ছুটি-রুটি (দ্বিতীয় পর্ব)

পর্ব দুই –  বড়বাড়ি 

“আচ্ছা তুই কাঠপরী দেখেছিস?” দিঘির ধারে একটা ডালে বসে কুলের আচার খেতে খেতে ছুটি রুটিকে জিজ্ঞেস করল। সকালের টিফিন বাঁচিয়ে ছুটি আজ দু খানা লুচি, বেগুনভাজা, মিষ্টি আর কুলের আচার নিয়ে নিয়ে এসেছে ওদের চড়ুইভাতির জন্যে। রুটির অবশ্য কুলের আচার খেয়ে একদম পছন্দ হয়নি। খানিক দূরে ডালের উপর বসে বসে সে নাক সিঁটকে ছুটির আঙুল চেটে চেটে কুলের আচার খাওয়া দেখছিল আর লেজ ফোলাচ্ছিল। 

“হ্যাঁ দেখব না কেন। দিব্যি দেখেছি। মতিদিঘির ওইপারে কাঠপরীদের প্রাসাদ, চন্দনপুরী। আমাকে অবশ্য একা অত্তদূর যেতে দেয় না। কিন্তু চাঁদনী রাত্তিরে কাঠপরীরা দিঘির শাপলা শালুক ফুলের উপর নাচতে আসে। চাঁদের আলো তাদের ডানার উপর পড়ে রূপোর চাদরের মত ফিনফিন করে। তখন দিব্যি দেখেছি তাদের পাতায় পাতায় লাফিয়ে খেলা করতে।” 

“এই আমাকে একটু কাঠপরী দেখাতে নিয়ে যাবি রে? আমার সূর্যাস্ত দাদা বলে আজ অবধি কোন মানুষ নাকি কাঠপরী দেখেনি, তাই কাঠপরীরা হয়ই না।” ছুটি আবদার করে বসল।

“এ আবার কেমন কথা হল। মানুষে তো অর্ধেক মজার জিনিসই দেখেনি। বৃষ্টির দিনে উড়ুক্কু মাছের নাচ দেখেনি, কথা বলা গাছ দেখেনি, কাঠপরী দেখেনি, বুড়োঠাকুরদা রামলোচন বেহ্মদত্তিকেও দেখেনি। তাইলে কি তারা কেউ নেই?” 

“আহা আমি বলছি না তো এমন কথা। নিয়ে চল না রে আমাকে কাঠপরী দেখাতে?”

“হুউউউউউম” রুটি দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে ভাবতে বসল। “প্রথম কথা হল, আমার তো একা দিঘির ওইপারে যাওয়া বারণ।”

“আহা একা কই, আমি আছি তো।” অতি উৎসাহে ছুটির কান কটকট করছিল, কান চুলকাতে চুলকাতে বলল সে। 

“তা বটে।” রুটি আবার ভাবতে বসল, “না সে সবই হল নাহয়, কিন্তু কাঠপরীরা অনেক ছোট যে। এই তোর একটা হাতের তালুর মত আকার তাদের। এই বিশাল চেহারা নিয়ে দুমদাম করে সেখানে গেলে তারা সবাই তো ভয়েই দেখা দেবে না।”

ছুটির মন খারাপ হয়ে গেল। সে অনেক কিছু করতে পারে বটে, একা একা জুতোর ফিতে বাঁধতে পারে, ইলিশ আর বাটা ছাড়া অন্য সঅঅব মাছের কাঁটা বাছতে পারে, বীরপুরুষ অদ্ধেকটা মুখস্থ বলতে পারে; কিন্তু আকারে কীকরে ছোট হতে হয় তা তো সে জানে না!

রুটি তার দুঃখী দুঃখী মুখ দেখে তড়িঘড়ি করে বলে উঠল, “আহা এ মেয়ে আবার কাঁদতে বসে যে! ছোট হবার উপায় নেই বললুম নাকি তা বলে?”

ছুটি জামার খুঁট দিয়ে চোখের কোণা মুছে সোৎসাহে জিজ্ঞেস করল, “আছে? কী উপায় বল?”

রুটি এক পেল্লায় লাফ দিয়ে ডাল থেকে নেমে বলল, “চ দিকি গড়াইদিদার কাছে। গড়াইদিদিমার কাছে নিশ্চয় কোনো একটা উপায় থাকবে!” 

গড়াইদিদিমা। কে গড়াইদিদিমা? রুটির পিছন পিছন ছুটি যখন পাঁচিল ডিঙিয়ে বড়বাড়ির সামনের রাস্তাটায় উঠল, তখন আর ছুটির মনে আর কোনো সন্দেহই রইল না। যে গড়াই কাকীমা ছুটিকে নিয়ে আজন্ম বাবা মায়ের কাছে নালিশ করে এসেছে, গতবার দোলের দিন ছুটি পাঁক ছুঁড়ছিল বলে যে গড়াই কাকীমা ছুটির এইসা কান মলে দিয়েছিল, যার ভয়ে ছুটি এক ছুটে ফ্ল্যাটবাড়ি থেকে গোলাপবাগান অবধি আসে, সেই গড়াই কাকীমাই কিনা রুটির গড়াইদিদিমা!

“অ রুটি!” ছুটি আবদার করে ডাকে। “আমি যাব না গড়াই কাকীমার বাড়ি। গড়াই কাকীমা বড্ড নালিশ করে বাবা মায়ের কাছে।”

“গড়াই কাকীমাটা আবার কে? আমরা তো গড়াইদিদিমার বাড়ি যাচ্ছি।” আর সত্যিই, ছুটি আর কিছু বলে উঠবার আগেই রুটি রাস্তায় উঠে পড়ে বড়বাড়ির দিকে, গড়াই কাকীমার বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে বাঁক নিল!

“অ রুটি। এদিকে তো বড়বাড়ি। বড়বাড়ির ওপারে কিন্তু আমার যাওয়া বারণ।”

রুটি চলছিল পাঁচিলের গা বরাবর, কখনও নীচু গাছের ডালে কখনো পাঁচিল বরাবর লাফ দিতে দিতে। “বড়বাড়ি? তাই বলিস বুঝি তোরা? আমি তো ছোটবেলা থেকে গড়াইদিদিমার বাগানবাড়ি বলেই শুনে এসেছি। ওই দ্যাখ, এসেও গেছি।”

ছুটি ভারী অবাক হয়ে গেল। সত্যিই তারা বড়বাড়ির পিছনের ফটক অব্ধি এসে পড়েছে। জীবনের এত্তগুলো বছর কাটিয়ে ফেলল সে, আজ অবধি কোনোদিন না বড়বাড়ির ভিতর কাউকে থাকতে দেখেছে না শুনেছে! ছুটির মা তো গল্প করে বলে মা যখন নাকি ছোট্ট ছিল তখনও নাকি বড়বাড়িতে কেউ থাকত না। তাইলে এই গড়াইদিদিমাটা কে?  আর এই ভাঙা বাড়িতে সে থাকেই বা কেমন করে?

ছুটির ভাবনাচিন্তা ভুল নয় মোটেও। পাড়ার লোকে যাকে বড়বাড়ি বলে ডাকে, সেখানা দেখলে নিতান্ত মানুষ থাকে বলে মনে হয় না। ভাঙা পাঁচিল উপচে লতাগাছ রাস্তায় এসে পড়েছে, ভিতরে ইয়া লম্বা লম্বা ঘাস, তার মধ্যিখানে ছোট ছোট রঙবেরঙের ঘাসফুল ফুটেছে। বেশ একখানা বুনো জঙলি চৌকোণা বাগানের মাঝখানে দুতলা বাড়িটার অবস্থাও ভালো নয়। অর্ধেক জানলার পাল্লা নেই, রঙচটা দেওয়ালে দেওয়াল কম, নোনা শ্যাওলা আগাছা বেশি। ছাদ ক জায়গায় ভেঙে পড়েছে, দু এক জায়গায় তো শিকড় বাগিয়ে আস্ত গাছও উঠে গেছে। 

আর বাড়িটার খুব একটা সুনামও নেই। ছেলেপিলেরা ভিতরে বল পড়লে দিন দুপুরেও সহজে ঢুকতে চায় না। পাঁচিলের ধারের নয়নতারা ঝোপগুলো থেকে বিলাসমেসো আর রাঙামাসি সকালবেলা রামনাম জপতে জপতে আঁকশি দিয়ে ফুল পাড়ে বটে, কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভিতরে যায় না। দু একবার প্রোমোটারের নজরেও পড়েছে বাড়িটা, কিন্তু কেন জানে প্রোমোটারও বেশিদিন টেকেনি কখনো। 

তোমাদের চুপি চুপি একটা সত্যি কথা বলি? বড়বাড়িতে ঢুকতে ছুটির যে একদম ভয় করছিল না, তা নয়। কিন্তু গড়াই দিদিমার সঙ্গে দেখা না হলে তো ছোটো হবার উপায় পাওয়া যাবে না। আর ছোট হবার উপায় না পেলে কাঠপরীদের দেখা পাওয়া যাবে কীকরে?

কাজেই বুক ঠুকে ছুটি সবে পাঁচিলে উঠতে যাবে, এমন সময় রুটি হাঁ হাঁ করে উঠল, “আরে আরে করিস কী? ও’রম করে দিদিমার কাছে যেতে হয়?”

“মানে?” ছুটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।

“দিদিমার সঙ্গে দেখা করতে গেলে উল্টোমুখ করে পাঁচিল টপকাতে হবে তো।”

দেখ কেমন আবদার! উল্টোমুখ করে পাঁচিলে ওঠা কি অত সহজ? উঠতে গিয়ে কনুইয়ের নুনছাল একটুখানি ঘষা খেয়ে উঠে গেল ছুটির। আচ্ছা ঠিকাছে, কাঠপরী দেখবার জন্য নাহয় একটু কষ্ট করলই।

কষ্টেসৃষ্টে উলটো হয়ে পাঁচিল টপকে ঘুরে ছুটি কিন্তু ভারী অবাক হয়ে গেল। কোথায় গেল সেই আগাছা ঝোপজঙ্গল ভাঙা বাড়ি! বেশ ঝকঝকে নিকানো তকতকে উঠোন, উঠোনের ওপারে সারি দিয়ে বসানো চারাগাছ, এপারে বেশ রাজবাড়ির মতো সুন্দর লাল রঙের দোতলা বাড়িখানা, তার ফিকে হলুদ রঙের খড়খড়ি দেওয়া জানলা সব। আর বাড়ির দরজার সামনে একটা বিশাল ইজিচেয়ারে বসে তাদের দিকে কটমট করে চেয়ে রয়েছে…বড়সড় একটা ছাইছাই রঙের মোটাসোটা হুমদো মতো বিড়াল!

রুটিও উলটো হয়ে পাঁচিল টপকে ফেলেছিল। এইবারে সে একেবারে সাষ্টাঙ্গে গড় হয়ে বলল, “পেন্নাম হই দাদাঠাকুর। দিদিমার সঙ্গে দেখা করা যাবে?”

দাদাঠাকুর একবার কটমট করে রুটিকে দেখল, তারপর কান নেড়ে ছুটিকে দেখল, তারপর লেজ নাড়িয়ে এক লাফে চেয়ার থেকে নেমে বাড়ির ভিতর ঢুকে গেল। খানিকক্ষণ পর আরেকখানা ঘিয়ে সাদা ছোপছোপ বেড়াল দরজা দিয়ে উঁকি মেরে কটমট করে ওদের দিকে দেখল। রুটি আবার হাত জোড় করে পেন্নাম করল, “পেন্নাম হই গোলাপসুন্দরী।” গোলাপসুন্দরী তাতে কীরকম একটা গালের পাশ দিয়ে ফিচিক করে হেসে কান নেড়ে আবার ভিতরে ঢুকে গেল ।

কান নেড়ে গোলাপসুন্দরী তাদের ভিতরে যেতে বলল কি? ছুটি রুটি মুখ চাওয়াচাওয়ি করে তার পিছন পিছন দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ল। গোলাপসুন্দরী এইঘর ওইঘর হয়ে সিঁড়ি বেয়ে সোজা দোতলায় উঠতে লাগল। ছুটি রুটিও পিছন পিছন গেল, ছুটি হাঁ করে ঘরের সব জিনিসপত্তর দেখতে দেখতে। সব ঘর আলমারি, দেরাজ, টেবিল, খাট পালঙ্কে ঠাসা। একটুখানি সরু চলবার রাস্তা ছাড়া আর কোনো ফাঁকই নেই। এমনকি সিঁড়িটাও ছাড় পায়নি, তারও দুধারে স্তূপ করে বই, কাগজপত্র কত কী রাখা! ছুটি তার ঘরখানা এরকম করে রাখলে মায়ের কাছে কি বকাই না খেতে হত! 

দোতলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠে গোলাপসুন্দরী সোজা ডানদিকে বেঁকে ঢুকে গেল। সিঁড়ির পরেই আরো একটা বিশাল বাসনকোসনে ঠাসা ঘর, তার পাশেরটাই বোধহয় রান্নাঘর। গোলাপসুন্দরীর পিছন পিছন উঁকি মেরে ছুটি রুটি দেখল রান্নাঘরের মেঝেতে মাটিতে তাদের দিকে পাশ ফিরে বসে এক ইয়া দশাসই চেহারার মহিলা একটা বিশাল পিতলের কাঁসিতে মুড়ি মাখছে। আর দশাসই মহিলার পিছনে টেবিলের কোণায় বসে জুলুজুলু চোখে মুড়িমাখার দিকে তাকিয়ে রয়েছে দাদাঠাকুর।

ওই নির্ঘাত দিদিমা, ছুটি মনে মনে ভাবল। গোলাপসুন্দরীও সোজা গিয়ে ম্যাঁওম্যাঁও করতে করতে মহিলার কোলে উঠে বসল।

“গড়াইদিদিমা” রুটি আবার পেন্নাম হল। “ম্যাঁও” টেবিলে বসে বসে দাদাঠাকুর গম্ভীর গলায় ফ্যাঁস করে উঠল।

গড়াইদিমা কোল থেকে গোলাপসুন্দরীকে নামিয়ে বাঁ হাত দিয়ে দাদাঠাকুরের গালে একটা আলতো থাবড়া মারল। “কেউ তোর মুড়ির ভাগ নিতে আসেনি রে দেঠো। অমন করে বকতে আছে?”

দেঠো ওরফে দাদাঠাকুর তাতে আশ্বস্ত হল কিনা কে জানে। কিন্তু ছুটি রুটির দিকে মুখ ফিরিয়ে একবার ফ্যাঁচ করে মুখ ভেঙচেই চুপ করে গেল, আর কিছু বলল না।

দিদিমা পান চিবুতে চিবুতে টেবিলের কোণা ধরে ধরে উঠতে উঠতে বলল, “অ্যাই কে এসেছিস র‍্যা?” টেবিল তাইতে এমন মটমট করে উঠল যে দাদাঠাকুর টপাৎ করে এক লাফ দিয়ে নেমে পড়ল। ছুটি ভাবল টেবিলটা এইবার ভেঙেই যাবে বোধহয়। 

“দিদিমা আমি রুটি গো” চটপট করে বলল রুটি। 

“অ।” দিদিমা খানিক থমকে দুজনকে এক ঝলক দেখে নিয়ে বলল, “রুটি। আচ্ছা বেশ বেশ। তা কি চাই এখেনে?”

ছুটি হাঁ করে দিদিমাকে দেখছিল এতক্ষণ। কেমন বিশাল চেহারা, দেখলে একটু ভয় ভয়ই লাগে যেন। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, বাঁকানো নাক, পান খাওয়া লাল ঠোঁট, কলপ করা চুল। বয়স কত দেখে কিছুতেই বোঝবার উপায় নেই।

“আজ্ঞে দিদিমা আমার এই বন্ধুটির খুব কাঠপরী দেখবার শখ। এই কাল রাত্তিরেই তো পূর্ণিমা। মতিদিঘিতে সবাই মিলে নাচতে আসবে কাল রাত্তিরে। তার আগে ওকে একটু সাইজে ছোট হবার ব্যবস্থা করে দিতে পার?”

“কে? এই খুকিটি?” দিদিমা চশমার উপর দিয়ে একবার ভালো করে ছুটিকে দেখে নিল। “কি মিট্টি গো তুমি। তা কত ছোট করতে হবে? একটু ধুলোপড়া করে দিই, তাইলে আর চোখেই দেখা যাবে না” বলে দিদিমা শাড়ির আঁচলে কীসব খুঁজতে লাগল।

“না না দিদিমা।” রুটি তড়িঘড়ি করে বলল, “অত ছোটও করতে হবে না। এই ধরো আমার সমান করে দিলেই হবে!”

“তোর সমান?” দিদিমা রান্নাঘরের কলতলায় গিয়ে পুচুক করে পানের পিক ফেলে এসে বলল, “চোখে দেখার মতো ছোট করার ওষুধ আমার শেষ হয়ে গেছে বাপু। কেউ চায় না। সবাই একেবারে না দেখবার মতো ছোট হতে চায়। নইলে ডিংডিংদের সার্কাসে ঢুকবে কীকরে?” তারপর আপনমনে খানিক কী ভেবে বলল, “আচ্ছা নাহয় খানিক কথা বলা অমলতাসের ফুল এনে দে। তাইলে কালকে সকালের মধ্যে বানিয়ে দেব।”

ছুটি সবে জিজ্ঞেস করতে যাবে কথা বলা অমলতাস কোথায় পাওয়া যাবে, আর ডিংডিংরাই বা কারা আর তাদের সার্কাস দেখতেই বা সবাই কেন ঢুকতে চাইছে, তার আগেই দেখে রুটি গড় করে টুপ করে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে ছুট লাগিয়েছে। অগত্যা ছুটিই বা কী করে।

“থ্যাঙ্কিউ দিদিমা, আসছিইই” বলতে বলতে ছুটিও রুটির পিছনে ছুট লাগায়।

সিঁড়ি দিয়ে ধপ ধপ করে রাস্তায় নেমে গেল ছুটি। উপর থেকে দিদিমা তখনো ওদের উদ্দেশ্যে বলছে, “আরে আরে বাপু এত কষ্ট করে রোদ্দুরে এয়েচিস, একটু মুড়ি খেয়ে যাবিনে?”

…চলবে

অলংকরণ – স্নেহা বিশ্বাস

ছুটি-রুটি (প্রথম পর্ব) পড়তে ক্লিক করুন। 

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *