“কম্যুনিস্টদের অবশ্যই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে . . . কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লড়াইয়ে তারাই একমাত্র অংশীদার নয়”: অনুরাধা গান্ধীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

১৯৭২ সালে বোম্বাইয়ের এলফিনস্টোন কলেজের ছাত্রী থাকাকালীন অনুরাধা গান্ধী ‘প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ মুভমেন্ট’ বা ‘প্রোয়োম’ (PROYOM) নামে নকশালপন্থী ছাত্র সংগঠনের সংস্পর্শে আসেন, এবং তাঁর  রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি এই সংগঠনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮২ সালে নাগপুর সংলগ্ন গড়চিরোলি জেলায় কারখানা  শ্রমিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণে তিনি বোম্বে থেকে নাগপুরে স্থানান্তরিত হন। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে অনুরাধা বিস্তৃতভাবে বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত লিখতেন। তাঁর লেখার মধ্যে মার্কসীয় ভিত্তি (base) এবং উপরিকাঠামোগত (superstructure) আলোচনার সঙ্গে সংস্কৃতিকেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সংস্কৃতি বিষয়ক চিন্তাভাবনা তাঁর লেখায় বিশেষ ভাবে উপস্থিত। অনুরাধা তাঁর লেখায় মার্কসবাদী তত্ত্ব, বিপ্লব এবং সামাজিক আন্দোলনকে কখনওই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র থেকে পৃথক করে দেখেননি। সংস্কৃতি একদিকে যেমন হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের পরিচালনী শক্তি, অন্যদিকে সংস্কৃতির নিজস্ব বিকাশের পরিসরও আলোচনা করেছেন অনুরাধা। সংস্কৃতি যেমন ক্ষেত্রবিশেষে অর্থনীতি এবং সমাজ ও রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, তেমনই সংস্কৃতির বিকাশ আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিকাশের পরিপূরক রূপে কাজ করছে। তবে, সাংস্কৃতিক পরিসরকে এই স্বাতন্ত্র্য দেওয়ার সময় অনুরাধা কখনওই সেটাকে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে পৃথক করে দেখছেন না। বরং, সংস্কৃতি কীভাবে বাকী আন্দোলনগুলিকে অনুপ্রাণিত করে, এবং বাকী সমস্ত আন্দোলন থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলন কীভাবে অনুপ্রেরণা পায়, সেই কথাই তুলে ধরছেন অনুরাধা। “নারীবাদী আন্দোলনের দার্শনিক প্রবণতা” শীর্ষক প্রবন্ধে সংস্কৃতির যে নব্য-উদারবাদী এবং উত্তর-আধুনিক চিন্তাধারা, যা কিনা সংস্কৃতিকেই সব ধরনের প্রতিরোধের একমাত্র আঁতুড়ঘর হিসেবে দেখে, তার কঠিন সমালোচনা করছেন তিনি। এই ধারণাকে তিনি পুঁজিবাদের মতো এক অত্যন্ত সংগঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বিশৃঙ্খল, নৈরাজ্যবাদী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, যা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

অনুরাধার রচনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৯৮০-র দশকে নাগপুর ও বোম্বাইয়ের মিল শ্রমিকদের সংগ্রামের দলিল, এবং মহারাষ্ট্র সরকার কর্তৃক শ্রমজীবী ​​সাহিত্য সংস্কৃতি, দলিত সাহিত্য আন্দোলন, এবং  লিটল ম্যাগাজিনের উপর নামিয়ে আনা সেন্সরশিপের তীব্র সমালোচনা। এই সমস্ত লেখার মধ্যেই বিপ্লব এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে সংস্কৃতির প্রশ্নের অঙ্গাঙ্গী সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে, গণতন্ত্র এবং বিপ্লবের প্রশ্নের  নিরন্তর আলোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং পুনর্বিবেচনা রয়েছে, যা আমাদের  সংবেদনশীল ও সূক্ষ্মভাবে প্রলেতারিয়াত, দলিত এবং নারীবাদী সাহিত্যের আভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে। অতি সূক্ষ্মতার সঙ্গে  অনুরাধা  ভারতীয় মার্কসবাদী দর্শনের ধারার মধ্যে নিহিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয়ের পর্যালোচনা করেছেন, এবং ভারতবর্ষের শ্রেণি সংগ্রামের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন জটিলতার বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন। হিরেন গোহাইন তাঁর কাজের পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখিয়েছেন যে গান্ধীর লেখায় “ভারতীয় সমাজব্যবস্থার যে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য (এবং গুরুভার), ভারতবর্ষের  সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ক বৌদ্ধিক ও মতাদর্শগত মুখ্য বুর্জোয়া ধারাগুলির যাবতীয় বিকাশ সম্পর্কে এক তীব্র রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায়। এর সঙ্গে লেখাগুলি সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিকাঠামোর ক্রমবিদ্যমান সঙ্কটের আন্দাজবাহী।”  (৩৫-৩৬) 

