জবু ও থবুর পৃথক বাতায়নে

১: আড়মোড়া

জবু তার বাতায়নে আলগা খুলেছে পাল্লা, 

রেকাবিতে শিউলি ঘুমিয়ে আছে, সেই মঁ-মঁ, সেই সকাল, 

বহুদিন জবু এইভাবে সকালের পাল্লা খুলে দেয়।

 

রাত ওদিকে পাল্লা দিয়ে ডুকরে ডাকরে উঠছে, 

ঘরে সামান্য মাত্র আবহাওয়া, 

এঘরে, 

সে তার মায়ের সাথে ভাগাভাগি করে নেয় বিষপান 

আর চিবুতে চিবুতে তার চিবুকে গড়িয়ে পরে টকে যাওয়া দিনকাল, 

বাসি হয়ে উবলে ওঠা দুধের মতন। 

 

তার কোল শূন্য করে বহু শিশু খেলা করে আর 

বিলাই পালিয়ে যায় তার অমন অবেলায়, 

কেন যেন 

প্রতি রাতে

কেঁপে ওঠে,

লিখে রাখে 

নামগুলি, 

ভাবে ভোরের স্বপ্ন অমন সবসময়ে সত্যি হবে তেমন কোনও কথা তো ছিলোনা। 

 

জবু রান্নাঘরের আলোয় চা বসিয়েছে, আর মামনি বসেছেন তন্দ্রায়। 

তার আজ তাড়াতাড়ি, তার আজ বেলা বয়ে যাচ্ছে ওদিকে। 

উথলে উঠেছে দুধ, গড়িয়ে গিয়েছে, হুঁশ টুকু নেই। 

জবু আজ বেরোবেন কর্মযজ্ঞ টজ্ঞ হবেক, আপিসে হাঙ্গামা হলে, 

জবু মৌমাছি মারা কেরানির মত আগুন লাগিয়ে দেয় বদের বাসায়। 

আর রে রে করে হুল নিয়ে তারা, তেড়ে আসে। 

কারণ তারা আর কিছুই জানেনা জবুকে, 

তাদের কেউ নেই জবুর মত অজানা, তাদের কেউ নেই। 

জবু থাকে থবু হয়ে। জবুরও তো ছিলো সে এক থবু। 

 

২: গতরাত 

রাত্তিরের ধ্যানে বসেছেন ওদিকে থবুর চরাচর, 

প্রেতাত্মা জেগে উঠেছে জেন বারান্দায়, 

এক সময় এই ফাঁকা শুনশান ১১ তলায় ছিলো জবুথবু, 

ওদের একান্ত সংসারবাদ। 

 

ঘরে কানাকড়ি নেই, দানাপানি নেই, 

গেরস্থালি নেই, ধরপাকুড় নেই, 

ঝাঁপঝুঁপ নেই, ঘরে জবুথবু নেই আর।

 

থবু দিন আনি দিন শুধু খাই খাই,  

উত্তুরে হাওয়ায় তার বেদনার, 

সুরেলা ধীমক উড়ে গান গায়। 

গপ্পো বলে। থবু আজকাল একাই থাকে, 

একাই রাঁধে, একা একা খেতে পারে না, 

গরাস তোলে আর গরাস ফেলে দেয় পাতে। 

থবু আজকাল শুধু গান গায়, তান দেয়, 

এদিক সেদিক ছোঁক মারে, 

আর খুব খুব খিদে পেলে, পেটে বালিশ চেপে পড়ে থাকে। 

 

তারপর গাবগুব অখাদ্য কুখাদ্য নিয়ে, 

এভাবেই থবুও একদিন গরাস তুলে নেয়, 

তার বাতায়নে নীল পাখির ডাক পড়ে আছে 

হপ্তাখানেক হলো, 

মরে গেছে কি করে, 

এসব বসন্তের যা হাওয়া!

 

৩: রো মন্থন

জবুর জ্বর জ্বর হলে রাতে দুঃস্বপ্ন, 

রক্তপাত, ভুত দেখে জবু। থবু বান্ধবীবাগানে 

গিয়ে কলকল, থবুও একান্ত থাকে, একা। 

ভাবে সে মরে যাবে না তো, শেষ টুকু বাকি রয়ে যাবে।  

 

কালজানী, আর না জানি কতো কতো, 

দোঁহে মিলে সুরে ও সংসারে, দূরে দূরে, 

কাজ রয়ে গেছে, রয়ে গেছে দুজনার শেষ। 

 

শেষবার জবু মনে করে ভোর রাতে 

কোজাগরী চাঁদের আলোয় 

জমে যেতে যেতে 

ওরা 

চুমু 

খেয়ে

ছিলো, 

মনে 

পড়ে, 

বহুদিন অমনভাবে সোচ্চারে চুমু খাওয়া হয়না। 

 

বাতায়নে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে, ক্ষীণ। 

 

কে যেনো দূরের স্বপ্নে চলে যাচ্ছে রাস্তার ওপারে, 

 

কে যেনো আর ফিরেও তাকালোনা।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *