পুঁজিবাদ, পিতৃতন্ত্র এবং মেয়েদের কাজ – দ্বিতীয় কিস্তি

প্রিয় বন্ধু 

আশা করি ভালো আছিস। গত দু এক মাসে, যশের প্রকোপে আমরা অনেকেই নাস্তানাবুদ হয়েছি তার সঙ্গে কোভিড এর দ্বিতীয় ওয়েভ আর লকডাউন! কলকাতায় বহু মানুষই ডেইলি প্যাসেঞ্জেরি করেন এবং ট্রেন বন্ধ থাকার দরুন তাদের কাজ হারিয়েছেন।  এই তো সবিতা দি, যিনি রান্নার কাজ করতেন একটি বহুতল আবাসনে, তার চাকরি গেছে। ইচ্ছে থাকলেও, ট্রেন বন্ধ থাকার ফলে, তিনি আসতে পারছেন না, আবার কোনোভাবে পৌঁছতে পারলেও, আবাসনে তার প্রবেশ নিষেধ। আসলে খেটে  খাওয়া মানুষগুলিকেই শহরের উচ্চ মধ্যবিত্ত বাসিন্দারা চিহ্নিত করেন রোগ বহনকারী হিসেবে।  এই ‘আমরা’ এবং ‘ওরা’-র বিভাজন,  ‘ওদের’-কে নোংরা, অসাবধানী, অসচেতন, এবং রোগের উৎস হিসেবে ভাবা– এটা আমাদের সমাজের অন্তর্নিহিত জাতব্যবস্থা এবং তার সাথে জড়িত শুদ্ধতা অশুদ্ধতা র ধারণা থেকে উঠে এসেছে।  জাতব্যবস্থা ভারতীয় শ্রমব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত বহুযুগ ধরেই। শিল্পায়ন বা পুঁজিবাদ এই জাতব্যবস্থাকে উৎখাত তো করেই নি, বরং, তার পিঠে চেপে এগিয়েছে। তাই ভারতের শিল্পায়ন ও মেয়েদের কাজের ইতিহাস ইউরোপের ইতিহাস থেকে অনেকটাই আলাদা।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে ইউরোপের শিল্পায়নের অনেকাংশেই ভিত্তি ছিল কলোনিগুলির থেকে সস্তায় তুলো আমদানি। শুধুমাত্র তাই নয়, সুতির ফ্যাক্টরিতে তৈরি কাপড়জামা বেচা হত বিভিন্ন কলোনির বাজারে। ফ্যাক্টরিতে তৈরি সস্তা কাপড় যখন ভারতীয় বাজার ছেয়ে ফেলে, ভারতের নিজের তাঁত শিল্প যায় নষ্ট হয়ে। এই তাঁত শিল্পের সাথে বহু মেয়ে জড়িত ছিলেন এবং তাঁত শিল্পের ধ্বংসের ফলে, তাঁরা কাজ হারান। উপরন্তু ব্রিটেনের কাপড় মিলে তুলো পাঠানোর জন্য, প্রচুর শস্যের খেত তুলো উৎপাদনে ব্যবহার হতে থাকে। তাতে কৃষি এবং প্রয়োজনমতো শস্য উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। একভাবে বলতে গেলে, ইউরোপের শিল্পায়ন ভারতের  ক্ষুদ্র শিল্পের ধ্বংস ডেকে আনে এবং খাদ্য শস্যের অভাব সৃষ্টি করে। উনিশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ধীরে ধীরে ভারতে শিল্পায়নের বিকাশ শুরু হয় বস্ত্র ও চট শিল্পের হাত ধরে।

ভারতীয় শিল্পায়ন ও শ্রমের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে ফ্যাক্টরির ক্রমবর্ধমান শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণীচেতনার যথার্থ বিকাশ না ঘটার পেছনে রয়েছে এদেশের জাত ব্যবস্থা। কিছু কিছু ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে গ্রাম এবং কৃষিজীবনের সাথে নিবিড় সংযোগের কারণে ভারতে ইউরোপের মতো সর্বহারা শ্রেণীর বিকাস ঘটে নি। জুট মিলের উদাহরণ নিলে দেখবো, বেশিরভাগ শ্রমিক পরিযায়ী ছিলেন যারা ফসল কাটার সময়ে, গ্রামে ফিরে যেতেন খেত মজুরি খাটতে। এতে চটকল মালিকপক্ষ বিশেষ ক্ষুব্ধ হতেন না, কারণ তাতে শ্রমিকদের রোজের হিসেবে মজুরি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া যেত–স্থায়ী কাজ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। যদিও এটাই শ্রেণীচেতনার বিকাশের পথে একমাত্র বাধা ছিল না।  শ্রমিকরা জাতিবিভক্ত  ছিলেন, এবং পারম্পরিক এই বিভেদ তাদের মধ্যে ঐক্য তৈরি হতে দেয় নি। এই জাতিভেদ, একই গোষ্ঠী র শ্রমিকদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করে, ঐকবদ্ধ কোনো সংগ্রাম করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মালিকপক্ষ এবং তাদের দালালরাও তাদের স্বার্থে এই বিভেদ টিকিয়ে রাখত । এই সবের মাঝে নারী শ্রমিকদের পরিস্থিতি কেমন ছিল?

ভারতবর্ষে, সাধারণত পুরুষরাই গ্রাম ছেড়ে শহরে বা অন্য জায়গায় যেতেন কাজের সন্ধানে। মহিলারা গ্রামে থাকতেন পরিবারের ছোটোখাটো খেত সামলানোর জন্য কিংবা অন্যের খেতে দিনমজুরি করার জন্যে। তারা নানা ধরনের গ্রামীণ শিল্প,পশুপালন ইত্যাদির সাথেও যুক্ত থাকতেন। মহিলাদের শ্রমের ওপর গড়ে ওঠা এই গ্রামীণ অর্থনীতি, একদিকে, বহু সংকটে, পরিবারগুলিকে অনাহার থেকে বাঁচিয়েছে, অপরদিকে, পুরুষ শ্রমিকদের ফ্যাক্টরি থেকে রোজগার করা স্বল্প আয়ের পরিপূরক হিসেবেও কাজ করেছে। তবু শ্রমের মান্যতা মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পান নি। এই সব কাজকেই বাড়ির কাজ, পারিবারিক কাজ হিসেবে গণ্য করে অদৃশ্যও করে দেওয়া হয়েছে (যেমন আজও হয়)। কিছু অল্পসংখক মহিলারা তাদের স্বামীদের সাথে ফ্যাক্টরির কাজে যোগদান করতেন। কিন্তু ইউরোপের ইতিহাসের মতোই, তাদেরকে সবথেকে কম মাইনের কাজ দেওয়া হত, একই কাজের জন্যে তাঁরা কম বেতন পেতেন, এবং বাজার মন্দা গেলে, সবথেকে আগে তাঁরাই ছাঁটাই হতেন।  বেশি শ্রমিকের চাহিদা থাকলে, মালিকপক্ষ, পরিবারে স্বামী স্ত্রী উভয়ের রোজগারের উপকারিতার কথা বলতেন, আবার ছাঁটাই-এর সময়ে, মহিলাদের মাতৃত্বের কাজে মনোযোগী হওয়ার কথা তুলে, পুরুষদের দলে টেনে আন্দোলনের পথ রুখে দিতেন। তাই, মহিলা শ্রমিক-এর ফ্যাক্টরিতে নিয়োগ ও বিয়োগ, দুই-ই ঠিক হত পিতৃতন্ত্র আর পুঁজির স্বার্থ কে মাথায় রেখে।

বেশ কিছু মহিলা শ্রমিক যারা ফ্যাক্টরির কাজে যোগদান করেন, তারা ছিলেন বিধবা বা পরিত্যক্তা। এই সব শ্রমিকরা অনেক সময়ই পরিবার থেকে খেদিয়ে দেওয়া বা পালিয়ে আসা মেয়েরা, যাদের ফিরে যাওয়ার জায়গা ছিল না। পুরুষ শ্রমিকদের মতো তারা ফসল কাটার সময়ে, গ্রামে ফিরে যেতে পারতেন না।  সেই হিসেবে এরাই প্রলেতারিয়েত হওয়ার সুযোগ্য শ্রমিকগোষ্ঠী। কিন্তু ইউরোপের মতোই, পুরুষ প্রধান ইউনিয়নগুলিতে মেয়েদের বা নারী শ্রমিকদের সমস্যার কোনো স্থান হয়নি। কিছু কিছু মহিলা-শ্রমিক নতুন পরিবার তৈরি করেন তাদের পুরুষ শ্রমিকদের সাথে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তৈরি করে। বহু ক্ষেত্রে এই পুরুষদের গ্রামেও স্ত্রী বর্তমান থাকতেন, তাই এই দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো আইনি দাবি থাকত না, শুধুমাত্র, তারা অন্য পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেতেন মাত্র। তাই অনেকসময়ে, বহু পুরুষদের হাতে যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচতে, মহিলারা এই ধরনের স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক স্থাপনে রাজি হতেন।

পুরুষ প্রধান ইউনিয়নে ঠাঁই না হলেও, মহিলা শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন শুরু মার্ক্সবাদী নারীবাদীদের হাত ধরেই। আঠেরোশো  খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে। বিভিন্ন মহিলা শ্রমিক, আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, মহিলাদের সম কাজে সম বেতন, বেতন বৃদ্ধি, কাজের শর্তের ও পরিবেশের উন্নতি, ও  সুরক্ষার ব্যবস্থার কথা তোলেন। সেই সমস্ত আন্দোলনকে স্মরণ করেই আমাদের ৮ মার্চ নারীদিবস উদযাপন।  ক্লারা জেটকিন, রোজা লুক্সেমবার্গ-এর মতো মার্ক্সিস্ট নারীবাদীদের মুখ্য লড়াই ছিল পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, যে ব্যবস্থায় মহিলারা শ্রমিক হিসেবে এবং নারী হিসেবে অবমাননা ও অত্যাচারের স্বীকার হত। তাদের নজর ছিল নারীদের সেই কর্মক্ষেত্র, যেখানে তাঁরা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করেন। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে সমাজতন্ত্রী নারীবাদীদের হাত ধরে এই নজর চলে আসে ঘর এবং বাহির, এই  দুই ক্ষেত্রের ওপর। আগের চিঠিতে লিখেছি, হেইডি  হার্টম্যানন, ন্যান্সি ফলবরে এবং বিভিন্ন  সমাজতন্ত্রী নারীবাদীরা বিশ্লেষণ করেন কিভাবে পিতৃতন্ত্র এবং পুঁজিবাদের আঁতাতে, মহিলাদের ঘরে বাইরে অক্লান্ত শ্রমের অবমাননা এবং শোষণ হতে থাকে। তাই নারীবাদী আন্দোলনের অভিমুখ শুধুমাত্র পুঁজিবাদকে ধ্বংস করা নয়, একই সাথে, এবং সমান্তরাল ভাবে পিতৃতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো। তার অর্থ, লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনকে বদলানো (ঘরে এবং বাইরে), মহিলাদের যৌনতার ওপর নিয়ন্ত্রণকে (পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র দ্বারা) বন্ধ করা, মহিলাদের চলাফেরার, নিজেদের পছন্দ মতন কাজ ও মানবিক যোগাযোগের স্বাধীনতা, সমস্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্থান ও সম্পত্তির ওপর সমান অধিকার, এবং একই সাথে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণায়।

আরেকটি নারীবাদী আন্দোলনের ধারা যা ভারতবর্ষ তথা আফ্রিকা,এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠা নারী আন্দোলনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো থার্ড ওয়ার্ল্ড ফেমিনিজম বা তৃতীয় বিশ্বের নারীবাদ। এই তৃতীয় বিশ্বের নারীবাদী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হয় DAWN (ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভস উইথ উইমেন ফর এ নিউ এঁরা)। গীতা সেনের মতো নানা নারীবাদীদের হাতে গড়া DAWN একটি নতুন সমাজের পরিকল্পনা করে যেখানে যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদ নয়, মানুষে মানুষে, সমাজে সমাজে, দেশে দেশে, এবং প্রকৃতির সাথে সমতা, সহযোগিতা ও সখ্যতার মধ্যে দিয়ে নতুন সভ্যতার গঠন হবে। তারা জোর দেন ইন্টারসেকশনালিটি-র ওপর, অর্থাৎ শ্রেণী, লিঙ্গ, জাতি, বর্ণ, রং, যৌন পছন্দ, প্রতিবন্ধকতা,  বিভিন্ন অক্ষের একে অপরের সাথে সম্পর্ক, একে অপরের মধ্যে চলাচলের জটিলতা দিয়ে মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে জানা বোঝা। শোষণের থেকে মুক্তির লড়াই এই সমস্ত অক্ষকে মাথায় নিয়েই লড়তে হবে। 

ভারতবর্ষে, নারীবাদী আন্দোলনের স্ফূরণ ঘটে উনিশশো সত্তরের দশক থেকে। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা অনেকেই সমাজতন্ত্রী নারীবাদ এবং তৃতীয় বিশ্বের নারীবাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। বাম মতাবলম্বী পার্টিগুলির সাথে যুক্ত হয়ে কিংবা অটোনোমাস নারীবাদী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে মহিলা শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজ এবং মহিলাদের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষণ ও আন্দোলন এগোতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মূলধারার ট্রেড ইউনিয়নের মহিলা শাখার মাধ্যমে, কিংবা মহিলাদের স্বাধীন ইউনিয়ন বা কালেক্টিভের মধ্যে দিয়ে, মহিলা শ্রমিকদের সংগঠিত করা হয় এবং তাদের দাবিকে সামনে আনা হয়।  সরকারের সাথে দর কষাকষি, আলাপ আলোচনা, আইনি সংস্কারের সাথে সাথে তৃণমূল স্তরে, বহু লড়াই গড়ে ওঠে। ঘরে ও বাইরে মহিলা শ্রমের মান্যতা; শ্রমের অবমূল্যায়ন বন্ধ; মর্যাদাপূর্ণ কাজের দাবি, কর্মক্ষেত্রে যৌন অত্যাচারের প্রতিকার ও বিচার, মেয়েদের সম্পত্তি ও জমির অধিকার; শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কাজ, এবং আর্থিক সম্পদে মেয়েদের সমান ভাগিদারী; এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিংশ শতাব্দীর শেষে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিভিন্ন নারীবাদী আন্দোলন সোচ্চার হয়ে ওঠে। মূলধারার নারীবাদী আন্দোলনে, দলিত মহিলাদের বিশেষ অবস্থান সম্পর্কে উদাসীনতার ফলে, দলিত নারীবাদীরা নিজেদের সংগঠন তৈরি করেন। জল জমি জঙ্গলের লড়াই এবং আদিবাসী মানুষদের অস্মিতা এবং অধিকারের লড়াইয়ের সাথেও ধীরে ধীরে যুক্ত হয় নারীবাদী প্রসঙ্গ। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে, যে কোনো লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন মহিলা শ্রমিক এবং মহিলা কৃষক। নিজেদের নারীবাদী হিসেবে চিহ্নিত না করলেও, এই আন্দলোনের মধ্যে নারীবাদী চেতনার সমন্বয় ঘটেছে। কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যে আন্দোলন চলছে, তারই মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মহিলাদের জমির অধিকার ও কৃষক হিসেবে স্বীকৃতির প্রসঙ্গ, লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবিভাজনের বদল (যেখানে প্রতিবাদস্থলে পুরুষরা রান্নাবান্নার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছে), ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ।

নারীবাদী আন্দোলন একটি ক্রমবিবর্তমান ধারা। নারীর শ্রমের প্রসঙ্গের সাথে জুড়ে রয়েছে শুধু পিতৃতন্ত্র বা পুঁজিবাদের ইতিহাস নয়,জাতপাত, বর্ণ, ধর্ম, যৌনতা, প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের ইতিহাস। শোষণের এবং অবমাননার এই বিভিন্ন অক্ষগুলি একসাথে বিশ্লেষণ না করলে, আমাদের মর্যাদা আর সমতার লড়াই অপূর্ণ বা সীমিতই রয়ে যাবে। সবসময়ে সব আন্দোলন যে এক ছত্রছায়ায় এসে দাঁড়াবে.তা নাও হতে পারে। কিন্তু আমাদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, কথা বলতে হবে একে অপরের সাথে। আমরা যে যেমনই কাজ করি না কেন – পারিশ্রমিকে বা বিনা পারিশ্রমিকে, সংগঠিত ক্ষেত্রে বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে, ঘরে কিংবা বাইরে, শ্রমের মর্যাদার লড়াই আমাদের জীবন নির্বাহের লড়াই, জীবন চেতনার লড়াই।

আজ এই পর্যন্তই. ভালো থাকিস। ভাল রাখিস। একসাথে লড়ব এই প্রতিশ্রুতির সাথে আজকের চিঠি শেষ করলাম। দেখা হবে বন্ধু।

নীলাঞ্জনা 

পুঁজিবাদ, পিতৃতন্ত্র এবং মেয়েদের কাজ (প্রথম কিস্তি) পড়তে ক্লিক করুন। 

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *