ইট মাইট রেইন

ঠিক তক্ষুনি তার পায়ের নিচে বিছানো বালির চাদরে

আদরে ভেসে যাচ্ছিল মরক্কান জ্যোছনা।

আকাশে তখন চাঁদের গায়ে মেঘের মরচে জমে

ধীরে।

সেই আসন্ন বৃষ্টির কামগন্ধ মাখা বাতাস চেখে নিতে নিতে

আফিয়ার খুব চুমু পেলো

অনেকটা যেমন কান্না চাপতে গিয়ে হাসি পাওয়ার মতো।

পাশের সুঠাম পুরুষকে বলল আলতো স্বরে,

‘আমি কি তোমায় চুমু খেতে পারি?’

ছেলেটি তখন অন্ধ

তখনো দেখেনি সে আকাশ কিম্বা আফিয়ার মুখ

‘আকাশে কি এখন খুব চাঁদ?’

‘না, মেঘের আড়ালে। তবে আর খানিক পর বের হয়ে আসবে।

তার আগে কি আমরা একটা চুমু খেতে পারি?’

প্রায় কাতর শোনায় আফিয়ার স্বর।

চোদ্দ বছরের শিউলি তখন কোর্টে,  

অন্তত পঞ্চাশ জোড়া উৎসুক চোখের সামনে

নগ্ন,

কেননা বিরুদ্ধ পক্ষের উকিল তার থেকে

জেনে নিচ্ছেন কেমন করে হয়েছিল রেপ

তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা।

শিউলির তো এই ছেলেটির সাথে প্রেম ছিল

সহবাসে সম্মতি ছিলনা?

উকিলের বেকুব বনে যাওয়া মুখ দেখে

শিউলি প্রায় লজ্জায় পড়ে যায়।

ইটভাটায় হাড়ভাঙা খাটুনির পর

সপ্তাহান্তের ছুটিতে

একবারই শুধু সিনেমা যেতে রাজি হয়েছিল সে।

গিয়ে বুঝেছিল

ছেলেটি আসলে অন্ধ

তার হাতের আঙ্গুল খুঁজে নিতে চায়

শিউলির বুকের ভাঁজ, যোনিদ্বার।

বৃষ্টিতে ভিজে যেতে চায় বুকের ভিতর

তবু মুখ ঢাকেনা শিউলি।  

‘তোমার সাথে থাকা আর আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না শুভ।

ভালো থেকো।’

মেইলের শেষ লাইনটা লিখে জানলা দিয়ে বাইরে তাকায় এডিথ।

বাইরে তখন মেঘের চাদরে ঢাকা বিশ্রী আকাশ।

‘বাজ পড়ার আওয়াজে ভয় করলে দরজা জানলা ভালো করে বন্ধ করে রেখো।

ইট মাইট রেইন।’

সেন্ড বাটন চাপে এডিথ।

                                   

 

                                                                                               ছবি- কৌশিক সরখেল

শেয়ার করুন

1 thought on “ইট মাইট রেইন”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *