সংখ্যা ০৯

সম্পাদকীয়

এই সংখ্যা থেকে ‘বামা’ দ্বিমাসিক পত্রিকা হতে চলেছে। পত্রিকার এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এবারের সংখ্যার কেন্দ্রে থাকছে ‘ছোটদের জন্য’ বিভাগটি। চেষ্টা করা হল নারীবাদী ভাবনাচিন্তার সঙ্গে সঙ্গে আমোদ, আনন্দ, শৈশব এবং মুক্তির স্বাদ খুঁজে নেওয়ার। ছোটদের জন্য লেখা যতটা ছোটদের ততটা তো বড়দেরও বটে। তাদের জন্য লিখতে গিয়ে নিজের ভেতরকার ছোট মানুষটিকে যদি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে মন্দ কী! যে ভাষা আমরা হারিয়ে ফেলেছি, যে সাহস খুঁজতে থাকি বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্তে তার অনেকটাই খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছোটদের জগতে – তাদের সাথে, তাদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টার মাধ্যমে, তাদের জগত থেকে সাহস সংগ্রহ করার মাধ্যমে।

শেয়ার করুন

ছোটোদের থিয়েটার

১৯৯৮ সাল নাগাদ, কিছু মানুষ, যারা নিজেরাই সেই সময় ছোটোদের নিয়ে নাটকের কাজ করছিলেন মূলতঃ দক্ষিণ বঙ্গের মফস্বলে এবং শহরে, তারা ঠিক করলেন বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে যদি নানা জায়গায় ছোটোদের এক সঙ্গে করে একটা আবাসিক নাট্য কর্মশালার আয়োজন করা যায় তাহলে ছোটোদের সাথে সাথে যারা কাজ করান তাদের মধ্যেও একটা ভাবনা আর কর্ম পদ্ধতির দেওয়া নেওয়া হতে পারবে। ‘শিশুনাট্য’ বলতে আমার যা দেখা বেশীরভাগটাই এই কর্মশালায়, কাজ করতে করতে জানা। এই কর্মশালায় পোশাকি নাম ‘শিশু কিশোর বিকাশ মেলা’, ডাক নাম ক্যাম্প। 

শেয়ার করুন

ভীমা কোরেগাঁও বা এলগার পরিষদ মামলায় কী হচ্ছে?

ভীমা কোরেগাঁও এলগার পরিষদ মামলার ফৌজদারি তদন্ত চলাকালীন জামিন ও অন্যান্য বিষয়ে হওয়া মামলা মোকদ্দমার আদেশসমূহের ভিত্তিতে এই বিষয়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার যে বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান ব্যক্ত হয়েছে এবার তা আমরা দেখে নেব।

শেয়ার করুন

‘অঙ্ক কী কঠিন!’

এই যে অঙ্ক এর মূলগত কাঠামোতে হয়তো বিভেদ বা বৈষম্য খুঁজে পাবে না তেমন ভাবে। কিন্তু অনেক সময় তার উপস্থাপনায় অনেক গলতি কিন্তু রয়ে যায়, যার দায় একান্তই সমাজের ব্যক্তি মানুষের, যে বা যারা সামাজিক কাঠামোর মোড়কে অঙ্কের সমস্যা বা গল্পগুলোকে সাজান। যেমন, ধরো একটু খেয়াল করলেই দেখবে অঙ্কের বইয়ে মহিলা শ্রমিকরা পুরুষদের চেয়ে কম কাজ করেন, কিংবা ‘বুল্টি’রা ‘বিল্টু’দের চেয়ে কম চকোলেট পায়, এমনকি অংশীদারী অঙ্কেও বাবার সম্পত্তি ছেলে ও মেয়ে সমান ভাগে পায় না। দেখো এগুলো কিন্তু অঙ্কের সমস্যা নয়, এগুলো সমাজের আরোপিত চিত্র যেগুলো অঙ্কের মত একটা বিষয়কে দূষিত করে। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে এই ভাষাকে বদলাতে হবে নিজেদের তাগিদেই। শুধু ভাষাগত সমস্যাই নয়, অঙ্ক সংক্রান্ত যে যাবতীয় ‘মিথ’ আমরা শুনে থাকি সেই সবকটিকেই দাঁড় করাতে হবে চ্যালেঞ্জের মুখে। এই যে একটু আগেই বললাম বিভেদের গল্প, সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে বেশ কিছু মিথ। যেমন, ‘মেয়েরা অঙ্ক পারে না’, ‘বুদ্ধিমান ছাড়া অঙ্ক হয় না’ ইত্যাদি।

শেয়ার করুন

মায়ার গল্প

টি১২। এটাই ভাল নাম মায়ার। মায়া অবশ্যই সকলের দেওয়া ডাকনাম। বলা ভাল, বনবিভাগই মায়া নামটা রেখেছিল ওর। পর্যটকরাও ওই নামেই চেনে ওকে। মায়াকে প্রথম যখন আমি দেখেছিলাম, তখন ২০১৫ সাল। জঙ্গলের বুক চিরে রানির মতো হেঁটে গিয়েছিল মায়া। একপাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়েছিল টুরিস্ট জিপগুলো। সকলে মায়াকে দেখছিল একদৃষ্টে। মায়া কিন্তু মোটেও পাত্তা দিচ্ছিল না কাউকে। গাছের গন্ধ শুঁকে, চারপাশ দেখে মায়া একটু জরিপ করে নিচ্ছিল, ওর এলাকা ঠিক আছে কিনা।

শেয়ার করুন

দেশ

দেশ কি পাল্টে যাচ্ছে?
রুকুর বয়েস দশ। সে এতোসব জটিল প্রশ্নের উত্তর জানে না। তবু সে বুঝতে পারছে চারদিকে কিছু বাজে ঘটনা নিশ্চয় ঘটছে। এইতো সেদিন আব্বা কাজ থেকে ফিরে টিনের বাক্সটা খুলল। এই বাক্সের ভেতর কতো পুরনো কাগজপত্র থাকে। আব্বা ধুলো ঝেড়ে কাগজগুলো দেখছিল। দেখতে দেখতে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল একসময়। মা তখন রান্নাঘরে। রাতের খাবার বানাচ্ছিল। আব্বা মাকে ডেকে বলল, কাগজগুলোয় তো গন্ডগোল রয়েছে। মা রান্নাঘর থেকে ফিরে এসেছে। হাতে খুন্তি। মুখে ঘাম। জিজ্ঞেস করল, কেন? আব্বা বলল, দলিলে আমার আব্বার নামের আগে শেখ রয়েছে। কিন্তু আমার ভোটার কার্ডে আব্বার নামের আগে শেখ নেই। এ তো মহা ঝামেলা।

শেয়ার করুন

পিংকি গেল ইশকুলে

ঘন্টা আর মিমি দুজনেই রোজ ইশকুলে যেত। সকাল আটটা বাজলেই তারা ভাইবোন হাত ধরাধরি করে বগলে বই-খাতা নিয়ে, পা টেনে টেনে, হাই তুলে তুলে, ইশকুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ত। পিংকি সেই সময়ে হয় তার পোষা গরুটাকে জাবনা খেতে দিত, কিংবা ওর পোষা বাঁদর শ্রীমান নরেন্দ্রকে রংবেরঙের পোষাক পরিয়ে সাজাতে ব্যস্ত থাকত। কখনো বা ও সকাল সকাল খুউব মন দিয়ে  ব্যায়াম করত। কেমন ব্যায়াম করত? সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটানা বিয়াল্লিশ বার ডিগবাজি খেত। তারপর ও শুনশান রান্নাঘরে পিঁড়ি পেতে বসে একবাটি চা আর নাড়ু-মুড়কি খেত।

শেয়ার করুন

রুকু আর ওর ফ্রেন্ড সত্যজিৎ

“সত্যজিৎ রায় মেয়েদের জন্য গল্প লেখে না, সিনেমা বানায় না।” ডাম্বল এই কথাটা চোখ বুজে বলার পর ভাবছিল ক্যাডবেরি চাটতে চাটতে বেরিয়ে যাবে। তবে চোখ খোলার আগেই রুকুর হাতে চটাস করে একটা থাপ্পড় খেয়ে তারস্বরে কান্না জুড়ে দিল। এতে রুকুর এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা হল – একে ডাম্বল ভীষণ ঘ্যানঘ্যানে, তাও ওর মা সপ্তাহে তিনদিন ওকে টিফিনে ক্যাডবেরি দেয় আর ডাম্বল শেয়ার করে না বলে রুকুর বিরক্তিকর লাগে। ডাম্বলকে সে মাঝে মাঝেই পেটায়। এই দফায় আরেকবার পেটানো গেল, ক্যাডবেরিটাও গেল ছিটকে আর দুই মিলিয়ে কাঁদানো গেল – এতে রুকুর বেশ তৃপ্তি হল। এইবার প্রিন্সিপাল ওকে ডাকবে, ডাম্বলের মা এসে ফোঁস ফোঁস ঘোঁত ঘোঁত করবে, পেরেন্ট কল হবে – এইগুলি অতঃপর খুব একটা ঝামেলার না।

শেয়ার করুন

আয়নাদেশের কিস্‌সা

ওকে দেখে বয়স বোঝা যায় না। একদল যদি বলে সে মোটে একটা বাচ্চা, তো অমনি আরেকদল সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠবে, মোটেই না, অমন কুঁচকোনো চামড়া, তোবড়ানো গাল আর জিরজিরে হাড় কি বাচ্চাদের হয় নাকি? উত্তর আসবে, তাহলে অমন ছোট্টখাট্টো চেহারা হয় কী করে? কী করে আবার, বয়েস হতে থাকলে মানুষ আবার ছোট হয়ে যায়, কুঁচকে কিসমিস হয়ে যায়, জানা নেই নাকি? ব্যাস, শুরু হয়ে যাবে ঝগড়া! সত্যি, এত বোকা-বোকা জিনিস নিয়ে যে-লোকে ঝগড়া করে, কী বলব!

শেয়ার করুন

কমলার পোষা আমড়া আর একটা সহজ তেঁতুলের আচারের রেসিপি

আমাদের ছোটবেলায়, মানে অনেক অনেক আগে, ইস্কুলের সামনে এসব পাওয়া যেত। আমার এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগত কালো আমসত্ত্ব, বিট নুন মাখিয়ে। মা বলত ওগুলো পচা আম দিয়ে বানায় তাই খেতে নেই। মিছে কথা! যাতে বাইরের খাবার না খাই তাই সব বানিয়ে বানিয়ে বলত, আমি নিশ্চিত। তা সেরকম সময়ের একটা গল্প বলছি তোমাদের, পোষা খাবারের গল্প। আসলে গল্প না, সত্যি। আমার বন্ধু কমলার কথা।

শেয়ার করুন

গল্প বলেন সুখলতা

সুকুমারের দিদি, ভাল নাম সুখলতা। রবীন্দ্রনাথের রাজর্ষি উপন্যাস বেরিয়েছিল যে বছর, তার পর পরই সুখলতা-সুকুমারের জন্ম, রাজর্ষি উপন্যাসের দুই শিশু হাসি-তাতার নাম অনুসরণেই সুকুমারের নাম হয় তাতা, সুখলতার নাম হাসি। কিন্তু, সুকুমার রায়ের দিদি, এটুকুই কি তাঁর পরিচয়? না। বাংলায় রূপকথা লেখা, নাটক লেখা, কমিক্স আঁকা, ছোটদের লেখাপড়া শেখার নতুন পদ্ধতি খোঁজা, ওড়িয়া সাহিত্যের অনুবাদ, অনেক কিছু করেছেন সুখলতা। তাঁর পরিচয় তাঁর নিজের কাজেই।

শেয়ার করুন

রান্নার খাতা

আমাদের ইস্কুল একটু একটু করে খুলছে। কিন্তু গত প্রায় দু’বছর ধরে আমরা ঘরবন্দী। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, খেলতে যাওয়া, দুষ্টুমি করা কিছুই প্রায় হয়ে উঠছিল না। তা এই বন্ধুর কথা মনে রেখেই চূর্নী এই বইটি বানিয়েছিল। যখন দেখা হবে তখন সবাই একসাথে মিলে রান্না করবে, খাবে। দেখা হবার আগে অবধি বন্ধু নিজে একটু হাত পাকিয়ে নিক সেটাই ভেবেছে হবে। সেই বই আগামী কয়েক সংখ্যায় আমরা আমাদের ছোট পাঠকদের জন্য ছাপব। এবার রইল প্রথম কিস্তি।  

শেয়ার করুন

অদ-ভূতুড়ে

মানুষকে বিশ্বাস না করার হাজারো কারণ থাকতেই পারে, কিন্তু অলৌকিক আর ভূতে যারা বিশ্বাস করেন না, তাঁরা নিতান্তই হর্দম, মানে হাঁদা। চাঁদ থই থই নিঝুম রাতে বাড়ির সবাই যখন ঘুমে বেহুঁশ, তখন ঘরে উত্তরের জানলাটা আমি খুলি না কেন? কারণ বাইরে কয়েকশো গজ দূরে রমাপিসিদের খোলা ছাদের ধারে পা ঝুলিয়ে কারা যেন বসে থাকে। লাল লাল চোখ। ফ্যাকফ্যাকে চেহারা। ড্যাবড্যাব করে ওরা তাকায় আমার ঘরের দিকে। খাটের থেকে পা নামাতেই কে যেন সড়াৎ করে পিছলে সরে যায় ভিতরের দিকে। একদিন সাহস করে কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করেছিলুম “কে? কে আছ নীচে?” খোনা গলায় পষ্ট উত্তর শুনেছিলুম “না, না কেউ না..”

শেয়ার করুন