মূর্তি ভাঙা, মূর্তি গড়া – ইতিহাসের উত্তরাধিকার

“মূর্তি ভাঙার লড়াই আসলে দুই মূর্তির লড়াই এবং দুই মূর্তির লড়াই আসলে দুই রাজনীতির লড়াই, দুই লাইনের লড়াই, দুই শ্রেণীর লড়াই। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্থান এখানে নেই।”1 

ঐতিহাসিক ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবারো দানা বাঁধে, ছড়িয়ে পড়ে উত্তর আমেরিকার কেন্দ্র থেকে সারা বিশ্বে। গত বছর জুন মাসে ব্রিস্টলে আন্দোলনকারীরা ক্রীতদাস-ব্যবসায়ী শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী এডওয়ার্ড কোলস্টনের মূর্তি ভেঙে জলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, এবং এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে ইতিহাস রক্ষা, ইতিহাস মুছে দেওয়া সংক্রান্ত অজস্র বক্তব্য।

আশ্চর্যের বিষয়, ইতিহাস মুছে দেওয়ার অভিযোগ হুহু করে জনপ্রিয় হয়, সবকটি মিডিয়ায় তুলে ধরা হয় ইতিহাস মুছে দেওয়ার, ইতিহাসকে ‘অপবিত্র’ করে দেওয়ার এই ছবি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, আন্দোলনকারীরা এবার “থাগারি” বা গুণ্ডামো করছে – ঘটনাচক্রে থাগারি কথাটিই আসলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত, এসেছে ঠগী থেকে। যে ব্রিটিশ জাত্যাভিমান এই আন্দোলনকে থাগারি বলে, সে ভুলে যায় তার নিজের ভাষায় আজও আধিপত্য বিস্তারের সুস্পষ্ট প্রভাব। একইসাথে, যেহেতু বর্ণ আর জাতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শ্রেণীস্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থ, তাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারি প্রীতি পটেলও এ প্রসঙ্গে বলেন, কোলস্টনের মূর্তি ভাঙা ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি। অথচ, প্রশ্ন ওঠে না, কোন ইতিহাস মোছার কথা বলা হচ্ছে? প্রশ্ন ওঠে না, এই ইতিহাস আসলে কার ইতিহাস, কাদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার ফলে তবেই এই ইতিহাসের নির্মাণ। 

কোলস্টন রয়াল আফ্রিকা কোম্পানির একজন মুখ্য আধিকারিক ছিলেন, যিনি সরাসরি ক্রীতদাস বেচাকেনার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রায় ৮৪০০০ ক্রীতদাসকে আফ্রিকা থেকে আমদানি করেন; আটলান্টিক মহাসাগরে জাহাজের মধ্যেই নির্যাতনে, অনাহারে মৃত্যু হয় যার মধ্যে প্রায় ১৯,০০০-এর।2 অথচ ইতিহাসে কোলস্টনের পরিচয় শুধুই একজন লোকহিতৈষী সমাজসেবী হিসাবে, যিনি প্রচুর দানধ্যান করেছেন। হাজারে হাজারে ক্রীতদাসকে তাদের জমি, বাড়ি, জীবন, জীবিকা থেকে উৎখাত করে একদিকে তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের দেশে আধিপত্য বিস্তার করা, অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গ শাসকের স্বার্থে, অধিগৃহীত বিভিন্ন দেশে এই ক্রীতদাসদের বিনামূল্যে শ্রমে বাধ্য করার ইতিহাস এখনো বেশিরভাগ বইয়ের পাতায় নেই। মনে পড়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, এই ইতিহাস মুছে দেওয়ার হাহাকারে আসলে কোন ইতিহাস মুছে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে! কারণ, যে ইতিহাস শুরুই হয় কলম্বাসের ‘আমেরিকা আবিষ্কার’ দিয়ে, যে ইতিহাস কলম্বাসের হাত ধরে আমেরিকা অধিগ্রহণের কথা বলে না, বলে না নির্মমভাবে আমেরিকার মূলনিবাসী মানুষকে ‘শিকার’ করার কাহিনী, সে ইতিহাস আসলে লেখাই হয়েছে মানুষের ইতিহাস মুছে দিয়ে।

ব্রিস্টলে কোলস্টনের মূর্তির ফলক।
ব্রিস্টলে কোলস্টনের মূর্তির ফলকের উপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে লাগানো কার্ডবোর্ডের নতুন ফলক।

অন্যদিকে অনেক গবেষক, অধ্যাপক, ঐতিহাসিক বলেছেন, এইভাবে ভাঙা আর বিস্থাপনের মাধ্যমে ইতিহাস বদলানো যায় না, বরং, এইসমস্ত মূর্তিকে সংরক্ষণ করে, তাদের ইতিহাস আরও বেশি করে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের “ক্রীতদাসপ্রথা” বিভাগের অলিভেট ওটেল বলেছেন, কোলস্টন ব্রিস্টলের ইতিহাসের ঐতিহ্যশালী অংশ; এইভাবে মূর্তি ভাঙা তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না কারণ আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া সবাই একে অপরের সাথে ঐতিহাসিকভাবেই যুক্ত।3 প্রশ্ন ওঠে, ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত ঠিকই, কিন্তু কীভাবে – কি ধরনের সম্পর্কে যুক্ত ছিল আফ্রিকা আর ইউরোপ? একজন ক্রীতদাস আর একজন ক্রীতদাস ব্যবসায়ীর ঠিক কী সম্পর্ক ইতিহাসের আঙিনায়? ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপ আর আফ্রিকা সেভাবেই যুক্ত, যেভাবে যুক্ত কোলস্টনের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা – ইতিহাস সাক্ষী, তাদের মধ্যে সম্পর্ক শোষকের সঙ্গে শোষিতের।

রাণী ভিক্টোরিয়ার আমলে সারা ইংল্যান্ড জুড়ে শুরু হয় মূর্তি গড়ার কাজ, যাতে দেশের মানুষের মনে নতুন করে ব্রিটিশ জাত্যাভিমান জেগে ওঠে। এই মূর্তিগুলি মূলত শ্বেতাঙ্গ, ধনী পুরুষদের মূর্তি ছিল, এবং এযুগে বেশিরভাগ মানুষেরই বিত্ত এবং প্রতিপত্তি দু’য়েরই উৎস ছিল ক্রীতদাস বেচা-কেনার ব্যবসা। ব্রিস্টলের ভূমিপুত্র কোলস্টনের মূর্তিও এই সময়েই স্থাপিত হয়। মূর্তিতে লেখা আছে কোলস্টন ছিলেন একজন বণিক, লেখা আছে এক ডলফিনের কথা যে কোলস্টনের ভেঙে যাওয়া জাহাজ বাঁচিয়েছিল, লেখা আছে, ব্রিস্টল শহরের মানুষেরা এমন একজন প্রাজ্ঞ এবং সৎ মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই মূর্তি নির্মাণ করেছেন। লেখা নেই, যে জাহাজ এই ডলফিনের অত্যাশ্চর্য সাহায্যে বেঁচে ফিরেছিল, সেই জাহাজের খোলের ভিতরে গাদাগাদি করে কতজন ক্রীতদাসকে পুরে দেওয়া হয়েছিল, লেখা নেই কাদের হাতে পায়ে বেড়ি দিয়ে বাধ্য করা হয়েছিল সেই জাহাজের বৈঠা বাইতে, লেখা নেই মানুষ বেচে ঠিক কত লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছিলেন কোলস্টন। যে ইতিহাস সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে অন্য ইতিহাস মুছে লেখা ইতিহাস। মানুষের রক্ত-ঘাম, শ্রম, মৃত্যুর বিরুদ্ধ ইতিহাস, মানুষের লড়াই, মানুষের বিদ্রোহ ভুলিয়ে দেওয়ার ইতিহাস। 

লন্ডনে চার্চিলের মূর্তিতে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ।

মার্কসীয় তাত্ত্বিক এরিক হবসবম বলেছিলেন, ঐতিহ্য আসলে সুচতুরভাবে, সুকৌশলে নির্মাণ করা হয়, শাসকের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে।4 ১৮৯৫ সালে কোলস্টনের মারা যাওয়ার প্রায় ১৭০ বছর পড়ে হঠাৎ করে কেন নির্মাণ করা হয় কোলস্টনের মূর্তি? ভিক্টোরীয় যুগে শিল্পবিপ্লবের সাথে সাথে বাড়ে শ্রেণীদ্বন্দ্ব এবং শ্রেণীসঙ্ঘর্ষ। সারা দেশে ক্রমশ বাড়তে থাকা এই শ্রেণী-অসন্তোষ বশে আনতে ঠিক হয় তৈরি হবে বিভিন্ন ব্রিটিশ ভূমিপুত্রের মূর্তি, যাতে মানুষের মনে আবারো জাগিয়ে তোলা যায় জাত্যাভিমান। জমিদার, ধনী ব্যবসায়ীরা কীভাবে আদ্যন্ত মানবকল্যাণের কাজে নিজেদের নিযুক্ত করেছেন, তার ছবি তুলে ধরা হয় অসংখ্য মূর্তির মাধ্যমে। প্রসঙ্গত, ঠিক এই সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একইভাবে চলছিল কনফেডারেট সরকারের নির্দেশে শ্বেতাঙ্গ প্রতিভূদের মূর্তি স্থাপন, এবং এর ঠিক পরেই সেখানে কৃষ্ণাঙ্গবিদ্বেষী ‘জিম ক্রো’ আইন লাগু করা হয়।5 মূর্তি ভাঙার প্রশ্নে যে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা আসলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত দৃঢ় করার ঐতিহ্য, শ্রেণীস্বার্থ কায়েম রাখার ইতিহাস। ঠিক একইভাবে আন্দোলনকারীদের একাংশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মূর্তি বিস্থাপিত করতে চাইলে, বা মূর্তির উপরে “চার্চিল ওয়াজ আ রেসিস্ট” – “চার্চিল একজন বর্ণবিদ্বেষী” লিখে দিলে নড়ে বসে ব্রিটিশ সরকার। কর্তৃপক্ষ বারবার স্মরণ করায় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যরক্ষার ক্ষেত্রে চার্চিলের অপরিসীম অবদান। অথচ, বাংলার ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষে চার্চিলের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা বলা হয়না; বলা হয়না, দুর্ভিক্ষ প্রসঙ্গে চার্চিল প্রশ্ন করেছিলেন, যে ভারতীয়রা দু’দিন পরে আমাদের তাড়িয়ে দেবে তাদের আমরা সাহায্য কেন করবো? বলা হয়না, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে খাদ্য, অর্থ, সেনা সরবরাহ করতে গিয়ে যে দুর্ভিক্ষে ৬ লক্ষ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যান, সেসময়ে ব্রিটিশ সরকারের ভারতকে প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ ছিল দিনপ্রতি দশ লক্ষ পাউন্ড।6 

কোলস্টন-মূর্তি বিস্থাপনের পরে আন্দোলনকারীদের অবস্থান সমাবেশ।

মূর্তি ভাঙা প্রসঙ্গ অবতারণা সত্তরের দশকে মূর্তি ভাঙার ইতিহাস ছাড়া অসমাপ্ত। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার বিতর্কিত ঘটনার সাপেক্ষে এক দীর্ঘ প্রবন্ধে সরোজ দত্ত লিখেছিলেন, মূর্তি গড়া হয়েছে সুরেন বাঁড়ুজ্জে বিপিন পালের, গড়া হয়নি শহিদ সিধু-কানুর মূর্তি, ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে নীলবিদ্রোহের কৃষকদের নাম, অথচ সেই ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছেন বিবেকানন্দ। ফলে, মূর্তি স্থাপনের যে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি তা আসলে বিপ্লবের মূর্তি সরিয়ে বিপ্লব বিরোধিতার মূর্তি বসানোর রাজনীতি।7 সত্তরের দশকে মূর্তি ভাঙার রাজনৈতিক কর্মপন্থার ভুল-ঠিক বিষয়ে তর্ক দীর্ঘ, কিন্তু সংগ্রামী মানুষের সপক্ষে ইতিহাস রচনার রাজনীতি আজও একইভাবে সত্যি। তাই কোলস্টনের বহু পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১৫ সালে কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়াজ উঠেছিল, “রোডস মাস্ট ফল” – “রোডসের মূর্তি বিস্থাপন করো”। সেসিল রোডস ছিলেন কোলস্টনের মতোই সাম্রাজ্যবাদের প্রতিভূ, যিনি আফ্রিকায় ব্রিটিশ শাসন বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেন। অথচ বর্তমানে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে রোডস-এর নামে সাম্মানিক বৃত্তি, স্থাপিত হয়েছে রোডসের মূর্তি। বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকায় আন্দোলনকারীরা বলেন, এই আন্দোলন মূর্তি ভাঙার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন সাম্রাজ্যবাদী, বর্ণবিদ্বেষী প্রতীকের বিরুদ্ধে আন্দোলন; আফ্রিকায় শিক্ষাব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিক প্রভাব মুক্ত করার আন্দোলন, যা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার নয়, বরং সারা পৃথিবীর লড়াই।8 মূর্তি স্থাপন করা হয় প্রতীকী আধিপত্য বিস্তারের জন্য। ঐতিহাসিকভাবেই আফ্রিকা, এশিয়া, আমেরিকা এমনকি ইংল্যান্ডেও সাম্রাজ্যবাদী প্রতীক হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য মূর্তি। ওলেটের কথার সূত্র ধরে বলা যায়, এই আধিপত্য বিস্তারের ইতিহাসেই আসলে এই সমস্ত মহাদেশের মানুষ এক সুতোয় বাঁধা – সেখানে কখনো শাসকের স্বার্থে মূর্তি স্থাপিত হয়েছে, কখনো সংগ্রামী মানুষের লড়াইয়ে মূর্তি ভাঙার ডাক দেওয়া হয়েছে। তাই শুধু কোলস্টন নয়, আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডে আন্দোলনকারীরা সরিয়ে দেন জেফারসন, লীন, স্টুয়ার্ট, কলম্বাস, ক্যালহুন সহ আধিপত্যের ইতিহাসের ধারক বহু মূর্তি। আওয়াজ ওঠে লিঙ্কন, গান্ধী সহ বর্ণবিদ্বেষের ইতিহাস-সমন্বিত অসংখ্য মূর্তি অপসারণের। 

ইতিহাস নিরপেক্ষ নয়, কোলস্টনের ইতিহাস সুকৌশলে তৈরি সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস। এই ইতিহাসে গণহত্যার স্থান নেই, উচ্ছেদ, ধর্ষণ, মানুষকে পণ্য করে, জমি দখল করে মুনাফালাভের স্থান নেই। ফলে এই ইতিহাস সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল করাও আসলে ইতিহাসের একপক্ষকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার কথা বলা। গৌতম ভদ্র তাঁর এক লেখায় লিখেছিলেন, অতীত, ঐতিহ্য বা ইতিহাস থেকে ঠিক কী বা কতটুকু বাছতে হবে, কোনটাকে রাখতে হবে এবং কোনটা ফেলতে হবে, ইতিহাসকে সেইভাবে জানাই হলো ইতিহাসের উত্তরাধিকার স্বীকার করা।9 ইতিহাসের হাত ধরে বর্তমানে সিধু-কানুর মূর্তি স্থাপিত হয়েছে ঠিকই, কোলকাতা শহরের অলিগলি খুঁজলে লতিকা-অমিয়া-প্রতিভার স্মারক ফলকও খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু সেই মূর্তি-ফলক যাতে শুধুই শিল্পের অবতারণা হয়ে না থেকে যায়, বরং সংগ্রামের ইতিহাসকে জিইয়ে রাখে, তা-ই প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রতীকের সংগ্রাম, তা-ই পারে মানুষের ইতিহাসের সংগ্রামী উত্তরাধিকার হতে। যে সময়ে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক, ঐতিহাসিকভাবে নিপীড়িত মানুষ ইতিহাস রচনা করছেন – সেই সময় দাবি করে এই নতুন ইতিহাসের পক্ষ।

চিত্রঋণঃ বিবিসি, স্ক্রল, সোশ্যাল মিডিয়া। 

এই লেখার তথ্যানুসন্ধানে সাহায্যের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা অপূর্ব দা-র কাছে। 

শেয়ার করুন

2 thoughts on “মূর্তি ভাঙা, মূর্তি গড়া – ইতিহাসের উত্তরাধিকার”

  1. বিশ্বেন্দু নন্দ

    খুব সুন্দর লেখা হয়েছে। উপনিবেশবাদ নিপাত যাক। লেখককে কৃতজ্ঞতা।

  2. Sanchita Mukherjee

    নিঃসন্দেহে ভালো লেখা। পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি উঠে আসতে পারতো। এক, স্তালিন-পরবর্তী সোভিয়েত ইউনিয়নে লেনিন ও স্তালিনের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, এবং জনগণের উদ্যোগে আবার মূর্তিগুলি স্থাপন করা। দুই, আজকের ভারতে হিন্দুত্ববাদের প্রবক্তাদের বিশালাকৃতি মূর্তি স্থাপনের ঘটনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *