লিঙ্গ বৈষম্য

আমার ছোটবেলার বেলার একটা গল্প বলি। আমি স্কুলে ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে সিঁড়ি দিয়ে ছুটে যাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ করে একজন শিক্ষিকা এসে বললেন, ‘আস্তে যা, মেয়েরা এত জোরে দৌড়য় না’। আমার তখন ম্যামকে বলতে ইচ্ছে  করছিলো, ‘ ম্যাম, আমাদের ক্লাসে ছেলে-মেয়েরা একই রকম দুষ্টুমি করে। আমাদের ক্লাসে মেয়েরাই ক্যারাটে বেশি ভালো করে, কিন্তু কয়েকজন ছেলেও ভালো করে। আর অনেকজন মেডেল আর ট্রফিও পেয়েছে। আমিও পেয়েছি।’

এবারে আসল কথায় আসি। লিঙ্গবৈষম্য শুধু মেয়েদের ভোগ করতে হয় তা নয়, ছেলেদেরও ভোগ করতে হয়। মেয়েদের সঙ্গে অবশ্য এসব বেশি হয়। এবারে মুর্শিদাবাদের এক গ্রামের একটা মেয়েদের মাদ্রাসায় গিয়ে দেখলাম যে মেয়েরা প্রায় সবাই হিজাব পরে। শর্টস পরা বারণ ওদের। অনেক জায়গায় তারা ছোট চুল রাখতে পারেনা কারণ ‘তুই মেয়ে হয়ে চুল লম্বা রাখবি না?’

এদিকে আমি তো শর্টস পরি আবার চুলও ছোট ছিল লকডাউনের আগে। সবাই অবশ্য বৈষম্য মানে না। অনেকে প্রশ্ন করে, কেন? কেন মেয়েদের ‘মেয়ের মতো’ থাকতে হবে? কেন ছেলেদের ‘ছেলের মতো’ থাকতে হবে? ‘আবার অনেকে প্রশ্ন করে, ‘কেন নয়?’ 

ধরে নাও, কেউ বললো যে মেয়েরা বক্সিং করতে পারে না। ‘কেন না?’

 এই ‘কেন?’ আর ‘কেন না?’ খুব শক্তিশালী শব্দ। 

ছেলেরা কেন দুল, গয়না পরতে পারবে না? বিটিএস (খুব জনপ্রিয় একটি কোরিয়ান পপ গানের ছেলেদের দল) দলের একজন ছাড়া সবাই তো কানে দুল পরে। কতজন বলে তাতে ওদের ভালো দেখায় না, কিন্তু আমার ওদের দুল পরেই বেশি ভালো লাগে। 

আর ছেলেরা কেন কাঁদতে পারবে না? কান্না একটা অনুভূতির প্রকাশ। এটার ছেলে-মেয়ে বলে কিছু হয় নাকি? আমরা কাঁদি যাতে দুঃখ পাওয়ার পর, আমাদের একটু হালকা লাগে, ভালো লাগে। তাই সবাই কাঁদতে পারে, তাতে কেউ ‘মেয়ে – মেয়ে’ অর্থাৎ ‘ছোট’ হয়ে যায় না। তাই আমার মনে হয় মনের ভাব থেকে পোশাক-আশাক সব কিছুতেই লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে। এটা সমাজ তৈরি করে। সমাজ উন্নত হয়েছে বলে এখন এটা কমেছে, তবুও অনেকটাই রয়েছে এখনও।

শেয়ার করুন

4 thoughts on “লিঙ্গ বৈষম্য”

  1. Sukti Sarkar

    খুব ভালো লিখেছ মরমিয়া। আগামী দিনে তোমার সমবয়সীরা অনেকে এই রকম করে ভাবতে শিখলে অবশ্যই সামাজিক সচেতনতা বাড়বে।

  2. Dr R. G. Banerjee

    লেখাটা অদ্ভুত ভাবে মুগ্ধ করলে মরমিয়া। তোমার বয়েসের বা আরো অনেক অনেক বড় বা ছোটো বয়েসের ছানারা আর ভাবতে পারেনা জানো। তবে কিছু ছানা ভাবে, কিন্তু প্রকাশ করে উঠতে পারে না। তোমার এই খুব পরিনত অভিব্যাক্তি সত্যিই ছুঁয়ে গেল। ভালো থাকো। আর ভাবতে থাকো সবসময়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *