ছোটদের জন্য

ছুটি-রুটির গল্প (শেষ পর্ব)

চসুর যত কম কথা বলার অভ্যেস, তার হলদে চোখ শাকরেদের তত বেশি। হলদে চোখের চোখ দুটো গাছের ডালে একবার পিটপিট করল। তারপরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বলে উঠল, “ও হো হো, আজ তো পূর্ণিমা! আজ তো হুজুর বেরোবেন না। দেখেছিস তো, আমারই কি ভুল! বয়স কী আর কম হল, খালি ভুলে যাই সব। ভাগ্যিস বললি, নইলে হুজুরের কাঁচা ঘুমটা ভাঙাতে গেলে উনি আমার মুণ্ডুটা নির্ঘাত চিবিয়ে ছাড়তেন।” খানিকক্ষণ থেমে হলদে চোখ খানিক করুণ স্বরে জিজ্ঞেস করল, “তাইলে? কী করবি? এত ভালো শিকারখানা ফসকে যেতে দিতেও কেমন একটা লাগে কিনা।”

শেয়ার করুন

খরগোশ, ইঁদুর আর ব্যাঙের ছাতার জাদুকর

তৎকালীন সমাজের মেয়েদের যেখানে কোনোরকম সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল, সেখানে বিট্রিক্স নিজেকে এক জ্বলজ্বলে অনুপ্রেরণায় পরিণত করতে পেরেছিলেন।

শেয়ার করুন

ছুটি-রুটি (পর্ব ৪)

এত কাছ থেকে গোলাপসুন্দরীর গায়ে কি বোঁটকা গন্ধ! কিন্তু কিছু বললে অভদ্রতা হয় কিনা কে জানে, তাই ছুটি নাক চেপে কিছু বলল না।
“চল চল চল” রুটি এবার তাড়া দিয়ে বলল …

শেয়ার করুন

আমার চোখে প্রীতিলতা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বাংলার প্রথম মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ‘মেয়েরাও নিজের দেশের জন্য লড়তে ও মরতে পারে, যেমন পারে পুরুষজাতি’।

শেয়ার করুন
Old man and a tree

ছুটি-রুটি (তৃতীয় পর্ব)

সহজিয়া অমল ঠাকুরদা”ওরে থাম থাম” বলতে বলতে ছুটি রুটির পিছনে ছুটল! কিন্তু কে কার কথা শোনে! এক্কেবারে গোলাপবাগানে পৌঁছে এক লাফে পাঁচিল টপকে তবে থামল রুটি। শাশ্বত গাঙ্গুলীর কলমে ছুটি-রুটি ধারাবাহিকের তৃতীয় কিস্তি।

শেয়ার করুন

রাজিয়া সুলতানকে নিয়ে একটি বিতর্ক

রাজিয়া সুলতানকে নিয়ে পড়েছি আগের বছরই, দিল্লি সালতানাত পড়ার সময়ে। শামসুদ্দিন ইলতুৎমিসের ব্যাপারে পড়েছি, মেয়েকে রাজত্ব দিয়েছিলেন শুনে খুশি হয়েছি খুবই। এই রাজত্ব দেওয়া ইত্যাদি ঠিক হয়েছিল কিনা, ভাবিনি অতশত। তবে এটাও ঠিক, বেশ কদিন মুগ্ধ ছিলাম রাজিয়ার বীরত্বের কথা পড়ে। ‘রাজিয়া সুলতানা’ সে রাখেনি নিজের নাম। কারণ ‘সুলতানা’ শব্দটির অর্থ সুলতানের স্ত্রী। সে নিজেকে ‘সুলতান’ বলত। স্কুল থেকে না বললেও বাড়িতে আমি চার্ট বানিয়েছি রাজিয়াকে নিয়ে।

শেয়ার করুন

ছুটি-রুটি (দ্বিতীয় পর্ব)

“আচ্ছা তুই কাঠপরী দেখেছিস?” দিঘির ধারে একটা ডালে বসে কুলের আচার খেতে খেতে ছুটি রুটিকে জিজ্ঞেস করল। সকালের টিফিন বাঁচিয়ে ছুটি আজ দু খানা লুচি, বেগুনভাজা, মিষ্টি আর কুলের আচার নিয়ে নিয়ে এসেছে ওদের চড়ুইভাতির জন্যে। রুটির অবশ্য কুলের আচার খেয়ে একদম পছন্দ হয়নি। খানিক দূরে ডালের উপর বসে বসে সে নাক সিঁটকে ছুটির আঙুল চেটে চেটে কুলের আচার খাওয়া দেখছিল আর লেজ ফোলাচ্ছিল।

শেয়ার করুন

অন্ধ বিচার নয়

সিংহাসনে বসল রাণী, বাজল কাঁসর ঘন্টা
ছটফটিয়ে উঠল কেন মন্ত্রীছুঁড়ির মনটা?
রাণী বলেন, মন্ত্রীসোনা, জামায় কিসের গন্ধ?
মন্ত্রী বলেন, এসেন্স দিছি, গন্ধ তো নয় মন্দ!
রাণী বলেন, মন্দ? ও মা – তাই কি আমি বললাম?
একটু কাছে এলে বরং ভালো করেই শুঁকতাম।

শেয়ার করুন

ছুটি-রুটি

বেজায় গরম। দুপুরবেলা বসে বসে ফ্যানের হাওয়া খাওয়া আর কুলপিকাকুর থেকে বড় বড় কুলপি কেনা ছাড়া বিশেষ ভালো কিচ্ছু হচ্ছে না দিনে। তার উপর গরমের ছুটি। বন্ধুদের সঙ্গেও সেই কত্তদিন দেখা হয়নি। দুপুরবেলা বসে বসে টিনটিন পড়তে পড়তে এইসবই ভাবছিল ছুটি। বাবা মাও ওদিকে ভোঁসভোঁস করে ঘরে শুয়ে ঘুম দিচ্ছে। বাবার নাক ডাকছে ঘ্রোঁৎ ফুউউউউ, আর তালে তালে মায়ের নাকও সাড়া দিচ্ছে সুড়ুৎ সুঁউউউউ।

শেয়ার করুন

ছায়া জাহাজ এবং মায়া দ্বীপের রহস্য

ছবি – ছায়া জাহাজ এবং মায়া দ্বীপের রহস্য
শিল্পী – তরী হোসেন। বয়স ৮। দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী।

শেয়ার করুন

কেন পুতুলের গল্প

যার যেমন ইচ্ছে সে সেরকম সাজতে পারে। শুধু ছেলেদেরই নয়, মেয়েদেরও যেমন ইচ্ছা তেমন সাজতে দেওয়া উচিত। যদি তাদের ইচ্ছা হয়, ছেলেরা মেয়েদের মতো সাজতে পারে। মেয়েরাও চাইলে ছেলেদের মতো সাজতে পারে।

শেয়ার করুন

মে দিবসের গল্প (শেষ ভাগ)

ও ঠিক করেছে এবার থেকে কেউ ওকে ওর প্রিয় ফুল কী জিজ্ঞাসা করলে ক্লাসের বাকি মেয়েদের মতো গোলাপও বলবে না, পদ্মও বলবে না। তার বদলে বলবে জুঁই কিংবা শিউলি কিংবা চন্দ্রমল্লিকা। বেশ অন্যরকম হবে তাই না? যদিও ওর আসলে গোলাপটাই ভালো লাগে। ওইরকম ফুলের পাপড়ির মতো ঘের দেওয়া ফ্রক ওকে ওর বড় পিসি একটা কিনে দিয়েছিল। ওর একটু বড় হয়, আর ওকে মানায়ও না, পিসিই বলেছে। কিন্তু জন্মদিন হলে গরমের মধ্যে ঘামতে ঘামতেও ও ওই ফ্রকটাই পরে থাকে সারাদিন, কিছুতেই পাল্টায় না।

শেয়ার করুন

ছোটদের চোখে মে দিবস

মে দিবসে বামা’র পক্ষ থেকে ছোটদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা কিভাবে মে দিবসকে দেখে। তারই কয়েকটি উত্তর নিয়ে এই পোস্ট।

শেয়ার করুন

May Day

May day is celebrated on the 1st of May as the International Worker’s Day or International Labour Day. May Day celebrates unity and solidarity of workers as well their hard work and achievements. Historically, in Europe May Day has been celebrated as a day of merriment to mark the arrival of summer and was associated with blooming flowers symbolizing rebirth.

শেয়ার করুন

মে দিবসের রাতভোরের গল্প

৩০শে এপ্রিল থেকে পয়লা মে-র দিকে যাওয়ার সময়ে ভোরে, যখন আলোটালো কিছুই ফোটেনি, তখন কালিশহরের মাঠে পাঁচখানি ছায়ামূর্তি এসে হাজির হল। সবকটাই চারপেয়ে। তোমার যদি চোখ খুব ভাল হয়, সেই আধো অন্ধকারেও তুমি বুঝবে যে একটা বিশাল কুকুর, একটা মাঝারি সাইজের হাতি, একটা গাধা, একটা গরু আর একটা ঘোড়া কালিশহরের মাঠে এসেছে। মাঠে তখন প্রচুর লোক তাঁবু খাটিয়ে বা খোলা আকাশের নিচে গভীর ঘুমে মগ্ন।

শেয়ার করুন

কাগজের ছবি

এর আগে ছোটদের জন্য আঁকিনি। ছোটবেলা পেরিয়ে বড়দের সাথে টেক্কা দেওয়ার কঠিন চেষ্টায় বড় হয়ে আমি এতদিনে বুঝি কিছুটা হাঁপিয়ে উঠেছি। হয়তো তাই আজকাল খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। হয়তো তাই আজকাল ছোটদের জন্য কিছু আঁকতে ইচ্ছে করে। ছোটরা আমার কাজ দেখে যেন আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখবার ভরসা পায়, এমনটা ভেবেই কাজগুলো করি।

শেয়ার করুন

মে দিবসের গল্প

বাড়ির গেট খুলতে খুলতে ও ভাবে ‘সলমা জরি’ শব্দটা খুব সুন্দর। পেছন ফিরে তাকায়। দেখে ঘন নীল সন্ধ্যা আরও ঘন হয়ে উঠছে আর খারাপ ঘরের মেয়ে ঝর্ণা নাকি ফাতিমা মাসি গায়েগায়ে লাগা বাড়িদের সামনে দাঁড়িয়ে সেই নীল রঙে মিলে মিশে এক হয়ে ক্রমশ নেই হয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

লিঙ্গ বৈষম্য

আর ছেলেরা কেন কাঁদতে পারবে না? কান্না একটা অনুভূতির প্রকাশ। এটার ছেলে-মেয়ে বলে কিছু হয় নাকি? আমরা কাঁদি যাতে দুঃখ পাওয়ার পর, আমাদের একটু হালকা লাগে, ভালো লাগে। তাই সবাই কাঁদতে পারে, তাতে কেউ ‘মেয়ে – মেয়ে’ অর্থাৎ ‘ছোট’ হয়ে যায় না।

শেয়ার করুন

বেড়ালরা হাসে না কেন?

যেমন ধরো, কুকুররা হাসে। কুকুরদের বিস্কুট দাও, তারা হাসে। কোন কুকুর যদি তোমার চেনা হয় আর অনেকদিন পর (ওদের কাছে তোমার কয়েক ঘন্টা প্রায় একটা দিনের সমান) যদি তোমার সঙ্গে দেখা হয়, ওরা হাসে। কুকুররা নার্ভাস হলে হাসে, ভ্যাবাচ্যাকা হলেও হাসে – কিন্তু বেড়ালরা হাসে না।

শেয়ার করুন

বাংলা সাহিত্যে ছোট মেয়েরা

আরো কত তো চরিত্র লুকিয়ে থাকে বইয়ের পাতায় পাতায়, আমাদের মনের কোণে কোণে। বাংলা সাহিত্যের মধ্যে এরকম নানা ছোট মেয়ের গল্প আমি বললাম। কোনো বইয়ে এদের অস্তিত্ব থাকে কারোর উপর নির্ভরশীল হয়ে, কোথাও বা এরা নিজেরাই স্বতন্ত্র একটি চরিত্র। কিছু জায়গায় অবশ্য স্পষ্টভাবে রয়েছে ছেলে মেয়ে বৈষম্য।

শেয়ার করুন

​একটি বেচারা মটরশুঁটি বা একটি অদ্ভুত গল্প

রূপকথার গল্প পড়তে আমাদের সবারই ভালো লাগে। কিন্তু বেশির ভাগ রূপকথার গল্পেই মেয়েদের চরিত্রটিকে খুবই দুর্বল দেখানো হয়। তোমাদের কি তা ভালো লাগে? আমার তো একদম ভালো লাগে না৷ আজ আমরা “The Princess and the Pea” গল্পের উদাহরণ দিয়ে এই ব্যাপারে আলোচনা করব। গল্পটি আসলে হানস ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের লেখা একটি রূপকথা৷ বাংলায় আমরা এর নাম দিতে পারি রাজকন্যা আর মটরশুঁটি।

শেয়ার করুন