মেয়েজন্মের কিছুমিছু

(১)

গৃহহীনে গৃহ দিলে 

নাহ! 

একেকদিন রাত্তিরে আর বাড়িতে থাকা যায় না 

তো রাস্তায় বেরোই  

এখন রাস্তায় আবার ধর্ষণ হতে পারে

তাই নানান ফ্ল্যাটবাড়ির চৌহদ্দিতে 

দারোয়ানদের চোখের শামিয়ানায় ঘুরি 

তাতেই একটু অন্ধকার 

একটু উপশম 

এইবার! 

পাড়ার একটু ওধারে গেলেই 

কুকুর তাড়া করে! 

প্রচণ্ড রাগ হয় তখন 

কুকুরদের ধরতে বড়দরজার দারোয়ানরা এগিয়ে আসে 

আমার আনন্দ হয় 

খা! 

কুত্তার দল!

এবার মার খা! 

তারপর আমার দুঃখ হয়!  

আমি ছুটে যাই! 

মেরো না!

মেরো না! 

ওরাও আমাদের মতো

যে বাড়িতে ভাত পায়

সে বাড়িকে আগলায়

মর্কট! 

সে বাড়িকে

নিজের বাড়িই মনে করে। 

(২)

ছ্যাঁকা 

ব্যথাটা হলেই আমি পালিয়ে যাই 

পালিয়ে যেতে চাই 

পোঁদে হু হু ক’রে হাওয়া জ্বলে 

এইজন্যেই আমি অ্যামাজন থেকে সব হাল্কা জিনিস কিনি 

উড়ন্ত জাজিম কিনি 

প্রথমে আমি খারাপ কথাদের সামনে ছাতা ধরি 

তারপর রেইনকোট পরি 

আমি রান্নাঘরে রেইনকোট পরি 

আর বিছানায় হেলমেট 

আর ভালবাসার সময়ে আমি অ্যালিসের থেকে থিম্বল চেয়ে নিই 

আর গাড়িদের থেকে বার ক’রে নিই এয়ারব্যাগ 

হঠাৎ ঝটকা লাগে 

হঠাৎ হঠাৎ অ্যাসিড বৃষ্টি হয়

হাত থেকে রোজকার মতন খেতে খেতে হঠাৎ কুকুরটা ঘোষণা করে 

‘আমার জলাতঙ্ক হয়েছে’ 

বোঝো!

ব্যথাটা বাড়লেই আমি পালিয়ে যেতে চাই 

পালিয়ে যাই 

ব্যথাটার সঙ্গে খানিকক্ষণ একা শুতে লাগে 

ঠিক কোথায় সানাই বাজিয়েছে বুঝতে লাগে 

পালিয়ে যাই 

যখন যেমন 

কখনো পাঁচিল ডিঙিয়ে 

কখনো দরজা পেরিয়ে 

কখনো সোজা বারান্দা থেকে ভেসে প’ড়ে

শেয়ার করুন

1 thought on “মেয়েজন্মের কিছুমিছু”

  1. ইউসুফ মুহম্মদ

    খুব ভালো কবিতা। মুগ্ধতা গেলাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *