লুসি পারসনস, হে মার্কেট শ্রমিক বিক্ষোভের অন্যতম কারিগর

১৮৮৬, ১লা মে। আট ঘন্টা কাজ, আট ঘন্টা বিশ্রাম ও আট ঘন্টা অবসরের দাবিকে সামনে রেখে প্রায় ৮০,০০০ শ্রমিকের মিছিল এগিয়ে চলে শিকাগোর মিশিগান অ্যাভেনিউ ধরে। এর তিনদিন পর এই শিকাগো শহরই দেখবে ঐতিহাসিক হে-মার্কেট দাঙ্গা। রক্তাক্ত হবে শ্রমিক আন্দোলন। জন্ম নেবে শ্রমিকদের নিজেদের দিন, মে দিবস।সেদিনের সেই মিছিলের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিক নেত্রী লুসি গঞ্জালেস পারসনস্।

হে মার্কেট দাঙ্গায় পুলিস হত্যা ও হিংসার দায়, আরও ছজন অ্যানার্কিস্ট নেতার সাথে অভিযুক্ত হন লুসির স্বামী তথা কমরেড অ্যালবার্ট পারসনস। অ্যালবার্ট সহ বাকিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রচার চালান লুসি। ১৮৮৭ সালের নভেম্বর মাসে ফাঁসি হয় অ্যালবার্ট সহ চার অভিযুক্তের। আজীবন সমাজতন্ত্রী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করে যান লুসি। সারাজীবনে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপের সঙ্গে, নীতির প্রশ্নে থেকেছেন আপোসহীন। বিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উচ্ছেদের লক্ষ্যে স্থির থেকে চালিয়ে গেছেন লড়াই। কৌশলগত কারণেই ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন নিজের বর্ণগত পরিচয় ও অতীত নিয়ে।

তিনি মনে করতেন শ্রেণির প্রশ্নে বৃহত্তর সংগ্রামের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে লিঙ্গ ও বর্ণের প্রশ্ন। রাষ্ট্র বারবারই তাঁকে দমিয়ে দিতে চেয়েছে, তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে খাটো করতে তাঁকে বারবার একজন শোকাহত বিধবা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছে। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর কাজ যাতে মানুষের কাছে না পৌঁছয় সে বিষয়ে সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। তারপরও তাঁর উত্তরাধিকারকে মুছে দিতে ব্যর্থ রাষ্ট্র। সেই উত্তরাধিকার বহন করে আজও রাস্তায় নামে শ্রমজীবী জনতা, শাসকের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে, স্বপ্ন দেখে এক মুক্ত পৃথিবীর।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *