ছোটদের চোখে মে দিবস

শ্রমিকদের উপর অতিরিক্ত অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ করেই ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ পালন করা হয়।

শ্রমিকদের যতটা সম্মান প্রাপ্য, তার সিকি ভাগও পায়নি তাঁরা। অথচ এঁরা না থাকলে মানুষের সমস্ত কিছু বন্ধ হয়ে যেত। বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে কিছু খারাপ হলে সারিয়ে দেওয়ার থাকত না কেউ। রাস্তাগুলো নোংরাই পড়ে থাকত। এরকম আরো হাজার উদাহরণ পাওয়া যাবে। তবুও সমাজ তাঁদের সম্মান করতে নারাজ।

কাজের মাসি সকাল বেলা ঘর ঝাঁট দেওয়ার সময় পাখা বন্ধ করলেই আমরা কত বিরক্ত হই। কিন্তু আমরা এটা ভাবি না যে সেই মানুষটি কত কষ্ট করে পুরো বাড়িটা পরিষ্কার করছেন পাখা ছাড়াই। অথচ এই মাসিই একদিন ছুটি নিলে তাঁর কাজগুলি করতে আমাদের দম বেরিয়ে যায়। তখনও আমরা ভাবি না তাঁর কথা। ভাবি না, যে এই এতগুলো কাজ তাঁকে আরও পাঁচ-সাতটি বাড়িতে করতে হয়।

শ্রমিকদের ছোট চোখে দেখা, তাচ্ছিল্য করা, এসব তো হয়ই। তাঁরা স্কুলে যাননি, লেখাপড়া জানেন না বিশেষ, তাই তাঁদের মূল্য নেই বলে মনে করা হয়। কিন্তু আমরা যারা লেখাপড়া করেছি, বা এখনো করছি, তাদের মধ্যে যদি এই ধারনা থেকে থাকে, তাহলে আমাদের পড়াশোনার কি কোন মূল্য আছে ?

নয়নিকা রায় – নবম শ্রেণী। ‘বামা’ পত্রিকার নতুন সদস্য।

Author Image

মানুষ অনেক উন্নত হলেও এখনো পৃথিবীতে দুটি ভাগ আছে। শ্রমদাতা আর শোষণকারী। শ্রমিকদের খেতে হয় রক্ত জল করে, আর তাদের কাজের ফসল থেকে জোগাড় করা অর্থর বেশির ভাগই গ্রাস করে মালিক। ১৮৮৯ সালে হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যে আন্দোলন হয়, তাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। শ্রমিকদের সমান অধিকার আদায় করতে সমস্ত মানুষের মনেই সচেতনতা ফুটিয়ে তোলা দরকার। শ্রমিকরা না থাকলে আমাদের বাঁচাই সমস্যা হত। তাই আমার কাছে মে দিবস আজকের দিনেও তাৎপর্যপূর্ণ। তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে ততদিন, যতদিন এই বিশ্বে থাকবে এই দুই শ্রেণীর মধ্যে বৈষম্য।

রূপকথা – অষ্টম শ্রেণি। ‘বামা’ পত্রিকার কনিষ্ঠ সদস্যদের একজন। 

Author Image

মে দিবসে অনুষ্ঠান হয় নানা জায়গায়। গণসঙ্গীত গাওয়া হয়। ‘ও আলোর পথযাত্রী’ গানটা আস্তে শুরু হয়, কিন্তু তারপর দ্রুত হয়ে যায়। সেটা আমার ভাল লাগে। ‘জন হেনরি’ গানের হেনরি একজন শ্রমিক। এই দিন শ্রমিকদের দিন। গত দু বছর আমরা বাড়িতেই এই দিবস পালন করেছি লকডাউনের জন্য। অথচ গতবছর পরিযায়ী শ্রমিকদের কত দুর্দশা ছিল!

সহজিয়া – দ্বিতীয় শ্রেণি। ‘বামা’ পত্রিকার কনিষ্ঠ সদস্যদের একজন।

মে মাসের প্রথম দিনে মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রম ও শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়৷ এই দিন শ্রমিকদের ঐক্য ও সংহতি উদযাপন করে। ইউরোপে, ঐতিহাসিকভাবে এইদিন গ্রীষ্মের আগমনী হিসেবে এক আনন্দের দিন বলে চিহ্নিত ছিল। পরবর্তী কালে, ১৮৮৯ সালে মে দিবসকে বাছা হয় শ্রমিকদের আন্দোলন আর প্যারির দ্বিতীয় কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের কথা স্মরণ করার জন্য। তার পর থেকে তা বিশ্বের সব শ্রমিকদের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়। ১৮৮৬ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে শয়ে শয়ে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জড়ো হয়। শিল্পবিপ্লবের পর কম সময়ে অনেক বেশি উৎপাদন করা যে কারখানাগুলো চারিদিকে গড়ে উঠেছিল, সেখানে নির্দিষ্ট নিয়মের অভাবে পুরুষ, নারী ও শিশু শ্রমিকদের অসহ্য পরিবেশে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হত। কাজ করতে হত খনিতেও। বেতন নির্দিষ্ট ছিল না। তার প্রতিবাদে মিছিল। কিন্তু মিছিলে বোমা পড়ে ও অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ মারা যায়। সেই ত্যাগের স্মরণেই মে দিবস পালন।

দারিদ্র্য আর অভাবে শ্রমিকদের নিত্যদিনের প্রয়োজন মিটত না। ১৮ শতক থেকেই শ্রমিকরা জোট বাঁধছিল ভাল কাজের পরিবেশের দাবিতে। হে মার্কেটেও সেরকমই মিছিল ছিল। আজ অবশ্য আমরা হে মার্কেটের শহিদদের জন্য শুধু না, বিশ্বের সব শ্রমিকদের জন্য এই দিন পালন করি। আট ঘণ্টার কাজ আর নির্দিষ্ট মজুরি আদায়-এ হয় শ্রমিক ঐক্যের জয়। সেই জয়ই পালন করা হয় এই দিনে। ভারতেও এই দিন পালন করা হয়। ১৯২৩ সালে চেন্নাইতে লেবার কিষাণ পার্টি ভারতবর্ষে প্রথম এই দিন পালন করে। প্রায় আশিটি দেশ পয়লা মে শ্রমিক দিন পালন করে। আবার ইউএস বা কানাডা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনে তা পালন করে। আমাদের মনে রাখতে হবে শ্রমিকরাই জাতির মেরুদণ্ড। জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি ও শিল্পে অগ্রগতি তাদের ছাড়া অসম্ভব। তাই আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস বা শ্রমিক দিবসে তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা রইল।

অরণ্য ভাওয়াল – পঞ্চম শ্রেণি। ‘বামা’ পত্রিকার নতুন সদস্য। যদিও সে বাংলায় লিখতে পারে কিন্তু এই লেখাটি ইংরেজিতে হওয়ায় আমরা সেখান থেকে ছোট করে বাংলায় অনুবাদ করে নিয়েছি। মূল লেখাটা পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ছবি – আনখ সমুদ্দুর

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *