অনুবাদ

ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় তিলে তিলে মৃত কাঞ্চন ন্যানাওয়ার

আমরা পরে জানতে পারি যে এই বছরের ১২ জানুয়ারি কাঞ্চন ভয়ানক মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ জানান। তাঁকে সাসুন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে একটি লাম্প পাওয়া যায়। অরুণকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল পাঁচ দিন পর, ১৯ জানুয়ারি। ১৯ এবং ২০ তারিখ, দুদিনই অরুণকে কাঞ্চনের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু অরুণের সম্মতি ও সই ছাড়াই এবং তাঁকে তাঁর স্ত্রীর সাথে দেখা করার অনুমতি না দিয়েই, কাঞ্চনের মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করা হয়। ফলস্বরূপ, সাসুন হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান কাঞ্চন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে।

শেয়ার করুন

মেরি টাইলারের পথ ধরে

সানন্দা দাসগুপ্ত নারী অধিকার আন্দোলন কর্মী বি.অনুরাধার গল্প সংকলন Prison Notes of A Woman Activist- এর ‘In Footsteps of Mary Tyler’-গল্পের বাংলা অনুবাদ। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে, অনুরাধাকে গ্রেফতার করে ঝাড়খণ্ড পুলিস। সিপিআই (মাওবাদী) দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। চার বছর হাজারিবাগ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে থাকেন অনুরাধা। এখানেই জেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে, সহবন্দীদের …

মেরি টাইলারের পথ ধরে Read More »

শেয়ার করুন

কারাগারশূন্য ভারত বিষয়ক কিছু ভাবনা

‘দ্য অ্যাবলিশন প্রজেক্ট’ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘দাসত্ব’ হল এমন এক শর্ত যা মানুষকে অন্যের ‘সম্পত্তি’তে পরিণত করে, মালিক পক্ষ কিছু মানুষের কাছ থেকে তাদের সম্মতির অধিকার, মানবাধিকারসহ সমস্ত টুকু কেড়ে নিয়ে নিজেরা একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগী হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র জেলের ভিতর বন্দীদের তদন্তের নামে নগ্ন করে হেনস্থা করা, পর্যাপ্ত ওষুধ-জল-খাবার না দেওয়া কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্বাসিত থাকতে বাধ্য করার মত বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এসেছে, আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। মনুস্মৃতির বিধান স্বাধীন ভারতের আইনে সেভাবে প্রতফলিত নাহলেও দলিত বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রান্তিকায়নের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণভাবে পরিলক্ষিত হয়।

শেয়ার করুন

জেলবন্দী প্রজাতন্ত্রে এক কয়েদীর স্ত্রী

তাদেরকে অস্ত্র আইন আর ভারতীয় দণ্ডবিধির নানা ধারায় অভিযুক্ত করা হয় – বিপদজনক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা বাঁধানো, বেআইনি জমায়েত, সরকারী কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া, খুনের চেষ্টা। পাশাপাশি ছেলেটাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইন বা ইউএপিএ (UAPA) তেও অভিযুক্ত করা হয়।
চোদ্দ দিন পরে ১১ মার্চ সে যখন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যায় – তখন ছেলেটা হুইলচেয়ারে, দু পায়ে আর ডান হাতের আঙুলে ব্যাণ্ডেজ বাঁধা। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশি অত্যাচারের ফল।

শেয়ার করুন

এক দাস মেয়ের জীবন (তৃতীয় কিস্তি)

দক্ষিণে, ক্রীতদাস নিয়োগের দিন হল ১ জানুয়ারি। ২ জানুয়ারিতে দাসদের তাদের নতুন মালিকের কাছে চলে যেতে হয়। ভুট্টা আর তুলো যতদিন না কাটা হচ্ছে তারা খামারে কাজ করে। তারপর দুদিন ছুটি পায়।

শেয়ার করুন

পুঁজিবাদের বিশ্লেষণ, বিপ্লবের সংজ্ঞা: দলিত, নারী ও ক্ষেত মজুর

নারীবাদী ও দলিত আন্দোলন কর্মী ও তাত্ত্বিক গেইল ওমভেড-এর Analysing Capitalism, Defining Revolution – Dalits, Women and Peasants শীর্ষক প্রবন্ধের অনুবাদ

শেয়ার করুন

পিতৃতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে আফগান নারীর সংগ্রাম

‘আফগানিস্তানে নারীরা কয়েক দশক ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত। দেশ-দখলের খেলায় তারা আক্রান্ত। এদিকে আফগান নারীদের দুর্দশাকে প্রায়শই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এই অঞ্চলে তাদের যুদ্ধ নীতিকে ন্যায্যতা ও বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছে। যাইহোক, দেখা যাচ্ছে, নারীরা অনৈতিক সাম্রাজ্যবাদী এবং মৌলবাদী উভয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছে।’

কুর্দি মহিলা আন্দোলনের কর্মীরা RAWA-র (RAWA আফগানিস্তানের নারীদের বিপ্লবী সংগঠন)
এক কর্মী, সামিয়া ওয়ালিদের এই সাক্ষাৎকার প্রথম বার জার্মান ভাষায় ‘কুর্দিস্তান রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

শেয়ার করুন

গ্রীষ্ম, ২০১০

ঠিক সেই সময় আলি মহম্মদ আজান দিতে শুরু করে। তার গলা বরাবরই বড় মিঠে। কিন্তু ইদানিং কার্ফিউ-এর মধ্যে গলাটা কাঁপে। সেই শান্ত কোমল সুর কোথায় যেন হারিয়ে গেছে…

শেয়ার করুন

তোমার দেশের শান্তি-প্রচারকদের তুমি বোলো

তোমার দেশের যারা শান্তির ওকালতি করে 

তাদের জানিয়ে দিও পৃথিবীর মরা গরিবেরা 

কাদের অদৃশ্য হাতে না মরেও অন্ধ হয়ে গেছে

শেয়ার করুন
Mir Suhail's cartoon on Kashmir republished in Bama Patrika August issue

কাশ্মীরে বিদ্রোহের এক দশক

কাশ্মীরের জন্য কোনও আশাবাদী পূর্বাভাস নেই, যদিও তার এই অসম্মত অস্বীকারের মধ্যে এক ধরনের মর্যাদা রয়েছে। বিক্ষোভ থেকে গণ-বিদ্রোহ, ধৈর্য এবং নীরবতা পর্যন্ত সবক্ষেত্রে কাশ্মীর তার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, কাশ্মীর তার অস্থির হৃদয় ধ্বনিত করছে।

শেয়ার করুন

বুলেট চলুক, পেলেট চলুক, আমরা লড়ে যাবো

কাশ্মীরের প্রতিরোধের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা যে চর্চার দাবি রাখে সে চর্চা হয়নি; পুরুষদের অংশগ্রহণই মূলত চর্চিত হয়েছে যেখানে নারীদের ধরে নেওয়া হয়েছে মূলত দর্শকের ভূমিকায়, বা দখলদারির ক্ষেত্র হিসেবে। সেখানে নারীদের রাজনৈতিক সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু নতুন গবেষণালব্ধ তথ্য বলছে, কাশ্মীরী নারীরা যে শুধু বর্তমান সংকটেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছেন তা নয়, তাঁরা বহু আগে থেকেই ময়দানে ছিলেন।

শেয়ার করুন
Kashmiri women representation

ক্যামেরার ত্রাণকর্তা দৃষ্টি: কান্নার আধারে কাশ্মীরি নারীদের পরিচয় নির্মাণের সমস্যা

কাশ্মীরি মহিলারা প্রাথমিকভাবে সংঘাতের শোকে জর্জরিত শরীর মাত্র, এবং তাঁদের শ্রম (শারীরিক, রাজনৈতিক, মানসিক) এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাঁরা যে ভূমিকা পালন করেন সেগুলি এক্ষেত্রে গৌণ, ফলে ক্যামেরায় তাঁদের সেই চিত্র তুলে ধরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়। সমাজে তাঁরা যে ভূমিকা পালন করেন তার অ-স্বীকৃতি এবং অদৃশ্যকরণ সক্রিয়ভাবে কাশ্মীরি নারীদের বিভিন্ন ধরনের সংগ্রামের আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরতে সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শেয়ার করুন
A sketch by Khytul Abyad. 1

ভিন্নীকরণ এবং কাশ্মীরি মহিলাদের আত্ম-পরিচিতি: কাশ্মীর অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভ্রমণকাহিনী এবং লোকসঙ্গীত বিষয়ে একটি আলোচনা

কাশ্মীরি সমাজের সমবেত কণ্ঠস্বর হিসাবে লোকগানের মধ্যে এই “দ্বিগুণ ঔপনিবেশিকীকরণ” ভেঙে বেরিয়ে আসার, প্রকৃত নারীত্ব পুনরুদ্ধার করার প্রবণতা রয়েছে। লোকগান আমাদের ইতিহাসের গভীর উৎস হবার পাশাপাশি অতীতের সমবেত স্মৃতি রক্ষা করে, অলিখিত ইতিহাসের ফেলে যাওয়া ফাঁকফোকর পূরণ করতে সাহায্য করে। ঔপনিবেশিক ইতিহাস শুধু যে বাস্তবের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে তাই নয়, বরং আমাদের ইতিহাস, আমাদের প্রতিনিধিত্বকে ধ্বংস করে। এই পরিস্থিতিতে লোকগানের মাধ্যমে কাশ্মীরি মহিলাদের আত্মপরিচিতির প্রকাশ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাশ্মীরি মহিলার কণ্ঠ পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে চাপা পড়ে যাওয়া রণনাদকে জাগিয়ে তোলে, তাঁর শোষণকে জ্ঞাত করে তোলে।

শেয়ার করুন
Kashmir Childhood_

স্কুলের পথে গজিয়ে ওঠা বাঙ্কার– কাশ্মীরের শৈশব

আমি খুব সাবধানে বলি, ওদের কাজ আমাদের ওপর নজর রাখা। বলি, ওরা অনেক অনেক দূর থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে, যে সমস্ত জায়গায় কাশ্মীরের থেকে অনেক বেশি গরম। ওরা এখানে এসেছে পেটের দায়ে। ইচ্ছে করেই জটিল খুঁটিনাটি বাদ দিই, বলি না এরকম কতজন কাশ্মীর উপত্যকায় রয়েছে, যাদের বাড়ির জন্য মন কেমন, পরিবারের জন্য মন খারাপ। বলি না, সেই বিষাদ এতটাই গভীর যে তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যাও করে।

শেয়ার করুন
Rumours of Spring Farha Bashir Translation

বিষাক্ত কার্ফিউ

বিষাক্ত কার্ফিউ
যা সবাইকে গেলানো হয়, জোর করে
ফোলা চোখে, ফাটা ঠোঁটে
দেখি আর পড়ি
শাটারে লেখা গ্র্যাফিটি
আজাদি

শেয়ার করুন

এক দাস মেয়ের জীবন

আমি ভেবেছিলাম পরদিন সকালে আমাকে বাবার বাড়ি যেতে দেবে; কিন্তু আমাকে ফুল আনতে যেতে আদেশ দেওয়া হল, সান্ধ্য মজলিশের জন্য মালকিনের বাড়ি সাজানোর জন্য। আমি সারাদিন ধরে ফুল জোগাড় করি আর সেগুলো দিয়ে দরজায় টাঙানোর মালা গাঁথি, আর সেই সময়ে আমার থেকে মাইল খানেকের দূরত্বে আমার বাবার মৃতদেহ পড়ে থাকে। আমার মালিকের তাতে কীই বা আসে যায়? বাবাতো এক টুকরো সম্পত্তি বই আর কিছু নয়।

শেয়ার করুন

আলজিরিয়ার পর্দামুক্তি

ফ্রানৎস ফ্যানন সারা পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা, বর্ণবিদ্বেষ এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের আঙিনায় এক উজ্জ্বল নাম। ফ্যানন জন্মগ্রহণ করেন ফরাসী উপনিবেশ মার্টিনিক-এ, যা তাঁকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। শুধু দার্শনিক হিসাবেই নয়, বিভিন্ন গণ আন্দোলনের শরিক হয়েও ফ্যানন আজীবন লড়াই করেছেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, জন্ম দিয়েছেন বিপ্লবী ভাবধারার। অনুপ্রাণিত করেছেন অসংখ্য প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠীর মানুষকে। ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্ক (কালো চামড়া, সাদা মুখোশ), দ্য রেচেড অব দ্য আর্থ (পৃথিবীর কাঙাল মানুষেরা) ইত্যাদি লেখায় বারবার শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে আক্রমণ করেছেন ফ্যানন, সাথে সাথে নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের কথা বলেছেন। সাম্রাজ্যবাদ কীভাবে শুধুই দেশ বা বাসভূমির ওপরেই নয়, তাঁর সাথে মানুষের মননেও গভীর ছাপ ফেলে – সে বিষয়ে ফ্যাননের পর্যালোচনা ছিল চির সতর্ক। তাই বারবারই সাম্রাজ্যবাদের হাত কীভাবে দেশের কাঁটাতার পেরিয়ে মানুষের ভাষা, সত্তা, সংস্কৃতি, চিন্তা – সমস্তকিছুর ওপরেই নিয়ন্ত্রণের থাবা বসায়, সে কথা উঠে এসেছে ফ্যাননের লেখায়।

শেয়ার করুন

নারী এবং অর্থনীতি

শার্লট পারকিন্স গিলম্যান-এর লেখা Women and Economics – A Study of the Economic Relation Between Men and Women as a Factor in Social Evolution প্রকাশিত হয় ১৮৯৮ সালে। ভাবনা চিন্তার দিক থেকে সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা শার্লট এই বইয়ে আলোচনা করেন কিভাবে মনুষ্যজাতিই একমাত্র প্রজাতি হয়ে ওঠে যাদের স্ত্রীলিঙ্গ বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্নভাবে পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল। তার সমাজতান্ত্রিক নারীবাদকে মনে রেখে শার্লট পারকিন্স গিলম্যানের জন্মমাসে আমরা উইমেন অ্যান্ড ইকোনমিক্স থেকে কিছু নির্বাচিত অংশ অনুবাদ করলাম।

শেয়ার করুন

গাজার প্রত্যেক শিশুর নির্দিষ্ট নাম আছে

অধিগৃহীত প্যালেস্টাইনে, ইজরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিশুদের ওপর গুলি চালানো এক দৈনন্দিন বিনোদন। এর সঙ্গে, ইজরায়েল রাষ্ট্রের অধীনে প্যালেস্টাইনের মানুষের আত্মরক্ষার কোনো পথ নেই। আত্মরক্ষামূলক যেকোনো আচরণকে ইজরায়েল অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করে বা দমনপীড়ন করে সমূলে বিনাশ করে।

শেয়ার করুন

গাঁয়ের ওপর গুলি কে চালায়

গাঁ রাত্তিরে বিছানায় শুয়ে পড়ে
কিন্তু ওর ঘুমের সাথে
এখন কোনো স্বপ্ন নেই
গত রাত্রে সব স্বপ্নকে বন্দী করে
জেলে ভরা হয়েছে
যেখানে স্বপ্ন গজানোর সম্ভাবনা ছিলো

শেয়ার করুন

আপনাকে বলছি স্যার

আজ যখন নয়া শিক্ষানীতি আবারও শিক্ষাকে পণ্য করে তুলছে, পুঁজির স্বার্থে, সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে আবারও পথ করে দিচ্ছে মেয়েদের স্কুলছুট হওয়ার, যখন অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা সমাজের বৈষম্যগুলোকেই আরও প্রকট করে দিছে তখন বারবিয়ানার স্কুলের কথা, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের লেখা চিঠি আরও আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সলিল দার লেখাতেই জানা যায় বারবিয়ানার স্কুলটি পরবরতিকালে বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু বছর পরেই ফ্লোরেন্সের ক্যালেঞ্জানো শহরে সেখানকারই কিছু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী মিলে আরেকটি স্কুল গড়ে তোলে। বারবিয়ানা তাই কখনই বন্ধ হয় না। সলিল দা চলে গেলেও তাই বারবিয়ানার কথা থেকে যায়। কখনও ফ্লোরেন্সে, কখনও কলকাতায়, কখনও শ্রীরামপুরে। থেকে যায় বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যয়, অভিভাবকদের ইউনিয়ন গড়ার কথা, এই ব্রাহ্মমণ্যবাদী পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বুকে রোহিত ভেমুলা, পায়েল তাদভি, বা চুনি কোটালদের অফুরান স্বপ্ন হয়ে।
সেই সলিল দার স্বপ্নকেই জিইয়ে রেখে থাকলো ‘আপনাকে বলছি স্যার’-এর কিছুটা বাছাই অংশ।

শেয়ার করুন

জুনটিনথ ফিরে দেখাঃ এক দাস মেয়ের জীবন

জুনটিনথ-কে মনে রেখে হ্যারিয়েট জেকব-এর আত্মজীবনী Incidents in the Life of a Slave Girl বইটির প্রথম অধ্যায়ের বাংলা তজর্মা আমরা প্রকাশ করলাম। হ্যারিয়েট জেকব-এর জন্ম দাস পরিবারে। পরবর্তীতে মালিক পরিবারের কবল থেকে পালিয়ে নিজের ও নিজের সন্তানদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন হ্যারিয়েট। তাঁর আত্মজীবনীতে এক দিকে যেমন উঠে এসেছে দাস জীবনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের কথা, পাশাপাশিই জায়গা পেয়েছে তাঁদের প্রতিরোধ ও দ্রোহের আখ্যানও। বইটি তিনি লেখেন লিন্ডা ব্রেন্ট ছদ্মনামে। বামা-র আগামী সংখ্যাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে এই আত্মজীবনী আমরা প্রকাশ করব।

শেয়ার করুন

হেলেন কেলার স্মরণে – আমি কীভাবে সমাজবাদী হলাম

বেশ কয়েক মাস ধরে আমার নাম ও সমাজতন্ত্র শব্দ দুটি প্রায়শই একসঙ্গে খবরের কাগজে প্রকাশিত হচ্ছে। এক বন্ধু বলেছিল আমার নাম খবরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় বেসবল, মিঃ রুজভেল্ট এবং নিউইয়র্ক পুলিশ কেলেঙ্কারির সঙ্গে দেখা যেত। এই বিষয়গুলির সঙ্গ আমাকে তেমন সুখী করেনি। তবে সামগ্রিকভাবে আমি আনন্দিত যে অনেক লোক আমার এবং আমার শিক্ষক, মিসেস মেসি (অ্যান সুলিভান)-র সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছেন। এমনকি অপযশকেও কাজে লাগানো যায় এবং আমার ক্রিয়াকলাপ নথিবদ্ধ করার জন্য সংবাদপত্রগুলি যদি তাদের কলামগুলিতে প্রায়শই সমাজতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, তাহলে আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতে আমি সমাজতন্ত্র সম্পর্কে লিখতে চাই। আমার মতামত প্রচার করতে চাই।

শেয়ার করুন

জনগণের শিল্পী হেলিন বুলেক-কে মনে রেখে

২০২০ সালের ১১ মার্চ হেলিন বোলেক ও আরেক অনশনরত সাথী ইব্রাহিম গ্রোকচেক যে বাড়িতে অনশন করছিলেন সেখানে হানা দেয় পুলিস। তুলে নিয়ে যায় দুই অনশনকারীকে। দাবি মানা না হলে অনশন তুলে নিতে অস্বীকার করেন হেলিন ও ইব্রাহিম। ছ’দিন প্রবল অত্যাচারের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। ২৮৮ দিন অনশনের পর এপ্রিল মাসের ৩ তারিখ মারা যান হেলিন। তখন তাঁর বয়স ২৮। জেলবন্দী থাকার সময়ে, আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে নীচের এই বয়ানটি পেশ করেছিলন হেলিন। জুন মাসে হেলিন-এর জন্মদিনে তাঁকে মনে রেখে সেই বয়ানের বাংলা তর্জমা প্রকাশ করলাম আমরা।

শেয়ার করুন

প্রতিরোধ প্রতিরোধ

আমার জমির দখল নিয়েছে যারা,

উচ্ছেদ হবে। ততদিন থামবোনা।

পতাকা নামানো শান্তির সমাধান

আমি মানবনা, ততদিন মানবনা।

শত শহীদের রক্তে রাঙ্গানো পথে

রুখব লুঠেরা, রুখব দখলদার।

ছিঁড়ে ফেলে দেব ঢপের সংবিধান

বিচার তো নয়, দমনের হাতিয়ার!

শেয়ার করুন

শ্রেণি সংগ্রাম ও পিতৃতন্ত্র: মাওবাদী আন্দোলনে মেয়েরা

ভীমা কোরেগাঁও মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সোমা সেনের বর্তমান ঠিকানা মহারাষ্ট্রের বাইকুলা জেল। ২০১৮ সালের ৬ জুন, বিভিন্ন শহরে হানা দিয়ে একাধিক সুপরিচিত রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে পুনে পুলিস। ইউএপিএ-সহ একাধিক মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে যান সোমা সেনসহ মোট পাঁচজন মানবাধিকার কর্মী। পরবর্তীতে এই একই মামলায় জেলে গেছেন দেশের মোট ১৫ জন প্রথম সারির রাজনৈতিক কর্মী। শ্রমিক ধর্মঘট থেকে নারী আন্দোলন, সারা জীবনই ব্যবস্থাবদলের পক্ষে লড়াইয়ে থেকেছেন সোমা সেন, দাঁড়িয়েছেন নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের পাশে। ভারতের মাওবাদী আন্দোলন ও আন্দোলনে মেয়েদের ভূমিকা তাঁর অন্যতম আগ্রহের জায়গা। কাজ করেছেন একাধিক মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের সঙ্গে। ২০১৭ সালে নকশালবাড়ির ৫০ বছরে ইপিডব্লিউ পত্রিকায় এই নিবন্ধটি তিনি লেখেন।

শেয়ার করুন