সম্পাদকীয়, জুন ২০২১

১৩ই জুন চার মাস টানা অসুস্থ থাকার পর সিপিআইএমএল রেডস্টার-এর পলিটব্যুরো সদস্য এবং বাংলার বিভিন্ন গণআন্দোলনের সাথি/কর্মী কমরেড শর্মিষ্ঠা চৌধুরী মারা যান। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দমন নীতি এবং আগ্রাসন, জমি অধিগ্রহণ এবং উচ্ছেদ সংক্রান্ত আন্দোলনের সাথে সাথে তিনি ছিলেন বাংলায় ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনেরও চেনা মুখ। তিনি নিয়মিত নারীবাদী সমস্যাগুলি নিয়ে লিখতেন, এবং তৃণমূল সরকারের থেকে ইউএপিএ-র দ্বারা অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন। তার মৃত্যুতে বামা পত্রিকার প্রত্যেক সদস্য শোকাহত এবং তার উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে চলার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।     

পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেই উত্তরাধিকার শব্দটি এক আলাদা মাত্রা পায়। কিসের উত্তরাধিকার এবং কে সেই উত্তরাধিকারী, এই গতিশীলতায় উৎপন্ন হয় নতুন ভাবনার, নতুন চিন্তার। বিসমকামী পারিবারিক প্রথায় যৌতুক যেমন শোষকের নির্লজ্জ দাবী, নারীর বৈষয়িক উত্তরাধিকার হয়ত তেমনই শোষণমুক্ত হতে পারার এবং শিকল ছিঁড়ে বেরোতে পারার সম্ভাবনা। আর তাই, সেই সম্ভাবনাকে গুঁড়িয়ে দিতে, অপরের সম্পদে নিজের অধিকার কায়েম রাখতে, অপরকে নিজের সম্পদে পরিণত করতে অত্যাচারী মানুষেরা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দমন, নিয়ন্ত্রণ, বঞ্চনা ইত্যাদির আশ্রয় নেয়। কিন্তু এই উত্তরাধিকার যদি বিমূর্ত হয় অথবা হয় কোন ইতিহাসের পাঠ, তখনও কি শোষক এর ভাগ চাইবে, না কী চেষ্টা করবে সেইসব বিমূর্ত সম্ভাবনাগুলিকেই সমূলে বিনাশ করতে? উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দ্রোহ তো শোষকের বিপক্ষেই যায় আর সেকারণেই হয়ত প্রান্তিক যাপনের উত্তরাধিকার কেন্দ্রে অবস্থিত ক্ষমতাসীন মানুষদের ভিত নাড়িয়ে দেয়। তেমনই এক উত্তরাধিকারের সময় এই জুন মাস।

২২ মার্চ ১৪ ঘণ্টার জন্য দেশের মানুষের ওপর ‘স্বেচ্ছাধীন জনতা কার্ফিউ’ চাপিয়ে দেবার পর ২৪ মার্চ ২০২০ ভারত সরকার সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করে। এক লহমায় অলীক উন্নতির পানে ধেয়ে চলা দেশ থমকে যায়, থেমে যায় এবং দেশভর্তি মানুষ নিজ নিজ ঘরে আটকা পড়ে। সেই রেশ এখনও চলছে। পরপর দুটো জুন মাস আমরা গৃহবন্দী, অসুস্থ এবং বিপন্ন। এরকম সময়ে আমরা আমাদের সমকাল থেকে দূরত্ব বজায় রাখি কিভাবে? দূরত্ব থাকবেই বা কেন?

গত সংখ্যায় আমরা চেষ্টা করেছি এই পত্রিকার ছোট পরিসরে যতটা সম্ভব লকডাউন এবং তার থেকে উদ্ভূত সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে। লকডাউন যদিও বা হালকা হবার/শেষ হবার সম্ভাবনা দেখা যায়, সেটার থেকে উঠে আসা সামাজিক সমস্যাগুলো শেষ হবার কোন লক্ষণই মেলে না। এদিকে কোন আলোচনাই যেমন সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রেখে করা সম্ভব হয় না তেমনই সার্বিক আলোচনার লক্ষ্যে কিছু বিষয়ের আলোচনা মূলধারার সন্দর্ভে নিয়ে আসা আবশ্যিক। তাই বামপন্থী নারীবাদী অবস্থান থেকে প্রেমের যাপন, যৌনতার অধিকার এবং ভালোবাসার উচ্চারণ নিয়েও ভাবতে হয়। 

জুন মাস আমাদের মনে করায় যে এই যৎসামান্য চাহিদার উল্লেখই, যা আমাদের বুনিয়াদী চাহিদাও বটে, কতটা নির্মম করে তুলতে পারে ক্ষমতাসীন প্রতিষ্ঠানকে। ভারতবর্ষে প্রেমের পারিবারিক তথা সামাজিক শাস্তি স্বরূপ অনার কিলিং বিরল ঘটনা নয়। ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ভালোবাসার হিন্দু-সামাজিক সংজ্ঞা হিসেবে ‘লাভ জেহাদ’ শব্দবন্ধটি গত সাত-আট বছরে মূলধারার রেটোরিকে পরিণত হয়েছে। এবং আদালতের কাছে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ধর্ষিতার সঙ্গে বিবাহ প্রস্তাব আমাদের সামাজিক বাস্তব। এরকম একটা দেশ-কালে দাঁড়িয়ে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে সমকামী, নন-বাইনারি, একলা থাকা, ট্রান্সজেন্ডার মানুষেরা যে তাদের ন্যূনতম চাহিদাগুলোও মেটাতে পারবেন না তা হয়ত বলে দিতে হয় না। ঘরই যেখানে ভীতিপ্রদ হয়ে ওঠে, রাষ্ট্র যেখানে স্বাধীন মানুষের অধিকারের মর্যাদা দেয় না সেখানে ঘরবন্দি প্রান্তিক মানুষদের অবস্থা খারাপ বৈ ভালো হতে পারে না। আর তাই দরকার পড়ে এই বিসমকামী ঘর, সংসার, পরিবার, বিয়ে, প্রেম ইত্যাদিকে নতুন করে ভাবার। মনে রাখার দরকার হয় যে জুন মাস প্রান্তিকতা উদযাপনের মাস, তাই এটা দ্রোহের মাসও বটে। ১৯৬৯ সালের ২৮ জুন নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশের স্টোনওয়াল ইন আক্রমণ এবং সেখান থেকে উদ্ভূত সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের সাক্ষী এই মাস। আজকের সমস্ত লিঙ্গ/যৌন প্রান্তিকতায় অবস্থিত মানুষ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন এই স্টোনওয়াল রেবেলিয়নের শিক্ষা; তাই জুন মাস ‘প্রাইড মাস’। আর প্রান্তিকতার সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই এই সব উত্তরাধিকারগুলি তুলে ধরার প্রাসঙ্গিকতাও বাড়ে।

১৮৬৫ সালের ১৯ জুন, অর্থাৎ আমেরিকান কালো মানুষদের দাসত্ব থেকে মুক্ত হবার দিনকে মনে রেখে প্রতিবছর ১৯ জুন আমেরিকার কালো মানুষেরা জুনটিনথ পালন করেন। দাসপ্রথা মুক্ত সমাজে এই ইতিহাস মনে রাখা মানে নিজের শিকড়কে মনে রাখা, সঙ্গে এও মনে রাখা যে আজকের অর্জন বহু অন্যায় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফসল। ২৮৮ দিন অনশনের পর মৃত্যু বরণ করে নেওয়া তুরস্কের গ্রুপ ইয়োরামের সদস্য হেলিন বুলেক এই মাসে জন্মগ্রহণ করেন। বাণিজ্যকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বিপ্রতীপে হেলিন বুলেক এবং তার বন্ধু সদস্যদের কাজ ও বলীদান আমাদের সাংস্কৃতিক তৃতীয় পরিসরের দাবী সোচ্চার করে। পৃথিবীতে সমতার আকাঙ্খায় নিজেকে সমাজবাদী হিসেবে গড়ে নেওয়া হেলেন কেলারের জন্ম জুন মাসে। সর্বদা শারীরিক সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া সমাজের উচ্ছিষ্ট করুণার বিরুদ্ধে হেলেনের রাজনৈতিক যাপন আমাদের মনুষ্যকেন্দ্রিক পৃথিবী ভাবনার সীমাবদ্ধতা এবং ত্রুটির সামনে এনে দাঁড় করায়। প্যালেস্টাইনের ওপর ইসরায়েলের সুদীর্ঘ আগ্রাসন যখন থেকে থেকে মাথা চাড়া দেয়, তখন জাত হিংসার ফলস্বরূপ ঐতিহাসিক কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নির্মম অত্যাচারের মধ্যেও স্বপ্ন দেখতে পারা আনা ফ্রাঙ্কের কথা মনে করায় জুন মাস। এই আশার ওপর ভিত্তি করেই হয়ত বিশ্বব্যাপী ইহুদী ধর্মাবলম্বী মানুষরা প্যালেস্টাইনের মুক্তির পক্ষে দাঁড়ায়। প্রান্তিকতা এবং আন্তর্জাতিকতার সন্ধিস্থলে কাল-দেশ, অতীত-বর্তমানের এক আদানপ্রদান হয়। তাই উপনিবেশিকতা, সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে চির অটুট চিত্তপ্রসাদের ছবি এই করোনাকালে খাদ্য এবং পুষ্টির অভাবে, শ্রমিকের সংগ্রামে আজও প্রাসঙ্গিক থাকে। 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতের ফলে আজ প্রতি ঘরে ঘরে হয় মৃত্যু শোক নাহয় মৃত্যুর ভীতি। এরই মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের চোরা সেক্সিজম, হোমোফোবিয়া, বর্ণবাদ, শারীরিক সক্ষমতার প্রতি পক্ষপাত ইত্যাদি প্রান্তিক মানুষদের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তোলে। স্বেচ্ছায় পরিবারের বাইরে অবস্থিত মানুষেরাও এর থেকে পার পায় না। পরিবার এবং সমাজের বাইরে অবস্থিত যৌনকর্মীরা, রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়ে যান। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশন (ILO)-এর ১৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র ‘ডোমেস্টিক ওয়ার্কারস কনভেনশন’ (১৮৯) এবং এর পরিপূরক সুপারিশ (২০১) গ্রহণ করার পক্ষে ভোট দেয়। রাষ্ট্র সদস্য হিসেবে ভারত-ও এই কনভেনশনের পক্ষে ভোট দেয়। তাই প্রতিবছর ১৬ জুন এই কনভেনশন বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে গৃহ শ্রমিক দিবস পালন করা হয়। কিন্তু এই লকডাউনের সময়ে গৃহ শ্রমিকেরাই সবার আগে কাজ হারান আর পরিযায়ী শ্রমিকরা হারান সম্মান এবং স্বগৃহে ফেরার অধিকার। তাই মে মাসের উত্তরাধিকার, যা শ্রমিকের সংগ্রামে অর্জিত, বছরের প্রতি মাসেই ধ্বনিত হয়। 

২১ মে মারা যান বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার এক অগ্রগামী চিন্তক এবং পথপ্রদর্শক সলিল বিশ্বাস। গত বছর থেকে টানা লকডাউন এবং স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার দরুন, বহু মেয়ে-পড়ুয়া স্কুলছুট হয়। অনলাইন শিক্ষার বাড়বাড়ন্তে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইড তৈরি হয় এবং এবং এসবের ফাঁকে কেন্দ্র সরকার ‘নিউ এডুকেশন পলিসি’-ও পাশ করিয়ে নেয়। পুঁজি কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ এবং শিক্ষাকে নেহাতই কতিপয় অর্থশালী মানুষদের কুক্ষিগত করে রাখার এই যে রাষ্ট্রীয় প্রয়াস, সেসবের সম্মুখীন হয়ে সলিল বিশ্বাসের উত্তরাধিকার আমাদের লড়াই জারি রাখার অনুপ্রেরণা যোগায়।         

সমকালের ইতিহাসের এরকম এড়ো পথে দাঁড়িয়ে এক এক সময়ে হয়ত মনে হয় যে কিছু সংগ্রামের শেষ নেই যেন। মহারাষ্ট্র পুলিশের এনকাউন্টারে ২১ মে ১৩ জন নকশালের দেহ মেলে গাড়চিরোলি জেলার এটাপল্লী জঙ্গল এলাকা থেকে। ছত্তিসগড়ের সিলগরে ১৭ মে সিআরপিএফ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত জনসাধারণের ওপর গুলা চালায় পুলিশ, তিনজন মানুষ তৎক্ষণাৎ মারা যান। এই নিয়ে দণ্ডকারণ্য এলাকা এবং গাড়চিরোলি উত্তপ্ত গত দুসপ্তাহের ওপর। ওদিকে তিন বছর আগে ভীমা-কোরেগাঁও সাজানো মামলায় অভিযুক্তদের ধরপাকড় শুরু হয়েছিল। তিন বছর পেরিয়েও অভিযুক্ত রাজবন্দীরা এখনো জেলে এবং তাঁদের মৌলিক অধিকার রক্ষার দাবীতে সুধীর ধাওয়ালে, মহেশ রাউত, সোমা সেন, সুরেন্দ্র গাডলিং, রোনা জ্যাকব উইলসন, ভারভারা রাও, সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেরেরা, গৌতম নভলাখা, ভার্নন গনজালভেস, সাগর গোর্খে, রমেশ গাইচোর, জ্যোতি জগতাপ, আনন্দ তেলতুম্বডে, হ্যানিবাবু তারাঈল, স্ট্যান স্বামী সহ সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবী অবিরত চলতে থাকে। শাসকযন্ত্রের দমন যেহেতু প্রাত্যহিক সেহেতু দৈনন্দিন চলতে থাকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনও। রাষ্ট্র সবসময়েই জনসাধারণের মধ্যে তফাৎ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বুর্জোয়া সমাজের দাবী রাষ্ট্র আপস-আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে চায় কিন্তু আদিবাসী মানুষদের অধিকার রক্ষার লড়াই সবসময় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সম্মুখীন হয়। আর এইসব সহি আর নৈতিক দাবীর পাশে থাকা মানুষদের ঠাঁই হয় কারাগারে, রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে। 

এহেন সমকালের সংগ্রামও তার অনুপ্রেরণা খুঁজে পায় অতীতের বিপ্লবের ইতিহাসে। ১৯৮৯ সালের জুন মাসে চীনের তিয়েনানমেন স্কয়ারে হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। দেশজুড়ে চলে ধরপাকড় এবং ক্র্যাকডাউন। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের যেমন ঘৃন্য প্রদর্শন এই তিয়েনানমেন স্কয়ার গনহত্যা তেমনই উদ্দীপক সেখানে জড়ো হওয়া মানুষদের প্রত্যয়। ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল হুল বিদ্রোহ শুরু হয় জুন মাসে। সাম্রাজ্যবাদ, বাণিজ্যের লোভে আগ্রাসন, সামন্ততন্ত্রের ধ্বজাধারী ‘দিকু’ বা উচ্চবর্ণ জমিদারদের বিরুদ্ধে আধুনিক অস্ত্রের মোকাবিলায় তীর-ধনুক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন আদিবাসী মানুষেরা। সাঁওতাল বিদ্রোহের উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে আজও নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জল-জমি-জঙ্গলের আদি-দাবিদার মানুষেরা। তাই ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস, শুধুই বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ বান্ধব সমাজের জন্য কোন প্রতীকী দিন হিসেবে আটকে না থেকে হয়ে ওঠে সার্বিক প্রান্তিকতার উদযাপনের এমন এক দিন যেখানে আদিবাসী ইতিহাস, পিতৃতান্ত্রিক ও ধনতান্ত্রিক মনুষ্যকেন্দ্রিকতার সীমাবদ্ধতা এবং নারীবাদী সন্দর্ভগুলো মিলেমিশে যায়। 

আর এখানেই উত্তরাধিকার আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মাঝখানের সাঁকো হয়ে দাঁড়ায়। ঘরে আটকে পড়া প্রান্তিক মানুষ এবং ঘরের বাইরে আটকে পড়া শ্রমিক, অসুস্থতার দিনযাপন এবং সমষ্টিগত প্রতিরোধ, এই সবের মাঝখানে যখন আমাদের সমকাল এবং অতীতের সমস্ত অর্জন যখন ভাঙতে বসে তখন সেই অর্জনের প্রক্রিয়া, আমাদের উত্তরাধিকার, নতুন দিনের আশা জাগায়; লড়াই জারি রাখার সাহস দেয়। 

প্রান্তিকতার গুরুত্ব বুঝে যেকোন নারীবাদী মানুষের কাছে দ্রোহ এবং অর্জনের উত্তরাধিকার আনন্দের জিনিস, উদযাপনের বিষয়। তাই নস্টালজিয়া, স্মৃতিরোমন্থন ইত্যাদি বিলাসিতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে সেগুলোকে নারীবাদী আলোচনার পরিসরে নিয়ে আসার চেষ্টায় বামা পত্রিকার চতুর্থ সংখ্যা। 

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *