সংখ্যা ০৪

The Communist Women of Andhra Pradesh

V Ramaswamy Long before the name of Comrade Sharmistha Choudhury became well known as a political prisoner during the Bhangar movement, she was a dedicated worker and leader of the Communist mass movement.  As a student, she was first associated with the PCSA group in Presidency College. Then she was with the CRS group. But …

The Communist Women of Andhra Pradesh Read More »

শেয়ার করুন

গাঁয়ের ওপর গুলি কে চালায়

গাঁ রাত্তিরে বিছানায় শুয়ে পড়ে
কিন্তু ওর ঘুমের সাথে
এখন কোনো স্বপ্ন নেই
গত রাত্রে সব স্বপ্নকে বন্দী করে
জেলে ভরা হয়েছে
যেখানে স্বপ্ন গজানোর সম্ভাবনা ছিলো

শেয়ার করুন

ট্রেন কাহন

এ বছর ৫ই মে, রাজ্য সরকার সর্বসাধারণের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ করল। আগের বছর, ২০২০ তে, ২১শে মার্চ থেকে শুরু করে এবছরের প্রায় জানুয়ারী অবধি এ রাজ্যে লোকাল ট্রেন বন্ধ ছিল। কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া। দূর পাল্লার ট্রেনও বন্ধ ছিল বহুদিন। এবং সর্বত্র সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে করোনা (কোভিড ১৯) মোকাবিলা করার জন্য গণপরিবহন বন্ধ রাখা একটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ।

শেয়ার করুন

মূর্তি ভাঙা, মূর্তি গড়া – ইতিহাসের উত্তরাধিকার

ঐতিহাসিক ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবারো দানা বাঁধে, ছড়িয়ে পড়ে উত্তর আমেরিকার কেন্দ্র থেকে সারা বিশ্বে। গত বছর জুন মাসে ব্রিস্টলে আন্দোলনকারীরা ক্রীতদাস-ব্যবসায়ী শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী এডোয়ার্ড কোলস্টনের মূর্তি ভেঙে জলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, এবং এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে ইতিহাস রক্ষা, ইতিহাস মুছে দেওয়া সংক্রান্ত অজস্র বক্তব্য।

শেয়ার করুন

প্রতিরোধের স্পর্ধা

১৩ই জুন, ১৯৩৬ সালে নাৎসি জার্মানিতে একটি শ্রমিক সমাবেশে এই ছবিটি তোলা হয়। নাৎসি বাহিনীর জন্য একটি নতুন জাহাজ নির্মাণ প্রসঙ্গে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল। ছবিতে হাজার হাজার মানুষের নাৎসি স্যালুটের মাঝখানে একমাত্র একজন ব্যক্তিই স্যালুট করছেন না। তথ্যানুসন্ধান করে দেখা গেছে, এই ব্যক্তি অগাস্ট ল্যান্ডমেসের, যিনি জাহাজের ডকের একজন জার্মান শ্রমিক ছিলেন। ১৯৩৫ সাল অবধি ল্যান্ডমেসের নাৎসি পার্টির সদস্য ছিলেন, কিন্তু এক ইহুদী মহিলা ইরমা একলারের প্রেমে পড়ে তিনি সদস্যপদ ত্যাগ করেন।

শেয়ার করুন

আপনাকে বলছি স্যার

আজ যখন নয়া শিক্ষানীতি আবারও শিক্ষাকে পণ্য করে তুলছে, পুঁজির স্বার্থে, সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে আবারও পথ করে দিচ্ছে মেয়েদের স্কুলছুট হওয়ার, যখন অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা সমাজের বৈষম্যগুলোকেই আরও প্রকট করে দিছে তখন বারবিয়ানার স্কুলের কথা, সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের লেখা চিঠি আরও আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সলিল দার লেখাতেই জানা যায় বারবিয়ানার স্কুলটি পরবরতিকালে বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু বছর পরেই ফ্লোরেন্সের ক্যালেঞ্জানো শহরে সেখানকারই কিছু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী মিলে আরেকটি স্কুল গড়ে তোলে। বারবিয়ানা তাই কখনই বন্ধ হয় না। সলিল দা চলে গেলেও তাই বারবিয়ানার কথা থেকে যায়। কখনও ফ্লোরেন্সে, কখনও কলকাতায়, কখনও শ্রীরামপুরে। থেকে যায় বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যয়, অভিভাবকদের ইউনিয়ন গড়ার কথা, এই ব্রাহ্মমণ্যবাদী পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বুকে রোহিত ভেমুলা, পায়েল তাদভি, বা চুনি কোটালদের অফুরান স্বপ্ন হয়ে।
সেই সলিল দার স্বপ্নকেই জিইয়ে রেখে থাকলো ‘আপনাকে বলছি স্যার’-এর কিছুটা বাছাই অংশ।

শেয়ার করুন

লিওনে যৌনকর্মীদের চার্চ দখল

২রা জুন, ১৯৭৫। ফ্রান্সের লিওন শহরে এগ্লিস সেন্ট নেইজিয়ার চার্চ। সকাল থেকেই দখল নিল প্রায় ১০০র ওপর যৌন কর্মীরা। ঝুলিয়ে দিল লম্বা ব্যানার যাতে লেখা ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের মায়েদের জেলে দেখতে চায়না’। সেই সময়ে ফ্রান্সে ‘বেশ্যাবৃত্তি’ আইনত অপরাধ না হলেও, প্রকাশ্যে খদ্দের ধরা আইনত অপরাধ ছিল। এই আইনকে হাতিয়ার করে প্রায়সই যৌন কর্মীদের হেনসস্থা করা হতো, চলতো পুলিশি নির্যাতন। ছয় জন যৌনকর্মীর হত্যারাও খবর ছিল। এই পরিস্থিতিতেই ‘উল্লা’ নামের এক যৌনকর্মীর নেতৃত্বে এই অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। যৌনকর্মীদের তাদের কাজের পরিসরে নিজেদের অধিকারের দাবিতে এই অবস্থান বিক্ষোভ ফ্রান্সে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

শেয়ার করুন

অন্ধ্রের কম্যুনিস্ট মেয়েরা

অন্ধ্রপ্রদেশের নারী আন্দোলন প্রসঙ্গে শর্মিষ্ঠা চৌধুরীর নিচের লেখাটি আসলে অসমাপ্ত। তা তাঁর ফেসবুক লেখনী থেকে পাওয়া। বেশ কয়েকটি কিস্তি লিখবেন বলে কথা দিয়েও দুটি কিস্তি লিখেছিলেন তিনি ২০২০ সালের অক্টোবরে। দুটি কিস্তি একসঙ্গে ‘বামা’ প্রকাশ করল। অন্ধ্রপ্রদেশের চল্লিশের দশকের কমিউনিস্ট আন্দোলনে নারীর ভূমিকা ও নারীর প্রতি কমিউনিস্ট আন্দোলনের দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি যা বলেছিলেন, তা পশ্চিমবঙ্গের তেভাগা বা পরবর্তী কালে নকশালবাড়ি আন্দোলনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

শেয়ার করুন

অন্ধ বিচার নয়

সিংহাসনে বসল রাণী, বাজল কাঁসর ঘন্টা
ছটফটিয়ে উঠল কেন মন্ত্রীছুঁড়ির মনটা?
রাণী বলেন, মন্ত্রীসোনা, জামায় কিসের গন্ধ?
মন্ত্রী বলেন, এসেন্স দিছি, গন্ধ তো নয় মন্দ!
রাণী বলেন, মন্দ? ও মা – তাই কি আমি বললাম?
একটু কাছে এলে বরং ভালো করেই শুঁকতাম।

শেয়ার করুন

অ্যান ফ্র্যাঙ্কঃ ফিরে দেখা নাৎসি জার্মানি

অ্যান ফ্রাঙ্ক জন্মগ্রহণ করেছিল যখন, তখন তার নাম দেওয়া হয় অ্যানেলিস মেরি ফ্রাঙ্ক। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে, ১৯২৯ সালের ১২ই জুন এডিথ হল্যান্ডার ফ্র্যাঙ্ক এবং এক সমৃদ্ধ ইহুদি ব্যবসায়ী অটো ফ্রাঙ্ক-এর দ্বিতীয় কন্যা হিসেবে তার জন্ম। তার চার বছরেরও কম বয়সে, ১৯৩৩ সালের জানুয়ারিতে, অ্যাডল্ফ হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর হন। তিনি এবং তাঁর নাজি সরকার জার্মানির ইহুদি নাগরিকদের হত্যা, বিতাড়ন আর তাদের উপর অত্যাচারের লক্ষ্যে একাধিক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

শেয়ার করুন

পরিযায়ী শ্রমিক – ত্রাণের রাজনীতি পেরিয়ে (দ্বিতীয় কিস্তি)

গতবছর থেকেই আমরা দেখেছি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নেমে আসা আঘাতের বীভৎসতা। যে শহরগুলোকে তাঁরা নিজেদের শ্রম দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন, রুজিরুটি হারিয়ে, কোনও সাহায্য না পেয়ে সেই শহর থেকেই বিতাড়িত হতে হয়েছে তাঁদের। সরকার কোনও ব্যবস্থা না করায়, যেটুকু যাতায়াতের ব্যবস্থা করা গেছে, তাতেই গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরেছেন হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ। যাঁরা যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারেননি, তাঁরা কয়েকশো কিলোমিটার হেঁটেছেন। মারা গেছেন পথেঘাটে, রেললাইনে। এ বছর করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হতেই আমরা দেখেছি আবার একই ছবি। গতবছর থেকে জাতীয় স্তরে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করেছে মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সলিডারিটি নেটওয়ার্ক বা পরিযায়ী শ্রমিক সংহতি মঞ্চ। বামার পক্ষ থেকে জিগীষা কথা বললেন মঞ্চের সদস্যা শ্রেয়া ঘোষের সাথে। শ্রেয়া বর্তমানে গবেষণারত, এবং শ্রমজীবী অধিকার, ছাত্রছাত্রী আন্দোলন ও নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী।

শেয়ার করুন

সম্পাদকীয়, জুন ২০২১

পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেই উত্তরাধিকার শব্দটি এক আলাদা মাত্রা পায়। কিসের উত্তরাধিকার এবং কে সেই উত্তরাধিকারী, এই গতিশীলতায় উৎপন্ন হয় নতুন ভাবনার, নতুন চিন্তার। বিসমকামী পারিবারিক প্রথায় যৌতুক যেমন শোষকের নির্লজ্জ দাবী, নারীর বৈষয়িক উত্তরাধিকার হয়ত তেমনই শোষণমুক্ত হতে পারার এবং শিকল ছিঁড়ে বেরোতে পারার সম্ভাবনা। আর তাই, সেই সম্ভাবনাকে গুঁড়িয়ে দিতে, অপরের সম্পদে নিজের অধিকার কায়েম রাখতে, অপরকে নিজের সম্পদে পরিণত করতে অত্যাচারী মানুষেরা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দমন, নিয়ন্ত্রণ, বঞ্চনা ইত্যাদির আশ্রয় নেয়। কিন্তু এই উত্তরাধিকার যদি বিমূর্ত হয় অথবা হয় কোন ইতিহাসের পাঠ, তখনও কি শোষক এর ভাগ চাইবে, না কী চেষ্টা করবে সেইসব বিমূর্ত সম্ভাবনাগুলিকেই সমূলে বিনাশ করতে? উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দ্রোহ তো শোষকের বিপক্ষেই যায় আর সেকারণেই হয়ত প্রান্তিক যাপনের উত্তরাধিকার কেন্দ্রে অবস্থিত ক্ষমতাসীন মানুষদের ভীত নাড়িয়ে দেয়। তেমনই এক উত্তরাধিকারের সময় এই জুন মাস।

শেয়ার করুন

উল্গুলানের শেষ নাই: হুল মনে রেখে

১৮৫৫। দামান-ই-কোহ এলাকা। সাঁওতালদের নিজেদের দেশ। রাতের অন্ধকারে শত্রু ক্যাম্পে ঝাঁপিয়ে পরে হামলা করে দুই সাঁওতাল মেয়ে। কুঠার দিয়েই হত্যা করে ২১জন সেনাকে। সেই দুই মেয়ে যাদের ইতিহাসের পাতায় ঠাই হয়নি। যাদের নিয়ে কোনো গল্প, গান, কবিতা লেখা হয়না। সেই ফুলো আর ঝানো মুরমু। সেই সময় ছোটা নাগপুর আর গোটা সাঁওতাল পরগণার এলাকা জুড়ে আদিবাসি মানুষদের বাস ছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ গভারনার আহ্বান জানান সেখানকার বন জঙ্গল কেটে চাষ যোগ্য করার। আজীবন উচ্ছেদ হয়ে আসা মানুষগুলি মনে করলেন এবার বুঝি শেকর গাড়া যাবে। কিন্তু এক বছর বিনা খাজনায় চাষ করতে দিলেও বছর ঘুরে সেই রাজস্ব এসে দাঁড়ায় আটান্ন হাজারে।

শেয়ার করুন

‘মোয়ানা’-য় ইকোফেমিনিজমের বার্তা: পরিবেশ দিবসে ফিরে দেখা

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এক নিরিবিলি দ্বীপ। সে দ্বীপের মাওরি প্রধানের আছে এক পুচকে মেয়ে। সমুদ্র তাকে হাতছানি দেয়। কিন্তু কে জানে কেন, বাবা আর মায়ের সমুদ্রে বড় ভয়। ভয়ই যখন, তখন মেয়ের নাম মোয়ানা রাখা কেন বাপু? মোয়ানা নামের মানেই যে সমুদ্দুর। সমুদ্রের কাছে যাওয়া মানা ছোট্ট মোয়ানার। সেই কোন ছোটবেলায় সমুদ্র এক জেল্লাদার সবজে পাথর এনে ফেলেছিল তার পায়ের কাছে। পাথরটা হাতে তুলেছে সবে, অমনি বাবা এসে হাজির। কোলে করে নিয়ে চলল কুঁড়ের দিকে, আর পাথর গেল হাত ফস্কে পড়ে। জলরাশি আবার ভাসিয়ে নিয়ে গেল তাকে।

শেয়ার করুন

কেয়ারের রোজনামচা

যে প্রশ্নটা আমাদের প্রায়শই ভাবায় তা হল, রোম্যান্টিক ঘনিষ্ঠতাকে ধারণ করে রাখার জন্য বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটি (cis-heterosexual) এখনও কেন প্রাথমিক এবং একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়ে যায়। একটি আদর্শ ব্যবস্থা হিসাবে বিবাহ প্রতিষ্ঠানটি প্রসারিত হয়েছে, ভেঙেছে, মধ্যস্থতায় গেছে এবং টিকেও আছে। তা সে বহুগামিতার ক্ষেত্রেই হোক অথবা এককগামিতা, বেশুমার কাঠামোগত বৈষম্যের সৃষ্টি করেও দাম্পত্য জীবনের প্রতিলিপি হিসেবে বিবাহের দৃঢ় উপস্থিতি অব্যাহত থাকছেই। আপাতদৃষ্টিতে বৈবাহিক গার্হস্থ্যতার সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হল প্রত্যয়িত সাহচর্য এবং বয়েসকালে কেয়ার পাবার নিশ্চয়তা। আর তাই বিবাহ এবং এর উপজাতক, অর্থাৎ বংশধর, যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে তা হল এই যে বার্ধক্যের সময় প্রশ্নাতীত সমর্থন থাকবে এবং যত্নের ত্রুটি হবে না। বিবিধ সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থার দ্বারা এই স্বপ্ন প্রশমিত করা হয় এবং এর মাধ্যমে বিবাহ প্রতিষ্ঠান আরও জোরের সঙ্গে বিদিত হয়।

শেয়ার করুন

স্টোনওয়াল বিদ্রোহ : পাথুরে দেওয়ালের রঙধনু ইতিহাস

“তোমরা কিছু করছ না কেন? কিছু তো একটা করো?!” কথিত আছে জনতার উদ্দেশে এই কথা চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন একজন হাতকড়া বাঁধা মানুষ, পুলিশ যার মাথায় এইমাত্র আঘাত করেছে। ১৯৬৯ -এর ২৮শে জুন, নিউ ইয়র্ক শহরের ‘স্টোনওয়াল ইন’-এর সেই রাত পরবর্তী সময়ের দুনিয়ার রামধনু রঙে অন্য মাত্রা যোগ করবে। মানবজাত তদ্দিনে জেনে গেছে যে লঘু হলেই পিষ্ট হতে হয়, সংখ্যাগুরুর বেইনসাফি জো-হুজুর বলে সহ্য করে যেতে হয়। সে তুমি ধর্মপালনে হও নয়তো রাজনৈতিক চিন্তায় অথবা যৌনতার যাপনে, সংখ্যালঘু মানেই রাষ্ট্র, সমাজ থেকে শুরু করে পরিবার বা পাশের বাড়ির কাকু, এক কেলাসের পল্টু বা এক গেলাসের মান্তু … যে কেউ তোমার কান মুলে-চুল টেনে দিতে পারে, টিটকিরি দিতে দিতে জিন্দা জ্বালিয়ে দিতে পারে বা পারে অনায়াসে বুকে বুলেট গুঁজে দিতে।

শেয়ার করুন

ফিরে দেখা তিয়েনানমেন

এই মাসে চীনের তিয়েনানমেন স্কোয়ারে রাষ্ট্রীয় মদতে গণহত্যা হয়েছিল ঠিক বত্রিশ বছর আগে। বেইজিংয়ের তিয়েনানমেন স্কোয়ারে হাজার হাজার নিরস্ত্র শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীর উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। মারা যান বহু মানুষ, যার সরকারী নথি এখনও চীন সরকার প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি। সমগ্র চীন জুড়ে বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শেয়ার করুন

ভারতবর্ষের নির্বাচিত কিছু ক্যুয়ার সাহিত্য

১৯৭৬ থেকে কালানুক্রমিক সময়রেখা ধরে ৪৪৮টি ক্যুয়ের সাহিত্যের তালিকা (যা শুধু ভারত থেকে প্রকাশিত নয়) এখানে আছে এবং অবশ্যই এটি কোন সামগ্রিক তালিকা নয়। সমস্তরকম সম্ভাব্য সাহিত্যের জ্যঁরের লেখা এখানে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু কাজ এই তালিকায় আছে যা হয়ত ক্যুয়ার-কেন্দ্রিক নয় (হয়ত ক্যুয়ার পজিটিভও নয়) কিন্তু ক্যুয়ের পরিবেষ্টক তো বটেই। আবার এর মধ্যে বেশকিছু সাহিত্য ভারতীয় ডায়াসপোরা থেকেও আছে। কমলা দাসের আমার গল্প (My Story) বাদে সব লেখার সংক্ষিপ্ত বিবরণী দেওয়া রইল যা প্রকাশক অথবা লেখকের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। এই সাহিত্যকর্মগুলি যাতে প্রকাশের সময় মাথায় রেখে পরপর সাজিয়ে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ছুটি-রুটি

বেজায় গরম। দুপুরবেলা বসে বসে ফ্যানের হাওয়া খাওয়া আর কুলপিকাকুর থেকে বড় বড় কুলপি কেনা ছাড়া বিশেষ ভালো কিচ্ছু হচ্ছে না দিনে। তার উপর গরমের ছুটি। বন্ধুদের সঙ্গেও সেই কত্তদিন দেখা হয়নি। দুপুরবেলা বসে বসে টিনটিন পড়তে পড়তে এইসবই ভাবছিল ছুটি। বাবা মাও ওদিকে ভোঁসভোঁস করে ঘরে শুয়ে ঘুম দিচ্ছে। বাবার নাক ডাকছে ঘ্রোঁৎ ফুউউউউ, আর তালে তালে মায়ের নাকও সাড়া দিচ্ছে সুড়ুৎ সুঁউউউউ।

শেয়ার করুন

বিজে উলুম ইয়োক: হেলিন বুলেকদের মৃত্যু হয় না

হেলিন আর ইব্রাহিম দুজনেই ছিল ‘গ্রুপ ইওরুম’ নামে এক বিপ্লবী গানের দলের সদস্য। হেলিন ছিল তার একজন ‘লিড সিঙ্গার’। ইব্রাহিম চলে যাওয়ার পর তুরস্কের প্রধান সংসদীয় বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-র সাংসদ সেজগিন তানরীকুলু তার দাবিকে একটি বাক্যে প্রকাশ করেছিলেন এইভাবে: “সে স্বাধীনভাবে গান গাইতে চেয়েছিল।”

শেয়ার করুন

নিষিদ্ধ কথা আর নিষিদ্ধ দেশ

‘নিষিদ্ধ কথা আর নিষিদ্ধ দেশ’ দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত বই। মূলত এই লেখা থেকে যৌনকর্ম ভিত্তিক আলোচনা, ও তার সোভিয়েত কর্মসূচীকে সংক্ষেপিত আকারে তুলে দেওয়া হলো। লেখকের সময়ের সোভিয়েত আর নেই। নেই সেই সোভিয়েতের কর্মসূচী, নিয়মাবলী, দর্শন আর কর্মপন্থাকে বারবার ভেঙে দেখার পরিসর। তবুও, বিশেষত ভারতবর্ষে গোঁড়া বামপন্থী ধারার মধ্যে লিঙ্গচেতনা এবং যৌনতা সম্বন্ধীয় যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে যে সুতীব্র রক্ষণশীল ধারণার পরিচয় পাওয়া যায়, তার বিপ্রতীপে দেবীপ্রসাদের এই লেখাটি এক উল্লেখ্য উদাহরণ। স্পর্শকাতর বিষয়কে দূরে সরিয়ে রেখে বইয়ের পাতার নিটোল দর্শন নয়, বরং আমাদের রক্ষণশীল চিন্তাচেতনাকে ধাক্কা দিতে, আমাদের রাজনৈতিক ভাবনায় শাণ দিতে রইলো এই লেখার কিছু নির্বাচিত অংশ।

শেয়ার করুন

মুক্তি

মাথায় একটা ওড়না চাপা দিয়ে
ক্রমাগত বিড়বিড় করে চলেছে
ডোন্ট শুট, ডোন্ট শুট‌ ডোন্ট শুট
লাফিয়ে উঠে বলছেনা “মার
মেরে ফেল হারামখোর”!

শেয়ার করুন

ছায়া জাহাজ এবং মায়া দ্বীপের রহস্য

ছবি – ছায়া জাহাজ এবং মায়া দ্বীপের রহস্য
শিল্পী – তরী হোসেন। বয়স ৮। দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী।

শেয়ার করুন

চিত্তপ্রসাদকে মনে রেখে

বিপ্লবী শিল্পী চিত্তপ্রসাদের জন্মদিন ২১শে জুন, ১৯১৫। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক শিল্পের ইতিহাসে চিত্তপ্রসাদ এক উজ্জ্বল নাম। শুধু ছবির আঙ্গিক বা বিষয়বস্তুতেই চিত্তপ্রসাদ তাঁর রাজনৈতিক চর্চা সীমিত রাখেননি, সক্রিয়ভাবে বামপন্থী রাজনীতিতে যোগদানের মাধ্যমে শিল্পধারণাকে এক নতুন রূপ দেন চিত্তপ্রসাদ।

শেয়ার করুন

ব্যাটলশিপ পোটেমকিন

পোটেমকিন ছিল রাশিয়ার জারের মিলিটারির জন্য তৈরি এক যুদ্ধজাহাজ। ১৯০৫ সালে এই যুদ্ধজাহাজে যে বিদ্রোহ হয়, তা ইতিহাসে ব্যাটলশিপ পোটেমকিন নামে পরিচিত হয়। প্রায় ৮০০ সংখ্যক ক্রু সহ ১৯০৩ সালে এই জাহাজ কৃষ্ণ সাগরে একটি নতুন যুদ্ধযাত্রায় পাঠানো হয়। জাহাজের ক্রু-এর মধ্যে অনেকেই বিপ্লবী ধ্যানধারণা পোষণ করতেন; তাঁরা এবং মাত্যুশেঙ্কো নামে এক নবীন অফিসার এই বিদ্রোহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

শেয়ার করুন

ছিল সিংহ হয়ে গেল বেড়াল: অ্যাগনেস ভার্দার সিনেমায় নতুন করে দেখার ম্যাজিক

অ্যাগনেস ভার্দাকে পাঠ করা কিভাবে সম্ভব? একজন ইন্টারমিডিয়াল আর্টিস্ট হিসাবে? সিনেম্যাটিক মডার্নিজমের নিরিখে? নারীবাদী অ্যাক্টিভিজমের অনুষঙ্গ ধরে একজন মহিলা শিল্পী হিসাবে? নাকি ফরাসী নবতরঙ্গের প্রবাদপ্রতিম মুহূর্তের অন্যতম পুরোধারূপে, যা গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়জুড়ে গড়ে ওঠা গোদার-ত্রুফো ও কাহিয়ে পত্রিকা কেন্দ্রিক যেই ইতিহাস চর্চা, তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে?

শেয়ার করুন

উঠোন

অনেক বছর আগে সত্তর দশকের দিকে এক গেরস্থ ঘরের কিশোরী ভাতের ফ্যান ঝরাতে গিয়ে প্রতিদিন ভুল করতো, অনেকটা করে ভাত ফ্যানের মধ্যে অজান্তে পরে যেত। কিছু মাস আগেই তার আশি উত্তীর্ণ মায়ের কাছে শোনা সে গল্প, তার বৃদ্ধা মা বলতো, ‘ইচ্ছে করেই বুড়িকে ফ্যান গালাতে দিতাম, যাতে ফ্যানে কিছুটা ভাত থাকে’। বুড়িরও এখন ষাট বছর, তার বয়ানে সে বলে ‘পড়শী মানুষরা অনেকেই ফ্যানটুকু খাওয়ার জন্যই উঠোনে বসে থাকতো তাদের শুধু ফ্যান দিতে কষ্ট হতো। ইচ্ছা করেই ফ্যানের মধ্যে ভাত ফেলতাম প্রতিদিন, মা ভাবতো আমার হাত নড়বড়ে’।

শেয়ার করুন