নির্বাচিত কবিতা

(১)

গাছেরও

গাছেরও শুতে ইচ্ছে হয়েছিল

দাঁড়িয়ে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে 

তারও একটু হাত-পা টেনে

আলসেমি ঝেড়ে 

জিরিয়ে নেওয়ার বাসনা জাগে

নিঃসঙ্গ দুপুরে 

গা এলিয়ে ভাতঘুম দিতে মন চায়

বৃষ্টিমাখা রাতে পাতলা কাঁথা গায়ে

একটু নাক ডাকা

দুয়েকটি স্বপ্ন দেখা ও ভঙ্গের

তাছাড়া আর কতক্ষণই বা

সীমান্তরক্ষীর মত দাঁড়িয়ে থাকবে!

না পেরে পাশেরজন এইতো সেদিন

সুযোগ বুঝে সটান গা-ছেড়ে 

দিয়েছিল পথিকের গায়ে

আজকাল মানুষদের দেখে 

গাছেরও শুতে ইচ্ছে হয় খুব  

 

(২) 

ঘুণপোকা 

অবশেষে

বৃক্ষনিধনের দেশে

ঘুণপোকারা 

পরিবার-পরিজন নিয়ে 

নগরে বাসা বাঁধছে

ক্রমশ

উঠে যাচ্ছে 

শহরের

প্রতিটি ভবনে

প্রাচীরে-দেয়ালে

মুছে দিচ্ছে দেয়াললিখন

ধরেছে জানলার পর্দায়-গ্রিলে

বিছানা-বালিশ-লেপতোষকে…

ঘুণপোকায় ধরেছে

দেয়ালে ঝোলানো

কাঠের খোদাই

মানচিত্রটিকেও

এবং একদিন হঠাৎ 

আবিষ্কার হলো

ঘুণপোকায় ভরে গেছে

সাজানো টেবিলে

ফুলানো গোলকটিও

ঘুণপোকা

ভেতরে  ঢুকেই

ভেতরে-ভেতরে 

ভেঙে দেয় সবকিছু 

খেয়ে ফেলে

থাকে মেকি আবরণ, রঙ

ওরা বাইরে থেকে

হাতুড়ি-শাবল দিয়ে পেটায়

বার্লিন প্রাচীর

সোভিয়েত উঠে যায় মার্কিন জাদুঘরে 

ভাঙার খেয়ালে

এতো ভাঙনেও

ভাঙনের শীর্ষবিন্দুতে

ঘাপটি মেরে বসে থাকে কেউ

অন্তরতমা

ভেতরেই ছিলে একদিন

অথবা ঘুণপোকা

একটি দেশ

ঘুণপোকা শেষ করে দিলো

একটি পৃথিবীও

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *