রতির বেড়াতে গেলে তত ভালো লাগে না রমণ

রণজিত দাশ-এর অদ্ভুত অন্যায় সাধারণীকরণের কবিতার উত্তরে:

রতির বেড়াতে গেলে তত ভালো লাগে না রমণ

ঝোপ ঝোপ অন্ধকার হয়ে এলো

আকাশের দু’ধারে কেমন

মেঘের ওপাশে এল ঝড়ের প্রবল

যেন গা জুড়িয়ে এলো

যেন খিদে পেল

যেন হিসি, যেন কান্না,

যেন ভালো লাগা – উফ উফ আর না আর না

ঐ ভিজে ঘাস, একা মাঠ, অরণ্য বন

এখানে উপরে কিছু পরে থাকা দায়

ধানী রঙ কাছা ঘেরা সুগোল গোড়ালি তুলে

হরিণের মতো যদি ছোটা যায় শুয়ে পড়া যায়?

ঘাসে ঘাসে বৃষ্টিরা নামে যদি সমস্ত শরীরে?

তারপরে ধীরে

চারপাশে অন্ধকার ভিড় করে আসে?

এই অসময়ে

নিবিড় মেঘের মতো কানহা হতো যদি

আকাশের দিকে মুখ পাশাপাশি শুয়ে?

পড়া যেতো তারাদের ক্যানভাসে আলপিন লেখা রূপকথা?

রতির বেড়াতে এলে ভালো লাগে সব এরকম

তত ভালো লাগে না রমণ

অন্ধকার ফালা ফালা, জ্বলে ওঠে হোটেলের আলো

জিপেদের হাই বিম, বালিতে অর্ধ গাঁথা ভালার মতোন

দারুভরা অসংখ্য বোতলের কালো!

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, চরাচর

শিশুদের হাতে পায়ে পাছে বালি লেগে ছড়ে যায়

শৌখিন মায়ে তাতে দামী ব্রান্ড লোশন লাগায়

তারা সারা রাত মদ গেলে

বিকেল চারটে তক ঘরে শুয়ে থাকে

সমুদ্রকেও একা ফেলে

ভীষণ আলগা করে ডেকে আনতে হয় কর্তাকে

সারি সারি আলো দিয়ে যেখানে উদোম বিচ

যেখানে পণ্য ক’রে ঝিনুকের মালা রাখা থাকে,

বেতের দোলনা তার পাশে

স্বামীর দলের যত ভদ্র বউ ভদ্র বর

সেইখানে হাঁটা দিতে আসে

সেসব হাঁটাকে তারা বিচ ওয়ক বলে

রতির ওয়াক ওঠে, ডিনারের পর

জাকুযির কম্পনে সুইমিং পুলের ভিতর

অন্য খেলা চলে

কাতরাতে কাতরাতে আর্ত ফেরে ঘরে

সব আর্তি বয়ে যায়

তেতো কান্না ধাক্কা খেয়ে ফেরে

শীতাতপ ঢাকা জানলায়

রতির বেড়াতে এসে কেন ভালো লাগে না রমণ!

রতির বেড়াতে এসে কেন ভালো লাগে না রমণ!

রণজিত দাশ-এর কবিতা
শেয়ার করুন

1 thought on “রতির বেড়াতে গেলে তত ভালো লাগে না রমণ”

  1. Nilanjana

    Barbar porlam. Jordar. The poem hit me in jolts and jerks…just as it should have. Write more.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *