গেরুয়া শাল পরে আসা ছেলেমেয়েদের লিখছি

গেরুয়া স্কার্ফ জড়ানো প্রিয় ছেলে-মেয়েরা,

নমস্কার! আমি তোমাদের এই চিঠি লিখছি যদিও তোমাদের সাথে আমার কখনও দেখা হয়নি। যখন আমি প্রথম তোমাদের ভিডিওগুলো দেখি, সত্যি বলতে খুব ভয়ই পেয়েছিলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ভারতে এসব ঘটছে, আমাদের সকলে যে দেশ সেই ভারতে। তোমাদের মধ্যে কাউকে বিপজ্জনক ভেবে ভয়টা পাইনি, আমার চোখে তোমারা এখনও বাচ্চাই, ভয় পেয়েছিলাম এরকম চরম বিভেদ সৃষ্টিকারী একটা শক্তি তোমাদের ব্যবহার করছে দেখে। আমি এসে তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই, তোমাদের সঙ্গে বসে কথা বলতে চাই, কিন্তু যতদিন না সেটা হচ্ছে, মনে হল, চিঠি-ই তোমাদের সঙ্গে কথা বলার সবথেকে ভাল উপায়।

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আমার বয়স সাঁইত্রিশ বছর, তোমাদের বয়সের দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু আশা করছি আবার একটা বুড়ো মানুষ এসে জ্ঞান দিচ্ছে ভেবে আমার কথাগুলোকে পুরোপুরি অবজ্ঞা করবে না। আমি তোমাদের কোনও উপদেশ দিতে আসিনি – আমি চাই তোমরা ভাবো, অনুভব করো, আর আমার সঙ্গে আমাদের দেশের ইতিহাসটা একবার ঝালিয়ে নাও।

যারা তোমাদের ইতিহাস পড়িয়েছে তারা হয়তো তোমাদের ব্রিটিশ-এর কথা বলেছে, উপনিবেশিকতা, বিশ্বযুদ্ধ আর স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা বলেছে। আমিও স্কুলে পড়ার সময়ে এই ইতিহাস পড়েছি। এটা কিন্তু গোটা গল্পের শুধু একটা অংশ। আরও একটা ইতিহাস আছে যেটা আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি, সেই ইতিহাসটা হল ভারতের শিক্ষার ইতিহাস। বিশেষতঃ, ভারতের হিন্দুদের মধ্যে শিক্ষার ইতিহাস।

আমরা যদি শুরুরও শুরুটা দেখি, মনে রেখ হিন্দু সমাজ কিন্তু মনে করেনি শিক্ষা সকলের জন্য।  এটা যে সকলের অধিকার সেটা এই হিন্দু সমাজ মানেনি। ব্রাহ্মণ ও দ্বিজ-রাই শুধু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত। শূদ্রদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দূরে রাখা হত। এমনকি কোনও শূদ্র যদি বেদ শুনে ফেলে,  মনুস্মৃতি, তার কানে গরম গলানো পারদ ঢেলে দেওয়ার বিধান দেয়। মনুস্মৃতি বলে, কোনও শূদ্র যদি বেদ-এর শ্লোক উচ্চারণ করে তার জিভ কেটে নিতে হবে। সব ব্রাহ্মণ আর সবর্ণরা অবশ্যই পড়াশোনার সুযোগ পেত না- মহিলারা পুরোপুরিই এর বাইরে ছিল। এমনকি মাত্রা একশো বছর আগের কথাই ধর, যদি সেই সময়ের সেন্সাস রিপোর্ট দেখ দেখবে প্রতি একশ জনে দুজনেরও কম মহিলা লিখতে ও পড়তে পারত।

মানুষকে শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে রাখা, সবচেয়ে ভয়ানকতম হিংসার হুমকি দিয়ে মানুষকে শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে রাখা—আমাদের ধর্মের ডিএনএ-তে গাঁথা রয়েছে। এই যে শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া, এর বিরুদ্ধেই আমাদের বিপ্লবীরা লড়াই করেছেন। সকলের জন্য শিক্ষার দরজা খুলে দিয়ে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

ফতিমা শেখ ও সাবিত্রী বাই ফুলে

১৮৪৮ সালে, মহারাষ্ট্রতে সাবিত্রীবাই ফুলে ও জ্যোতিরাও ফুলে, শূদ্র ও অতিশূদ্র মেয়েদের জন্য প্রথম স্কুল খোলেন। মেয়েদের শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করেছিল যে ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতন্ত্র, এটি ছিল তার বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জ। সাবিত্রী ফুলে যখন তাঁর স্কুলে পড়াতে যেতেন, বিরোধীরা পথে তাঁর দিকে গোবর ছুঁড়ত। আমাদের সমাজ এভাবেই মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতা করে এসেছে। আর জানো, এই সমস্ত আক্রমণকে নস্যাৎ করে দিয়ে আরও একজন, ক্রান্তিজ্যোতি সাবিত্রী বাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকতা করে গেছেন। তিনি ফতিমা শেখ, একজন মুসলিম মহিলা শিক্ষিকা। 

মহাত্মা আয়ানকালী

কেরালাতেও গল্পটা ছিল একই রকম। ১৯০৪ সালে, মহাত্মা আইয়নকালী, দলিত শিশুদের জন্য ভেগানুর-এ একটা স্কুল খুলতে চান, বর্ণ হিন্দুরা শুরুর দিনই স্কুলটা জ্বালিয়ে দেয়।  ১৯১০ সালে, তিনি যখন পঞ্চমী নামের একজন ছোট্ট দলিত মেয়েকে বলরামপুরম-এর উরুত্তামবালাম স্কুলে ভর্তি করতে যান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাধা দেন। এর ফলস্বরূপ, দলিতদের ওপর অত্যাচার নেমে আসে: নায়াররা পুলায়ার-দের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, তাদের গবাদিপশু লুঠ করে, মহিলাদের ওপর চলে যৌন নিপীড়ন, পুরুষদের ওপর শারীরিক অত্যাচার। নায়াররা চাইছিল না দক্ষিণ ত্রাভানকোর-এর স্কুলে পুলায়ার বাচ্চারা ভর্তি হোক। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আয়ানকালী রুখে দাঁড়ান, নেতৃত্ব দেন কৃষি ধর্মঘটে— নিজেদের জনগণকে নায়ারদের জন্য কাজ করতে না করেন। সংবাদপত্রের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, একজন পুলায়ার মহিলা যা কাজ করতে পারতেন সম পরিমাণ কাজ করছে ছজন নায়ার পুরুষের প্রয়োজন হত – শারীরিক শ্রমের সঙ্গে এতটাই দূরত্ব ছিল উচ্চবর্ণের মানুষদের। তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে হয় আর সরকারী স্কুলে দলিত শিশুদের পড়াশোনার অনুমতি দিতে হয়।

ড. ভীমরাও আম্বেদকর

আধুনিক ভারতের জনক ড.আম্বেদকর, ভারতীয় সংবিধানের প্রধান রূপকার, শিক্ষার অধিকারকে আমাদের দেশের আইনের অন্তর্ভুক্ত করেন। সাম্যের অধিকার বলে আমাদের ধর্ম অথবা বর্ণের ভিত্তিতে আমাদের মধ্যে কোনও বৈষম্য করা যাবে না।

থানথাই পেরিয়ার

ড. আম্বেদকর-এর র্যাডিকাল চিন্তাধারার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থানথাই পেরিয়ার ১৯৫১ সালে তামিল নাড়ুতে প্রতিবাদ সংগঠিত করেন, যার ফল ভারতীয় সংবিধানের প্রথম সংশোধনী। এই সংশোধনীর বলে, সরকার  সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণি ও তফশিলী জাতি ও উপজাতির অন্তর্গত মানুষদের অগ্রগতির জন্য সংরক্ষণ করার অধিকার পায়। পেরিয়ার অন্য একটি অবিস্মরণীয় লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন – পুরুষানুক্রমিক শিক্ষাকে সিলেবাসে পুনঃপ্রবর্তন করার প্রয়াসকে ব্যর্থ করে এই লড়াই। কুলাকালভি থিট্টম, পুরুষানুক্রমিক শিক্ষার অর্থ, আমাদের মা-বাবা পরম্পরাগতভাবে যে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, আমরাও শুধুমাত্র সেই শ্রমেই অংশগ্রহণ করতে পারব। জেলখানার মতো খোপ কাটা, অর্থাৎ আমাদের শিক্ষা কোনওদিনই আমাদের এই বর্ণ ব্যবস্থার ভয়বহতা থেকে মুক্তি দিতে পারবে না।   

ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার এই ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতান্ত্রিকতাকে ধ্বংস করার জন্য, এই শিক্ষায় আমাদের সকলের অধিকার এই দাবি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমাদের লড়াই আজও চলছে। শিক্ষায় মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ লাগু করা হোক বা মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ওবিসি সংরক্ষণ লাগু করার লড়াই হোক, NEET বা নয়া শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে লড়াই হোক অথবা রোহিথ ভেমুলা বা ফতিমা লতিফ—সংগ্রাম আজও শেষ হয়নি।  

ভারতে সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে কারণ বঞ্চিত জাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষেরা একসাথে মিলে এটা সম্ভব করেছিলেন, এবং তারা নিশ্চিত করেছিলেন কেউ যেন শিক্ষা ও সৃজনের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থার ধারণাটাই এটা, কোনও কিছুর ভিত্তিতেই কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।

আমি এই দীর্ঘ কঠিন ইতিহাসটা বললাম কারণ আমি চাই তোমরা জান যে আজকে কী ঘটছেহিজাব পরা মুসলিম মেয়েদের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়াও এই একই অত্যাচারী ব্যবস্থারই অংশ।

তোমাদের দিয়ে কী করানো হচ্ছে দেখ। তোমাদের জোর করে গেরুয়া স্কার্ফ পরিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করতে বলা হচ্ছে। আমার জন্ম একজন হিন্দু মহিলা হিসেবে, কিন্তু এক বছরে আমার বাড়িতে কোনও গেরুয়া স্কার্ফ আমি দেখিনি। আমার নিজের বাবা একজন সর্বক্ষণের আরএসএস প্রচারক ছিলেন, যিনি সংগঠনের মনুবাদী বর্ণ আধিপত্যের কারণে দল ছেড়ে দেন,  দল ছাড়েন সংগঠনের সংখ্যালঘুদের প্রতি, অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার প্রতি ঘৃণা দেখে। আমি তোমাদের লিখছি কারণ আমি নিজের চোখের সামনে দেখেছই একজন সম্পূর্ণ মগজধোলাই হয়ে যাওয়া সংঘীর-ও ঘৃণাকে পিছনে ফেলে আসার সুযোগ রয়েছে। তুমি একজন নতুন মানুষ হতে পার, এক ভাল মানুষ হয়ে উঠতে পার। তুমি ঘৃণার রাজনীতিকে না বলতে পার।

ব্রাহ্মণ আধিপত্য যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে হাজার হাজর বছর ধরে আচ্ছন্ন করে রেখেছে তার বিরুদ্ধে তুমি কেন লড়বে? এই ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী ফল রয়েছে, কারণ মনুবাদী বর্ণবাদী ধারণায় একমাত্র ব্রাহ্মণ পুরুষকেই বুদ্ধিমান বলে মনে করা হয়েছে। মনে করা হয়েছে একমাত্র তারই শিক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে, সুতরাং, তারই বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তন শক্তি রয়েছে। বাকি আমাদের সবাইকে বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষার অযোগ্য ধরে নেওয়া হয়েছে, বর্ণ ব্যবস্থা আমাদের বোধহীন প্রাণী হিসেবে দেখে এসেছে, যুক্তিবুদ্ধিহীন বোকা হিসেবে দেখেছে, দেখেছে মোষের পাল হিসেবে। তোমাদের দেখেছে সেই সেনানী হিসেবে দেখেছে যার নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও অধিকার নেই। তোমরা যখন গেরুয়া স্কার্ফ পরে ওই মিছিলগুলোতে হাঁট, মনে রেখ তোমরা কিন্তু একেবারেই সেই মোষের পালের মতোই ব্যবহার করছ, যার নিজস্ব ভাবনার ক্ষমতা নেই, যে জানেনা মানবিক সহমর্মিতা কী, মগজহীন বোকা যে আমাদের আধুনিক দিনের হিটলার-এর নির্দেশ অনুসরণ করে চলে অন্ধভাবে। তোমাদের এভাবে দেখা আসলে  তোমার বৌদ্ধিক ক্ষমতার অপমান। তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ বা পূর্ব নারীদের কাউকে স্কুল কলেজে গেরুয়া শাল পরে যেতে দেখেছ কখনও? এই পোশাক কোথা থেকে গজাচ্ছে? কোন গবেষণাগারে তৈরি এগুলো?

তোমাদের কৌম শিক্ষার অনুশীলন থেকে শেখা ও সারা জীবনের সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার বন্ধন তৈরি করার কথা, কিন্তু এই বিভাজনকারী শক্তিগুলো চায় তার বদলে তোমরা গেরুয়া স্কার্ফ জড়িয়ে নির্দিষ্ট ছাত্রীদের কিছু নির্দিষ্ট পোশাকের বিরোধিতা কর (এখন সেটা হিজাব, কাল অন্য কিছুও হতে পারে। ) সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো চায় তোমরা ঘৃণা ও নিঃসঙ্গতার জীবন কাটাও, যেখানে কোনও শিক্ষাই ফলদায়ী নয়, অর্থপূর্ণ নয়, কারণ এটা সত্যিকারের শিক্ষার পরিপন্থী।

প্রিয় ছেলেমেয়েরা, মনে রেখ যে সমাজে এই ঘৃণার অনুশীলন হয় সেই সমাজ কখনও নিজেদের স্বাস্থ্যকর সমাজ বলে দাবি করতে পারে না। সুখী, সন্তুষ্ট, ও স্বাস্থ্যকর মানুষের সমাজ হয়ে উঠতে পারে না। তুমি যদি এই বিভেদ আর ঘৃণার পথ অনুসরণ করো, তোমার কল্পনাশক্তি থমকে যাবে, তোমার ভাবনা বিকৃত হয়ে উঠবে। মর্যাদার জীবনের মূল কথাই হল ঘৃণা সবসময়ই ক্ষতিকর, সেটা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হোক, দলিতদের বিরুদ্ধে হোক, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে হোক, মহিলাদের বিরুদ্ধে হোক বা অন্য কারও। শিক্ষা আমাদের বর্তমান ক্ষমতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়, সম্পূর্ণ অন্যভাবে ভাবার সুযোগ দেয়। এই ঘৃণা আর বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিকে প্রত্যাখান করার সুযোগ আমাদের রয়েছে, যে শক্তি অত্যাচার আর বঞ্চনার কাঠামোকে টিকিয়ে রাখে, যে শক্তি আমাদের নতুন কিছু কল্পনা করতে দিতে চায় না। ওরা চায় আমরা পুরনো ব্যবস্থার খাঁচায় আমরা বন্দি থাকি। এই খাঁচাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে অনেক ভাল থাকবে তোমরা।    

সেই বোনদের পাশে দাঁড়াও যারা হিজাব পরে। ওরা তোমাদের বোঝাচ্ছে মুসলমান মহিলারা তোমাদের শত্রু—এই ঘৃণার প্রচারের ফাঁদে পা দিও না। ওরা তোমাদের বিভ্রান্ত করে রাখতে চায় কারণ ওরা চায় না তোমরা আসল প্রশ্নটায় মন দাও, যে প্রশ্ন তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে থাকে, আমাদের অর্থনীতির কী হচ্ছে? ভবিষ্যতে আমরা কোথায় চাকরি পাব? এই বিভ্রান্তিগুলো তোমাদের নিজেরে অধিকারের প্রশ্নে সংহত হতে দেয় না, উচ্চমানের ও বিনা বেতনের শিক্ষা, রুজিরুটি, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।  

মনে রেখ ছোটদের কোনও ভবিষ্যত নেই যদি না তোমরা তার জন্য লড়াই কর।

                                                                                                                      —মীনা কন্দস্বামী।

ছবি-  করিমগ্রাফি

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.