“তুলা ফুল … সেরা ফুল! …?” (১৯৮৫) শীর্ষক প্রবন্ধে অনুরাধা তুলে ধরেছেন মহারাষ্ট্রের তুলা চাষীদের তাদের ফসলের জন্য ন্যায্য মূল্য সংগ্রহের  লক্ষ্যে সংগ্রামের ইতিহাস। এই লেখাতে দারিদ্র্য-সীমার নীচে অবস্থানকারী কৃষকের দুর্দশার চিত্র, তার ঐতিহাসিক পটভূমি, এবং এই সংগ্রামের এক মার্ক্সীয় রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। “এক ব্যয়বহুল বিজয়: সম্রাজ্ঞী মিলের সরকারী অধিগ্রহণ” (১৯৮৮) রচনায় অনুরাধা তুলে ধরেছেন কর্পোরেট এবং সরকারের আঁতাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবিকা-নির্বাহের প্রতি নির্মম অবহেলার অন্তর্নিহিত চিত্র। একই সঙ্গে এই পর্যালোচনার মাধ্যমে বেকারত্ব, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ইত্যাদির থেকে মুক্ত একটি উদার, আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজের অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি। এর বিপরীতে, “ইনচাম্পল্লী-ভোপালপতনাম পুনর্বিবেচনা” (১৯৮৬) শীর্ষক একটি প্রবন্ধে, প্রাক-পুঁজিবাদী ও শিল্পব্যবস্থার পূর্ববর্তী এক সমাজের ধারণার অবাধ ভাববাদী অনুমোদনের বিরুদ্ধে অনুরাধা আমাদের সতর্ক করছেন। প্রাক-পুঁজিবাদী সমাজব্যাবস্থাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত জীবনের রূপ হিসাবে দেখানোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে এই সমাজের আর্থ-সামাজিক নিপীড়ন এবং মানবিক অবক্ষয়ের বাস্তব কাহিনী। এছাড়া, “লিটল ম্যাগাজিন: জনগণের সংস্কৃতির এক তাৎপর্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ”(১৯৮২) লেখায় অনুরাধা দলিত সাহিত্য আন্দোলন এবং লিটল-ম্যাগাজিনের মতো সাব-অল্টার্ন সাহিত্য-সংস্কৃতির উপর মহারাষ্ট্র সরকার কর্তৃক নামিয়ে আনা দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অবদান হ’ল ভারতবর্ষের মার্কসীয় বিশ্লেষণে জাতিব্যবস্থার প্রশ্নের উত্থাপন। “ভারতবর্ষে জাতিপ্রথার প্রশ্ন” (১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি, অপ্রকাশিত), “জাতিব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা”  (১৯৮৮) ইত্যাদি প্রবন্ধ ভারতীয় সমাজে জাতিব্যবস্থার বাস্তবরূপ তুলে ধরে। এই প্রবন্ধগুলিতে ভারতবর্ষের উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সন্নিহিত জাতিব্যবস্থার স্বরূপ বিশ্লেষণ করে, অনুরাধা জাতিব্যবস্থার প্রশ্নকে উপরিকাঠামোগত প্রশ্ন থেকে ভিত্তির প্রশ্নে স্থানান্তরিত করেন (গান্ধী ৭৬)।  ভারতবর্ষের বামপন্থী রাজনীতিতে উপেক্ষিত জাতিপ্রথার প্রশ্নকে তিনি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, এবং জাতিপ্রথা কীভাবে সামন্ততান্ত্রিক সমাজ, এবং শ্রেণীব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তা দৃঢ়ভাবে  দর্শিয়েছেন। 

ভারতীর মার্কসবাদী বিশ্লেষণের আঙ্গিনায় জাতিপ্রথার প্রশ্নকে এক অন্যতম প্রশ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা অনুরাধার অন্যতম রাজনৈতিক অবদান। জাতিব্যবস্থার প্রশ্নকে এক স্বতন্ত্র প্রশ্ন হিসেবে দেখা ছাড়াও, অনুরাধা এই প্রশ্নকে একই সঙ্গে ভিত্তি এবং উপরিকাঠামোগত প্রশ্নের এক অংশ হিসেবে পরিগণনা করেছেন। ভারতবর্ষের নিরিখে আদিবাসী অর্থনীতি থেকে কৃষিভিত্তিক উদ্বৃত্ত-অর্থনীতিতে (surplus economy) সমাজব্যবস্থার যে পরিবর্তন, তাঁর মধ্যে জাতিভেদপ্রথা কীভাবে জড়িয়ে তার স্বরূপ উদ্ঘাটনের মাধ্যমে তিনি তাঁর তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। এইসময়ে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বলপূর্বক পরাধীনতা, এবং দমনপীড়নের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজ-সংস্কৃতিতে এইসমস্ত সম্প্রদায়ের আত্তীকরণের আলোচনার মাধ্যমে তিনি ভারতবর্ষে জাতিভেদ প্রথার বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করেন। শোষণমূলক কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জাতিপ্রথারও বিবর্তন ঘটেছে। উচ্চবিত্ত শ্রেণী রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর আধিপত্য কায়েমের সঙ্গে সঙ্গে জাতিপ্রথাকে তাদের নিজস্ব শ্রেণীগত সুবিধার জন্য জিইয়ে রাখে। জাতিপ্রথার মাধ্যমে সমাজের একশ্রেণীর মানুষকে দাসে পরিণত করার ফলে শাসকশ্রেণী রাষ্ট্র এবং জমির উপর তার আধিপত্য  বজায় রাখতে পারে (৮৬)। এরই সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি ও ধর্মীয় দর্শনের বিস্তৃত বিকাশ সমাজের সাধারণ মানসিকতার মধ্যে বর্ণ ও জাতিভেদ প্রথার ভিত সুদৃঢ় করে। জাতিপ্রথার এক সম্ভাব্য ফেটিশ-স্বরূপ স্মরণ করিয়ে অনুরাধা লেখেন, “জাতিপ্রথার ইতিহাস ভারতবর্ষে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এক নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাস। এই লম্বা সময়ের ইতিহাস জাতিপ্রথাকে তার নিজস্ব এক স্থিতিস্থাপকতা এবং স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার মাধ্যমে এই জাতিভিত্তিক সমাজব্যবস্থার যেকোনো পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই তার নিজের অস্তিত্বরক্ষার ক্ষমতা ধারণ করে (৮৭)।”

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পুঁজিবাদী সম্পর্কের বিকাশ যেদিকে পরিচালিত করে, তা পুরাতন সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো উপড়ে ফেলে পুঁজিবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে এবং আধা-সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্ম দেয়। এর ফলে ভারতবর্ষে পুঁজিবাদ সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার সমান্তরাল  বিকাশ লাভ করে, এবং পুঁজিবাদ-পূর্ব ঔপনিবেশিক সামাজিক ব্যবস্থার বিভিন্ন চিহ্নে চিহ্নিত হয়। ইউরোপে পুঁজিবাদের একটি সাধারণ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে আধুনিকতা যেভাবে প্রসারিত হয়, স্বাভাবিকভাবেই ভারতবর্ষে আধুনিকতার বিকাশ সেভাবে হয়নি। ভারতবর্ষে আধুনিকতার বিকাশ তাই সমাজব্যবস্থা এবং মূল্যবোধের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের বিপ্লবী শক্তি নিয়ে আসেনি। বরং, ভারতবর্ষে আধুনিকতার বিবর্তন বর্ণহিন্দু সমাজের প্রাচীন এবং রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়। অনুরাধার মতে, এখানেই ভারতের বামপন্থী দলগুলি ব্যর্থ। ভারতীয় বামপন্থী দলগুলি কৃষক সংগ্রামকে সামন্ততন্ত্রবিরোধী সংগ্রাম হিসাবে কখনওই দেখে উঠতে পারেনি, যার ফলে এই সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে জাতিভেদ প্রথাকে আক্রমণ করার তাৎপর্যও উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়াও, ভিত্তি এবং উপরিকাঠামো সংক্রান্ত মার্কসীয় তত্ত্বের সঙ্গে জাতিভেদপ্রথার এক যান্ত্রিক সংযোগ স্থাপনের কারণে বামপন্থী দলগুলি বিশ্বাস করে যে সাধারণ অর্থনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমেই জাতিব্যবস্থার অবসান ঘটবে। অনুরাধার মতে,“আদর্শগতভাবে, তারা [বামপন্থী দলগুলি] দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের পরিবর্তে  যান্ত্রিক বস্তুবাদ প্রতিষ্ঠা করে (৮৫)।” অনুরাধার পর্যবেক্ষণে  সিপিআই (এমএল) সামাজিক বিপ্লবের মূল লক্ষ্য হিসাবে আধা-সামন্ততন্ত্রকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল, যা গ্রামীণ দলিত ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের এক বিস্তৃত ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। তবে, পর্যায়ক্রমে তারাও জাতিপ্রথা সংক্রান্ত নানা সামাজিক অনুশাসনের শিকার হয়, এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও কালক্রমে যান্ত্রিক হয়ে ওঠে।

অনুরাধা গান্ধীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মধ্যে অন্যতম নারীবাদ সম্পর্কে তাঁর বিচার-বিশ্লেষণ এবং ভারতীয় বামপন্থী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারী আন্দোলনের ভূমিকা বিশ্লেষণ। তাঁর আত্মগোপনের সময়ে তিনি “নারীবাদী আন্দোলনের দার্শনিক প্রবণতাসমূহ” (২০০৬) শীর্ষক প্রবন্ধ লেখেন, এবং বস্তার  ও মহারাষ্ট্রের বিপ্লবী সংগঠন ‘ক্রান্তিকারী আদিবাসী মহিলা সংঘ’ (কেএএমএস)-এ আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। এই লেখায় অনুরাধা পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং পিতৃতন্ত্রের সংযুক্ত আক্রমণের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করার জন্য এক সম্মিলিত ও সংহত নারী-আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করেন (গান্ধী  ১৯৯৯)। তাঁর তাত্ত্বিক অবদান কেবলমাত্র কমিউনিস্ট সংস্কৃতিতে লিঙ্গের প্রশ্ন বুঝতেই সাহায্য করে না, তার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় নারীবাদী রাজনীতির বিকাশের প্রক্রিয়ায় কমিউনিজমের প্রভাব বুঝতেও সহায়তা করে।

“দার্শনিক প্রবণতাসমূহ” শীর্ষক প্রবন্ধে অনুরাধা মূলত ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার মতো উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলিতে উদ্ভূত নারীবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন ধারার বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাঁর অন্তর্নিহিত তত্ত্বগত বিচ্ছিন্নতা তুলে ধরেছেন। জাতিভেদ প্রথার প্রশ্নে যেভাবে অনুরাধা তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তিনি বলেছেন যে নারীমুক্তির প্রশ্নে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সম্যক ধারণা প্রয়োজন। পুরুষতন্ত্র কোনও শ্রেণি-নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সামন্ততন্ত্র এবং পুঁজিবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই তিনটি ব্যবস্থাই পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, এবং সামাজিক বৈষম্য ও দমনপীড়ন চালাতে একে অপরের হাত শক্ত করে। এই তিন ব্যবস্থার সমন্বিত চিত্র বুঝে উঠতে পারার ব্যর্থতাই এখনও পর্যন্ত নারীবাদী প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করেছে। সামন্ততন্ত্র, পুঁজিবাদ, এবং পিতৃতন্ত্রের ত্রিপাক্ষিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপায় তৈরি না করতে পারলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।

এরপরে অনুরাধা  ভারতবর্ষের নারীবাদী সংগ্রামের ইতিহাস বিশ্লেষণ করেছেন। ব্রিটিশ ভারতে উদারপন্থী সংস্কারবাদী চিন্তাধারার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে যেসব আন্দোলন শুরু হয়, সেখান থেকে তিনি তার আলোচনা শুরু করছেন। এইসমস্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সতীপ্রথা,  বিধবা পুনর্বিবাহ ইত্যাদি রীতিনীতিগুলি, এবং এই কারণে তিনি এই আন্দোলনগুলির উচ্চ-বর্ণ এবং উচ্চবিত্ত চরিত্রের সমালোচনা করছেন। তবে, এই প্রসঙ্গে অনুরাধা সাবিত্রিবাঈ ফুলে, জোতিবা ফুলে, তারাবাই শিন্ডে, পন্ডিতা রামাবাঈ, মুথুলক্ষ্মী রেড্ডি, রামাবাঈ রাণাডের নেতৃত্বাধীন সমান্তরাল বামপন্থী আন্দোলনের চিত্রও তুলে ধরেছেন। অনুরাধা লিখেছেন, কীভাবে এইসমস্ত আন্দোলনগুলি শ্রমজীবী ​​এবং নিপীড়িত বর্ণের মহিলাদের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। ১৯৭০-এর পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা দেশগুলির অনুসরণে নব্য-উদারবাদী অর্থনীতির বিকাশ, নকশাল আন্দোলন, সিপিআই এবং সিপিএমের মতো সমাজতান্ত্রিক এবং সংশোধনবাদী দলগুলির  উত্থান ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ভারতবর্ষে নারীমুক্তির প্রশ্ন ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কীভাবে তাদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য নারীমুক্তির প্রশ্নের অপব্যবহার করে তা দর্শিয়ে অনুরাধা বলছেন, “নারীদের সিস্টারহুড কখনওই গণতন্ত্রের প্রশ্নে নারী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে না  (২০২)।” শহুরে উদারপন্থী মহিলা নেত্রীরা এ জাতীয় প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিরোধিতা করলেও তাঁরা শ্রেণিব্যবস্থাকে উৎখাত করার উপায় হিসাবে শক্তিপ্রয়োগের সর্বান্তঃকরণ বিরোধিতা করেন। যার ফলে নারী আন্দোলনগুলি পর্যায়ক্রমে তাদের সম্ভাবনা হারিয়ে ব্যর্থ আন্দোলনে  পর্যবসিত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই জাতীয় রাজনৈতিক অবস্থান তাঁদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জঙ্গি গণআন্দোলনের সংহতি থেকেও বঞ্চিত করে। “অনুরাধা গান্ধীঃ অবাধ হাস্যের এক মহান বিপ্লবীর সংক্ষিপ্ত জীবনীচিত্র” লেখায় অমিত ভট্টাচার্য এই বক্তব্যকেই অনুরাধার সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, অনুরাধার মতে  “বুর্জোয়া নারীবাদের কৌশল হ’ল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নারীমঞ্চ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের বিভিন্ন উপায়ের পক্ষে সওয়াল করা। এই মতাদর্শ কখনওই নারী আন্দোলনকে শ্রমজীবী শ্রেণী এবং কৃষক শ্রেণীর আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গত করে না, এবং এইসমস্ত আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ পরিবর্তনের দাবী জানাতে উদ্বুদ্ধ করে না।” অনুরাধা সমাজতান্ত্রিক নারীবাদীদের প্রতিও এই একই সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সমাজতান্ত্রিক নারীবাদীরা  “এই প্রশ্নটিকে [ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের  বিপ্লবী প্রশ্ন] পৃথক প্রশ্ন হিসাবে দেখার ফলে প্রকৃত অর্থে যেসব দলের তাঁরা সমালোচনা করেন,  সেইসমস্ত সংশোধনবাদী ও বিপ্লবী দলগুলির হাতেই তাঁরা  নারীমুক্তির  প্রশ্নকে তুলে দিয়েছেন। সুতরাং, তাঁদের সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই হচ্ছে সংশোধনবাদী (১৯৪)।”

অনুরাধার এই সমস্ত প্রবন্ধের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসে। যে প্রশ্ন হ’ল, সশস্ত্র সংগ্রামই সর্বব্যাপী ভারতবর্ষে বিপ্লবের পক্ষে একমাত্র কার্যকর পথ কিনা। অনুরাধার এই পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ সঠিক যে সংসদীয় রাজনীতি দেশের শ্রমজীবী ​​মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধানে ব্যর্থ। এই আশাভঙ্গের  কারণে  ভারতবর্ষের বুকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিকাশের সমূহ বিপদ দেখা দিয়েছে (“বাস্তববাদী সমাজতন্ত্র” ৪৫৩)। সুতরাং, এই মুহূর্তে বিকল্প অ-ইউটোপীয় কৌশলগুলির জরুরী প্রয়োজন যেগুলি কখনো “ক্ষণিকের অবসাদ বা নৈতিক অধঃপতনের পথে সহায় হবে না।” অনুরাধার পছন্দের বিকল্প এমন এক বিপ্লবী নারীবাদী আন্দোলন যা মার্কসীয় রাজনৈতিক কৌশল দ্বারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্রব্যবস্থা, শাসক শ্রেণী এবং উচ্চবর্ণ শ্রেণীর নির্মূলীকরণের কথা বলে। নারী আন্দোলনকে বিপ্লবী শক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হতে হবে, যেখানে নারী কেবলমাত্র পুরুষের সমান অংশীদারই নয়, বরং নেতৃত্বস্থানীয় পদেরও সমান দাবীদার। তিনি লিখেছেন,  “পৃথক পৃথক নারী আন্দোলন কখনওই নারীমুক্তির সংগ্রাম হিসেবে সফল হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে সমূলে বিনাশের কথা বলছে” (গান্ধী ১৯৯)। এইভাবে অনুরাধা তার বিভিন্ন লেখায় সমাজের গণতান্ত্রিকীকরণের দীর্ঘমেয়াদী বিশ্লেষণ করেন। 

সমাজে গণতান্ত্রিকীকরণ অর্জিত হতে পারে “অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্কের সার্বিক বিপ্লবীকরণের মাধ্যমে।” একজন  কমিউনিস্ট হিসাবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্যাগের পরিচয় আমরা পাই অনুরাধার লেখায়। অনুরাধা বলছেন, যে দেশে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে যদিও কম্যুনিস্টদের অতি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে, তবুও একথা মাথায় রাখা দরকার যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লড়াইয়ের একমাত্র অংশীদার কম্যুনিস্টরা নয় বা হতে পারেন না (৮৩)। তিনি স্বীকার করেছেন যে ভারতবর্ষের বুকে যে বিপ্লব গড়ে উঠবে,  তাকে সমাজতান্ত্রিক নয়, বরং গণতান্ত্রিক হতে হবে। ফলে, এই বিপ্লবে বামপন্থী আন্দোলনের পরিসরের বাইরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিশেষত নারীমুক্তি আন্দোলন এবং জাতপাতবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের সামিল করতে হবে। হিরেন গোহাইনের বিশ্লেষণ এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গোহাইন বলেছেন, এই প্রেক্ষাপটের সূক্ষ্ম এবং দীর্ঘস্থায়ী বিশ্লেষণ দরকার, এবং  “বিপ্লবী” শব্দটি এপ্রসঙ্গে কখনই একটি প্রতীকী শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারেনা  (গোহাইন ৩৫)। এইসমস্ত আন্দোলন এবং মতাদর্শগত অবস্থানকে কম্যুনিস্টদের বুঝতে হবে, এগুলিতে অংশ নিতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রকল্পে এইসমস্ত প্রশ্নকে  সামিল করতে হবে।

অনুরাধার সমস্ত রচনার মধ্যেই পাওয়া যায় বুর্জোয়া শ্রেণীর বিভিন্ন বৌদ্ধিক রোমন্থনের পরিসর থেকে তত্ত্বের নির্যাসটুকু নিয়ে তাকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অকৃত্রিম প্রচেষ্টা। টেরি ঈগল্টনের ভাষায় বলতে হয়, “তত্ত্ব … কোনও নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক  মুহূর্তে উদ্ভূত হয় না; তত্ত্ব তখনই  উদ্ভূত হয়, যখন তা উদ্ভূত হওয়া প্রয়োজন এবং সম্ভবপর হয়ে ওঠে। যখন কোনও  সামাজিক বা বৌদ্ধিক অনুশীলনের জন্য প্রচলিত রীতিনীতিগুলি বিদীর্ণ হয়ে যায়, এবং এইসমস্ত অনুশীলনের যথার্থতা প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন বিন্যাসের প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তখনই তত্ত্বের উদ্ভাবন ঘটে (৯০)।” অনুরাধা তাঁর ভাবনায় বিপ্লব এবং প্রতিবাদের মৌলিক তাত্ত্বিক নীতিগুলির সঠিক প্রয়োগের উপর জোর দেন। শ্রমজীবী জনগণের সৃজনীশক্তির বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক সংস্কার এবং পরিবর্তন ফলপ্রসূ করার কথা বলেন অনুরাধা। তবে এই পরিবর্তন এবং সংস্কারের লক্ষ্য হতে হবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সর্পিল ক্রমপরিবর্তনশীল কাঠামোর বিরুদ্ধে সঠিক এবং কার্যকরী  আক্রমণ। এইসমস্ত সামাজিক পরিবর্তনকে হাতিয়ার করে বিপ্লবী এবং অন্তর্ঘাতমূলক কৌশলের দ্বারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কাঠামোগত বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে  নিপুণভাবে ব্যবহার করতে হবে। তবেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনা করা যাবে, এবং এই লড়াইয়ে নির্ণায়ক ভূমিকা নেওয়া যাবে।

বাংলা অনুবাদ – জিগীষা ভট্টাচার্য

গ্রন্থসূচীঃ

১. “অনুরাধা গান্ধীঃ অবাধ হাস্যের এক মহান বিপ্লবীর সংক্ষিপ্ত জীবনীচিত্র”।

Bhattacharyya, Amit. “Anuradha Ghandy; A Brief Life Sketch of a Great Revolutionary with a Hurricane Smile.” Asian Speaks, 12 April 2020, http://asianspeaks.com/anuradha-ghandy-a-brief-life-sketch-of-a-great-revolutionary-with-a-hurricane-smile/.

২. Eagleton, Terry. The Function of Criticism. Verso, 2005.

৩. “লিটল ম্যাগাজিন: জনগণের সংস্কৃতির এক তাৎপর্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ”।

Ghandy, Anuradha. “Small Magazines: A Significant Expression of People’s Culture.” (1982) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 433–7. 

৪. “বাস্তববাদী সমাজতন্ত্র”।

Ghandy, Anuradha. “Practical Socialism: Not Socialism but Pure Fascism.” (1984) Scripting  the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 451–6. 

৫. “তুলা ফুল … সেরা ফুল! …?”।

Ghandy, Anuradha. “Cotton Flower … the Best Flower! … ?” (1985) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 443–50. 

৬. “ইনচাম্পল্লী-ভোপালপতনাম পুনর্বিবেচনা”।

Ghandy, Anuradha. “Inchampalli-Bhopalapatnam Revisited.” (1986) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 351–62.

৭. “এক ব্যয়বহুল বিজয়: সম্রাজ্ঞী মিলের সরকারী অধিগ্রহণ”।

Ghandy, Anuradha. “A Pyrrhic victory: Government Take-Over of Empress Mills.” (1988) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 391–7. 

৮. “জাতিব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা”।

Ghandy, Anuradha. “The Caste Question Returns.” (1988) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish     Books, 2011, pp. 79–91. 

৯. “ভারতবর্ষে জাতিপ্রথার প্রশ্ন”।

Ghandy, Anuradha. “Caste Question in India” (mid-1990s, unpublished) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 7–78.

১০. “নারীবাদী আন্দোলনের দার্শনিক প্রবণতাসমূহ”।

Ghandy, Anuradha. “Philosophical Trends in the Feminist Movement.” (2006) Scripting the Change: Selected Writings of Anuradha Ghandy. Edited by Anand Teltumbde and Shoma Sen, Daanish Books, 2011, pp. 145–209.

১১. Gohain, Hiren. “Towards a Revival of Revolutionary Ideas.” Economic & Political Weekly, vol. 47, no. 18, pp. 35–40.

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *