উইচহাণ্ট

বাঁশঝাড়ের আড়াল থেকে অল্প অল্প ধোঁয়া বের হয়ে আসছে। পথ ঘুরে ঘুরে বেঞ্জামিন সেদিকে এগোতে থাকে। ছায়ায় বসে আছে কারা যেন। হাতে ঝুলছে জ্বলন্ত বিড়ি, চোখ সামনের দিকে। নদীর দিকে, পাহাড়ের দিকে, রোদে জলে সাঁতারু বাচ্চাদের দিকে। পিছন থেকে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসে বেঞ্জামিন।

কাঁহা সে আয়ে হো আপ?

কলকাত্তা।

ইঁয়াহা কেইসে আ গ্যয়ে?

ব্যস ঘুমতে ফিরতে। শুনা এক নদী হ্যায়, বাগান হ্যায়, নদী কা নাম শঙ্খিনী। আপকা নাম কেয়া হ্যায়?

বেঞ্জামিন।

বেঞ্জামিন ঠিক বুঝতে পারেনা কীভাবে কথাটা বলবে। ওদিকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। এই সময়েই ওরা আসে, শুনেছে বেঞ্জামিন। ওরা তিনজন। দেখে বোঝা যায়না ওরা কারা। নানা ছদ্মবেশে একেক দিন। কিন্তু ওরা আসে, ওরা নিয়ে যায়, ওরা রেখে যায় গলার ওপরে সরু সরু আঙ্গুলের দাগ।

যদিও বেঞ্জামিন এসব বিশ্বাস করেনা।

সে ঠিক করে আর কিছুই বলবে না।

সে ঘুরে দাঁড়ায়।

শেষপর্যন্ত লাল ব্রিজটাই দুজনের মনে ধরে। শাখা শঙ্খিনী। মেঠো চর আর চড়া রোদ। ওপাশে পাহাড়, এপাশে চা-বাগান। ছোট ছোট শিশুদের স্নান। পথ ঘুরে ঘুরে বাঁশঝাড়ে ছায়ার দেখা পেল চন্দ্রকেশী। পিছন ফিরে তার হাতছানি হয়। কিন্তু তার আগেই বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে দেবদত্তার নীল ছায়া। বাঁশের বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল ওরা দুজন। চৌকাঠে বসল একে একে। আছে এক বাঁশের দরোজা। দরোজার ওপারে রোদ আর নদী আর পাহাড়। আর ছোট ছোট ক’টি ছেলে। দৌড়ে এসে লাফ দিয়েছে নদীতে। ইস আমরা যদি ওদের মত হতাম! রোদকে ভয় পায় না। রোদের সন্তান কটি ছোট ছোট গাঁয়ের ছেলে।

নিজেদের কথা ভেবে নিজেদের অভ্যাসে হাত রাখে ওরা। জ্বলে ওঠে। কাটাকুটি হয়। সামান্য ধোঁয়া বাঁশের ফাঁক দিয়ে গ্রামের দিকে উড়ে যায়। আর ওরা চোখ রাখে নদীর দিকে। পাহাড়ের দিকে। রোদে জলে সাঁতারু বাচ্চাদের দিকে। 

পিছনে শব্দ হয় হাঁটাচলার।

ঘুরে তাকায় চন্দ্রকেশী। লম্বা রোগা মুখে চাপদাড়ি। ‘কাঁহা সে আয়ে হো আপ?’ আহ সেই জবাবদিহি। সত্যিই ক্লান্ত লাগে চন্দ্রকেশীর। তবু সে ধীরে ধীরে বলে তার ও তাদের কাহিনী। কিন্তু কে এই লোক? কী নাম ওর?

বেঞ্জামিন।

বেঞ্জামিন তুমি কে? কেন জানতে চাও আমাদের কথা?

ওরা বলে তোমরা নাকি তোমরা নও। ডাকিনীরা এসেছে কাদের বেশে ওরা জানতে চায়।

তিন বুড়ি ডাইনি? আমরা? যাঃ!

এখানে এখন খুব ভয়, জানো? কারা এসে নিয়ে যাচ্ছে ছোটদের। গলা চেপে কারা যেন মুখ বন্ধ করে দিয়ে যায়। প্রতি সন্ধ্যায়। ওরা ভাবছে তোমরাই তারা। তোমরাই ডাকিনীর দূত। ওরা মরিয়া, আজ আর ছাড়বেনা তোমাদের।

আর অমনি। হঠাৎ এক দুই তিন কাতারে কাতারে ছেলে, যুবা, মেয়ের দল কোলে শিশু ঘিরে ধরে। শহরের দুই মেয়ে চোখ তুলে তাকায়।

বেঞ্জামিন আটকাতে যায়। লোকেরা দূরে ঠেলে দেয় তাকে। চিৎকার করে ওঠে বেঞ্জামিন—ওরা নয়, ওরা তারা নয়। ওরা এমনি এসেছে বেড়াতে বেড়াতে। কোনো কথা না শুনেই নীলজামা এগিয়ে আসে শহরের মেয়ে দুটির দিকে।

এক্ষুনি তাড়াতে হবে এদের। বিকেল নেমে এলেই অচেনা বেশ ছেড়ে চেনা ডাইনিরা বেরিয়ে আসবে ওদের মধ্যে থেকে। নিয়ে যাবে। ছোটরা আর খেলবে না। দুপুরে আর ওদের জলে ঝাঁপাঝাঁপি শোনা যাবে না। নদী আর কুলকুল কুলকুল থাকবে না। তাড়াতেই হবে ওদের। এক্ষুনি। বোকা বেঞ্জামিন! জানেনা ওর ঘরে ওর মেয়ে ওর বউ কতটা বিপদে আছে। সবার জন্য বিপদ ডেকে আনছে বেঞ্জামিন।

নীলজামা চোখে রাগ চোয়াল শক্ত করে এগিয়ে আসে। কোমর বেঁধে তেড়ে আসে মেয়েদের দিকে। তাকিয়ে রয়েছে। মেয়েটা তাকিয়ে রয়েছে সোজাসুজি নীলজামা-র চোখের মণির দিকে। বড় বড় জ্যান্ত কাজলকালো চোখ। ওঃ মা! এখুনি পুড়িয়ে দেবে বুঝি। চিৎকার করে ওঠে নীলজামা,

আঁখে নীচে করো। কেয়া দেখ রহে হো? দেখ কেয়া রহি হো তুম? আঁখে নীচে।

নীলজামা-র মনে হয় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। রক্তশূণ্য হয়ে যাবে জোয়ান শরীর। এই যারা বেপাত্তা করে দিচ্ছে মেয়েদের, ছোটদের—ডাইনি কোনো, এক নয় দুই নয় তিন তিন ডাইনি প্রায়ই তো আসে ওদের এলাকায়। এদের তিন নম্বরটা কোথায়। খুঁজতে হবে, শেষ করে দিতে হবে আজই। পুরুষ হিসেবে ভয়ে গুটিয়ে থাকা মানায় না তাকে, বেঞ্জামিন যাই বলুক। ওরা এসে গেছে। ছোটদের বড়দের যুবক যুবতীদের নিয়ে চলে যাবে। বাগানে থাকবে শুধু কাঁচা চা এর গন্ধ। নদীতে থাকবে শুধু একা জল। ওরা এসে গেছে।

কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। মরিয়া হয়ে আবার চেঁচিয়ে ওঠে নীলজামা।

উঠো নহি তো ব্যাগ ফেঁক দেঙ্গে নদী মে।

ওদের একজন কথা বলতে চায়। বিরক্ত হয়। কিন্তু সে এসব ভ্রূক্ষেপ করে না। রাতে যখন বাড়ি বাড়ি দরজা বন্ধ করে হারানোর ভয়ে অন্ধকার হয়ে থাকে, তখনের কথা মনে হয় ওর। রাগ হয়। ভয় হয়। আর যত ভয় হয় ততই মরিয়া হয় নীলজামা।

বেরিয়ে যাও। বেরিয়ে যাও নইলে মেরে দেব এখানেই। শেষ করে দেব।

নীলজামা তেড়ে আসে বড় চোখের দিকে। কাজলকালো চোখ উপেক্ষা করে হাত ওঠায়।

মারবেন নাকি?

খবরদার।

চোখ নিচে, বেরিয়ে যাও বলছি। চোখ তুলবে না।

মেয়েদুটি বাঁশঝাড়ের আড়াল থেকে রোদে এসে দাঁড়ায়। মেয়েদুটি ধীরে ধীরে ভেসে ভেসে সামনে আরো সামনে চা-বাগানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

‘আঁখে নীচে করো। কেয়া দেখ রহে হো? দেখ কেয়া রহি হো তুম?’

কেমন চেনা লাগে শুনতে। মনে হয় মালবাজারের কোন এক অখ্যাত নিবিড় বাগানে নয়, এ কথা, ওরা শুনেছে কোথায় যেন, বারবার। চোখ নামিয়ে রাখার কথা। মাথা নামিয়ে রাখার কথা। শুধু নিচু, নিচু হয়ে থাকার কথা।

ডাইনি তো বটেই। এখানে যেমন, নিজের শহরেও তাই। পথেঘাটে তাই, পরিবারে তাই। ডাইনি সন্দেহে কুপিয়ে খুন আর পুড়িয়ে হত্যা। ভয় থেকে হোক, কিম্বা ভয় দেখাতে। ওদের কি মেরে ফেলা হবে? উত্তরবঙ্গের গ্রামে ডাইনি সন্দেহে হত্যা তিন তরুণীর? তাও কি সম্ভব?    

একটা গোটা গ্রাম ছায়ার মত পিছু নিয়েছে ওদের। দেবদত্তা আর চন্দ্রকেশী একবারও পেছনে ফেরে না। সোজা এগোতে থাকে সামনের দিকে। পাহাড় ফেলে রেখে নদী ফেলে রেখে রোদভরা শিশুদের ফেলে রেখে মাইল মাইল চা বাগানের দিকে হেঁটে যায় ওরা। ছেলে বুড়ো মেয়ে শিশু ওদের অনুসরণ করে দূর থেকে। সামনে এগিয়ে আসে তিলোত্তমা। তিলোত্তমা বাগানে হারিয়ে গিয়েছিল। এখন শব্দ শুনে এগিয়ে এসেছে চন্দ্রকেশীদের কাছে।

রাস্তার একপাশে পাশাপাশি হয় ওরা তিনজন। পিছনে গ্রামের মানুষ। উদ্ধত, মারমুখী। আরো পিছনে শঙ্খিনী নদী। ওরা হেঁটে হেঁটে আসে বাগান পেরিয়ে অন্য আরো বাগানের দিকে। রোদ চলে যায় ওদের ছেড়ে। কালো আকাশের নীচে ওরা তিনজন। তিনজন তখনো শুনতে পায় নদীর শব্দ। জলপাথরের শব্দ। তৃষ্ণার্ত চোখে ওরা এগোতে থাকে সেই শব্দের দিকে। ঐ ঐ ঐ। আরো এক সরু জলরেখা, আরো এক চায়ের বাগান। আকাশ। পাহাড়। দূরে দূরে মাঠ। ওরা ছুটে যায় নদীর দিকে। নীচু হয়ে পা রাখে জলে। আহা কত পাথর এখানে। ছোট ছোট লাল নীল হলুদ সবুজ রঙ। নীচু হয়ে তাদের কুড়োতে থাকে তিলোত্তমা চন্দ্রকেশী আর দেবদত্তা। সরু নদীটার এপার ওপার করে ওরা। শুধু ওরা। চারদিকে আর কেউ কোথাও নেই। কালো আকাশের নীচে ওরা তিনজন পাথর দেওয়ানেওয়া করে। তারপর বৃষ্টি আসে আকাশ থেকে নদীর বুকে। ওরা সমস্ত হারিয়ে ফেলে। ওরা সমস্ত ভুলে দাঁড়িয়ে থাকে বৃষ্টির নীচে। দাঁড়িয়ে থাকে নদীর ওপর। মাথা নীচু। চোখ ঝুঁকে আছে জলে। জলে তখন কাঁপা হাতে পাথরের ছবি এঁকেছে বৃষ্টির ফোঁটা। ওরা মুগ্ধ তাকিয়ে থাকে সেই রঙ্গিন ছবির দিকে। মাঝে মাঝে হাট ডুবিয়ে তুলে নেয় কয়েকটা রঙ, আবার ঢেলে দেয় অন্য কোথাও। ঝুমুর বৃষ্টিতে ওরা শুয়ে পড়ে নদীর ভেতর। জল ভেসে যায় ওদের ওপর দিয়ে, বৃষ্টি পড়ে ওদের বুকে মুখে শরীরে।

