রেবাতটের বেতস তরুতল

বেড়াতে যাওয়া? বাইরে রাত্রিবাস? পুরো একা? প্রথম বার যখন মাকে এসে বলেছিলাম, এরকম যাবো কোথাও, প্রথমে নিষেধ করেনি। কিছুই বলেনি। তার কারণ এরকম বেড়াতে গিয়ে কী লাভ মা তা বুঝতেই পারে নি। তার পরে যখন বুঝলো সত্যিই যাচ্ছি, অবাক হয়ে জিগ্যেস করেছিল, “কিন্তু কেন? একা গিয়ে সেখানে করবি টা কী?!” সত্যিই তো। কী করবো? মা ‘সোলো ট্রিপ’ জিনিসটা কী বোঝে না। চিরটা কাল আমরা বাড়ি থেকে বেড়াতে গেছি এক দঙ্গল লোক নিয়ে। কালে ভদ্রে। প্রথম চার বছর বয়সে। তার পর সেই মাধ্যমিকের পরে একবার। আর একবার গ্রাজুয়েশনের পরে। মাঝে এক-দু’বার দীঘা-মায়াপুর। নিম্নমধ্যবিত্ত বাঙালী বাড়িতে বেড়াতে যাওয়াটা একটা লাক্সারি। একটা উৎসব। সেই ব্যাপারটা কেউ একা করতে চাইবে কেন মা-বাবা বোঝার চেষ্টা করছিল। প্রথমবার। 

যদিও পরিচিতজনদের সঙ্গে বেড়াতে না যাওয়া আমার প্রথম ছিল না। চাকরি পাওয়ার পর থেকে ইতিউতি যাই দল খুঁজে খুঁজে। বন্ধু-বান্ধব নয়, র‌্যান্ডম মানুষজনের সঙ্গে। কিন্তু পুরো একা বেড়াতে যেতে কেমন লাগবে আমি নিজেও জানতাম না। যেতেই হবে, তাই যাচ্ছিলাম। যেতেই হবে, তার কারণ ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনে অ্যাডিক্টেড হওয়ার পর থেকে বই পড়ার নেশা ধরে রাখার মত মানসিক স্থৈর্য হারিয়েছি। জীবনে বই পড়ার জায়গা নিয়েছে বেড়ানো। তাই কোথাও যেতেই হত। আর সঙ্গে যাওয়ার মত লোক পাচ্ছিলাম না। তাই একা। আমার প্রথম সোলো ট্রিপ তাই কোনো ইমোশনাল ট্রিগার থেকে নয়, নিজেকে “খুঁজে পাওয়ার” জন্য নয়, কোনো অ্যাডভেঞ্চারের জন্যও নয়। নিতান্তই বাধ্য হয়ে। কারণ বেড়াতে যেতেই হবে। তা বাদে জীবন নাই। না গেলে অবসাদের কুয়োয় ডুবে যেতে হবে। 

কিন্তু মনে মনে ঠিক করে নিলেই তো চলে যাওয়া যায় না! একা বেড়াতে যাওয়া মানে অনেক কিছু একা একা করা। কোথায় যাবো, কীভাবে যাবো, কোথায় থাকবো— সবটা নিজে ঠিক করা। আর ফোন এলে কথা বলতে হবে– এই ভয়ে ফোন সাইলেন্ট করে রাখা লোকের পক্ষে এসব প্রথমেই ডিমোটিভেটরের কাজ করে। কিন্তু ঐ। মরিয়া। একে-ওকে ধরে ট্রেনের টিকিট-হোটেল সব বুক করে ফেললাম। যাওয়ার দিন স্যাক কাঁধে নিয়ে ট্রেনে উঠেও পড়লাম। যাবো গিয়ে পাহাড়। উত্তরবঙ্গ। লেপচাজগৎ। শিলিগুড়ি শহর থেকে ৭৫ কিলোমিটার উপরে একটা ছোট্ট হ্যামলেট। ট্যুরিস্টরা সাধারণত মিরিক যাওয়ার সময় এখানে রাত্রিবাস করেন ও ভোরে উঠে সূর্যোদয় প্লাস কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে যান টুক করে। সেইখানে গিয়ে তিন দিন থাকবো। আর চারপাশে হাঁটাহাঁটি। এইটুকুই। যাওয়ার সন্ধ্যায় মাকে “আসছি” বলে যখন বেরোলাম, মায়ের মুখ দেখে আরেকবার বুঝলাম “একা বেড়াতে যাওয়া” আর “একা মেয়ের বেড়াতে যাওয়া”র তফাৎ। আর আমিও যে খুব সাহসী মাতব্বর, তা তো না! কোনোদিনই ডানপিটে ছিলাম না। স্পোর্টসের দিন লজ্জায় স্কুল ডুব মেরে দিতাম। বাবা কলকাতার কলেজের ফর্ম পর্যন্ত তুলতে দেন নি- মেয়ে বড় শহর চেনে না, হারিয়ে যাবে— এই ভয়ে। এ হেন জবুথবু মেয়েটি বাড়ি থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দূরে এক জায়গায় একা চলে যাচ্ছে– এ তার নিজের কাছেই আশ্চর্য বই কী! একটু হাত-পা ঘামছিল। কিন্তু ট্রেনে উঠে আপার বার্থে গুছিয়ে বসে পড়ে মনে হচ্ছিল, হ্যাঁ, যাচ্ছি। বেড়াতে। সোলো ট্রিপে! 

আজকাল ‘সোলো ট্রিপ’ ব্যাপারটার বেশ চল হয়েছে। বহু মানুষ, বহু মহিলা বেরিয়ে পড়েন, একা। সঙ্গী জোটার অপেক্ষা না করে। ব্যাকপ্যাকার্স ক্যাম্প, ইয়ুথ হোস্টেল– এরকম অনেক নিরাপদ জায়গা তৈরি হয়েছে এই সমস্ত মহিলা সোলো ট্রাভেলারদের জন্য। কিন্তু সর্বত্র তো চিত্রটা এক নয়! বহু হোটেলে একা মেয়েদের রাত্রিবাস করতে দেওয়া হয় না, প্রয়োজনীয় নথি থাকলেও। কারণ- সঙ্গে ‘অভিভাবক’ নেই। মাঝে-মধ্যেই খবরের কাগজে বিদেশী সোলো ট্রাভেলারদের নিয়ে নানারকম খবর পড়ি— রাহাজানি, ধর্ষণ, খুন! অবশ্যই সব জায়গা এতটা অনিরাপদ নয় হয়ত, তাও আমার মত সদা আশঙ্কিত, ননকনফিডেন্ট মানুষেরা ভয় পায় এসব শুনলে। তবে কিছু কিছু জায়গায় ঘোরার সুবাদে বলতে পারি, সেই তুলনায় পাহাড় অনেক নিরাপদ। মেয়েদের জন্য। আর বলবো আন্দামানের কথা। সারা ভারত আমি ঘুরিনি। কিন্তু যে ক’টি জায়গা দেখেছি, তাদের মধ্যে আন্দামানে মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাত দুটোতেও নির্দ্বিধায় বাইরে বেরোন। হয়ত মেইনল্যান্ডের ভাইরাস এখনো সেখানে থাবা বসাতে পারে নি। 

সে যাই হোক। যা বলার তা হলো, আমার মত ভীতু মানুষদের এই সমস্ত মানসিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে একা যাওয়ার কথা ভাবতে হয়েছিল। পরদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে প্রথমে গেলাম গাড়ি ভাড়া করতে। অনেক দরাদরি করে একটা ছোট গাড়িতে চড়েও বসলাম। সিধা যাবো লেপচাজগৎ। এইখানে একটা স্বীকারোক্তি করে রাখি। খুব ভয় করেছিল একা গাড়িতে চার ঘন্টার অচেনা রাস্তা পাড়ি দিতে। গাড়ির নম্বর, ড্রাইভার দাদার ফোন নম্বর নিয়ে গাড়িতে উঠেছিলাম। পেপার স্প্রেখানা লুকিয়ে হাতের কাছে রেখেছিলাম। প্রথম এক ঘন্টা ভয় করছিলো। এখন সেকথা মনে পড়লে একটু লজ্জা লাগে! ড্রাইভার মনোজদা খুব যত্ন নিয়ে গাড়ি চালিয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন লেপচাজগৎ। মাঝরাস্তায় লাঞ্চ করিয়েছিলেন সুন্দর গুমটি দোকান থেকে। তাই ভয়ের কোনো কারণ ছিল না। তবে হয়তো আবার ছিলও। এই অবিরাম প্যারানোইয়া ভারতীয় উপমহাদেশের মেয়েদের রোজকার জীবনের সঙ্গী। এই অবিশ্বাস পিতৃতন্ত্রের উপহার। এই নিয়ে রোজ পথ চলি। এ আমাদের আত্মরক্ষার অস্ত্রও বটে। 

লেপচাজগৎ পৌঁছে যে হোমস্টেতে গিয়ে উঠলাম, তার খোঁজ দিয়েছিল আমার বোন সায়নী। এই মেয়েটির সঙ্গেও আলাপ বেড়াতে গিয়েই। আমার একলা বেড়াতে আসার সাহস জুটিয়েছিলাম ওকে দেখেই। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে একটি ট্রাভেল এজেন্সীর ছবি-ছাবা দেখে সিকিম যাওয়ার খরচাপাতি জিগ্যেস করেছিলাম। খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম, কম্পানিটি চালায় দু’টি কমবয়সী ছেলে-মেয়ে। দু’মাস পরে সিকিম যাওয়ার জন্য শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছে দেখি, গ্রুপের বাকী লোকদের মধ্যে একটা বাচ্চা চব্বিশ-পঁচিশের মেয়ে দাঁড়িয়ে, পিঠে একটা ছোটো ব্যাগ নিয়ে। সেই বাচ্চা মেয়েটি তার পরের ছয় দিন আমাদের পনেরোজনের গ্রুপকে পুরো সিল্করুট ঘুরিয়ে এনেছিল! তার উপস্থিত বুদ্ধি, মিশুকে স্বভাব, ঠাণ্ডা মাথা আর সব সামলে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস আমায় মুগ্ধ করেছিল। সে-ই সায়নী। ও এতটা পারলে আমিও এইটুকু পারবো— এই বোধটুকু আমার ঐ ছোটো মেয়েটির থেকে জীবনের পাওনা। যাই হোক, লেপচাজগতে গাড়ি ঢুকতেই জায়গাটা পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। সারি সারি পাইন গাছ আর সামনে জ্বলজ্বলে কাঞ্চনজঙ্ঘা থাকলে আর কিছু লাগে না। ও হ্যাঁ, আমার জীবনের প্রথম কাঞ্চজঙ্ঘা দেখাও এই সোলো ট্রিপেই। সাতাশ বছরে প্রথম বার!  হোমস্টেতে পেয়েছিলাম ছোট্ট একলা থাকার একটা ঘর, যেটায় সাধারণত ট্যুরিস্টরা থাকেন না। ঘরটা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না, তাই। কিন্তু যা দেখা যায়, তা কম কিছু না। জঙ্গল, সবুজ, সারি সারি পাইন।

আজকাল পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে মানুষ হোটেল বা রিসর্টের চেয়ে এই ছোটো ছোটো হোমস্টেগুলোতে থাকতে বেশি পছন্দ করেন। তার কারণ পাহাড়ি মানুষদের আতিথেয়তা, আন্তরিক পরিবেশ, আর স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। লেপচাজগতে পাসাং শেরপার হোমস্টেতেও তার ব্যত্যয় ঘটে নি। তিনদিন ধরে ঠিক সময়ে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, সন্ধ্যার খাবার, ডিনার, দুইবার চা, স্নানের গরম জল— সব পেয়েছি হাতের সামনে। পাসাং শেরপার হোমস্টে এই জন্য সকলের প্রিয়ও। শুনেছিলাম আগে থেকেই। কিন্তু যেটা শুনি নি, কেউ বলেননি, সেটা হলো, এই যত্ন, দেখাশোনা— পুরোটাই করেন পাসাং শেরপার দুই মিতভাষী পুত্রবধূ। আমায় প্রথমবার চা দিতে এসে ওঁরা অবাক হয়ে জিগ্যেস করেছিলেন, “একেলি আয়ি হো?, সাথ মে কোই নেহি হ্যায়!” আমি একা গিয়েছিলাম বলে আমায় মনে হয় বেশি বেশি যত্ন করতেন। তিন দিন থাকাকালীন এক মুহূর্তের জন্য এই দুই মহিলাকে আরাম করে দু’দণ্ড বসতে দেখিনি। কাজ কারা করেন, আর নামযশ কার হয়! তাই না? জগতের নিয়ম! 

পৌঁছানোর পরের দু’দিন ভারি অদ্ভুত কেটেছিলো। পৌঁছানোর পরের দিন সকালে শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। খানিক পরে বৃষ্টির বেগ কমলেও সারাদিন ঝিরঝির করে হয়ে চলেছিল। হাতে মাত্র দুই দিন। রুমে বসে থাকা আর বাড়ি ফিরে আসা একই ব্যাপার। তাই ছাতা মাথায় বেরিয়ে পড়েছিলাম। শেয়ারকারে সুখিয়াপোখরি। তারপর সুখিয়াপোখরি থেকে জোড়পোখরি পায়ে হেঁটে পৌঁছানোর চেষ্টা। আমার জীবনে বৃষ্টি আর বেড়ানোর মধ্যে একটা অদ্ভুত যোগসাজস আছে। যতই সানগ্লাস, সানস্ক্রিন, স্কার্ফ নিয়ে কোমর বেঁধে বেড়াতে যাই না কেন, লাগে সেই ছাতা আর কিটো। বর্ষার সমুদ্র, বর্ষার জঙ্গল, বর্ষার পাহাড়! ঝুপঝুপে বৃষ্টিতে একটা উইন্ডচিটার গায়ে পাইনবনের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে নির্জন, শান্ত কবরখানা দেখতে পাওয়া যেকোনো রৌদ্রোজ্জ্বল পাহাড়ি দিন দেখতে পাওয়ার মতই সুন্দর। সুখিয়াপোখরি থেকে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে জোড়পোখরি যাওয়ার রাস্তাটা প্রায় জনমানবহীন। তদুপরি মুষলধারে বৃষ্টি! এমন অদ্ভুত অনুভূতি ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। উপরে যে কবরখানার কথা লিখেছি, সেটা সত্যিই দেখেছিলাম। রাস্তার পাশে, পাইনের বনের মধ্যে। ছোট্ট একখানা সেমেটারি। অনেকে শুয়ে সেখানে। স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি কবর, ছোটো শিশুর সমাধি, একলা পুরোনো কবর, গায়ের লেখা পড়া যায় না। মস, শ্যাওলায় ঢেকে গেছে। দেখে ভয় লাগেনা। মন শান্ত হয়ে যায়। এতকিছু করে বেড়াতে যাওয়া তো এইটুকুর জন্যই। 

বেড়াতে যাওয়ার আরেকটা পাওনা হলো, নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ হওয়া। সেদিন বৃষ্টির জন্য আর জোড়পোখরি পৌঁছাতে পারি নি। কিন্তু ফেরার পথে দু’টি ছেলের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তারাও ইতিউতি ঘুরছিল। কী আশ্চর্য, সমতলে কোথাও বেড়াতে গেলে হয়ত এরকম যেচে পড়ে কারো সঙ্গে কথা বলতাম না! নিরাপদ নয়, এ কথাই মাথায় আসতো। কিন্তু পাহাড়ে সব নিয়ম আলাদা। কথায় কথায় জানলাম, আমরা একই হোমস্টেতে উঠেছি। পরেরদিন হাইকিং করে জোড়পোখরি যাওয়ার প্ল্যানও বানানো গেলো। সেইমতো পরদিন পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে জোড়পোখরি দেখতে গিয়েছিলাম তিনজনে মিলে। ভালো লেগেছিল খুব। অচেনা পাহাড়ি বাড়ি থেকে চা চেয়ে খাওয়া, বৃষ্টি-রোদের খামখেয়ালিপনায় রাস্তা হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে হাঁটতে হোঁচট খেয়ে জুতোর সোল খুলে যাওয়া— এইসব ঘটেছিল। তৃতীয় দিন সকালে আমি হিচহাইকিং করে দার্জিলিং হয়ে এন জে পির উদ্দেশে বেরিয়ে গেলাম, ওরা মানেভঞ্জনের দিকে চলে গেলো। পাহাড় থেকে ফিরে আর ছেলে দু’টির সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়ে ওঠেনি। আমার কাছে ওরা দু’জন সেই সুখিয়াপোখরির রাস্তাতেই রয়ে গেছে। ফিরে এসে ওদের গল্প বলেছিলাম বন্ধুদের। আর গল্প করেছিলাম সালাখা হোমস্টেতে হাসিমুখে দিন-রাত অবিশ্রান্ত প্রাণপাত করে যাওয়া ঐ দুই গৃহবধূদের নিয়ে, সোনম দিদি আর ইয়ঙ্গলা দিদি। ফেরার সময় আমায় দু’টো ডিমসেদ্ধ জোর করে প্যাক করে দিয়েছিল ওরা। অনেকটা রাস্তা— খিদে পেলে যাতে খাই! 

এই তিন দিনের একা হেঁটে বেড়ানোর মুহূর্তগুলোই আমার কাছে লেপচাজগতের সারাৎসার। বাড়ি ফিরে এসে ঐ ভূতের মতো একলা একলা ঘুরে বেড়ানো পাইন বনের সন্ধেগুলোই মনে পড়তো। ঝুপ করে নামা সন্ধের অন্ধকার আর তীব্র ঝিঁঝিঁ র ডাক। সেই একলা সেমেটারিটা… ‘পথের পাঁচালী’ মনে পড়ে? কাশী চলে যাওয়ার আগে অপুর প্রথম একা পিসির বাড়ি ভ্রমণ? 

— “জীবনে সর্বপ্রথম যেবার একা বিদেশ গেলুম পিসিমার বাড়ি সিদ্ধেশ্বরী কালীর পূজা দিতে, বছর নয়েক বয়স তখন— হাজার বছর যদি বাঁচি, কে ভুলে যাবে সেদিনের সে আনন্দ ও অনুভূতির কথা? … আমি সেদিন খালি পায়ে বালুমাটির পথে শিমুল সোঁদালি বনের ছায়ায় ছায়ায় ভিন্ গাঁয়ে যেতে যেতে যে আনন্দ পেয়েছিলুম, আমি তো বড় হয়ে জীবনে কত জায়গায় গেলুম, কিন্তু জীবনের ঊষায় মুক্তির প্রথম আস্বাদের সে পাগলকরা আনন্দের সাক্ষাৎ আর পাই নি— তাই রেবাতটের সেই বেতস তরুতলেই অবুঝ মন বারবার ছুটে যায় যদি, তাকে দোষ দিতে পারি কৈ?…”

লেপচাজগৎ আমার নিজস্ব ‘রেবাতটের বেতস তরুতল’…।

শেয়ার করুন

4 thoughts on “রেবাতটের বেতস তরুতল”

  1. Bidhan Roy

    সুস্মিতা ঘোষ khub sundor hye6e lekhata. aro lekho erom oviggota.

  2. Mohuya Bhaumik

    এই লেখাটা ‘ মন শান্ত ‘ করে দেওয়া। সুন্দর উপস্থাপনা। পড়তে পড়তে সঙ্গী হওয়া যায় এই সোলো ট্রিপের মেয়েটির সাথে- বিভূতিভূষণ কে নিয়ে বাঁচে যে। ফিরে ফিরে একবার করে আউড়ে নিই ‘ রেবাতটের বেতস তরুতল ‘।

  3. অনির্বান সরকার

    খুব সুন্দর বর্ণনা।

  4. Mohuya Bhaumik

    সুন্দর উপস্থাপনা। ‘ মন শান্ত ‘ করা। বিভূতিভূষণের জগতের বাসিন্দার থেকে শিরোনামটি উপহার পেলাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *