১৫ জুলাই, ২০২১

শর্মিষ্ঠার স্মৃতিতে কয়েকটি কথা

আজ যখন এই লেখা লিখছি তখন শর্মিষ্ঠার প্রয়াণের একমাস পূর্ণ হয়েছে। যে অস্বাভাবিক শূন্যতা এবং নিরাপত্তাহীনতা জুন মাসের ১৩ তারিখে আমাদের কাঁধে আচমকা চেপে বসেছিল তাতে আমরা এখনও ডুবে রয়েছি এক শ্বাসরোধকারী মগ্নতায়। এখনও পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি কীভাবে কী সামাল দেব! কীভাবে দেব? কার ভরসায় আমরা লড়ে যাব? শর্মিষ্ঠা আমাদের অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিল। 

শেয়ার করুন

মূলনিবাসী শৈশবের ঔপনিবেশিক গণহত্যা

যে ইতিহাস ‘সভ্যতা’র আলো দেখানোর নামে মূলনিবাসী অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, যাপনকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার হাড় হিম করা গল্প। ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখার জন্য স্থানীয় সংস্কৃতি নির্মূল করতে তাই মিশনারি বোর্ডিং স্কুলগুলোতে মূলনিবাসী বাচ্চাদেরও নির্বিচারে হত্যা করা হয়। চলে হাজার হাজার বাচ্চার মৃতদেহ গোপনে কবর দেওয়ার আয়োজন। সেই মৃতদেহের ভিতের ওপর তৈরি হয় ‘সভ্য’ বাচ্চাদের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শেয়ার করুন

এক দাস মেয়ের জীবন

আমি ভেবেছিলাম পরদিন সকালে আমাকে বাবার বাড়ি যেতে দেবে; কিন্তু আমাকে ফুল আনতে যেতে আদেশ দেওয়া হল, সান্ধ্য মজলিশের জন্য মালকিনের বাড়ি সাজানোর জন্য। আমি সারাদিন ধরে ফুল জোগাড় করি আর সেগুলো দিয়ে দরজায় টাঙানোর মালা গাঁথি, আর সেই সময়ে আমার থেকে মাইল খানেকের দূরত্বে আমার বাবার মৃতদেহ পড়ে থাকে। আমার মালিকের তাতে কীই বা আসে যায়? বাবাতো এক টুকরো সম্পত্তি বই আর কিছু নয়।

শেয়ার করুন

সম্পাদকীয়, জুলাই ২০২১

১১ই জুলাই ১৯৯৬। রাতের অন্ধকারে বিহারের ভোজপুরের বাথানীটোলা গ্রামে রণবীর সেনার উচ্চবর্ণ জমিদার বাহিনী ঢুকে পড়লো। জ্বালিয়ে দিল দলিত, মুসলিম পরিবারের সমস্ত ঘরবাড়ি। ত্রিশূলে গেঁথে ফেলল অচ্ছুত নিম্নবর্ণ ভ্রূণ, দুগ্ধপোষ্য শিশু। গর্ভবতী মহিলা সহ অন্যান্য নারীদেহের ওপর চালাল অবাধ গণধর্ষণ। মারা গেলেন ২১ জন। তাঁদের অপরাধ ছিল, তাঁরা দলিত বা মুসলিম। অপরাধ ছিল ক্ষেতের কাজের …

সম্পাদকীয়, জুলাই ২০২১ Read More »

শেয়ার করুন

“খাঁচায় পুরে দিলেও তো পাখি গাইতে পারে”- ফাদার স্ট্যান স্বামী এসজে

এই যে আমরা ১৬জন সহঅভিযুক্ত বিভিন্ন জেলে বন্দী, বা হয়তো একই জেলের ভিন্ন বৃত্তে আটকা, একে অপরের সাথে দেখা হয়তো বা সম্ভব নয়, তবুও আমরা একসাথে গান গাই। তবুও আমরা সমবেত গান গেয়ে যাব। খাঁচায় পুরে দিলেও তো পাখি গাইতে পারে।

শেয়ার করুন

সুলেখা সান্যাল স্মরণে

শেষ পর্যন্ত পিসি ওঠে৷ তাকে সাতপাক ঘোরানো হয়৷ বরের দিকে তাকায় দুই লাল লাল চোখ তুলে৷ ছেলেমেয়েরা অনেকে খুশিতে হাততালি দিয়ে হাসে। মেয়েরা ঝুঁকে পড়ে সেদিকে। পিসি কিন্তু একবারও চোখদুটো সরায় না।

বর্ষিয়সী কে যেন ভিড়ের মধ্যে ফিশফিশ করেন, আজকাল আর মেয়েদের লজ্জা-টজ্জা নেই দিদি। দিব্যি প্যাটপ্যাট করে দেখে নিল।

শেয়ার করুন

উঠোন – দুই

স্মৃতিতে ফিরে দেখি আমাদের উঠোনগুলো কংক্রিট হওয়ার আগে পর্যন্ত বৃষ্টি নামানোর মন্ত্র জানতো। প্রতি চৈত্র বৈশাখ মাসে একদঙ্গল কুঁচোকাঁচা মানুষ উঠোনের মাঝে কাদা মাটি খুঁড়ে জল বাঁধিয়ে “আল্লা মেঘ দে পানি দে ছায়া দে রে তুই” এর মন্ত্র সমবেত সুরে গেয়ে বৃষ্টি নামাতো। আর বাড়ির গৃহিণী তাদের জন্য চাল, ডাল, তেল দিত পরম যত্নে। সেই সব শুকনো উঠোনে বৃষ্টি নামতো, ফসলের স্বপ্ন নিয়ে।

শেয়ার করুন

পুঁজিবাদ, পিতৃতন্ত্র এবং মেয়েদের কাজ – দ্বিতীয় কিস্তি

নারীবাদী আন্দোলন একটি ক্রমবিবর্তমান ধারা। নারীর শ্রমের প্রসঙ্গের সাথে জুড়ে রয়েছে শুধু পিতৃতন্ত্র বা পুঁজিবাদের ইতিহাস নয়,জাতপাত, বর্ণ, ধর্ম, যৌনতা, প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের ইতিহাস। শোষণের এবং অবমাননার এই বিভিন্ন অক্ষগুলি একসাথে বিশ্লেষণ না করলে, আমাদের মর্যাদা আর সমতার লড়াই অপূর্ণ বা সীমিতই রয়ে যাবে। সবসময়ে সব আন্দোলন যে এক ছত্রছায়ায় এসে দাঁড়াবে.তা নাও হতে পারে। কিন্তু আমাদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, কথা বলতে হবে একে অপরের সাথে। আমরা যে যেমনই কাজ করি না কেন – পারিশ্রমিকে বা বিনা পারিশ্রমিকে, সংগঠিত ক্ষেত্রে বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে, ঘরে কিংবা বাইরে, শ্রমের মর্যাদার লড়াই আমাদের জীবন নির্বাহের লড়াই, জীবন চেতনার লড়াই।

শেয়ার করুন

“জিন-জিয়ন-আজাদি”

তিনটি স্বশাসিত সমাজতন্ত্রী নারীবাদী এনক্লেভ তৈরি করা PKK ও YPJ-র রোজাভা বিপ্লব, এবং পরবর্তীত উদ্বাস্তু শিবিরে তাদের কাজ ও কুর্দদের জন্য গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী নারীবাদী কনফেডারেশন স্থাপনের লক্ষ্যে তাদের অঙ্গীকার সারা বিশ্বের বামপন্থী নারীবাদী কর্মীদের জন্য শিক্ষা হতে পারে। নয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও পুঁজিবাদী শাসনের পৃথিবীতে রোজাভা বিকল্প পথ দেখায়। রোজাভা, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে এমন এক লড়াইয়ের সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখায়, প্রান্তিকের মুক্তিতেই যার শিকড়।

শেয়ার করুন

করোনা অতিমারীর প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন : একটি পর্যালোচনা

করোনা অতিমারী এসে আরও একবার জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিষয়টির সামাজিক রাজনৈতিক গুরুত্বের ধারণা এদেশের প্রগতিশীল মহলেও বিরল। ফলতঃ দু’-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রশ্নটি এ দেশের শ্রেণী আন্দোলন, নারী আন্দোলন বা সাধারণ প্রগতিশীল আন্দোলনের বিষয় হয়ে ওঠেনি জোরালোভাবে। সবার জন্য স্বাস্থ্যের লড়াই বাস্তবতঃ বৃহত্তর সমাজবদলের লড়াইয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। করোনা অতিমারী থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের শ্রেণী আন্দোলন, নারী আন্দোলনের সাথে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রশ্নটির সংশ্লেষের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

শেয়ার করুন

নারীমুক্তি এবং কমিউনিজম: প্রসঙ্গ ক্লারা জেটকিন

ক্লারার সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগরূক ছিল লিঙ্গচেতনায়। মেয়েদের সমানাধিকার এবং তার দাবিতে সংগঠন শুধুমাত্র মানবিকতার খাতিরে প্রয়োজন, একথা তিনি মানতেন না। তিনি জানতেন নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে এবং অর্থনৈতিক পটভূমিকায় মেয়েদের মুক্তি-আন্দোলন মাত্রা পেয়েছে। ফলে সম্পত্তিবান, মধ্যবিত্ত মেয়েদের মুক্তি আর খেটে খাওয়া মহিলা শ্রমিকদের মুক্তির মাঝে রয়েছে যোজন খানেক দুরত্ব।

শেয়ার করুন

আলজিরিয়ার পর্দামুক্তি

ফ্রানৎস ফ্যানন সারা পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা, বর্ণবিদ্বেষ এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের আঙিনায় এক উজ্জ্বল নাম। ফ্যানন জন্মগ্রহণ করেন ফরাসী উপনিবেশ মার্টিনিক-এ, যা তাঁকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। শুধু দার্শনিক হিসাবেই নয়, বিভিন্ন গণ আন্দোলনের শরিক হয়েও ফ্যানন আজীবন লড়াই করেছেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, জন্ম দিয়েছেন বিপ্লবী ভাবধারার। অনুপ্রাণিত করেছেন অসংখ্য প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠীর মানুষকে। ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্ক (কালো চামড়া, সাদা মুখোশ), দ্য রেচেড অব দ্য আর্থ (পৃথিবীর কাঙাল মানুষেরা) ইত্যাদি লেখায় বারবার শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে আক্রমণ করেছেন ফ্যানন, সাথে সাথে নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের কথা বলেছেন। সাম্রাজ্যবাদ কীভাবে শুধুই দেশ বা বাসভূমির ওপরেই নয়, তাঁর সাথে মানুষের মননেও গভীর ছাপ ফেলে – সে বিষয়ে ফ্যাননের পর্যালোচনা ছিল চির সতর্ক। তাই বারবারই সাম্রাজ্যবাদের হাত কীভাবে দেশের কাঁটাতার পেরিয়ে মানুষের ভাষা, সত্তা, সংস্কৃতি, চিন্তা – সমস্তকিছুর ওপরেই নিয়ন্ত্রণের থাবা বসায়, সে কথা উঠে এসেছে ফ্যাননের লেখায়।

শেয়ার করুন

কল্পনা দত্ত কি ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’?

আজকের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, কল্পনা দত্ত কি ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’? রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই তো দ্রোহ ছিল তাঁর। তিনি যদি তা না হন, তবে নাতাশা বা দেবাঙ্গনা কেন ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’? কল্পনা দত্ত কি দেশপ্রেমী? তিনি যদি তা হন, তবে সুধা ভরদ্বাজ বা সোমা সেন কেন তা নন? বরং কল্পনা বা প্রীতিলতারা নিয়মিত অস্ত্রচর্চা করেছিলেন, অস্ত্র মজুত রাখতেন, বোমা বাঁধতেন। সুধা বা নাতাশা, সোমা বা দেবাঙ্গনাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত হিংসাত্মক কাজে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করার অভিযোগ নেই। অভিযোগ বড়জোর ‘পরোক্ষ উস্কানি’-র৷

শেয়ার করুন

বেআইনি আইন: থাংজম মনোরমা মামলা

এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধটি থাংজম মনোরমার চূড়ান্ত রায়কে ফিরে দেখা। Col. Jagmohan Singh And Ors. vs The State Of Manipur And Ors কেসটি থাংজম মনোরমা মামলা নামেই বেশি পরিচিত। মামলাটি ইতিমধ্যেই সুপরিচিত হওয়ায় আমি এখানে আর নতুন করে বিস্তারিত বর্ণনা করছি না। মনোরমার মৃতদেহের ভয়াবহতা সেই অত্যাচারের সাক্ষ্য বহন করে, যে ঘটনা ২০০৪ সালের কাংলা ফোর্ট-এর সামনে মণিপুরের মায়েদের নগ্ন প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল।

শেয়ার করুন

Unlawful Law: The Thangjam Manorama Case

This short commentary is a re-thinking of the final verdict of the Case of Col. Jagmohan Singh And Ors. vs The State Of Manipur And Ors., more popularly known as the Thangjam Manorama case. Due to the prominence of the case, I have not recounted it here. The ghastly nature of the way the body of Manorama bears witness to torture led to the historic naked protests by the mothers of Manipur in front of the Kangla Fort in 2004.

শেয়ার করুন

বহুমনরথ এবং অতিমারী: দুঃসহ সময়ের দুঃসাধ্য গল্প

‘পলিয়্যামরির’ একটা জুতসই বাংলা কী হতে পারে সেটা ভাবতে ভাবতে মির্জা গালিবের ‘হাজারো খোয়াইশে য়্যাইসি কি হার খোয়াইশ পে দম নিকলে’ শুনছিলাম। বহু বাসনার এই বন্দনাই আমার মনে ‘বহুমনরথ’ শব্দটা গেঁথে দিল। সেই থেকে এটাই আমি ব্যবহার করি। আরও অন্য শব্দ থাকতে পারে বাংলায় – যেমন বহুকামী বা বহুপ্রেমী – আবার নতুন শব্দ কেউ বানাতেও পারেন। নানারকম শব্দ দিয়েই তো আমরা আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো বোঝার চেষ্টা করি। এখনকার মত বহুমনরথ শব্দটাই আমার পছন্দ তাই সেটাই ব্যবহার করছি।

শেয়ার করুন

“Jin-Jiyan-Azadi”

9 years ago, on 19th July began arguably the biggest revolution of the twenty-first century in Rojava. This revolution not only inspired hope around the world for the anti-capitalist, anti-imperialist fights, but it also became a beacon of a socialist-feminist alternative to the nation-state. In their search for a homeland, the displaced Kurdish revolutionaries lodged a fight against capitalism, fascism, imperialism and patriarchy together, and dared to establish an autonomous, democratic, eco-friendly, and equal society.

শেয়ার করুন

রাজিয়া সুলতানকে নিয়ে একটি বিতর্ক

রাজিয়া সুলতানকে নিয়ে পড়েছি আগের বছরই, দিল্লি সালতানাত পড়ার সময়ে। শামসুদ্দিন ইলতুৎমিসের ব্যাপারে পড়েছি, মেয়েকে রাজত্ব দিয়েছিলেন শুনে খুশি হয়েছি খুবই। এই রাজত্ব দেওয়া ইত্যাদি ঠিক হয়েছিল কিনা, ভাবিনি অতশত। তবে এটাও ঠিক, বেশ কদিন মুগ্ধ ছিলাম রাজিয়ার বীরত্বের কথা পড়ে। ‘রাজিয়া সুলতানা’ সে রাখেনি নিজের নাম। কারণ ‘সুলতানা’ শব্দটির অর্থ সুলতানের স্ত্রী। সে নিজেকে ‘সুলতান’ বলত। স্কুল থেকে না বললেও বাড়িতে আমি চার্ট বানিয়েছি রাজিয়াকে নিয়ে।

শেয়ার করুন

ভিভা লা ভিডা, ফ্রিডা কাহলো

আমাদের দৈনন্দিন পাঠে এবং দৃশ্যচর্চায় নিত্যনতুন ফ্রিডা’র নির্মাণ ঘটতে থাকে। এই নির্মাণের কায়েমি স্বার্থ নির্ধারণ করে দেয় সেই ফ্রিডা’র ব্যবহার। গবেষণামূলক প্রবন্ধে তাঁকে যেমন নারীবাদী শিল্পী এবং বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়েছে তেমনই বাণিজ্যিক শিল্প এবং সংস্কৃতি তাঁকে নিয়ে এসেছে আমাদের ঘরের কোণায় সাজিয়ে রাখা পণ্যের মধ্যে। এতকিছুর মধ্যেও, শত প্রতিকূলতায় তাঁর বেঁচে থাকার তাগিদ, সচেতন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে দেখতে পাওয়া, প্রেম এবং সেই ভালোবাসা থেকে উদ্ভূত দুঃখ এইসব মিলিয়ে ফ্রিডা কাহলো আমাদের কাছের মানুষ, আমাদের বন্ধু।

শেয়ার করুন

নারী এবং অর্থনীতি

শার্লট পারকিন্স গিলম্যান-এর লেখা Women and Economics – A Study of the Economic Relation Between Men and Women as a Factor in Social Evolution প্রকাশিত হয় ১৮৯৮ সালে। ভাবনা চিন্তার দিক থেকে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা শার্লট এই বইয়ে আলোচনা করেন কিভাবে মনুষ্যজাতিই একমাত্র প্রজাতি হয়ে ওঠে যাদের স্ত্রীলিঙ্গ বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্নভাবে পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল। তার সমাজতান্ত্রিক নারীবাদকে মনে রেখে শার্লট পারকিন্স গিলম্যানের জন্মমাসে আমরা উইমেন অ্যান্ড ইকোনমিক্স থেকে কিছু নির্বাচিত অংশ অনুবাদ করলাম।

শেয়ার করুন

বাথানীটোলা হত্যাকাণ্ড

১৯৯৬ সালের ১১ই জুলাই বিহারের ভোজপুরের বাথানীটোলা গ্রামে ২১ জন দলিত এবং মুসলিম ভাগচাষীকে হত্যা করে উগ্রপন্থী উচ্চবর্ণ হিন্দুত্ববাদী দল রণবীর সেনা। মৃতদের মধ্যে ৬ জন বাচ্চা এবং ৩ জন দুগ্ধপোষ্য শিশুও ছিল, যাদেরকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়। রণবীর সেনার উচ্চবর্ণ ভূমিহার এবং রাজপুত জাতের প্রায় ৬০ জন সদস্য রাতের অন্ধকারে বাথানীটোলা গ্রামে ঢোকে এবং ১২টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই অঞ্চলে সিপিআইএমএল (লিবারেশন), সিপিআই (মাওবাদী) সহ বামপন্থী দলগুলি খেতমজুর, ভাগচাষী এবং কৃষিক্ষেত্রের শ্রমিকদের ভূমিহারদের বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে শুরু করলে রণবীরসেনা গ্রামের গরীব, নিম্নবর্ণ, না খেতে পাওয়া মানুষদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে, তাদের নির্বিচারে হত্যা করে জানান দেয় উচ্চবর্ণ, উচ্চবিত্তের ক্ষমতা। জানান দেয়, প্রাণে বেঁচে থাকতে হলে উঁচু জাতির বিরুদ্ধে, জমিদার-জোতদারদের বিরুদ্ধে শব্দ করা যাবে না। বাথানীটোলা হয়ে দাঁড়ায় এক প্রতীক – যেখানেই আওয়াজ উঠবে উচ্চবর্ণ আর জমিদারী শোষণের বিরুদ্ধে, সেখানেই বাথানীটোলা করা হবে।

শেয়ার করুন

কাথে কোলভিৎজের শিল্পের রাজনীতি

১৮৬৭ সালের ৮ই জুলাই জার্মান শিল্পী কাথে কোলভিৎজের জন্ম। মূলত স্কেচিং, উডকাট, লিনোকাট, লিথোগ্রাফ এবং ভাস্কর্য ছিল কাথের শিল্পের প্রকাশমাধ্যম। জার্মানির বার্লিন আর্টস আকাদেমিতে একমাত্র যে মহিলা শিল্পী স্বীকৃতি পান, তিনি কাথে কোলভিৎজ। ১৯৩৩ সালে নাৎসিবাহিনী ক্ষমতায় আসার পরে কোলভিৎজকে এই পদ থেকে বহিষ্কারও করা হয়। কোলভিৎজের ছবিতে বারবার উঠে এসেছে নিপীড়িত মানুষের কথা। বিশ্বযুদ্ধের ইউরোপ, তাঁতশিল্পীদের প্রতিরোধ থেকে চাষিদের অবস্থা – সবই ধরা পড়েছে কোলভিৎজের কালির আঁচড়ে। পেজেন্ট ওয়ার (কৃষক যুদ্ধ), উইভার্স রিভোল্ট (তাঁতি বিদ্রোহ), জার্মান চিলড্রেন আর স্টারভিং (জার্মানির বাচ্চারা অভুক্ত), ডেথ (মৃত্যু) ইত্যাদি কাথে কোলভিৎজের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। একইসাথে ধরা পড়েছে ব্যক্তিগত যন্ত্রণা, স্বপ্নভঙ্গ, আর প্রত্যয়ের ছবি।

শেয়ার করুন

গাজার প্রত্যেক শিশুর নির্দিষ্ট নাম আছে

অধিগৃহীত প্যালেস্টাইনে, ইজরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিশুদের ওপর গুলি চালানো এক দৈনন্দিন বিনোদন। এর সঙ্গে, ইজরায়েল রাষ্ট্রের অধীনে প্যালেস্টাইনের মানুষের আত্মরক্ষার কোনো পথ নেই। আত্মরক্ষামূলক যেকোনো আচরণকে ইজরায়েল অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করে বা দমনপীড়ন করে সমূলে বিনাশ করে।

শেয়ার করুন

মেয়েজন্মের কিছুমিছু

পালিয়ে যাই
যখন যেমন
কখনো পাঁচিল ডিঙিয়ে
কখনো দরজা পেরিয়ে
কখনো সোজা বারান্দা থেকে ভেসে প’ড়ে

শেয়ার করুন

ছুটি-রুটি (দ্বিতীয় পর্ব)

“আচ্ছা তুই কাঠপরী দেখেছিস?” দিঘির ধারে একটা ডালে বসে কুলের আচার খেতে খেতে ছুটি রুটিকে জিজ্ঞেস করল। সকালের টিফিন বাঁচিয়ে ছুটি আজ দু খানা লুচি, বেগুনভাজা, মিষ্টি আর কুলের আচার নিয়ে নিয়ে এসেছে ওদের চড়ুইভাতির জন্যে। রুটির অবশ্য কুলের আচার খেয়ে একদম পছন্দ হয়নি। খানিক দূরে ডালের উপর বসে বসে সে নাক সিঁটকে ছুটির আঙুল চেটে চেটে কুলের আচার খাওয়া দেখছিল আর লেজ ফোলাচ্ছিল।

শেয়ার করুন