অনুবাদ-গদ্য

ভালোবাসায়, বিদ্রোহে

… মেয়েদের সম্মিলিত বিদ্রোহই আমাদের ‘বাইরে’ বেঁচে থাকার রসদ জোগান দিত, এখন ‘ভেতরেও’ মেয়েদের প্রতিরোধই টিকে থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এখানে মেয়েদের প্রতিদিনের যাপন থেকে সাহস পাই… সেই সমস্ত মেয়েদের থেকে যারা বছরের পর বছর ধরে ‘ভেতরেই’ আছে, সেই মেয়েরা যারা শুধুই অপেক্ষা করে আছে এই অন্তহীন বিচার ব্যবস্থার, সেই সব মেয়েরা যারা দূর দেশ থেকে এসেছে, যারা ‘হিন্দি’ বা ‘ইংরেজি’ জানে না, যে মেয়েদের এখানেই সন্তান প্রসব করতে হয়, এখানেই সন্তান মানুষ করতে হয়, যে মেয়েদের উকিল নিযুক্ত করার সামর্থ নেই, ধৈর্য ধরে এই অসম্ভব ক্লান্তিকর সরকারি আইন সহায়তা ব্যবস্থার সাথে যুঝতে হয়, যে মেয়েরা মাসের পর মাস তাদের পরিবার পরিজনের সাথে কথা বলতে পারেনি, শুধুমাত্র কোনো যোগাযোগ নম্বর জোগাড় করে উঠতে পারেনি বলে, তাদের ‘বাড়ির’ চিঠিরও কোনো উত্তর আসেনি কখনও, সেই সব ‘অপরাধী’ মেয়েরা, যারা কাঠামোগত শোষণের বন্দী। আমি আমার সহবন্দীদের কথা চিঠিতে লিখতে পারবো না, কিন্তু এই কারাগারের একটা নাম দেওয়া যায়: ‘হম গুনেহগার আউরাতে’ (‘আমরা পাপী নারীরা’ – পাকিস্তানী কবি কিশওয়ার নাহিদের একটি বিখ্যাত কবিতার লাইন)।

শেয়ার করুন

বুলেট চলুক, পেলেট চলুক, আমরা লড়ে যাবো

কাশ্মীরের প্রতিরোধের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা যে চর্চার দাবি রাখে সে চর্চা হয়নি; পুরুষদের অংশগ্রহণই মূলত চর্চিত হয়েছে যেখানে নারীদের ধরে নেওয়া হয়েছে মূলত দর্শকের ভূমিকায়, বা দখলদারির ক্ষেত্র হিসেবে। সেখানে নারীদের রাজনৈতিক সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু নতুন গবেষণালব্ধ তথ্য বলছে, কাশ্মীরী নারীরা যে শুধু বর্তমান সংকটেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছেন তা নয়, তাঁরা বহু আগে থেকেই ময়দানে ছিলেন।

শেয়ার করুন
A sketch by Khytul Abyad. 1

ভিন্নীকরণ এবং কাশ্মীরি মহিলাদের আত্ম-পরিচিতি: কাশ্মীর অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভ্রমণকাহিনী এবং লোকসঙ্গীত বিষয়ে একটি আলোচনা

কাশ্মীরি সমাজের সমবেত কণ্ঠস্বর হিসাবে লোকগানের মধ্যে এই “দ্বিগুণ ঔপনিবেশিকীকরণ” ভেঙে বেরিয়ে আসার, প্রকৃত নারীত্ব পুনরুদ্ধার করার প্রবণতা রয়েছে। লোকগান আমাদের ইতিহাসের গভীর উৎস হবার পাশাপাশি অতীতের সমবেত স্মৃতি রক্ষা করে, অলিখিত ইতিহাসের ফেলে যাওয়া ফাঁকফোকর পূরণ করতে সাহায্য করে। ঔপনিবেশিক ইতিহাস শুধু যে বাস্তবের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে তাই নয়, বরং আমাদের ইতিহাস, আমাদের প্রতিনিধিত্বকে ধ্বংস করে। এই পরিস্থিতিতে লোকগানের মাধ্যমে কাশ্মীরি মহিলাদের আত্মপরিচিতির প্রকাশ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাশ্মীরি মহিলার কণ্ঠ পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে চাপা পড়ে যাওয়া রণনাদকে জাগিয়ে তোলে, তাঁর শোষণকে জ্ঞাত করে তোলে।

শেয়ার করুন
Kashmir Childhood_

স্কুলের পথে গজিয়ে ওঠা বাঙ্কার– কাশ্মীরের শৈশব

আমি খুব সাবধানে বলি, ওদের কাজ আমাদের ওপর নজর রাখা। বলি, ওরা অনেক অনেক দূর থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে, যে সমস্ত জায়গায় কাশ্মীরের থেকে অনেক বেশি গরম। ওরা এখানে এসেছে পেটের দায়ে। ইচ্ছে করেই জটিল খুঁটিনাটি বাদ দিই, বলি না এরকম কতজন কাশ্মীর উপত্যকায় রয়েছে, যাদের বাড়ির জন্য মন কেমন, পরিবারের জন্য মন খারাপ। বলি না, সেই বিষাদ এতটাই গভীর যে তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যাও করে।

শেয়ার করুন

গাজার প্রত্যেক শিশুর নির্দিষ্ট নাম আছে

অধিগৃহীত প্যালেস্টাইনে, ইজরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিশুদের ওপর গুলি চালানো এক দৈনন্দিন বিনোদন। এর সঙ্গে, ইজরায়েল রাষ্ট্রের অধীনে প্যালেস্টাইনের মানুষের আত্মরক্ষার কোনো পথ নেই। আত্মরক্ষামূলক যেকোনো আচরণকে ইজরায়েল অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করে বা দমনপীড়ন করে সমূলে বিনাশ করে।

শেয়ার করুন

আপনাকে বলছি স্যার

আজ যখন নয়া শিক্ষানীতি আবারও শিক্ষাকে পণ্য করে তুলছে, পুঁজির স্বার্থে, সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে আবারও পথ করে দিচ্ছে মেয়েদের স্কুলছুট হওয়ার, যখন অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা সমাজের বৈষম্যগুলোকেই আরও প্রকট করে দিছে তখন বারবিয়ানার স্কুলের কথা, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের লেখা চিঠি আরও আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সলিল দার লেখাতেই জানা যায় বারবিয়ানার স্কুলটি পরবরতিকালে বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু বছর পরেই ফ্লোরেন্সের ক্যালেঞ্জানো শহরে সেখানকারই কিছু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী মিলে আরেকটি স্কুল গড়ে তোলে। বারবিয়ানা তাই কখনই বন্ধ হয় না। সলিল দা চলে গেলেও তাই বারবিয়ানার কথা থেকে যায়। কখনও ফ্লোরেন্সে, কখনও কলকাতায়, কখনও শ্রীরামপুরে। থেকে যায় বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যয়, অভিভাবকদের ইউনিয়ন গড়ার কথা, এই ব্রাহ্মমণ্যবাদী পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বুকে রোহিত ভেমুলা, পায়েল তাদভি, বা চুনি কোটালদের অফুরান স্বপ্ন হয়ে।
সেই সলিল দার স্বপ্নকেই জিইয়ে রেখে থাকলো ‘আপনাকে বলছি স্যার’-এর কিছুটা বাছাই অংশ।

শেয়ার করুন

হেলেন কেলার স্মরণে – আমি কীভাবে সমাজবাদী হলাম

বেশ কয়েক মাস ধরে আমার নাম ও সমাজতন্ত্র শব্দ দুটি প্রায়শই একসঙ্গে খবরের কাগজে প্রকাশিত হচ্ছে। এক বন্ধু বলেছিল আমার নাম খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় বেসবল, মিঃ রুজভেল্ট এবং নিউইয়র্ক পুলিশ কেলেঙ্কারির সঙ্গে দেখা যেত। এই বিষয়গুলির সঙ্গ আমাকে তেমন সুখী করেনি। তবে সামগ্রিকভাবে আমি আনন্দিত যে অনেক লোক আমার এবং আমার শিক্ষক, মিসেস মেসি (অ্যান সুলিভান)-র সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছেন। এমনকি অপযশকেও কাজে লাগানো যায় এবং আমার ক্রিয়াকলাপ নথিবদ্ধ করার জন্য সংবাদপত্রগুলি যদি তাদের কলামগুলিতে প্রায়শই সমাজতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, তাহলে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে আমি সমাজতন্ত্র সম্পর্কে লিখতে চাই। আমার মতামত প্রচার করতে চাই।

শেয়ার করুন

জনগণের শিল্পী হেলিন বুলেক-কে মনে রেখে

২০২০ সালের ১১ মার্চ হেলিন বোলেক ও আরেক অনশনরত সাথী ইব্রাহিম গ্রোকচেক যে বাড়িতে অনশন করছিলেন সেখানে হানা দেয় পুলিস। তুলে নিয়ে যায় দুই অনশনকারীকে। দাবি মানা না হলে অনশন তুলে নিতে অস্বীকার করেন হেলিন ও ইব্রাহিম। ছ’দিন প্রবল অত্যাচারের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। ২৮৮ দিন অনশনের পর এপ্রিল মাসের ৩ তারিখ মারা যান হেলিন। তখন তাঁর বয়স ২৮। জেলবন্দী থাকার সময়ে, আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে নীচের এই বয়ানটি পেশ করেছিলন হেলিন। জুন মাসে হেলিন-এর জন্মদিনে তাঁকে মনে রেখে সেই বয়ানের বাংলা তর্জমা প্রকাশ করলাম আমরা।

শেয়ার করুন

গাজা থেকে লিখছি

ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের ভীষণ যন্ত্রণার থেকেও বেশি দমবন্ধ করা এই গাজা, সরু সরু রাস্তা আর বড় বড় বারান্দায় গিজগিজে গাজা…এই গাজা! কী সেই অস্পষ্ট কারণ যা মানুষকে তার পরিবার, তার বাড়ি, তার স্মৃতির দিকে টানে, যেমন বসন্ত টানে পাহাড়ি ছাগলের পালকে?

শেয়ার করুন