দূর থেকে ভয়কে দেখে নীল জামা ও তার গ্রামের মানুষ। দেখে হাঁটতে হাঁটতে ঐ তিন ছদ্মবেশী ভয় আকাশ বাতাস থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে মেঘ। মেঘ উড়ে আসে ওদের মাথার ওপর। রোদ থেকে অমন কাজলকালো মেঘ। নীল জামা দূর থেকে দেখে আর মনে মনে শঙ্খিণীর জলের কাছে প্রার্থনা করে। নীল জামা দেখে নদীর ওপর ওপর হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে তিন ডাইনি। শহরের মেয়ে হইলে, জলে হাঁটতে পারবে কেন? ওরা দূর থেকে, বাগানের ঢালের আড়াল থেকে দ্যাখে এক বিস্ময়কর তন্ত্রমন্ত্ররীতি। নীচু হয়ে তিনজন তুলে নেয় একেক রঙের পাথর, তারপর একে অন্যকে কি যেন বলে বলে দেওয়ানেওয়া করে সেই মন্ত্রপূত রঙ্গিন পাথর। জামার ভিতরে ভরে রাখে সেসব। আর তারপরই, মুহুর্তের মধ্যে নেমে আসে ভীষণ বৃষ্টি। তাদের মন্ত্র দিয়ে তাদের পাথর দিয়ে ডাকিনীরা ডেকে এনেছে মেঘ আর বৃষ্টি। অঝোর বৃষ্টিতে ওরা। ওরা তিনজন অনায়াস ভেসে আছে জলের ওপর। কিভাবে পারবে কোনো শহরের মেয়ে? পাথরের জলে মুখ বুক ডুবিয়ে ভেসে থাকতে পারবে না। তবুও ওরা পারে। ওরা জানে জলে হাঁটা, জলে ভেসে থাকার গোপন বিদ্যা। নীল জামা স্তম্ভিত চোখে তাকিয়ে থাকে অজানা ডাকিনীদের দিকে। তাকিয়ে থাকে কেননা তার মনে হয় এখন আর সেভাবে দেখা যাচ্ছেনা ওদের। বৃষ্টিতে মেঘে মিলিয়ে যাচ্ছে ওরা। একটু একটু করে ওদের বুক মুখ ও শরীর।

নীল জামা আবার তাকায় ওদিকে। সত্যিই কি আর দেখা যায়না ওদের? ছদ্মবেশ ছেড়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে ওরা তিনজন? নীল জামা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেনা। সে ঠিক করে ভালো করে দেখে নেবে ওরা এখনো আছে কিনা। মাটি কাটা ম্যাটাডোরটা নিয়ে দুজন বন্ধুকে ডেকে নেয় সে। গাড়ি ছুটিয়ে দেয় শঙ্খিনীর এক শাখা থেকে ঐ শাখায়। 

চাবাগানের ঢাল বেয়ে গাড়িটা একটু একটু করে নামিয়ে দেয় নদীর জলে। নীল জামা লাফ দিয়ে নামে গাড়ি থেকে। সে বিশ্বাস করে ওরা এখানে আর নেই। ওরা আর কোনো দিন আসবেনা। রঙ্গিন কয়েকটা পাথর নদীর বুক থেকে খুবলে নিয়ে চলে গেছে ওরা। ছোট ছোট শিশুর মত ছোট ছোট পাথর নিয়ে মিলিয়ে গেছে তিন বুড়ি ডাইনি। কোথাও কেউ নেই জলে আর।

হঠাৎ শব্দ হয় ওধারের বাগানে। চোখ তুলে চন্দ্রকেশী দেখে একটা ম্যাটাডোর পেছন থেকে এগিয়ে আসছে নদীর দিকে। ওদের দিকে। বৃষ্টি থেমে গেছে। তবু ওরা ভিজে গায়ে শুয়েছিল ভেজা নদীতে। উঠতে ইচ্ছেই হচ্ছিল না। আজই ফিরে যেতে হবে কলকাতা। রঙ্গিন পাথর ছেড়ে, আঁকাবাঁকা জল আর পাহাড়ের ছায়া ছেড়ে কার ইচ্ছে করে কলকাতায় ফিরতে। ওরা ভেবেছিল শুয়ে থাকবে আরো অনেক অনেক সময়। কিন্তু একটা ম্যাটাডোর। বাগানের ঢালু জমি থেকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে ওদের দিকে। ওরা দুহাত তোলে। থামতে বলে সেটাকে। কেউ কথা শোনে না। দুটো ছেলে লাফিয়ে পড়ে ম্যাটাডোরের পেছন থেকে। একজনকে চিনতে পারে ওরা। ওই যে গ্রামের নীল জামা পড়া ছেলেটা। ড্রাইভার আরো পেছোতে থাকে গাড়িটা। ক্রমশ নদীর দিকে। ওরা উঠে পড়ে। তিলোত্তমা ছুটে গিয়ে ওদের থামাতে চায়, বলে,

আর একটু, প্লিজ একটু পরে এসো তোমরা। আমরা আরো একটু থাকি জলে। 

কি হল? থামো!… এই!

কেউ কোনো উত্তর করেনা। যেন কেউ দেখতেই পায়নি ওদের। যেন ওরা এখানে নেই। যেন অদৃশ্য। সেই নীল জামা পড়া ছেলেটা এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। ওর দুচোখে ভয়। যেন ও পরীক্ষা করছে আরো কেউ আছে কিনা এখানে। ওরা একবারও তাকাচ্ছে না তিলোত্তমার দিকে। চন্দ্রকেশী আর দেবদত্তা একটু একটু করে এগিয়ে যায় পাড়ের দিকে। টপ টপ জল ঝরছে পোশাকের শরীর থেকে। ছোটবড় চুলগুলি থেকে। মনখারাপ লাগে। মনে হয় এ জায়গা কতদিনের। এ জায়গা ছেড়ে যেতে মন চায়না। তবু, ছেলেগুলো গাড়ি ধুচ্ছে। ছেলেগুলো চুপচাপ তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। শহরের মেয়েরা জানে তাকিয়ে থাকা। মেয়েরা জানে কারা তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে। মেয়েরা জানে কিভাবে সরে যেতে হয়। তবু ভয়ার্ত চোখগুলি দেখে তাদের কাছে যেতে ইচ্ছে হয়। হাতে হাত রাখতে ইচ্ছে হয়। ভয় নেই ভয় নেই। মনে পড়ে যায় এদের আতঙ্কে ভরা চোখ। বেলা দুপুরে শহরের মেয়ের বেশে তিন ডাইনির আতঙ্ক।

ওরা ফেরে। এগোতে থাকে শঙ্খিনী থেকে বিপরীতে। নদীর নামে গ্রামের নাম। ডাকিনীজন্মের পরে শহরজন্মের পরে মেয়েজন্মের পরে কোন জন্মের দিকে যাওয়া? সেই দিকে হাঁটে ওরা তিনজন।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *