প্রতিরোধের স্পর্ধা

১৩ই জুন, ১৯৩৬ সালে নাৎসি জার্মানিতে একটি শ্রমিক সমাবেশে এই ছবিটি তোলা হয়। নাৎসি বাহিনীর জন্য একটি নতুন জাহাজ নির্মাণ প্রসঙ্গে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল। ছবিতে হাজার হাজার মানুষের নাৎসি স্যালুটের মাঝখানে একমাত্র একজন ব্যক্তিই স্যালুট করছেন না। তথ্যানুসন্ধান করে দেখা গেছে, এই ব্যক্তি অগাস্ট ল্যান্ডমেসের, যিনি জাহাজের ডকের একজন জার্মান শ্রমিক ছিলেন। ১৯৩৫ সাল অবধি ল্যান্ডমেসের নাৎসি পার্টির সদস্য ছিলেন, কিন্তু এক ইহুদী মহিলা ইরমা একলারের প্রেমে পড়ে তিনি সদস্যপদ ত্যাগ করেন। ১৯৩৫-এর কুখ্যাত ন্যুরেমবার্গ আইন অনুসারে ল্যান্ডমেসের এবং ইরমা বিয়ে করতে না পারলেও তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন, এবং তাঁদের একটি মেয়ে হয়। দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ইরমা এবং ল্যান্ডমেসের জার্মানি ছেড়ে পালাতে চেষ্টা করেন এবং গেস্টাপোবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। এই সম্পর্কের কারণে “র‍্যাসেনশ্যান্ডে” বা জাতির প্রতি অসম্মানের অপরাধে ল্যান্ডমেসেরের জেল হয়, এবং তাঁর ইহুদী প্রেমিকাকে নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরে ল্যান্ডমেসেরকে জার্মান সামরিকবাহিনীতে নথিভুক্ত করা হয়, যুদ্ধে তিনি মারা যান, ইরমার কোনও খবর পাওয়া যায়নি, ইরমা তাঁর ম্যাকে ১৯৪২ সালে শেষ চিঠি লিখেছিলেন। নাৎসি জার্মানিতে এক জনসমাবেশে সর্বসমক্ষে ল্যান্ডমেসের নাৎসি স্যালুট জানাতে প্রত্যাখ্যান করেন, প্রত্যাখ্যান করেন ফ্যাসিবাদী আস্ফালন। এই ছবি সারা পৃথিবীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। প্রেম যে আসলে রাজনৈতিকও বটে, প্রেম যে আসলে বিপ্লবের বীজ বহন করতে সক্ষম, সক্ষম প্রতিরোধের স্পর্ধা গড়ে তুলতে, ল্যান্ডমেসের আর ইরমা আরও একবার তা প্রমাণ করেন। আর তাই, জুন মাসে, প্রেম আর প্রতিরোধের উত্তরাধিকার বহন করে চলার মাসে আবারও আমরা ল্যান্ডমেসের আর ইরমার প্রেমকে অভিবাদন জানাই। 

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *