স্মৃতিকথা

রক্তচোষা

না, কেউ আসেনি। কী করে মৃত্যু হলো ক্ষীরোদার, এ প্রশ্ন তুলে জেল কর্তৃপক্ষকে কেউ বিব্রত করেনি। কত পাগলই তো পাগল বাড়িতে বন্দী। দু’চারদিন বাদে-বাদে একজন করে মারাও যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ বেওয়ারিশ! আত্মীয়-স্বজন নেই, থাকলেও তাদের সঙ্গে পাগলের সম্পর্ক ছেদ হয়েছে বহু আগেই। যাদের ওয়ারিশ আছে– মৃত্যুর খবর পেলে তাদের কেউ-কেউ আসে, কেউ বা আসেও না। যারা আসে, সামর্থ্য থাকলে মৃতদেহের সৎকার করে। কিন্তু কেউ কোনো প্রশ্ন করেনা। কী করে তার পাগল আত্মীয়ের অকালমৃত্যু ঘটল, এ প্রশ্ন তুলে জেল-কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করার ঘটনা খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। হয়তো যেদিন পাগল বলে তার আত্মজনকে জেলে দিয়ে গেছে কেউ, সেদিনই তাকে মৃত বলে ধরে নিয়েছে সে। তাই এই মৃত্যু আর নতুন করে তাদের মন স্পর্শ করেছে বলে টের পাওয়া যায় নি।

শেয়ার করুন

গরাদ স্মৃতি

আরেক দিন আমাদের ডাকছে, ‘মাসি, মাসি তোদের শাড়ি আকাশে উড়ে গেল! দেখ আকাশে উড়ছে!’ আমরা অবাক হয়ে ভাবছি, সেল থেকে আবার আমাদের শাড়ি উড়ে কি করে যাবে। সব তো বন্ধ। কিন্তু সব বাচ্চাগুলো এসে খুব উত্তেজিত হয়ে চ্যাঁচাচ্ছিল লাল, নীল সব শাড়ি আকাশে উড়ে গেল, মাসিদের শাড়ি উড়ে গেল! আমরা তো সেল থেকে আকাশ দেখতে পাচ্ছিলাম না। বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। অনেক পরে বুঝেছিলাম আকাশে রামধনু উঠেছে। ওরা কখনো রামধনু দেখেনি। ছোট থেকেই জেলেই থেকেছে তাই ওটাই ওরা ভেবেছে মাসিদের শাড়ি উড়ে গেছে! আবার একজন বলছিল, মন খারাপ করিস না মাসি, শাড়িটা চলে গেল, আমি বেরোলে তোকে লাল নীল শাড়ি এনে দেব!

শেয়ার করুন

এক দাস মেয়ের জীবন (তৃতীয় কিস্তি)

দক্ষিণে, ক্রীতদাস নিয়োগের দিন হল ১ জানুয়ারি। ২ জানুয়ারিতে দাসদের তাদের নতুন মালিকের কাছে চলে যেতে হয়। ভুট্টা আর তুলো যতদিন না কাটা হচ্ছে তারা খামারে কাজ করে। তারপর দুদিন ছুটি পায়।

শেয়ার করুন
Rumours of Spring Farha Bashir Translation

বিষাক্ত কার্ফিউ

বিষাক্ত কার্ফিউ
যা সবাইকে গেলানো হয়, জোর করে
ফোলা চোখে, ফাটা ঠোঁটে
দেখি আর পড়ি
শাটারে লেখা গ্র্যাফিটি
আজাদি

শেয়ার করুন

এক দাস মেয়ের জীবন

আমি ভেবেছিলাম পরদিন সকালে আমাকে বাবার বাড়ি যেতে দেবে; কিন্তু আমাকে ফুল আনতে যেতে আদেশ দেওয়া হল, সান্ধ্য মজলিশের জন্য মালকিনের বাড়ি সাজানোর জন্য। আমি সারাদিন ধরে ফুল জোগাড় করি আর সেগুলো দিয়ে দরজায় টাঙানোর মালা গাঁথি, আর সেই সময়ে আমার থেকে মাইল খানেকের দূরত্বে আমার বাবার মৃতদেহ পড়ে থাকে। আমার মালিকের তাতে কীই বা আসে যায়? বাবাতো এক টুকরো সম্পত্তি বই আর কিছু নয়।

শেয়ার করুন

জুনটিনথ ফিরে দেখাঃ এক দাস মেয়ের জীবন

জুনটিনথ-কে মনে রেখে হ্যারিয়েট জেকব-এর আত্মজীবনী Incidents in the Life of a Slave Girl বইটির প্রথম অধ্যায়ের বাংলা তজর্মা আমরা প্রকাশ করলাম। হ্যারিয়েট জেকব-এর জন্ম দাস পরিবারে। পরবর্তীতে মালিক পরিবারের কবল থেকে পালিয়ে নিজের ও নিজের সন্তানদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন হ্যারিয়েট। তাঁর আত্মজীবনীতে এক দিকে যেমন উঠে এসেছে দাস জীবনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের কথা, পাশাপাশিই জায়গা পেয়েছে তাঁদের প্রতিরোধ ও দ্রোহের আখ্যানও। বইটি তিনি লেখেন লিন্ডা ব্রেন্ট ছদ্মনামে। বামা-র আগামী সংখ্যাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে এই আত্মজীবনী আমরা প্রকাশ করব।

শেয়ার করুন