জুনটিনথ ফিরে দেখাঃ এক দাস মেয়ের জীবন

জুনটিনথ-কে মনে রেখে হ্যারিয়েট জেকব-এর আত্মজীবনী  Incidents in the life of a slave girl-এর অনুবাদ।

জুনটিনথ্ – কালো আমেরিকানদের অন্যতম সবথেকে বড় উৎসবের দিন। ১৮৬৫ সালের ১৯ জুন আফ্রিকান আমেরিকান দাসত্ব থেকে মুক্তির দিনটিকে মনে রেখে আমেরিকা জুড়ে এই দিনটি উদযাপন করেন আমেরিকার কালো মানুষেরা। এর আগে ১৮৬৩-র ১ জানুয়ারি ইমানসিপেশন প্রোক্লেমেশন ঘোষণা হলেও কনফেডারেট-দের নিয়ন্ত্রণে থাকা স্টেটগুলিতে দাসেদের মুক্তি পেতে সময়ে লেগেছিল আরও আড়াই বছর। ১৯৬৫-র জুন মাসে টেক্সাস-এর গ্যালভেসটন বে-তে কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর ২,০০০ সদস্য উপস্থিত হয়ে আড়াই লক্ষ কালো মানুষের দাসত্বের অবসান ঘোষণা করলে সারা আমেরিকাতে সমস্ত কালো মানুষেরা প্রথমবারের জন্য স্বাধীন হন। আমেরিকার কালো মানুষরা এই দিনটিকে আমেরিকার দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেন। জুনটিনথ-কে মনে রেখে হ্যারিয়েট জেকব-এর আত্মজীবনী  Incidents in the Life of a Slave Girl বইটির প্রথম অধ্যায়ের বাংলা তজর্মা আমরা প্রকাশ করলাম। হ্যারিয়েট জেকব-এর জন্ম দাস পরিবারে। পরবর্তীতে মালিক পরিবারের কবল থেকে পালিয়ে নিজের ও নিজের সন্তানদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন হ্যারিয়েট। তাঁর আত্মজীবনীতে এক দিকে যেমন উঠে এসেছে দাস জীবনের বঞ্চনা ও নিপীড়নের কথা, পাশাপাশিই জায়গা পেয়েছে তাঁদের প্রতিরোধ ও দ্রোহের আখ্যানও। বইটি তিনি লেখেন লিন্ডা ব্রেন্ট ছদ্মনামে। বামা-র আগামী সংখ্যাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে এই আত্মজীবনী আমরা প্রকাশ করব।

 লুকানো সাত বছর 

ছেলেবেলা

আমার জন্ম দাস হিসেবে; কিন্তু ছোটবেলার হাসিখুশি ছ’টা বছর পার করে দেওয়ার আগে পর্যন্ত আমি কখনও জানতে পারিনি যে আমি একজন দাস। আমার বাবা ছিল ছুতোর মিস্ত্রি। নিজের কাজে দক্ষ ও বুদ্ধিমান হিসেবে পরিচিত ছিল বাবা। কোথাও কখনও সাধারণ ছাঁদের বাইরে অন্যরকম কোনও বাড়ি বানানোর দরকার পড়লে প্রধান মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতে বাবার ডাক পড়ত বহু দূর দূর থেকে। মালকিনকে বছরে ২০০ ডলার দেওয়া এবং নিজের জীবনযাপনের খরচ নিজে চালানো– এই শর্তে বাবা নিজের মতো করে কাজ করা ও নিজের মতো থাকার অনুমতি পেয়েছিল। বাবার সবথেকে বড় ইচ্ছে ছিল নিজের ছেলেমেয়েদের কিনে নেওয়া; কঠোর পরিশ্রমের উপার্জন দিয়ে বাবা সেই চেষ্টাও করেছে কয়েকবার, কিন্তু কখনই সফল হয়নি। আমার বাবা-মায়ের গায়ের রং ছিল হালকার দিকে হলদেটে খয়েরি, বলা হত মুলাটো। বাবা-মা একসঙ্গে ভদ্রস্থগোছের একটা বাড়িতে থাকত, আমরা সকলেই যদিও দাস ছিলাম, কিন্তু আমাকে এতটাই আগলে রাখা হত আমি কখনও বুঝতে পারিনি আমি আসলে এক টুকরো পণ্য, যাকে বাবা-মায়ের কাছে শুধুই সাবধানে রাখতে দেওয়া হয়েছে, যেকোনও মুহূর্তে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। আমার এক ভাই ছিল, উইলিয়াম। উইলিয়াম আমার থেকে দুবছরের ছোট, বুদ্ধিমান ও আদুরে বাচ্চা। আমার আরেক সম্পদ ছিল আমার দিদা, নানা দিক থেকেই এক অনন্য মানুষ ছিল দিদা। দিদা ছিল দক্ষিণ ক্যারোলিনার এক বাগিচা চাষীর মেয়ে। দিদার বাবা মারা যাওয়ার সময়ে স্ত্রী ও তিন ছেলে মেয়েকে মুক্ত করে যান, আর রেখে যান সেন্ট অগাস্টিনে আত্মীয়দের কাছে যাওয়ার জন্য কিছু টাকা। এটা বিপ্লবী যুদ্ধের সময়ের কথা। পালানোর সময়ে তারা ধরা পড়ে ও তাদের ফেরৎ নিয়ে গিয়ে অন্য এক ক্রেতার কাছে বেচে দেওয়া হয়। আমার দিদা আমাকে এই সব গল্প বলত; আমার অবশ্য বিস্তারিত সব কিছু এখন আর মনে নেই। ধরা পড়ার সময়ে দিদা ছিল ছোট্ট মেয়ে, দিদাকে বিক্রি করা হয় এক বড় হোটেল মালিকের কাছে। দিদা প্রায়ই তার ছোটবেলার গল্প বলত, বলত কী কঠিন ছিল ছোটবেলার দিনগুলি। কিন্তু বড় হয়ে দিদা এত বুদ্ধিমান আর এতই বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে, মালিক মালকিন বোঝে তাদের নিজেদের স্বার্থেই এই দামী সম্পত্তিটার দেখভাল করা দরকার। অচিরেই দিদা সেই সংসারে অপরিহার্য হয়ে ওঠে, রাঁধুনি থেকে ওয়েট নার্স1 থেকে দর্জি, সব কাজই করত দিদা। আর দিদার বানানো বিস্কুট গোটা পাড়ার মানুষের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে প্রায়ই অনুরোধ আসত সেই বিস্কুটের। এরকম বহু অনুরোধ আসার পর দিদা সংসারের সব কাজ মিটিয়ে রাতের বেলা বিস্কুট বেক করার অনুমতি চায় মালকিনের থেকে। এই কাজের জন্য অবসরের অনুমতি মেলে ঠিকই কিন্তু শর্ত দেওয়া হয় এই বিস্কুট বিক্রির টাকায় দিদা নিজের আর নিজের ছেলেমেয়েদের জামা কাপড় কেনার দায়িত্ব নেবে। এই শর্তে, সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর মাঝরাতে দিদা বসত বিস্কুট বানাতে, সঙ্গে থাকত সবথেকে বড় দুই ছেলেমেয়ে। ব্যবসা থেকে লাভ হতে শুরু করলে প্রতিবছর দিদা একটু একটু করে টাকা জমাতে থাকে, যাতে একদিন নিজের ছেলে মেয়েদের কিনে নিতে পারে। দিদার মালিক মারা যায়, এবং তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। বিধবা মালকিন হোটেলের অংশ পায় ও সে হোটেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। দিদা তার কাছেই দাসী হিসেবে কাজ করতে থাকে, কিন্তু দিদার ছেলে মেয়েদের মালিকানা মালিকের ছেলে মেয়েদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। দিদার যেহেতু পাঁচ ছেলেমেয়ে ছিল, ছোট ছেলে বেঞ্জামিনকে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয় যাতে প্রত্যেক উত্তরাধিকারী সমান পরিমাণ ডলার আর সেন্ট পায়। আমাদের বয়সের পার্থক্য এতই কম ছিল যে বেঞ্জামিনকে আমার মামা কম আর দাদা বেশি মনে হত। বেঞ্জামিন ছিল বুদ্ধিমান সুপুরুষ এবং প্রায় সাদা; বেঞ্জামিন এই গায়ের রঙ পেয়েছিল দিদার অ্যাঙ্গলো-স্যাক্সন পূর্বপুরুষদের থেকে। মাত্র দশ বছর বয়স হলেও বেঞ্জামিন বিক্রি হয় সাতশো কুড়ি ডলার দামে। বেঞ্জামিনের বিক্রি হয়ে যাওয়া আমার দিদার কাছে এক ভয়ানক ধাক্কা ছিল; কিন্তু দিদা ছিল সাধারণ ভাবে একজন আশাবাদী মানুষ, তাই আবার নতুন উদ্যমে কাজে ফেরে এই আশায় যে একদিন তার কিছু ছেলেমেয়েকে সে কিনে নিতে পারবে। দিদা তিনশো ডলার জমিয়েছিল, একদিন মালকিন সেই টাকাটা ধার চায় এবং কথা দেয় খুব তাড়াতাড়িই টাকা ফিরিয়ে দেবে। পাঠক হয়ত জানেন, দাসদের দেওয়া কোনও কথা বা লিখিত প্রতিশ্রুতির কোনও আইনি মূল্য নেই; কারণ দক্ষিণের আইন অনুযায়ী একজন দাস নিজেই যেহেতু সম্পত্তি, ফলতঃ তার কোনও সম্পত্তির অধিকার নেই। আমার দিদা যখন তার মালকিনকে ধার দেয়, দিদার একমাত্র বিশ্বাসের জায়গা ছিল মালকিনের মর্যাদা। একজন দাসের কাছে দাসের মালিকের মর্যাদা!

এই ভালোমানুষ দিদার কাছে আমার অনেক আদরের ঋণ। প্রায়ই বিক্রির জন্য বানানো বিস্কুট, কেক ইত্যাদির ভাগ পেতাম আমি আর আমার ভাই উইলি; এবং বড় হয়ে আরও অনেক অনেক কিছুর জন্য দিদার কাছে ঋণী হয়ে থাকব আমরা।

আমার একেবারে ছোটবেলাটা ছিল এরকমই অস্বাভাবিকরকমের সৌভাগ্যে ভরা। আমার যখন ছবছর বয়স, আমার মা মারা যায়; আর তখন আমার চারপাশের কথাবার্তা থেকে আমি প্রথম বুঝতে পারি আমি একজন দাস। আমার মায়ের মালকিন ছিল আমার দিদার মালকিনের মেয়ে। আমার মা আর মালকিনের মেয়ে ছিল ফস্টার সিস্টার2, সে আর আমার মা একই সঙ্গে আমার দিদার দুধ খেয়ে বড় হয়েছে। বস্তুতঃ তিন মাস বয়সে আমার মায়ের দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে মালকিনের মেয়ের খাবারের অভাব না হয়। তারা দুজন ছোটবেলায় একসঙ্গে খেলাধুলো করত; আর বড় হওয়ার পর মা হয়ে ওঠে তার সাদা ফস্টার সিস্টার-এর সবথেকে অনুগত চাকর। মায়ের মৃত্যুশয্যায় মায়ের মালকিন মা-কে কথা দিয়েছিল তার জীবদ্দশায় মায়ের ছেলেমেয়েরা কখনও খারাপ থাকবে না। বেঁচে থাকাকালীন সেই কথা সে রেখেছে। ওরা সকলেই আমার মৃত মায়ের সম্পর্কে খুব ভালোভাবে কথা বলত। আমার মা, যে শুধুমাত্র নামেই একজন দাস ছিল কিন্তু স্বভাবে ছিল অভিজাত ও সম্মানীয় নারী। মায়ের জন্য আমার খুবই মন খারাপ, আর আমার ছোট মনে এই চিন্তাও ঘুরছিল যে এরপর আমার আর আমার ভাইয়ের কী হবে, কে আমাদের দেখবে! সেই সময়ে আমায় বলা হল, এরপর থেকে মায়ের মালকিনের বাড়িই হবে আমার ঠিকানা, আমি তো খুবই খুশি। পরিশ্রমসাধ্য বা আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনও কাজ সেখানে আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। মালকিন আমার সঙ্গে এতই ভালো ব্যবহার করত যে আমি খুব আনন্দের সঙ্গেই তার সব হুকুম তামিল করতাম, এবং গর্বের সঙ্গে খাটতাম, ওই ছোট বয়সে যতটুকু সাধ্যে কুলতো আর কি। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা মালকিনের পাশে বসে গভীর মনযোগে সেলাই করে যেতাম, সেই সময়ে আমার মনটা ছিল সম্পূর্ণ ভয়ভাবনাহীন, সাদা পরিবারে জন্মানো যেকোনও বাচ্চার মতোই। মালকিন যখন মনে করত আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, আমাকে বাইরে পাঠিয়ে দিত লাফালাফি ছোটাছুটি করতে। আর আমি ঘর সাজানোর জন্য ফুল আর বেরি জোগাড় করে আনতাম। সেসব ছিল আনন্দের দিন, এতই আনন্দের যা বেশিদিন থাকে না। এক দাসের সন্তানকে আগামী দিন নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না; কিন্তু তারপরই নেমে এল সেই দুঃসময়, মালিকবাড়িতে জন্মানো সকলের জন্যই যে সময় অপেক্ষা করে।

    আমার যখন বারো বছর বয়স, আমার নরম মনের দয়ালু মালকিন অসুস্থ হয়ে মারা যায়। আমি দেখলাম তার গালগুলো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে, মনে প্রাণে প্রার্থনা করছিলাম মালকিন যেন বেঁচে যায়। আমি মালকিনকে ভালবাসতাম; সে আমার কাছে প্রায় আমার মায়ের মতোই ছিল। আমার প্রার্থনায় কাজ হয়নি। মালকিন মারা যায়। গির্জার পাশের জমিতে তাকে কবর দেওয়া হয়। আমি দিনের পর দিন সেই কবরে গিয়ে চোখের জল ফেলেছি।

     আমাকে দিদার কাছে পাঠানো হল এক সপ্তাহের জন্য। ততদিনে ভবিষ্যৎ চিন্তার জন্য যথেষ্ট বড় হয়েছি আমি। আমি দিন রাত ভাবতে থাকি এবার এরা আমাকে নিয়ে কী করবে। আমি নিশ্চিত ছিলাম, আমার মালকিনের মতো ভালোমানুষ মালকিন আমি আর কোনওদিনও পাব না। মায়ের মারা যাওয়ার আগে সে মা-কে কথা দিয়েছিল মায়ের ছেলেমেয়েদের কোনও কষ্ট সে হতে দেবে না। আমার যখন একথা মনে পড়ল; মনে পড়ল তার আমার প্রতি ভালবাসার অজস্র প্রমাণের কথা, কোথাও একটা আশা জাগল সে নিশ্চয়ই আমাকে মুক্ত করে রেখে গেছে। আমার বন্ধুরা তো এ বিষয়ে প্রায় নিশ্চিতই ছিল। তারা ভেবেছিল আমার মায়ের ভালবাসা আর বিশ্বস্ত পরিষেবার কথা মাথায় রেখে মালকিন নিশ্চয়ই এটা করবে। কিন্তু হায় ! কে না জানে বিশ্বস্ত দাসের স্মৃতি তার সন্তানদের নিলাম থেকে বাঁচাতে খুব একটা কাজে লাগে না।

      কিছু মুহূর্তের উত্তেজনার পর মালকিনের উইল পড়া হল, আর আমরা জানলাম সে আমাকে তার বোনের মেয়ের মালিকানায় রেখে গেছে, যার বয়স পাঁচ। আমার মালকিন আমাকে ভগবানের বাণী শিখিয়েছিল: “প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালবাসো।” “নিজের জন্য যা করবে, তাদের জন্যও তাইই কর।”  কিন্তু আমি ছিলাম তার দাস, আর মনে হয় সে আমাকে কখনই প্রতিবেশী মনে করেনি। এই ভয়ানক বড় অন্যায়টাকে স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে আমি অনেক কিছু করতে রাজি। ছোটবেলায় আমি আমার মালকিনকে ভালবেসেছি; তার সঙ্গে কাটানো আনন্দের দিনগুলো মনে করার সময়ে আমি চেষ্টা করি এই অন্যায়ের তিক্ততাকে দূরে সরিয়ে রাখতে। তার সঙ্গে থাকার সময়ে সেই মালকিন আমাকে পড়তে লিখতে শিখিয়েছে; কজন দাসের ভাগ্যে আর এই সুযোগ জোটে, এবং এই জন্যই আমি তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

     তার কয়েকজন দাস ছিল এবং তার মৃত্যুতে সেই দাসদের তার আত্মীয়দের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচজন ছিল আমার দিদার ছেলেমেয়ে, তার মায়ের ছেলেমেয়েরা যে দুধ খেয়ে বড় হয়েছে এরাও সেই একই দুধ খেয়েছে। মালিকের প্রতি দিদার দীর্ঘ বিশ্বস্ত আনুগত্যের বিপরীতে গিয়ে তার কোনও ছেলেমেয়েই নিলামের জায়গা থেকে পালানোর চেষ্টা করেনি। মালিকের চোখে এই শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে চলেফিরে বেড়ানো যন্ত্রগুলো বাগিচার তুলো বা ব্যবসার ঘোড়ার থেকে আলাদা কিছু ছিল না।

চলবে

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *