নারীদিবস হবে সমাজতন্ত্রের ডাকে শ্রমজীবী মহিলাদের সংগঠিত শক্তি পর্যালোচনার দিন।

প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস

সমাজতন্ত্রী মহিলাদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে নেওয়া সিদ্ধান্ত শুধু কাগজকলমেই থেমে থাকেনি। ঠিক হয়, ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ পালিত হবে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

এই তারিখটি কিন্তু এমনি এমনিই বেছে নেওয়া হয়নি। জার্মান সর্বহারার ইতিহাসে এই দিনটির গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই তারিখটি নির্ধারণ করেন আমাদের জার্মান কমরেডরা।  ১৮৪৮-এর বিপ্লবের বছরে, ১৯ মার্চ, প্রুশিয়ান রাজা প্রথমবারের জন্য সশস্ত্র মানুষের শক্তিকে স্বীকৃতি দেন এবং সর্বহারার অভ্যুত্থানের ভয়ের মুখে নতি স্বীকার করেন। সেই সময়ে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগই তিনি রাখতে পারেনননি। তবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মহিলাদের ভোটাধিকার প্রবর্তন।

১৯১১-এর ১১ জানুয়ারির পর থেকে জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতে নারী দিবস পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়। মুখে মুখে এবং সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা প্রচার করা হয়। নারী দিবসের আগের সপ্তাহে দু’টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়: জার্মানিতে প্রকাশিত হয় দ্য ভোট ফর উইমেন এবং অস্ট্রিয়াতে উইমেন’স ডে। নারী দিবসকে কেন্দ্র করে বিবিধ নিবন্ধ – “নারী ও সংসদ”, “শ্রমজীবী নারী ও পৌর বিষয়ক”, “রাজনীতির সঙ্গে গৃহিনীর কী সম্পর্ক?”, ইত্যাদিতে সমাজ ও সরকার গঠনে নারীর সমানাধিকারের বিষয়টি বিশদে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিটি নিবন্ধ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর জোর দেয়: মহিলাদের ভোটাধিকার দিয়ে সংসদকে আরও গণতান্ত্রিক করে তোলার গুরুত্ব।   

প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় ১৯১১ সালে। এর সাফল্য সবরকম প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে যায়। নারী দিবসের দিন জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার রাস্তায় ক্রুদ্ধ মহিলাদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। প্রতিটি জায়গায় সভা আয়োজিত হয় – ছোট শহরে এবং এমনকি গ্রামের হলঘরগুলিও এমন ভর্তি হয়ে যায় যে সেখানে পুরুষ শ্রমিকদের অনুরোধ করা হয় তাঁরা যাতে মহিলাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেন।

১৯২০ সালের আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারীদিবসের সোভিয়েত পোস্টার, পোস্টারের বয়ান রান্নাঘরের দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

শ্রমজীবী মহিলাদের প্রথম জঙ্গি প্রদর্শনের সাক্ষী থাকে এই দিন। দিনটি ছিল অন্য দিনগুলির থেকে আলাদা। এ দিন পুরুষরা বাড়িতে থেকে বাচ্চাদের দেখাশোনা করেন আর তাদের স্ত্রীরা, ঘরবন্দি গৃহিনীরা মিটিং-এর যান। এদিনের বৃহত্তম পথ-বিক্ষোভগুলির একটিতে ৩০,০০০ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আসে পুলিসি বাধা, পুলিস বিক্ষোভকারীদের ব্যানার কেড়ে নিতে গেলে শ্রমিক মহিলারা রুখে দাঁড়ান। শুধুমাত্র সংসদের সমাজতন্ত্রী ডেপুটিদের তৎপরতায়, সেদিন দু’তরফের সংঘর্ষে রক্তপাত এড়ানো গেছিল ।  ১৯১৩ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস মার্চের ৮ তারিখে নিয়ে আসা হয়। এই দিনটিই জঙ্গি শ্রমজীবী নারী দিবস হিসেবে রয়ে গেছে। 

নারী দিবস কী জরুরি?

আমেরিকা ও ইউরোপে নারী দিবসে অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়া যায়। একথা সত্যি যে তখনও একটিও বুর্জোয়া সংসদ, শ্রমিকদের রেয়াৎ করা বা মহিলাদের দাবিতে সাড়া দেওয়ার কথা ভাবেনি। কারণ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ভয়ে তখনও তাদের চেপে ধরেনি। 

কিন্তু নারী দিবসের কিছু অর্জন ছিল। দেখা গেছে, আমাদের সর্বহারা বোনদের মধ্যে যাদের রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম, সেই মেয়েদের মধ্যে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অসম্ভব কার্যকরী ভূমিকা নেয় নারী দিবস। নারী দিবসকে কেন্দ্র করে হওয়া সভা, বিক্ষোভ, পোস্টার, প্যামফ্লেট ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে তাঁদের মনোযোগ আকর্ষণ সহজ হয়। এমনকি রাজনৈতিকভাবে খানিক পিছিয়ে থাকা মহিলারাও ভাবেন: “আজকের দিনটা আমাদের দিন, শ্রমজীবী মহিলাদের উৎসবের দিন,” এবং তাঁরা সভা ও বিক্ষোভে যোগ দেন। প্রতিটি শ্রমজীবী নারী দিবসের পর দেখা গেছে সমাজতান্ত্রিক পার্টিতে আরও বহু সংখ্যক মহিলা যোগ দিয়েছে, সদস্য সংখ্যা বেড়েছে ইউনিয়নগুলোর। পাশাপাশি সংগঠনেরও শক্তি বেড়েছে, তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক সচেতনতা। নারী দিবসের আরও একটি ভূমিকা রয়েছে; শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতিকে শক্তিশালী করেছে এই দিন। নারীদিবস উপলক্ষে সাধারণত বিভিন্ন দেশের পার্টি নিজেদের মধ্যে বক্তা আদানপ্রদান করে: জার্মানির কমরেডরা ইংল্যান্ডে যান, ব্রিটিশ কমরেডরা হল্যান্ডে যান ইত্যাদি। এর ফলে, শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতি দৃঢ় হয়েছে এবং তা সামগ্রিকভাবে সর্বহারার লড়াইয়ের শক্তি বাড়িয়েছে। এই সবই শ্রমজীবী নারী দিবসের পাওনা। শ্রমজীবী মহিলাদের এই দিন সর্বহারা মহিলাদের সচেতনতা ও সংগঠন বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। অর্থাৎ উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে শ্রমিক শ্রেণির যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে নারী দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।

রাশিয়ায় শ্রমজীবী নারী দিবস

রাশিয়ায় শ্রমজীবী মহিলারা প্রথমবারের জন্য “শ্রমজীবী নারীদিবস”-এ অংশ নেন ১৯১৩ সালে। তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল এই সময়ে শ্রমিক ও কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে রাশিয়ার জারতন্ত্র। খোলাখুলিভাবে বিক্ষোভের মাধ্যমে “শ্রমজীবী নারীদিবস” উদযাপনের কথা তখন কল্পনা করাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু সংগঠিত শ্রমজীবী নারীরা তাঁদের এই আন্তজার্তিক দিনটি উদযাপন করেন। শ্রমিক শ্রেণির আইনি খবরের কাগজ – বলশেভিক প্রাভদা ও মেনশেভিক লুচ – উভয়েই আন্তর্জাতিক নারী দিবস সম্পর্কিত নিবন্ধ প্রকাশ করে। প্রকাশিত হয় বিশেষ প্রবন্ধ, শ্রমজীবী নারী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ছবি এবং বেবেল ও জেটকিনের মতো কমরেডদের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা।

সেই ভয়াবহ সময়ে সভা করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু পেত্রোগ্রাদে, কালাশাইকোভস্কি এক্সচেঞ্জ-এ পার্টির মহিলা কর্মীরা “নারী প্রশ্ন”-এর ওপর একটি পাবলিক ফোরামের আয়োজন করেন। প্রবেশমূল্য ছিল পাঁচ কোপেক। সভাটি বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও পুরো হল ভর্তি হয়ে যায়। পার্টি সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এই কর্মসূচিতে আতঙ্কিত হয় শাসক। সভা শেষ হওয়ার আগেই পুলিস এসে সভা ভেস্তে দেয় ও বহু বক্তাকে গ্রেফতার করে।

চরম অত্যাচারী জারতন্ত্রের অধীনে বসবাসকারী রুশ মহিলাদের নারীদিবসে অংশগ্রহণ এবং শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তাঁদের আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে স্বীকৃতি দান, সারা পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষের কাছে ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘটনা। এ ছিল এক আশার সময়ে, কারণ রাশিয়া জাগছিল, জারের জেলখানা ও ফাঁসিকাঠ শ্রমজীবী মানুষের প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনাকে আর দমিয়ে রাখতে পারছিল না।

পরের বছর ১৯১৪ সালে, রাশিয়ায় “নারী শ্রমিক দিবস” আরও সুসংগঠিতভাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শ্রমিকদের দু’টি খবরের কাগজই এই উদযাপনে যোগ দেয়। আমাদের কমরেডরা “নারী শ্রমিক দিবস” পালনের প্রস্তুতিতে সচেষ্ট হন। তবে পুলিসের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ সংগঠিত করা সম্ভব হয় না। “নারী শ্রমিক দিবস” পালনের পরিকল্পনায় নিযুক্ত কমরেডদের জায়গা হয় জার-এর জেলে, তাঁদের অনেককে পরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় উত্তরে শীতের দেশে। “শ্রমজীবী নারীর ভোটের অধিকার”, স্বাভাবিকভাবেই এই স্লোগান রাশিয়াতে স্বৈরাচারী জারতন্ত্র উৎখাতের ডাক হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সময়ে নারী শ্রমিক দিবস

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিটি দেশের শ্রমিক শ্রেণি ভেজে যুদ্ধের রক্তে। ১৯১৫ ও ১৯১৬ সালে, বিভিন্ন দেশে খুব স্বল্প আয়োজনে “শ্রমজীবী নারী দিবস” উদযাপনের চেষ্টা করা হয়। রুশ বলশেভিক পার্টির আদর্শের সঙ্গে সহমতপোষণকারী বামপন্থী সমাজতন্ত্রী মহিলারা ৮ মার্চ, শ্রমজীবী নারীদের নেতৃত্বে যুদ্ধ বিরোধী বিক্ষোভ সংগঠিত করার পরিকল্পনা নেন। কিন্তু জার্মানিতে সমাজতন্ত্রী পার্টির বিশ্বাসঘাতকরা সমাজতন্ত্রী মহিলাদের জমায়েত সংগঠিত করার অনুমতি দেয় না, অনুমতি মেলে না অন্যান্য দেশেও। এই মহিলাকর্মীরা অন্য নিরপেক্ষ দেশগুলিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেন, বুর্জোয়াদের আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সংহতির চেতনাকে যে ধ্বংস করা যায়নি সেটা সকলের সামনে তুলে ধরা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁদের এই উদ্যোগকে বানচাল করার জন্য সমাজতন্ত্রী মহিলা কর্মীদের পাসপোর্ট দিতে অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলি।

১৯১৫ সালে শুধুমাত্র নরওয়েতে মহিলারা নারীদিবসের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সক্ষম হন; রাশিয়া ও নিরপেক্ষ দেশগুলির প্রতিনিধিরা সেখানে যোগ দেন। রাশিয়াতে নারী দিবস পালনের কথা ভাবাও যায়নি কারণ সেসময়ে এখানে জারতন্ত্র ও তার সামরিক অত্যাচার ছিল লাগামহীন।  

তারপর এল ১৯১৭। খিদে, ঠান্ডা ও যুদ্ধে নাজেহাল রাশিয়ার শ্রমিক ও কৃষক মহিলাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। ১৯১৭ সালের ৮ মার্চ (২৩ ফেব্রুয়ারি)[i], শ্রমজীবী নারী দিবসে, তাঁরা নির্ভীকভাবে নেমে এলেন পেত্রোগ্রাদের রাস্তায়। মহিলারা – যাদের কেউ ছিলেন শ্রমিক, কেউ ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্মীর স্ত্রী – দাবি জানালেন “আমাদের শিশুদের জন্য চাই রুটি”, “আমাদের স্বামীদের ট্রেঞ্চ থেকে ফিরিয়ে আনো”। এই সময়ে, শ্রমজীবী মহিলাদের প্রতিবাদ, জারতন্ত্রের নিরাপত্তা বাহিনীকেও এতটাই ভীত করে তোলে যে তাদের মত নির্মম শক্তিও বিদ্রোহ দমনের প্রচলিত পদক্ষেপগুলো নিতে সাহস করে না, এবং বিমূঢ় হয়ে রাস্তায় ক্ষুব্ধ মানুষের কাতারে নজর রাখতে থাকে।

১৯১৭ সালের শ্রমজীবী নারী দিবস ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় একটি দিন। এই দিনে, রুশ মহিলাদের অংশগ্রহণে শুরু হয় সর্বহারার বিপ্লব, বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে। শুরু হয় ফেব্রুয়ারি বিপ্লব।      

 লড়াইয়ে আমাদের আহ্বান

“শ্রমজীবী নারী দিবস” প্রথম আয়োজিত হয়েছিল আজ থেকে দশ বছর আগে, মহিলাদের রাজনৈতিক সমানাধিকার ও সমাজতন্ত্রের লড়াইয়ের প্রচার-কে সামনে রেখে। রাশিয়াতে শ্রমিক শ্রেণির মহিলারা এই লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছেন। সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে, শ্রমজীবী ও কৃষক মহিলাদের ভোটাধিকারের দাবিতে অথবা নাগরিক অধিকারের দাবিতে আর লড়াই করতে হয় না। রাশিয়ায় শ্রমজীবী ও কৃষক মহিলারাও সমনাগরিকের মর্যাদা পেয়েছেন – জীবনকে উন্নত করার লড়াইকে সহজতর করার জন্য তাঁদের হাতে আজ একটি শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে – ভোট দেওয়ার অধিকার, সোভিয়েত এবং সমস্ত কালেক্টিভ সংগঠনে অংশ নেওয়ার অধিকার। 

কিন্তু শুধুমাত্র অধিকারই যথেষ্ট নয়। আমাদের শিখতে হবে কীভাবে সেই অধিকারকে আমরা কাজে লাগাব। আমরা শিখেছি, ভোটাধিকারকে কীভাবে শ্রমিক-প্রজাতন্ত্র ও নিজেদের সুবিধার কাজে ব্যবহার করা যায়। সোভিয়েত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দু’বছর আগে, এরই মধ্যে আমাদের জীবন যে সম্পূর্ণ বদলে গেছে এমনটা নয়। আমরা এখন কম্যুনিস্ট সমাজ গড়ে তোলার সংগ্রামে নিয়োজিত, আর আমাদের ঘিরে রয়েছে আমাদের অন্ধকার ও নিপীড়ক অতীতের থেকে যা কিছু আমাদের প্রাপ্ত। শ্রমজীবী মহিলারা আজও পরিবার, গৃহকর্ম, যৌনপেশার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। শুধুমাত্র আইনের অধিকারে নয়, রাশিয়াকে একটি সত্যিকারের কম্যুনিস্ট সমাজের পরিণত করার কাজে সমস্ত শক্তি ব্যয় করলে, শ্রমজীবী ও কৃষক মহিলারা প্রকৃত অর্থেই সমানাধিকার অর্জন করবেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন। সাম্যের সেই দিনকে ত্বরাণ্বিত করতে প্রথমে আমাদের রাশিয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে মেরামত করতে হবে। এখন আমাদের অবিলম্বে দু’টি কাজ করতে হবে – সুসংগঠিত ও রাজনীতি সচেতন শ্রমশক্তি তৈরি এবং পরিবহন ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আমাদের শ্রমিকবাহিনী তৎপরতার সঙ্গে কাজ করলে খুব তাড়াতাড়িই আমরা আবার বাষ্প ইঞ্জিন পাব; চালু হবে রেলপথ। এর অর্থ শ্রমজীবী পুরুষ ও মহিলারা তাঁদের নিতান্ত প্রয়োজনীয় রুটি ও জ্বালানি কাঠ পাবেন।

পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে কম্যুনিজমের জয় ত্বরান্বিত হবে। এবং কম্যুনিজমের জয়ের সঙ্গে আসবে মহিলাদের সম্পূর্ণ ও মৌলিক সমানাধিকার। সেই জন্য এই বছরের “শ্রমজীবী নারী দিবস”-এর বার্তা: “রেলপথের বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে পরিবহন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সর্বতোভাবে শ্রমিক ও কমরেডদের পাশে থাকবে শ্রমজীবী মহিলা, কৃষক মহিলা, মা, স্ত্রী ও বোনেরা। সকলে এককাট্টা হয়ে লড়বে রুটি, জ্বালানি কাঠ ও কাঁচামালের জন্য।”

১৯১৮ সালের রেড সিস্টার মিলিশিয়ার সদস্যরা
ছবি workers.org থেকে সংগৃহীত

গতবছর শ্রমজীবী নারী দিবসের স্লোগান ছিল: “লাল ফ্রন্টের জয়ের প্রতি সবটুকু।” এখন শ্রমজীবী মহিলাদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এবার একটি রক্তপাতহীন ফ্রন্টে নিজের শক্তি নিয়োজিত করুন – শ্রম ফ্রন্টে! লালফৌজ বাইরের শত্রুকে হারাতে পেরেছে কারণ তারা ছিল সংগঠিত ও সুশৃঙ্খল, এবং তাদের ছিল আত্মত্যাগের প্রস্তুতি। সংগঠন, কঠোর শ্রম, স্ব-শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ভেঙে পড়া পরিবহন ও অর্থনীতি, খিদে, শীত ও রোগের মতো অভ্যন্তরীণ শত্রুকেও পরাহত করা সম্ভব। “রক্তপাতহীন শ্রম ফ্রন্টের জয়ের প্রতি সকলে! সকলে এই জয়ের প্রতি!”

শ্রমজীবী নারী দিবসের নতুন কর্তব্য

অক্টোবর বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে এদেশের নারীরা, নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষদের সমতুল্য অধিকার পেয়েছেন। কিছুদিন আগে পর্যন্তও রাশিয়ার সর্বহারা মহিলারা ছিলেন সবথেকে দুর্ভাগা ও নিপীড়িত, আজ তাঁরাই সারা পৃথিবীর কমরেডদের পথ দেখাচ্ছেন। সোভিয়েত রিপাবলিক-এ তাঁরা দেখাচ্ছেন সোভিয়েত শক্তি ও সর্বহারার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কীভাবে রাজনৈতিক সমানাধিকার নিশ্চিত করে। পুঁজিবাদী দেশগুলির থেকে এখানকার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই আলাদা। পুঁজিবাদী দেশে মহিলাদের এখনও অতিরিক্ত কাজ করতে হয় এবং তাঁরা সমস্ত রকম সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই দেশগুলিতে মহিলাদের স্বর প্রায় অনুপস্থিত । একথা সত্যি যে অনেক দেশে – যেমন নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি রাজ্যে মহিলারা যুদ্ধের আগেই নাগরিক অধিকার অর্জন করেছেন।

জার্মানিতে কাইজার-এর উৎখাতের পর, “আপসকামী”[ii]-দের নেতৃত্বে বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে ছত্রিশজন মহিলা সেখানকার সংসদে যান – কিন্তু তারমধ্যে একজনও কম্যুনিস্ট সেখানে ছিল না।

১৯১৯ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম একজন মহিলা সাংসদ নির্বাচিত হন, কিন্তু তিনি কে? একজন “লেডি”[iii]। অর্থাৎ জমির মালকিন, অভিজাত।

সাম্প্রতিককালে ফ্রান্সেও মহিলাদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা চলছে।  

কিন্তু বুর্জোয়া সংসদ কাঠামোয় এই অধিকারগুলি শ্রমজীবী মহিলাদের কোন কাজে আসবে? যতদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকবে পুঁজিপতি ও সম্পত্তির মালিকদের হাতে, কোনও রাজনৈতিক অধিকারই শ্রমজীবী মহিলাদের গৃহ ও সমাজের প্রচলিত দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। সর্বহারার মধ্যে বলশেভিক আদর্শ প্রসারিত হতে পারে এই ভয়ে, ফরাসি বুর্জোয়ারা শ্রমজীবীদের দিকে আরও একটা রুটির টুকরো ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত: তারা মহিলাদের ভোটাধিকার দিতে রাজি। 

মিস্টার বুর্জোয়া স্যার! অনেকটা দেরি হয়ে গেছে

রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের অভিজ্ঞতার পর ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও অন্যান্য দেশের শ্রমজীবী মহিলাদের কাছে এ’কথা পরিষ্কার যে শুধুমাত্র শ্রমিক শ্রেণির একনায়কতন্ত্র, শুধুমাত্র সোভিয়েত ক্ষমতাই পারে সম্পূর্ণ সমানাধিকার নিশ্চিত করতে। কম্যুনিজমের চূড়ান্ত জয়ের মধ্যে দিয়েই শত শত বছর ধরে চলে আসা অত্যাচার, নিপীড়ন এবং অধিকারহীনতার অবসান ঘটবে। আগে বুর্জোয়া সংসদের আধিপত্যের সময়ে “আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারীদিবস”-এর কর্তব্য ছিল মহিলাদের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই, এখন শ্রমিক শ্রেণির সামনে একটি নতুন কর্তব্য: তৃতীয় আন্তর্জাতিকের লড়াইয়ের স্লোগানকে সামনে রেখে শ্রমজীবী নারীদের সংগঠিত করা। বুর্জোয়া সংসদের কাজে অংশ না নিয়ে রাশিয়ার ডাকে সাড়া দিন –    

“সারা বিশ্বের শ্রমজীবী বোনদের বলছি! বিশ্বজোড়া লুঠেরা রাজের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সর্বহারা ফ্রন্ট গড়ে তুলুন! বুর্জোয়া সংসদবাদ নিপাত যাক! সোভিয়েত ক্ষমতাকে স্বাগত! শ্রমজীবী পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বৈষম্য দূর হোক! বিশ্ব কম্যুনিজমের লক্ষ্যে আমাদের লড়াই! এই লড়াই আমরা লড়ব শ্রমিকদের পাশে থেকে!”

নতুন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সময়ে প্রথম এই আহ্বান শোনা যায়, গৃহযুদ্ধের লড়াইয়েও শোনা যাবে এই ডাক, এই ডাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রমজীবী নারীর হৃদয় স্পর্শ করবে। তাঁরা এই আহ্বান শুনবেন ও তাতে আস্থা রাখবেন। কিছুদিন আগে অবধিও তাঁরা ভাবতেন তাঁদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠাতে পারলে জীবন সহজ হবে ও পুঁজিবাদের জুলুম খানিকটা সহনীয় হবে। এখন তাঁরা সত্যিটা জানেন।  

একমাত্র পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উচ্ছেদ ও সোভিয়েত ক্ষমতার প্রতিষ্ঠাই পারে তাঁদের এই যন্ত্রণা, অবমাননা ও বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে, যে বৈষম্য এই দেশগুলিতে শ্রমজীবী মহিলাদের জীবনকে করে তুলেছে কঠিন ও দুঃসহ। শ্রমজীবী নারী দিবস, ভোটাধিকারের লড়াই থেকে নারীর পূর্ণ স্বাধীনতার লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ সোভিয়েত ও কম্যুনিজমের জয়ের লড়াই।

সম্পত্তি ও পুঁজির শাসনের পৃথিবী নিপাত যাক!

বুর্জোয়া পৃথিবীর ঐতিহ্য – লিঙ্গ বৈষম্য ও নারী নিপীড়ন বন্ধ হোক, দূর হোক নারীর অধিকারহীনতা!

সর্বহারার – সকল লিঙ্গ পরিচয়ের সর্বহারার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শ্রমজীবী নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের পথে এগিয়ে চলুন।


[i] জারের রাশিয়া তখনও পুরনো মধ্যযুগীয় “জুলিয়ান” ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত, বাকি পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে ব্যবহৃত “জর্জিয়ান” ক্যালেন্ডার থেকে ১৩ দিন পিছিয়ে এই ক্যালেন্ডার। তাই পুরনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৮ মার্চ ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। তাই ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লবকে বলা হয় ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও ১৯১৭ সালের নভেম্বর বিপ্লবকে বলা হয় অক্টোবর বিপ্লব। 

[ii] আপোষকামী বলতে কলোনতাই এখানে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের কথা বলছেন, যারা ১৯১৮ সালে কাইজারের পতনের পর জার্মানিতে নতুন পুঁজিবাদী সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় আসার পর তারা সক্রিয়ভাবে প্রতিবিপ্লবকে সমর্থন করে।

[iii] ব্রিটিশ সংসদে কাজ করা প্রথম মহিলা অবশ্যই অভিজাত লেডি অ্যাস্টর, কিন্তু সংসদের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধি ছিলেন বিপ্লবী কর্মী কনস্ট্যানস মার্কেভিচ। সিন ফিন পার্টির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও সাম্রাজ্যবাদী সংসদে আসন গ্রহণে অস্বীকার করেন।

https://www.marxists.org এ সংরক্ষিত ইংরেজি অনুবাদ ভাষান্তরিত। 

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.