আপনাকে বলছি স্যার

“ওরা পরীক্ষা দেয়। কেউ পাশ করে, কেউ ফেল। শেখে না কিছু। কেন শেখে না তা আমাদের ভেবে দেখা দরকার। ভেবে দেখা দরকার, আমরা শিক্ষকরা দিনের পর দিন পরীক্ষায় পাশ করার বা বেশি নম্বর পাওয়ার কিছু ‘কৌশল’ ছাড়া আর কিছু ছাত্রদের শিখিয়েছি কি?” 

ইতালির টাসকানি প্রদেশের মুয়েলো অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার একটি জনবসতি – বারবিয়ানা। আমাদের বাংলার শহর-গ্রাম-মফস্বল থেকে অনেক দূরে। তবু এই সুদূর বারবিয়ানার স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের একটা মাস্টারমশাইদের লেখা চিঠি আমাদের অনেকেরই গতে বাঁধা শিক্ষার জুলুমে হাঁসফাঁস করতে থাকা প্রাণে এক রাশ মুক্ত বাতাস এনেছিল। বারবিয়ানার স্কুলের কথা স্বপ্ন দেখিয়েছিল অন্য রকম লেখাপড়ার। প্রশ্ন তুলেছিল শিক্ষা যদি শুধু ভালো ছাত্রছাত্রীদের জন্য হয়, শুধুই যারা সামাজিক অবস্থানের কারণে এগিয়ে তাদের আরো সুবিধে করে দেয় তাহলে সেই স্কুলের মানে কী, হাসপাতাল কি কখনও শুধু সুস্থ্ মানুষদের জন্য হতে পারে? জিজ্ঞেস করতে শিখিয়েছিল আমাদের পাঠ্যক্রমের মানে কী? যে বস্তির মেয়েটিকে সারাদিন বাড়ির কাজ সেরে, ভাই বোনদের খাইয়ে পরিয়ে পড়তে বসতে হয়, যাকে পড়ানো হয় শুধুমাত্র বিবাহযোগ্য করে তোলার জন্য , এই প্রথাগত স্কুলের পাঠ্যক্রমে এমন কীআছে যা তাকে তার পারিপার্শ্বের সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে সাহায্য করবে? যে চাষার মেয়েকে স্কুলের দরজা পর্যন্ত পৌঁছোতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, যার ভাষা, যাপন সমস্তটাই পাঠ্য পুস্তকের বাইরে তার পড়ার জেদ জ্বালিয়ে রাখার মতো সিলেবাস করা হয়েছে কি? বারবিয়ানার ছাত্রছাত্রীদের সবার জন্য স্কুলের দাবিতে তোলা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সলিল বিশ্বাস তার গোটা জীবন নিবেদন করে গেছেন। সাতের দশকে আন্দোলনে উত্তাল বাংলা যখন প্রশ্ন করতে শিখেছে চিরাচরিত ধারণাগুলোকে, কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে শিখেছে গোটা বুর্জুয়া সমাজ ব্যবস্থা কে, সেই ঝড়ই সলিল বিশ্বাসকে হাঁটতে শিখিয়েছিল অন্য শিক্ষার রাস্তায়। শুধু ‘আপনাকে বলছি স্যার’এর বাংলা তর্জমা করেই না, বারবিয়ানা ও পল ফ্রেরির তত্ত্বকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে কখনও ঝালদার মাঠে, কখনও স্যুইন হো লেনের এক ক্লাবঘরে, কখনও শ্রীরামপুরে গড়ে তুলেছিলেন বিকল্প স্কুল। আজ যখন নয়া শিক্ষানীতি শিক্ষাকে পণ্য করে তোলার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে, পুঁজির স্বার্থে, সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে আবারও পথ করে দিচ্ছে মেয়েদের স্কুলছুট হওয়ার, যখন অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা সমাজের বৈষম্যগুলোকেই আরও প্রকট করে দিচ্ছে তখন বারবিয়ানার স্কুলের কথা, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের লেখা চিঠি আরও আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সলিল দার লেখাতেই জানা যায় বারবিয়ানার স্কুলটি পরবর্তী বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু বছর পরেই ফ্লোরেন্সের ক্যালেঞ্জানো শহরে সেখানকারই কিছু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী মিলে আরেকটি স্কুল গড়ে তোলে। বারবিয়ানা তাই কখনই বন্ধ হয় না। সলিল দা চলে গেলেও তাই বারবিয়ানার কথা থেকে যায়। কখনও ফ্লোরেন্সে, কখনও কলকাতায়, কখনও শ্রীরামপুরে। থেকে যায় বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যয়, অভিভাবকদের ইউনিয়ন গড়ার কথা, এই ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বুকে রোহিত ভেমুলা, পায়েল তাদভি, বা চুনি কোটালদের অফুরান স্বপ্ন হয়ে।

সেই সলিল দার স্বপ্নকেই জিইয়ে রেখে থাকলো  ‘আপনাকে বলছি স্যার’-এর কিছুটা বাছাই অংশ।

পৃষ্ঠা ২

(বাউলমন প্রকশনা তৃতীয় সংস্করণ)

পাহাড়ি মানুষ

  • সকলের জন্য স্কুল যে পাঁচ বছর প্রাথমিক স্কুলে পড়েছি, সরকার আমাকে দিয়েছে নিম্নস্তরের ফালতু শিক্ষা। একটা ঘরে পাঁচটা ক্লাস একই সাথে চলছে। তার মানে আমি পেয়েছি প্রাপ্য শিক্ষার পাঁচ ভাগের এক ভাগ মাত্র। আমেরিকাতেও কালো চামড়ার মানুষ আর শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বিভেদ স্থায়ী করে রাখতে এইরকম ব্যবস্থা আছে। নিচু তলার গরিব মানুষের জন্য প্রথম থেকেই নিচু স্তরের গরিব স্কুল। 
  • শিক্ষা নাকি বাধ্যতামূলক পাঁচ বছর প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর আমার অধিকার আছে তিন বছর আরও শিক্ষালাভের। আমাদের সংবিধান তো বলে আমি নাকি এই শিক্ষা নিতে আইনত বাধ্য। কিন্তু ভিচ্চিওতে মাধ্যমিক স্কুল নেই। আছে বোরগো শহরে। সেখানে পড়তে যাওয়া ভীষণ খরচের ব্যাপার। কেউ কেউ বহু কষ্টে গেছে সেখানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ঘাড় ধাক্কা খেতে হয়েছে।

             আমার শিক্ষক তো আমার বাবা-মাকে বলেই দিলেন, মিথ্যা পয়সা খরচা করছেন এর পেছনে। মাঠে পাঠান ওকে, চাষ করে খাক। লেখাপড়া ওর জন্য নয়। 

             বাবা উত্তর দেননি। মনে মনে ভেবেছিলেন, আমরা যদি বারবিয়ানায় থাকতাম তাহলে ওকে লেখাপড়ার জন্য তৈরি করে নেওয়া হ’ত। 

  • বারবিয়ানা বারবিয়ানাতে সব ছেলেরাই স্কুলে যায় ধর্ম যাজকের স্কুলে। ভোর থেকে সন্ধে, শীতে, গ্রীষ্মে সব সময়ে। ওখানে “লেখাপড়া” সকলের জন্য।  

             কিন্তু আমরা ভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। অনেক দূরে থাকি। প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন এমন সময় বাবা খবর পেলেন সান মারটিনো থেকে একটি ছেলে বারবিয়ানাতে পড়তে যায়। সাহস করে কথা বলতে গেলেন বাবা। 

             ফিরলেন আমার জন্য একটা টর্চ, একটা টিফিন কৌটো আর বরফে হাঁটার বুট হাতে। স্কুলে যাব আমি।

             প্রথম দিন বাবার সাথেই গেলাম, পাক্কা দুঘন্টা লাগল। চলতে চলতে রাস্তা সাফ করতে হল নিড়ানি দিয়ে। পরে অবশ্য একঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে যেতাম। 

  • একলা নির্জন পথে পথে মাত্র দুটো বাড়ি চোখে পড়ত, এমন নির্জন রাস্তা। সে দুটো আবার পোড়ো বাড়ি। কখনো কখনো ছুটে যেতে হ’ত। রাস্তায় হয়তো দেখতাম একটা বিষাক্ত সাপ অথবা মাঝে মাঝে পাহাড়ের গুহায় যে পাগলটা থাকত সে চিল্লাত আমাকে দেখে। 

            আমার বয়স তখন এগারো। আপনি হলে ভয় মরেই যেতেন। দেখছেন তো, আমাদের দুজনের ভীরুতা কেমন দুরকমের। কীরকম শোধবোধ হয়ে যাচ্ছে বলুন তো!

            অবশ্য সমান হওয়াও হল না। আপনিও যদি আমার মতো স্কুল থেকে ছাঁটাই হয়ে বাড়িতে বসে থাকতেন অথবা আমাদের মতো করে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হতেন তাহলে বলা যেত আমরা সমান।

  • অন্যরকম স্কুল বারবিয়ানাতে এসে অবাক হলাম। এ কেমন স্কুল? শিক্ষক নেই, ডেস্ক নেই, ব্ল্যাকবোর্ড নেই, বেঞ্চ নেই । কতগুলো বড় বড় টেবিল কেবল। তার উপরেই পড়া। তার উপরেই খাওয়া। প্রত্যেকটা বইয়ের একটা করে কপি। ছেলেরা হুমড়ি খেয়ে সকলে মিলে পড়ছে সেগুলো। বোঝাই যায় না, সেই ছেলের দলেই একজন যে একটু বয়সে বড়, পড়াচ্ছে সেই।

            এই মাষ্টারদের মধ্যে সবচেয়ে যে বয়সে বড় সে ষোল বছরের। আর সবচেয়ে ছোটজন বারো বছরের। আমার একেবারে তাক লেগে গেল। তখুনি ঠিক করলাম আমিও শিক্ষক হব।

  • সেরা ছাত্র ভাববেন না ওখানে খুব আরামে ছিলাম। ভীষণ শৃঙ্খলা, কেবল তর্ক বিতর্ক। মনে হ’ত দুর ছাই, আর আসব না পড়তে। কিন্তু মজাটা কোথায় জানেন? যদি কোনো বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ নেই দেখা যেত, যদি কাউকে মনে হ’ত একটু পিছিয়ে পড়া বা অলস, তাহলে তাকে সবাই যত্ন করতে শুরু করত। আপনারা যেমন সেরা ছাত্রদের তোয়াজ করেন, অনেকটা তেমন। মনে হ’ত স্কুলটা যেন তার একার। যতক্ষণ না সে একটা পড়া না বুঝত, ততক্ষণ অন্যরা এগোতো না অন্য পাঠে। তার জন্য অপেক্ষা করে থাকত।
  • ছুটি ছুটি বলতে আমাদের কিছু ছিল না। এমনকি রবিবারও নয়। আমাদের কারো কোনো আপত্তি ছিল না তাতে। কাজ করতে হলে কষ্ট হ’ত অনেক বেশি। কিন্তু কোনো মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক এলে এ নিয়ে শুরু হ’ত কচকচি। একবার এলেন এক বিখ্যাত অধ্যাপক। “আপনি, ফাদার মিলানি, শিক্ষাতত্ত্ব পড়েননি? আপনি জানেন না যে, পোলিয়ানস্কি লিখেছেন খেলাধূলা ছেলেদের জন্য একটা ফিজিওসাইকো…  ” আমাদের দিকে না তাকিয়েই উনি কথাগুলো বলছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমশাই স্কুলছাত্রদের দিকে তাকাবেন কেন? আমরা কি তাকাই আমাদের মুখস্থ করা নামতাগুলোর দিকে?

            তা উনি চলে যাবার পর লুসিয়ো বলে উঠল “বাড়িতে বসে গোয়ালঘরে ছত্রিশটা গরু-মোষের গোবর সাফ করার চেয়ে স্কুলে সারাদিন খাটনি অনেক ভাল।”

  • চাষীর মনের কথা জানেন স্যার এই যে কথাটা লুসিয়ো বলল, এটা আপনাদের সব স্কুলের দরজার ওপর খোদাই করে রাখা উচিত। লক্ষ লক্ষ চাষীর ছেলের মনের কথা এটা। আপনি বলবেন ছেলেরা স্কুলের পড়ার চাইতে খেলা বেশি পছন্দ করে। কোনো চাষীর ছেলেকে, কোনো খেটে খাওয়া মানুষের ছেলেকে, জিগ্যেস করে দেখেছেন কখনও সে কী বলে? করেননি। অথচ দেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ কিন্ত এরাই। এদের দশ জনের মধ্যে ছজনই লুসিয়োর সাথে একমত হবে। 

            আপনাদের সংস্কৃতির ব্যাপারটাই এই, আপনারা মনে করেন আপনারাই গোটা দুনিয়া। 

  • ছাত্ররাই শিক্ষক যাই হোক, আবার স্কুলের কথায় আসি। পরের বছর আমি হলাম শিক্ষক ওখানে। সপ্তাহে তিন দিন, এক বেলা করে। পড়াতাম ভূগোল, অঙ্ক আর ফরাসী ভাষা। মাধ্যমিকের প্রথম শ্রেণীতে।

            ম্যাপ দেখতে তো আর ডিগ্রি লাগে না অথবা ভগ্নাংশ শেখাতে তো আর অঙ্কে মহাপন্ডিত হওয়ার দরকার নেই। 

            ভুল করতাম না কি আর! কিন্তু তাতে ক্ষতি হ’ত না। বরং ভালই হ’ত। ছেলেরা একটু স্বস্তি পেত। সকলে মিলে লাগা হ’ত তখন সেই ভুল শোধরাতে। ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেত, নিশ্চিন্তে, বিনা গন্ডগোলে। নির্ভয়ে। আমার মতো করে ক্লাস সামলাতে আপনি কোনোদিন পারবেন না স্যার।

  • স্বার্থ সাথে সাথে আমিও শিখেছিলাম অনেক কিছু। যেমন, শিখলাম অন্যদের সমস্যাগুলোও আমার সমস্যার মতই। এক সাথে সমস্যার সমাধান করতে পারলে সহমর্মিতা বাড়ে। একা একা সমস্যার সমাধান করা একধরনের স্বার্থপরতা। 

            আমি অবশ্য স্বার্থপরতা থেকে একদম মুক্ত ছিলাম এমন নয়। পরীক্ষার সময় আমার মনে হ’ত, দিই বাচ্চাগুলোকে ভাগিয়ে, নিজের পড়া নিয়েই থাকি। আমার মানসিকতা ছিল আপনার স্কুলের ছেলেদের মতোই। কিন্তু বারবিয়ানাতে একথা তো আর বলা চলত না। ইচ্ছে না থাকলেও উদার হতে হ’ত আমাকে।

            আপনার কাছে হয়তো মনে হচ্ছে এ তো সামান্য ব্যাপার। কিন্তু আপনার ছাত্রদের জন্য আপনি তো এটুকুও করেন না। তাদের শুধু বলেন, পড়াশুনা করে যাও একা একা, নিজের মতো, নিজের জন্য।

 

শহুরে ছেলেরা

  • বিকৃতি কিছুদিন পরে ভিচ্চিওতে যখন মাধ্যমিক স্কুল চালু হল, শহর থেকে কিছু কিছু ছেলে বারবিয়ানাতে আসতে শুরু করল। সবাই নয়, শুধু যারা ফেল করল ওখানে। 

            তাদের মধ্যে লজ্জা বা সংকোচ ছিল না। কিন্তু অন্য ধরনের অদ্ভুত সব বিকৃতি ছিল তাদের। যেমন, তারা ভাবত, খেলাধুলা, ছুটি, এসব তাদের অধিকার, আর স্কুল করা মানেই শাস্তি। ওরা জানতই না স্কুল যায় লোকে শিখতে, আর স্কুল যেতে পারাটা একটা বিশেষ সৌভাগ্য। তাদের কাছে শিক্ষক হল শত্রুপক্ষ। তাকে ঠকানোই হচ্ছে কাজ। তারা, এমনকি, পরীক্ষায় টোকাটুকিরও  চেষ্টা করত। আমাদের এখানে যে পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া হয় না, পাশ ফেল ব্যাপারটাই নেই, এ কথা বুঝতে তাদের সময় লাগলো অনেক। 

  • কোনটা আকর্ষণ এদের আরেকটা অদ্ভুত ব্যবহার দেখা যেত যৌনতার ব্যাপারে। এ বিষয়ে এরা কথা বলত ফিসফাস করে। মোরগ ও মুরগি বা কোনো জীবজন্তুর সঙ্গম দেখলে এরা এমন ভাব করত যেন অশ্লীল কিছু দেখছে সামনে। অথচ যৌন সব কিছুতেই তাদের অসীম আগ্রহ দেখা যেত প্রথম প্রথম। আমাদের স্কুলের শারীরবিদ্যার বইটা নিয়ে এক কোণে গিয়ে গুজগুজ ফুসফুসের অন্ত ছিল না তাদের। বইটার দুটো পাতা তো প্রায় ছিঁড়ে যাবার দাখিল হল। কদিন পরেই অবশ্য ওরা আবিস্কার করল বইটাতে কৌতূহলোদ্দীপক আরও অনেক কিছু আছে। আরও পরে তারা বুঝল, ইতিহাস বিষয়টিও খুবই চিত্তাকর্ষক হতে পারে। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো একটার পর একটা নতুন নতুন আগ্রহের বস্তু আবিষ্কার করে চলেছে। সব বিষয়ই এখন ভালো লাগে তাদের, ছোট ছেলেদের তারা এখন পড়ায়। আমাদের সাথে মিশে গেছে তারা।

            কেউ কেউ অবশ্য মিলতে পারল না কোনোমতেই। আপনারা তাদের মনগুলিকে এমন জমাট পাথুরে করে দিয়েছেন যে, তারা আর কোনোদিনই মন খুলে কিছু করতে পারবে না। 

  • মেয়েরা শহর থেকে কোনো মেয়ে কোনোদিন বারবিয়ানা আসেনি। আসেনি হয়তো আসার পথটা খুব বিপজ্জনক বলে। হয়তো বা তাদের বাবা-মার মানসিক মালিন্যের জন্য। ওঁরা অনেকেই মনে করেন মেয়েমানুষের আবার লেখাপড়া শেখার দরকার কী? পুরুষেরা মেয়েদের মধ্যে বুদ্ধিটুদ্ধি চায় না। এও এক ধরনের জাতি বিদ্বেষ। এই একটা ব্যাপারে অবশ্য আপনাকে প্রশংসা করব। মেয়ে ছাত্রদের আপনি ছোট করে দেখেন না। 
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *