প্রথম বর্ষ

কমিউনিস্ট যোদ্ধা বেলা (প্রথম কিস্তি)

‘৪৮-৪৯ সালে তেভাগার সশস্ত্র কৃষক যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় উচ্চ মাত্রায় উন্নীত হল। কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর জেল উপচে পড়ল রাজনৈতিক বন্দীতে। রাজনৈতিক বন্দীমুক্তির দাবিতে কলকাতায় মেয়েদের এক বিরাট মিছিল সংঘটিত হল ১৯৪৯ সালের ২৭ শে এপ্রিল৷ সেদিন ভারত সভা হলেও মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে মেয়েরা ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য রাস্তায় নামবে। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতিও নিষিদ্ধ হয়। ঐ সভা থেকে বেরিয়ে আমরা মিছিলে যোগ দিই। বিশাল মিছিল চলছে কলকাতার রাজপথ জুড়ে। সেদিন ‘স্বাধীন’ ভারতের সদ্যোজাত রাষ্ট্রের পুলিশ আক্রমণ করল মিছিল। মেয়েদের হত্যা করল। মেয়েরা গুলি খেয়ে রাস্তায় একে একে পড়ে গেলেন৷ শহিদ হলেন গীতা, লতিকা, প্রতিভা, অমিয়া, যমুনা। কলকাতার রাজপথ মেয়েদের রক্তে লাল হয়ে গেল।’ বলতে বলতে আবেগে, ব্যথায় জ্বলে উঠছিল বেলার চোখ, যেন প্রত্যক্ষ করছেন সেই দৃপ্ত মিছিল।

শেয়ার করুন

রক্তচোষা

না, কেউ আসেনি। কী করে মৃত্যু হলো ক্ষীরোদার, এ প্রশ্ন তুলে জেল কর্তৃপক্ষকে কেউ বিব্রত করেনি। কত পাগলই তো পাগল বাড়িতে বন্দী। দু’চারদিন বাদে-বাদে একজন করে মারাও যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ বেওয়ারিশ! আত্মীয়-স্বজন নেই, থাকলেও তাদের সঙ্গে পাগলের সম্পর্ক ছেদ হয়েছে বহু আগেই। যাদের ওয়ারিশ আছে– মৃত্যুর খবর পেলে তাদের কেউ-কেউ আসে, কেউ বা আসেও না। যারা আসে, সামর্থ্য থাকলে মৃতদেহের সৎকার করে। কিন্তু কেউ কোনো প্রশ্ন করেনা। কী করে তার পাগল আত্মীয়ের অকালমৃত্যু ঘটল, এ প্রশ্ন তুলে জেল-কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করার ঘটনা খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। হয়তো যেদিন পাগল বলে তার আত্মজনকে জেলে দিয়ে গেছে কেউ, সেদিনই তাকে মৃত বলে ধরে নিয়েছে সে। তাই এই মৃত্যু আর নতুন করে তাদের মন স্পর্শ করেছে বলে টের পাওয়া যায় নি।

শেয়ার করুন

লেসবিয়ানস অ্যান্ড গে-স্ সাপোর্ট মাইনার্স

এলজিএসএমের সদস্য ক্লাইভ ব্র্যাডলির বয়ানে, “আমরা অনেকেই বুঝেছিলাম আমাদের অধিকার, আমাদের মুক্তি জড়িয়ে ছিল সমাজের অন্যান্য মানুষদের মুক্তির সাথে, বিশেষ করে শ্রমিক আন্দোলনের সাথে। তাই আমাদের যাপনে আপাতভাবে পার্থক্য যাই থাক, তার থেকেও অনেক বেশি ভাবে আমরা আন্দোলনরত খনি শ্রমিকদের সাথে একাত্ম বোধ করেছিলাম”। আর এই একাত্মতা থেকেই তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস।

শেয়ার করুন

সম্পাদকীয়

বামা গুলফিশা ফতিমা। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে জেল বন্দী। অপরাধ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি-র মতো ঘাতক নীতির বিরোধিতা। ২০১৯-এর শেষ ভাগে যখন সারা দেশ এই আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল, এমবিএ-র ছাত্রী ২৮ বছরের গুল ছিল লড়াইয়ের সামনের সারিতে। দিল্লির সিলামপুরে মুসলিম মহিলাদের অবস্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিল গুল।  রাষ্ট্র ক্ষমতা বিরোধিতা সহ্য করে না। …

সম্পাদকীয় Read More »

শেয়ার করুন

গরাদ স্মৃতি

আরেক দিন আমাদের ডাকছে, ‘মাসি, মাসি তোদের শাড়ি আকাশে উড়ে গেল! দেখ আকাশে উড়ছে!’ আমরা অবাক হয়ে ভাবছি, সেল থেকে আবার আমাদের শাড়ি উড়ে কি করে যাবে। সব তো বন্ধ। কিন্তু সব বাচ্চাগুলো এসে খুব উত্তেজিত হয়ে চ্যাঁচাচ্ছিল লাল, নীল সব শাড়ি আকাশে উড়ে গেল, মাসিদের শাড়ি উড়ে গেল! আমরা তো সেল থেকে আকাশ দেখতে পাচ্ছিলাম না। বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। অনেক পরে বুঝেছিলাম আকাশে রামধনু উঠেছে। ওরা কখনো রামধনু দেখেনি। ছোট থেকেই জেলেই থেকেছে তাই ওটাই ওরা ভেবেছে মাসিদের শাড়ি উড়ে গেছে! আবার একজন বলছিল, মন খারাপ করিস না মাসি, শাড়িটা চলে গেল, আমি বেরোলে তোকে লাল নীল শাড়ি এনে দেব!

শেয়ার করুন

ভালোবাসায়, বিদ্রোহে

… মেয়েদের সম্মিলিত বিদ্রোহই আমাদের ‘বাইরে’ বেঁচে থাকার রসদ জোগান দিত, এখন ‘ভেতরেও’ মেয়েদের প্রতিরোধই টিকে থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এখানে মেয়েদের প্রতিদিনের যাপন থেকে সাহস পাই… সেই সমস্ত মেয়েদের থেকে যারা বছরের পর বছর ধরে ‘ভেতরেই’ আছে, সেই মেয়েরা যারা শুধুই অপেক্ষা করে আছে এই অন্তহীন বিচার ব্যবস্থার, সেই সব মেয়েরা যারা দূর দেশ থেকে এসেছে, যারা ‘হিন্দি’ বা ‘ইংরেজি’ জানে না, যে মেয়েদের এখানেই সন্তান প্রসব করতে হয়, এখানেই সন্তান মানুষ করতে হয়, যে মেয়েদের উকিল নিযুক্ত করার সামর্থ নেই, ধৈর্য ধরে এই অসম্ভব ক্লান্তিকর সরকারি আইন সহায়তা ব্যবস্থার সাথে যুঝতে হয়, যে মেয়েরা মাসের পর মাস তাদের পরিবার পরিজনের সাথে কথা বলতে পারেনি, শুধুমাত্র কোনো যোগাযোগ নম্বর জোগাড় করে উঠতে পারেনি বলে, তাদের ‘বাড়ির’ চিঠিরও কোনো উত্তর আসেনি কখনও, সেই সব ‘অপরাধী’ মেয়েরা, যারা কাঠামোগত শোষণের বন্দী। আমি আমার সহবন্দীদের কথা চিঠিতে লিখতে পারবো না, কিন্তু এই কারাগারের একটা নাম দেওয়া যায়: ‘হম গুনেহগার আউরাতে’ (‘আমরা পাপী নারীরা’ – পাকিস্তানী কবি কিশওয়ার নাহিদের একটি বিখ্যাত কবিতার লাইন)।

শেয়ার করুন

ছুটি-রুটির গল্প (শেষ পর্ব)

চসুর যত কম কথা বলার অভ্যেস, তার হলদে চোখ শাকরেদের তত বেশি। হলদে চোখের চোখ দুটো গাছের ডালে একবার পিটপিট করল। তারপরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বলে উঠল, “ও হো হো, আজ তো পূর্ণিমা! আজ তো হুজুর বেরোবেন না। দেখেছিস তো, আমারই কি ভুল! বয়স কী আর কম হল, খালি ভুলে যাই সব। ভাগ্যিস বললি, নইলে হুজুরের কাঁচা ঘুমটা ভাঙাতে গেলে উনি আমার মুণ্ডুটা নির্ঘাত চিবিয়ে ছাড়তেন।” খানিকক্ষণ থেমে হলদে চোখ খানিক করুণ স্বরে জিজ্ঞেস করল, “তাইলে? কী করবি? এত ভালো শিকারখানা ফসকে যেতে দিতেও কেমন একটা লাগে কিনা।”

শেয়ার করুন

ভীমা কোরেগাঁও বা এলগার পরিষদ মামলায় কী হচ্ছে?

অতীন্দ্রিয় চক্রবর্তী গ্রেপ্তারের ক্রোনোলজি ও রাজবন্দীরা আগস্ট ২৩, ২০২১। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি (এনআইএ)-র বিশেষ আদালতে জাস্টিস কোঠালিকার-সমক্ষে  ভীমা কোরেগাঁও তথা এলগার পরিষদ মামলায় চার্জশীট আনে এনআইএ। রাজদ্রোহের মামলা। ১৬ জন অভিযুক্ত এই মুহুর্তে জেলে। তাঁদের মধ্যে একজন এই চার্জগুলি আসার আগে বন্দীদশায় মারা গিয়েছেন রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছেন।  অ্যারেস্টগুলি হয় দফায় দফায়। প্রথমে, জুন ২০১৮। …

ভীমা কোরেগাঁও বা এলগার পরিষদ মামলায় কী হচ্ছে? Read More »

শেয়ার করুন

মেহেন্দোর সাথে সাক্ষাতে – ‘উরগেনের ঘোড়া’ উপন্যাসের পাঠক প্রতিক্রিয়া

স্নায়ুর ভিতর দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে একটা সাদা ঘোড়া৷ ঘোড়ার খুরে খুরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে উঁচু পাহাড়চূড়াকে সর্পিণীর মতো পেঁচিয়ে উঠতে থাকা একটি গল্প৷ প্রত্যেকটি শিরা উপশিরা দিয়ে ঝড় তুলে ছুটে চলা সাদা ঘোড়া রহস্যের জাল বুনছে৷ ফেনা তুলে দেওয়া ঘোলাটে রক্তের স্রোতে একটা মাথার আদল ফুটে উঠছে। ঘোড়সওয়ারির মাথার সাদা ফেস্টুন মাঝে মাঝেই বদলে যাচ্ছে ছোট্টো একটা লাল তারা আঁকা জলপাই টুপিতে।

শেয়ার করুন

বধূ না মাওবাদী

সকাল ১১টা নাগাদ মেদিনীপুর জেল গেটে সম্পদ এসেছে দেখা করার জন্য নাম লেখাতে। টেবিলের ওপার থেকে প্রশ্ন এলো, ‘বধু না মাওবাদী’। সম্পদ চকিতে বুঝতে পেরে বলে ‘মাওবাদী’। ‘২ টোয় আসবেন’ শুনে সম্পদ মুচকি হেসে চলে যায়।

২০১০ সালে দেড় মাসের মতো ছিলাম মেদিনীপুর জেলে। ধরেছিল শালবনীর রামেশ্বরপুর থেকে। অভিযোগ ছিল একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, একটি ভয়েস রেকর্ডার, ক’টা পেন, একটি নোটবই আর ৫,০০০ টাকা দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ, দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইত্যাদি ষড়যন্ত্র করা। ধরার আগে বুঝতে পারিনি সাংবাদিক ও লেখক বন্ধুদের সাথে যৌথ- বাহিনীর দখলে জঙ্গলমহলের অবস্থা দেখতে যাওয়াটাও অপরাধ। সাংবাদিকদের ছেড়ে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে এফ-আই-আর হলো। অবশেষে ঠাঁই হল মেদিনীপুর জেলে। লালগড় আন্দোলনে শয়ে শয়ে জঙ্গলমহলের মানুষকে জেলযাত্রা করিয়েছিল সেই সময়ের বাম সরকার। আজ যদিও সরকার বাম থেকে তৃণমূল হয়েছে কিন্তু সেই সময়কার পঞ্চাশেরও বেশি আন্দোলনকারী আজ দশ বছর পরেও বাংলার বিভিন্ন জেলে বন্দী।

শেয়ার করুন

পিতৃতন্ত্রের হিংসা: যুদ্ধ, ধর্ষণ, নারী

পৃথিবীর যে কোনও জায়গাতেই মহিলারা যুদ্ধবিগ্রহের একটা বড় শিকার হন। মহিলাদের ধর্ষণ করা সামরিক হিংসার একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে। এর উদাহরণ সুদূর অতীতের ক্রুসেডের যুদ্ধ (১১-১৩ শতক) ও মঙ্গোল আক্রমণ (১৩-১৪ শতক) থেকে শুরু করে হাল আমলের মার্কিন-ভিয়েতনাম সংঘর্ষ (১৯৫৪-১৯৭৫) ও বসনিয়ার যুদ্ধে (১৯৯২-১৯৯৫) ছড়ানো। এই ঘটনা কেন ঘটে, এর পিছনে পিতৃতন্ত্রের কী ভূমিকা, তারই উত্তর খুঁজব এই লেখার পাতায় আমাদের পরিচিত এক উদাহরণের মধ্যে দিয়ে – ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

শেয়ার করুন

ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় তিলে তিলে মৃত কাঞ্চন ন্যানাওয়ার

আমরা পরে জানতে পারি যে এই বছরের ১২ জানুয়ারি কাঞ্চন ভয়ানক মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ জানান। তাঁকে সাসুন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে একটি লাম্প পাওয়া যায়। অরুণকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল পাঁচ দিন পর, ১৯ জানুয়ারি। ১৯ এবং ২০ তারিখ, দুদিনই অরুণকে কাঞ্চনের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু অরুণের সম্মতি ও সই ছাড়াই এবং তাঁকে তাঁর স্ত্রীর সাথে দেখা করার অনুমতি না দিয়েই, কাঞ্চনের মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করা হয়। ফলস্বরূপ, সাসুন হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান কাঞ্চন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে।

শেয়ার করুন

মেরি টাইলারের পথ ধরে

সানন্দা দাসগুপ্ত নারী অধিকার আন্দোলন কর্মী বি.অনুরাধার গল্প সংকলন Prison Notes of A Woman Activist- এর ‘In Footsteps of Mary Tyler’-গল্পের বাংলা অনুবাদ। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে, অনুরাধাকে গ্রেফতার করে ঝাড়খণ্ড পুলিস। সিপিআই (মাওবাদী) দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। চার বছর হাজারিবাগ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে থাকেন অনুরাধা। এখানেই জেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে, সহবন্দীদের …

মেরি টাইলারের পথ ধরে Read More »

শেয়ার করুন

কারাগারশূন্য ভারত বিষয়ক কিছু ভাবনা

‘দ্য অ্যাবলিশন প্রজেক্ট’ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘দাসত্ব’ হল এমন এক শর্ত যা মানুষকে অন্যের ‘সম্পত্তি’তে পরিণত করে, মালিক পক্ষ কিছু মানুষের কাছ থেকে তাদের সম্মতির অধিকার, মানবাধিকারসহ সমস্ত টুকু কেড়ে নিয়ে নিজেরা একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগী হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র জেলের ভিতর বন্দীদের তদন্তের নামে নগ্ন করে হেনস্থা করা, পর্যাপ্ত ওষুধ-জল-খাবার না দেওয়া কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্বাসিত থাকতে বাধ্য করার মত বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এসেছে, আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। মনুস্মৃতির বিধান স্বাধীন ভারতের আইনে সেভাবে প্রতফলিত নাহলেও দলিত বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রান্তিকায়নের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণভাবে পরিলক্ষিত হয়।

শেয়ার করুন

জেলবন্দী প্রজাতন্ত্রে এক কয়েদীর স্ত্রী

তাদেরকে অস্ত্র আইন আর ভারতীয় দণ্ডবিধির নানা ধারায় অভিযুক্ত করা হয় – বিপদজনক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা বাঁধানো, বেআইনি জমায়েত, সরকারী কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া, খুনের চেষ্টা। পাশাপাশি ছেলেটাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইন বা ইউএপিএ (UAPA) তেও অভিযুক্ত করা হয়।
চোদ্দ দিন পরে ১১ মার্চ সে যখন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যায় – তখন ছেলেটা হুইলচেয়ারে, দু পায়ে আর ডান হাতের আঙুলে ব্যাণ্ডেজ বাঁধা। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশি অত্যাচারের ফল।

শেয়ার করুন

রাজবন্দী

– শুনেছ ও দেশে কী হয়েছে?

– কোন দেশে?

– আরে ওই দেশে।

– ওহ আচ্ছা, ওই দেশে? তাই বল। কিন্তু ওখানে আবার কী হল?

– কেন তুমি শুনতে পাওনি?

– আরে বলবে তো কী হয়েছে? তখন থেকে গৌরচন্দ্রিকা করে চলেছ।

– ছেলেটিকে ধরে নিয়ে গেছে তো।

– কোন ছেলেটিকে? ওদেশে তো অনেক ছেলেকেই ধরে নিয়ে যায়।

– আরে ওই ছেলেটি।

– ও বুঝেছি। ওই ছেলেটি! ঠিক। তা এবারে কী হবে?

– কী আবার হবে? চাবুকের ঘা খাবে। সব নিয়ে গেছে। আজ অব্দি যা কাজ করেছিল সব। বলে ও নাকি দেশদ্রোহী। দেশের নাম খারাপ করছে…বুঝেছ তো?

শেয়ার করুন

পোষ্য

রত্নদীপের সরু সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সুখময় পাল এক তীব্র আকর্ষণ বোধ করলেন তাঁর দেহের প্রতিটা অণুতে, পরমাণুতে। এই অপরূপ টান বোধ করা মাত্র সিঁড়ির দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তাঁর। কোনোক্রমে ঘাড় ঘুরিয়ে সিঁড়ির উপরের ধাপগুলোর দিকে তাকালেন। দেখলেন, খয়েরি প্যান্ট আর ঘিয়ে শার্ট পরে, সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছেন তরুন সাহা। তাঁর হাতের হলুদ প্লাস্টিকের কেজো ব্যাগও সাথে সাথে উঠে যাচ্ছে রত্নদীপের সিঁড়ি বেয়ে। বিবশ সুখময়ের শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে কিছু সময় নিল। ধীরে ধীরে পরাজিত সৈনিকের মতো সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকলেন তিনি। প্রতি পদক্ষেপে মনে হল, তাঁর গা থেকে তিনি নিজেই ঝরে ঝরে পড়ছেন।

শেয়ার করুন

একটি গান এবং…

বৃক্ষ হইতে ঝিলিমিলি নামিয়া আসে, আচ্ছন্ন নামিয়া আসে। আশ্চর্য সংজ্ঞা বানাইব বলিয়া আমি অথবা সে অথবা তাহারা জীবনের ধর মুণ্ডু এক করি নাই। বরং সুপ্তির ভেতর নাচিয়া গাহিয়া বাতাস গায়ে জড়াইয়া বৃক্ষকে অক্ষর করিয়াছি । আদি অন্ত বিহীন একটি কালখণ্ড মাত্র করিয়াছি। বিষাদে টলমল টলমল সেই কালখণ্ডে একটি উচ্চারণ অপমানিত শব্দের গান হইয়া ভাসিয়া থাকে

শেয়ার করুন

গানের এক জীবন: উডি গাথরী ও তার সময় (দ্বিতীয় পর্ব)

১৯৪০ সালে প্রকাশিত ডাস্ট বোওল রিফিউজিদের দুর্দশা আর বেঁচে থাকার লড়াই নিয়ে উডি গাথরীর প্রথম আধা-আত্মজীবনীমূলক গানের অ্যালবাম – ‘ডাস্ট বোওল ব্যালাডস্’-এর গানগুলি যে ধুলো ঝড়ে বিধ্বস্ত, সব হারানো মানুষগুলোর নিজেদের গান হয়ে উঠতে পারল এবং বিশ শতকের আমেরিকার সবচেয়ে ভয়াবহ এক জলবায়ু বিপর্যয়ের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক অভিঘাতের সঙ্গে এই যে উডি গাথরীর নাম চিরকালের জন্য জুড়ে গেল – তার কারণ বোধহয় এই গানগুলোর আদ্যন্ত সহজ সরল ভাষা আর লৌকিক সুর। এই ভাষা আর সুর আসলে খেটে খাওয়া, কৃষিজীবী মানুষগুলোর একেবারে নিজস্ব। আর যে জিনিসটা এই গানে তারা পেল তা সমস্ত অন্যায়, অবিচার, বঞ্চনা, না-পাওয়া আর অসহায়তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পীড়িত অথচ প্রাণময় মানুষের নিজস্ব রঙ্গরস আর কৌতুকের স্ফুরণ।

শেয়ার করুন

প্রথম বর্ষ, সংখ্যা ৮, অক্টোবর ২০২১

সম্পাদকীয় প্রবন্ধ ভীমা কোরেগাঁও বা এলগার পরিষদ মামলায় কী হচ্ছে? – অতীন্দ্রিয় চক্রবর্তী পিতৃতন্ত্রের হিংসা: যুদ্ধ, ধর্ষণ, নারী – প্রত্যয় নাথ গানের এক জীবন: উডি গাথরী ও তার সময় (দ্বিতীয় কিস্তি) – পৃথা চট্টোপাধ্যায় গদ্য গরাদ স্মৃতি: রাজশ্রী দাশগুপ্তের স্মৃতিকথা  (প্রথম কিস্তি) বধূ না মাওবাদী – নিশা বিশ্বাস রক্ত-চোষা (জেলের ভেতর জেল) [পুনর্মূদ্রণ] – মীনাক্ষী …

প্রথম বর্ষ, সংখ্যা ৮, অক্টোবর ২০২১ Read More »

শেয়ার করুন

সম্পাদকীয়

বামা-র লক্ষ্য যেমন একদিকে মূলধারার ইতিহাসে প্রান্তিক হয়ে থাকা অতীত স্বরগুলির অনুরণন খুঁজে বের করা, তেমনই বর্তমান প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে দিনে দিনে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে ওঠা। বহুস্বরের প্রকাশমাধ্যম হয়ে ওঠা। হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বামা-কে প্রেরণা জোগায় দেশের মেয়েদের স্পর্ধা, প্রতিবেশী মেয়েদের প্রতিরোধ। তালেবান আক্রমণের সম্মুখে আফগান নারীদের প্রতিস্পর্ধা যদি সম্ভব হয়, তাহলে সব চরম পিতৃতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। রোজাভা আন্দোলনের কুর্দি মেয়েদের মতো, আফগান নারীরাও বিশ্বজনীন নারীবাদী আন্দোলনকে পথ দেখাক- এমনই বামা-র আশা। কুর্দি কমরেডদের আফগান মেয়েরা যেমনটা বলেছিল, এই দুঃসময়ে সেই স্বপ্নই দেখে বামা।

শেয়ার করুন

অনলাইন ক্লাস, বৈষম্য ও মেয়েদের শিক্ষা

সম্প্রতি, ২০২১ সালের এক বিদ্যালয় সমীক্ষায় জানা গেছে যে, গ্রামাঞ্চলে মাত্র ৮% শিশু এই অনলাইন পরিষেবা পাচ্ছে, ৩৭% শিশুর পরিবার অনলাইন পড়াশোনার প্রয়োজনীয় যন্ত্র (অর্থাৎ অন্ততপক্ষে স্মার্টফোন) কিনতে অক্ষম এবং বাকি ৫৫% শিশু এখনো শিক্ষালাভের প্রাথমিক গণ্ডি অতিক্রম না করায় প্রায় অক্ষরজ্ঞানহীন।

শেয়ার করুন

সুন্দরবন ও নারী জন্ম

ফিরে যাই সুন্দরবনে৷ সুন্দরবনের আনাচে কানাচে অত্যন্ত সচেতনভাবে কান পাতলে একটা মৃদু গুঞ্জন শোনা যায় অন্দরমহল থেকে৷ একটা চাপা কলরব ওঠে দুপুর রোদের চাষের ক্ষেতের থেকে৷ সূর্য ওঠার আগে গুনগুন করে নারী কন্ঠরা৷ভোরের গাড়ি ধরে শহরে কাঁকড়া বেচতে যাওয়ার হুড়োহুড়ির শব্দের থেকে আলাদা সে গুনগুন৷ এই সমস্ত চাপা কলরব, কন্ঠস্বর বজ্রনিনাদ হয়ে ফেটে পড়ে সংগঠিত হওয়ার ডাক দিলে৷ ভিটে ছেড়ে উৎখাত হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা, পাথরের মতো রূক্ষ এবং পাখির মতো হালকা পরিযায়ী জীবন, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সুন্দরবনের মতো জল জঙ্গলের জায়গায় এক ফোঁটা পানীয় জলের জন্য হাহাকার, প্রসবের যন্ত্রণা নিয়ে শতভঙ্গুর রাস্তায় ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দেওয়ার জেদ ছাপিয়ে ওঠে ময়দান, সভাগৃহে৷ সুন্দরবনের অবস্থা বদলানোর কথা উঠলে সবার আগে যে মানুষের স্রোত দেখা যায় তারা সুন্দরবনের মেয়েরা৷

শেয়ার করুন

কলকাতায় ২০১৪

মাথার কেশরগুলি মাকড়শার জালের মতন। একটা নির্বিষ সাপ, আয়তনে একটা বড়রাস্তার মত। গায়ে চাকা-চাকা গাড়িমার্কা ছোপ। তাকে আস্তে আস্তে পেঁচিয়ে ধরছে। জড়িয়ে ধরছে বলা ঠিক।

শেয়ার করুন

খরগোশ, ইঁদুর আর ব্যাঙের ছাতার জাদুকর

তৎকালীন সমাজের মেয়েদের যেখানে কোনোরকম সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল, সেখানে বিট্রিক্স নিজেকে এক জ্বলজ্বলে অনুপ্রেরণায় পরিণত করতে পেরেছিলেন।

শেয়ার করুন