কাশ্মীরের কবিতা

আসিয়া জাহুর একাধারে কবি ও চলচ্চিত্রনির্মাতা। শেষ কবিতার বই ‘সারপেন্টস আন্ডার মাই ভেইল’। বর্তমানে কাশ্মীরের বারামুলার এক কলেজে পড়ান। মূল কবিতাটি পড়া যাবে এখানে-
https://www.thehindubusinessline.com/blink/know/kashmiri-poet-asiya-zahoor-writes-about-barbed-wires-and-a-phone-call-from-home/article28927849.ece

যখন আমি কোল্ড কফিতে চুমুক দিচ্ছিলাম, কাফে টার্টল, খান মার্কেট, নিউ দিল্লি

একটা সবুজ হাতলওলা চেয়ারের ওপর

গুটিশুটি মেরে একটা শান্ত ভাবের মধ্যে ঢুকে পড়ছিলাম আমি।

ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা প্রাত্যহিক খাবারতালিকাঃ

লেবাননের ডিশ / দারুচিনি রোল

আমার স্মার্ট ফোন বেজে ওঠেঃ বাড়ি

আমি পা বাড়াই টার্টল এর ছাদে,

চিৎকার করিঃ “কাশ্মীরে কার্ফিউ এর সময় তোমরা খাবারদাবার কিনতে পারছ তো?”

অপরাধী লাগে আমার। আমি নিশ্চিত জানি বাড়িতে

ওরা গাছের পাতা থেকে শেষ সবুজটুকু ছিঁড়ে নিয়েছে

আমি আমার মুখটাকে টানটান করে নিই, আবার ঢুকে পড়ি।

দেখি, খয়েরি চুলের দুটি সিল্ক শাড়ি

কাশ্মীরি কেহ্য়া চা আর উদারচেতা রাজনীতি গুলে মিশিয়ে নেয়,

তিনটি ফ্যাব ইন্ডিয়ার কুর্তা মুনাফা নিয়ে আলোচনা করে,

তাদের ভুঁড়িও অত্যন্ত উন্নয়নশীল 

এসপ্রেসো মেশিন আমার নাম ধরে হিসহিসিয়ে ডাক দেয়

ক্যাফেইন আমার মাথায় কোনো চাল খেলছে নাকি?

দরজায় প্ল্যাকার্ডঃ ‘আপনি কি ক্যাফে টার্টল লয়ালটি কার্ড নিয়েছেন?’ 

নিজেকে লম্ফঝম্প করা ক্লাউনের মতো মনে হয় আমার

যে আনুগত্যকে উল্টে দিচ্ছে। ঘরটির এদিক ওদিক তাকানোগুলো 

ঘোষণা করে আমার উল্টোরকম সংহতির কথা। 

আমার টেবিলে ছড়িয়ে থাকা দারুচিনি টুকরোর সঙ্গে

আমিও জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকি। 

অপরিচ্ছন্ন টেবিল আমি ঘৃণা করি,

একটা পরিষ্কার কাগজের ন্যাপকিন বিছিয়ে নিই আমি

আমার জীবনের মানচিত্র আঁকবো বলে – যা কিনা আসলে বেড়ে উঠতে থাকা এক প্রহসন।

প্রচণ্ড সেনাঅধ্যুষিত অঞ্চলে হাল্কা বেঁচে থাকা

আমাদের জিভের ওপর ওরা আড়াআড়ি 

কাঁটাতার বিছিয়ে দেওয়ার আগে

এসো, আমরা গান গাই, আমন্ড গাছে ফুল এসেছে বলে

আমাদের মাথায় হাতুড়ি মেরে 

ভাবনাগুলো কেড়ে নেওয়ার আগে, চলো ভাবি

যা আমরা ভাবতে চাই

আমাদের ঘুমের ভেতর ওরা দেওয়াল তুলে দেওয়ার আগে

চলো ফিসফিস করে ছড়িয়ে দিই স্বপ্নগুলো 

ঠাণ্ডা নিষ্ঠুর কানের ভেতর

ধাতব আঘাতে ওরা আমাদের অন্ধ করে দেওয়ার আগে

চলো আমাদের অন্ধকারকে আয়না বানাই   

ওরা আমাদের কথাগুলো মুছে দেওয়ার আগে

চলো হাতের পাতার ওপর আঙুলের ডগা দিয়ে

আমরা এই গল্পটাকে খোদাই করে রাখি ।

ছবি- ন্যিলা আলি খান 

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *