ভীমা কোরেগাঁও বা এলগার পরিষদ মামলায় কী হচ্ছে?

(দ্বিতীয় কিস্তি)

প্রথম কিস্তি পড়ুন এখানে। 

এই বিষয়ে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট ও মহারাষ্ট্র হাইকোর্ট এখন অবধি যে অবস্থান নিয়েছে

ভীমা কোরেগাঁও এলগার পরিষদ মামলার ফৌজদারি তদন্ত চলাকালীন জামিন ও অন্যান্য বিষয়ে হওয়া মামলা মোকদ্দমার আদেশসমূহের ভিত্তিতে এই বিষয়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার যে বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান ব্যক্ত হয়েছে এবার তা আমরা দেখে নেব।

২৮-০৯-২০১৮। সুপ্রীম কোর্টের তিন জাজ বেঞ্চ রোমিলা থাপার এবং অন্যান্যরা বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া এবং অন্যান্যরা, সাইটেশন – ২০১৮, খণ্ড ১০, সুপ্রীম কোর্ট কেসেস, ৭৫৩ –

রোমিলা থাপার এবং অন্যান্যরা এই মামলায় কোর্টে যে পিটিশনের কাগজ জমা করেছিলেন তাতে স্পষ্টতঃই উল্লেখ ছিল দুই হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা একবোটে ও ভিড়ে কী ভাবে প্রকাশ আম্বেদকর, সোনি সোরি, জিগনেশ মেওয়ানিদের নেতৃত্বে হওয়া শান্তিপূর্ণ দলিত-আদিবাসী র‍্যালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। যে এফ আই আর-এর ভিত্তিতে অভিযুক্ত এই ১৬জনের জেল হলো, সেই এফ আই আর টি-ও দাখিল করা হয়েছিল হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীদের তরফ থেকে। তার আগেই এই ঘটনার সময়ে আরো একটি এফ-আই-আর পড়েছিল মিলিন্দ একবোটে, সাম্ভাজি ভিড়েদের নামে। 

প্রথমোক্ত অবতার কিছুদিন জেল খেটে এসেছেন। তবে, তিনি জামিনবলে স্বাধীন বিচরণ করছেন সমাজে। সুপ্রীম কোর্টের সামনে ২০১৮ সালের ক্রিমিনাল রিট পিটিশন নং ২৬০ (ডায়েরি নং ৩২৩১৯) পেশ করে রোমিলা থাপারেরা চেয়েছিলেন যে প্রথম এফ-আই-আর-টির ভিত্তিতে তদন্ত হোক। সেই আর্জি নাকচ করে আলোচ্য জজমেন্ট-এ ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট এই মর্মে অবস্থান নেয় যে, যেহেতু সেই দ্বিতীয় এফ-আই-আর এর ভিত্তিতে এন আই এ তদন্ত করছে অভিযুক্তদের বিষয়ে, তাই, তাঁদের প্রসঙ্গে আনা রিট পিটিশনে আগের সেই প্রথম এফ-আই-আর-টি, অর্থাৎ, যেটি হিন্দুত্ববাদীদের তরফ থেকে করা, সেটিকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো আর্জি রাখা যাবে না সেই মামলায়।  বরং, সেই দ্বিতীয় এফ আই আর-এর ভিত্তিতে চলতি এন আই এ তদন্তটিই জারি থাকবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। আলোচ্য সুপ্রীম কোর্ট আদেশনামার অনুচ্ছেদ ৩১ দ্রষ্টব্য।  

অর্থাৎ, খেয়াল করবেন, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠির তরফ থেকে সেই এফ আই আর-টি-র-ই চালু থাকল আলোচ্য জাজমেন্ট-এর অনুচ্ছেদ ৩১ বলে। একই সাথে আদালত এও সাফ সাফ জানিয়ে দিল যে, অভিযুক্তদের ‘নেক্সট অফ ফ্রেন্ড’-রা এই ধরনের মামলা করতে পারেন ঠিকই, কিন্তু, রোমিলা থাপার সহ যাঁরা এই রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন, যেহেতু তাঁরা সুধাজ্বি-সহ যাঁরা সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ও জেলবন্দী-দের ‘নেক্সট অফ ফ্রেন্ড’ হিসেবে তাঁদের অবস্থান, আইনের ভাষায়, ‘লোকাস’-এর বিষয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি, তাই তাঁদের আনা মোকদ্দমাটি ডিসমিসাল-যোগ্য। আলোচ্য জজমেন্ট-এর অনুচ্ছেদ ৩০ থেকে ৩২ দ্রষ্টব্য। 

এই জাজমেন্ট-এর মাধ্যমে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে এই দ্বিতীয় এফ-আই-আর-এর সাপেক্ষে চলমান এন-আই-এ তদন্তটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবার কোনো অধিকার এই মামলায় গ্রেফতার রাজবন্দীদের থাকবে না। সাথে সাথে আদালত এও জানালো যে, যেহেতু অভিযুক্তদের ফৌজদারি পদ্ধতি ব্যবহার করে নিম্নতন আদালতে অন্যত্র এই ফৌজদারি মামলাটিতে তাঁদের আবেদন ও আর্জিগুলি পেশ করার অবকাশ রয়ে গিয়েছে, তাই, সেই সকল ‘অলটার্নেটিভ রেমেডি’-গুলি ‘এক্সহস্ট’ না করে সুপ্রীম কোর্টের সমক্ষে সরাসরি পেশ করা আলোচ্য এই মামলার রিট পিটিশনটি নামঞ্জুর, নাকচ এবং ডিসমিসাল-যোগ্য। আলোচ্য হুকুমনামার অনুচ্ছেদ ১, ২, ৩৫-৪০ দ্রষ্টব্য। 

এই রিট পিটিশন মারফৎ রোমিলাজি-রা সুধাজিদের জামিন চেয়েছিলেন। সেখানেও ভারতের সুপ্রীম কোর্ট জানায় যে, যেহেতু অন্যত্র নিম্নতন ফৌজদারি আদালতের সামনে পদ্ধতিগতভাবে এই ফৌজদারি মামলার খাতেও জামিনের আবেদন রাখার অধিকার রয়েছে অভিযুক্তদের, সেহেতু তাঁদের হয়ে সুপ্রীম কোর্টে সরাসরি এই ভাবে জামিন চাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, জামিনের আবেদনটিও নামঞ্জুর হয় এই জাজমেন্ট মারফৎ। আলোচ্য জজমেন্ট-এর অনুচ্ছেদ ৩৬-৪০ দ্রষ্টব্য।

এই জজমেন্ট তেজাজা বেঞ্চের ছিল। দুইজন মাননীয় ন্যায়াধীশ তথা ভারতের তদনীন্তন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও জাস্টিস খানডিলকর। তাঁরাই মূল প্রয়োগ হওয়া নিদানগুলি দেন। প্রযোজ্য নিদানের বয়ান রচনা করেন জাস্টিস খানডিলকর। সেটাতেই সহমতিসূচক সহি-দসখত করে দেন সেদিনের মাননীয় চিফ জাস্টিস মহোদয়। তবে হ্যাঁ, জাজমেন্ট-এর পাতায় দেখা যায় যে লিখিত ‘ডিসেন্টিং ওপিনিয়ন’ দিয়েছিলেন সেই তিন-জাজ ডিভিশন বেঞ্চির অপর তথা তৃতীয়জন, জাস্টিস চন্দ্রচুড়।

এই শেষজনার ব্যক্ত অভিমত অনুসারে, হ্যাঁ, রোমিলা থাপারদের লোকাস আছে সেই মামলা করার, তাঁদের পিটিশনের আর্জি অনুসারে নতুন করে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ট্রাইব্যুনাল’ (এস-আই-টি) গঠন করে ভীমা কোরেগাঁওয়ের ঘটনার ঠিক পরেই জমা পড়া প্রথম এফ-আই-আর-টি অনুসারে তদন্ত কারাই বাঞ্ছনীয়। তবে, যেহেতু তাঁর এই অভিমত ‘ডিসেন্টিং ওপিনিয়ন’, তাই বাকি দুই জজবাহাদুরের উপরে আলোচিত মতামত তথা ‘মেজরিটি ওপিনিয়ন’-এর ভিত্তিতে আলোচ্য রিট পিটিশন ডিসিমিস করে দেয় ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট।        

ওয়াকিবহালমাত্রে জানবেন যে, এই জজমেন্ট প্রণয়নের বছর দেড়েকের মাথায় ইউ-এ-পি-এ আইন – যে আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আলোচ্য ১৬জনের বিরুদ্ধে এই ভীমা কোরেগাঁও এলগার পরিষদ ঘটনার বিষয়ে এন আই এ পরিচালিত তদন্ত ও ফৌজদারি পদ্ধতিতে – তার এমন এক সংশোধনী আনা হয় যে এই মুহুর্তে এই ধরনের এন-আই-এ পরিচালিত ইউ-এ-পি-এ আইনের ধারা অনুসারে আনা মামলায় জামিনের আবেদন সেই পদ্ধতিগতভাবেই পত্রঅপাঠ নাকোচ হবে। 

তবে যদি অভিযুক্তরা প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর বা কর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিতের মতো হিন্দুত্ববাদের আশীর্বাদ-পুষ্ট কোনো হনু তথা কেউকেটা কেউটে কেউ হন তাহলে তেমন হবে না। তবে, উক্ত হনু ও কেউটেদের বিরুদ্ধে কেউ আজকের দিনে এসে কোনো কারণে সন্ত্রাসবাদের মামলা করবেন, সেই মামলায় আবার এন-আই-এ তদন্ত হবে, গ্রেফতার হবে, গ্রেফতারের পরের তিন বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এন আই এ বা আদালত ট্রায়াল শুরু করতে কোনো হেলদোল করবেন না, একের পর এক নামঞ্জুর হয়ে যাবে জামিনের আবেদন – এ এক অলীক কল্পনা মাত্র। 

এর পরে আরো দুইবার সুপ্রীম কোর্ট অবধি গড়িয়েছিল এই চলমান প্রহসনের জের – 

১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯। আবার এক তেজাজা বেঞ্চ। ততদিনে চিফ জাস্টিস হয়ে গিয়েছেন শ্রী রঞ্জন গোগোই। তিনিই এই বেঞ্চির প্রধান। এবারে নিদানের বয়ান রচলেন জাস্টিস শ্রী সঞ্জয় কিশোর কৌল। মাননীয় তদনীন্তন ভারতের প্রধান বিচারপতি ছাড়াও তৃতীয় জজসাহেব শ্রী এল নাগেশ্বর রাও মেনে নিলেন সেই নিদান। এবারে তাই কোনো ডিসেন্ট ছাড়াই নাকচ হয়ে গেল, মামলাকারী স্বয়ং আইনজীবি সুরেন্দ্র গ্যাডলিং।  ততদিনে অবশ্য তাকে পাকড়াও করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। মামলা ক্রমাঙ্ক ২০১৯ সালের ক্রিমিনাল আপীল নং ২৬০ মারফৎ আনীত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট-এর উপরোক্ত তেজাজা-বেঞ্চি ২০১৯, খণ্ড ৫, সুপ্রীম কোর্ট কেসেস, ১৭৮ – এই নম্বরের ৩৯ অনুচ্ছেদে বিধৃত হুকুমনামায়।  

ভীমা কোরেগাঁও এলগার পরিষদ তদন্তে প্রথম দুই লপ্তে যে নয়জন পাকড়াও হন, তাঁদের পাকড়াও করার ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশীট পেশ করতে পারেনি মহারাষ্ট্র পুলিশ। তাই, ইউ এ পি এ আইনের ধারা 43D অনুসারে বাই ডিফল্ট তাঁদের জামিন প্রাপ্য। কিন্তু, বেঁকে বসলেন সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ তিন মহামান্য ন্যায়মূর্তি। তাঁদের মতে, যেহেতু ইউ এ পি এ আইনের ধারা 13, 16, 17, 18, 18B, 20, 38 এবং 39 এর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে, এবং, যেহেতু দেখা যাচ্ছে যে পাব্লিক প্রসিকিউটর সহ বাদীপক্ষের সকলেই যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছেন (জজমেন্ট-এর বয়ানে, ‘অ্যাপ্লিকেশন অফ মাইন্ড’ দেখিয়েছেন), অর্থাৎ, সেই দেখানোর বিষয়ে তদন্তকারী রাষ্ট্র পক্ষ সুপ্রীম কোর্টকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে, সেহেতু রাষ্ট্রপক্ষ তথা মহারাষ্ট্র পুলিশের আরো কিছুদিন, তথা, পর্যাপ্ত সময়কালের এক্সটেনশন প্রাপ্য। যতদিন না তদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন কোনো অভিযুক্তকে কোনো জামিন দেওয়া যাবে না। 

এর জজমেন্ট-এর কিছুদিনের মধ্যেই মহারাষ্ট্র পুলিশের থেকে তদন্তের দায়ভার স্বস্কন্ধে অর্পণ করে এন আই এ। তাই, এ’বিষয়ে গত ১২ মে, ২০২১, সুপ্রীম কোর্টের দুই জাজ বেঞ্চ-এর তরফ থেকে মাননীয় ন্যায়াবতার শ্রী কে এম যোসেফ স্বীয় বয়ানে স্বয়ং এবং অপর পীঠাসীন ন্যায়মূর্তি শ্রী উদয় ইউ ললিত-এর তরফে যে ১৫৩ প্যারার হুকুমনামাটি জারি করলেন, সেখানে মামলার নাম গৌতম নওলখ্যা বনাম ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। মামলার নম্বর ২০২১ সালের ক্রিমিনাল আপীল ক্রমাঙ্ক ৫১০। আদেশনামার নম্বর ২০২১, সুপ্রীম কোর্ট কেসেস অনলাইন, এস-সি ৩৮২। সেখানে অবশ্য আলোচনা হলো গৌতম-জ্বির নামে হাউর অ্যারেস্ট এর আদেশটির ভারতীয় ফৌজদারি পদ্ধতি আইন আইন অর্থাৎ ক্রিমিনাল প্রোসিডিও কোড-এর ধারা ১৬৭ অনুসারে আনীত এমন বিচার করা চলে না। 

এই জাজমেন্ট-এর অনুচ্ছেদ ১৪৩, ১৪৭ এবং ১৪৮ সামগ্রিক গুরুত্ব দাবী রাখে জামিনের মৌলিক অধিকার-এর বিষয়ে আজ ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের অবস্থান কী, তা বুঝে নিতে। আমাদের দেশের সংবিধান অনুসারেই কিন্তু, সুপ্রীম কোর্টের এই সকল আইনি ও সাংবিধানিক অবস্থানগত নিদানগুলিও দেশের আইন। 

২০২০ সালেরই অপর এক সুপ্রীম কোর্ট জাজমেন্ট ছিলো বিক্রমজিৎ সিং বনাম পাঞ্জাব। সাইটেশন – (২০২০) খণ্ড ১০, সুপ্রীম কোর্ট কেসেস, ৬১৬। সেই জজমেন্ট-এ স্পষ্টতঃই বলা ছিল যে জামিনের অধিকার ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুসারে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। শুধু ভারতের সংবিধান বা সুপ্রীম কোর্ট-ই না, দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন আইনে, সংবিধানে, আদালতের নিদানে, এমনকি আন্তর্জাতিক অথবা আন্তর্দেশীয় স্তরে বলবৎ এমন আইনি দলিল-দস্তাবেজেও এ’কথা ভরপুর রয়েছে যে বেঁচে থাকার অধিকার, অর্থাৎ, ‘রাইট টু লাইফ’, শুধু মৌলিক একটি অধিকারমাত্র নয়, তা সম্পূর্ণ-ভাবে এবং সর্ব-পরিস্থিতিতে নন-ডেরোগেবল – অর্থাৎ, কখনোই তা থেকে একচুলও নড়লে নাকি চলবে না কোনো আইনব্যবস্থাকে। 

তাই যদি হয়, তাহলে ২০২১-এর মে মাসের গৌতম নওলখ্যার হাউস-অ্যারেস্ট বিষয়ক মামলায় সুপ্রীম কোর্টে কেন উপরোক্ত অনুচ্ছেদ ১৪৩, ১৪৭ এবং ১৪৮ অনুসারে ধার্য হলো যে, হাউস অ্যারেস্ট এর ক্ষেত্রে, জামিনের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য কি না তা যাচাই করে নিতে হবে সি-আর-পি-সি তথা ভারতীয় ফৌজদারির পদ্ধতিগত আইনের একটা ধারা তথা ধারা ১৬৭ এবং সেই ধারার শর্তসমূহের সাপেক্ষ হতে হবে সেই অধিকার? তাও, যেখানে, আলোচ্য এই সুপ্রীম কোর্ট মামলায় অনুচ্ছেদ ১৪৩.৭ অনুসারে সেই একই জজমেন্ট এও জানাচ্ছে যে ২০২০-র বিক্রমজিৎ সিং বনাম পাঞ্জাব মামলার আদেশবলে জামিনের অধিকার ভারতীয় সংবিধানের ধারা ২১ হিসেবে অখণ্ড্যনীয় বেঁচে থাকার মৌলিক অধিরারের আওতাতেই পরে? উপরোক্ত অনুচ্ছেদে তার স্পষ্ট ব্যখ্যা নেই। 

এছাড়াও, আইন করে ও আচরণের মারফৎ নকশাল মামলায় পত্রপাঠ-অপাঠ জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করার ধারাপদ্ধতি তো এই দেশের ফৌজদারি পদ্ধতির জায়েক রূপ হিসেবে আগেই চিহ্নিত ও সেট হয়ে গেছে। 

অতএব, বম্বে হাইকোর্টের একাধিক জজের একাধিক বেঞ্চিও যে এই একই ভীমা কোরেগাঁও তদন্তের বিষয়ে একাধিক জাজমেন্ট-এর একাধিক অনুচ্ছেদে একাধিক জজবাহাদূরের একাধিক বক্তব্য মারফৎ বাকি সকল অভিযুক্তের সকল সময়ে পেশ করে সকল জামিনের আবেদনও নাকচ করে ফেলেছে এতদিনে, তা বুঝতে কি আর মহান বোদ্ধা হতে হয়? সুপ্রীম কোর্ট হাঁড়ির তিনটে চাল টিপেই এবিষয়ে ন্যায়নামা ভাত কেমন সিদ্ধ হচ্ছে তার আঁচ পাই আমরা। ভীমা কোরেগাঁও তথা এলগার পরিষদ মামলাসমূহে এইখানে, হ্যাঁ, ঠিক এইখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.