স্টোনওয়াল বিদ্রোহ : পাথুরে দেওয়ালের রঙধনু ইতিহাস

“তোমরা কিছু করছ না কেন? কিছু তো একটা করো?!” কথিত আছে জনতার উদ্দেশে এই কথা চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন একজন হাতকড়া বাঁধা মানুষ, পুলিশ যার মাথায় এইমাত্র আঘাত করেছে। ১৯৬৯ -এর ২৮শে জুন, নিউ ইয়র্ক শহরের ‘স্টোনওয়াল ইন’-এর সেই রাত পরবর্তী সময়ের দুনিয়ার রামধনু রঙে অন্য মাত্রা যোগ করবে। মানবজাত তদ্দিনে জেনে গেছে যে লঘু হলেই পিষ্ট হতে হয়, সংখ্যাগুরুর বেইনসাফি জো-হুজুর বলে সহ্য করে যেতে হয়। সে তুমি ধর্মপালনে হও নয়তো রাজনৈতিক চিন্তায় অথবা যৌনতার যাপনে, সংখ্যালঘু মানেই রাষ্ট্র, সমাজ থেকে শুরু করে পরিবার বা পাশের বাড়ির কাকু, এক কেলাসের পল্টু বা এক গেলাসের মান্তু … যে কেউ তোমার কান মুলে-চুল টেনে দিতে পারে, টিটকিরি দিতে দিতে জিন্দা জ্বালিয়ে দিতে পারে বা পারে অনায়াসে বুকে বুলেট গুঁজে দিতে।

“Whence spring these inclinations, rank and strong?
And harming no one, wherefore call them wrong?”

সেই ১৮৩৩ সালে নিকোলাস নিকোলস নামে এক ইংরেজ ক্যাপ্টেনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হল, পায়ুকামের ‘অপরাধে’ (capital offence of Sodomy)। বছরে দুই-এক বার এমন দন্ড সেই সময়ে বেনজির ছিল না। পেনিনসুলার যুদ্ধে লড়াই করে আসা সম্ভ্রান্ত পরিবারের নিকোলস-এর কোনও আপনজন তাঁর বিচার সময়ে হাজির থাকেনি। তবে ক্যাপ্টেনকে মনে রেখে বা সামনে রেখে যে কাব্য রচনা হল তা ঐতিহাসিক কারণ ইংরিজিতে সেটাই হয়ত সমপ্রেমের প্রতি প্রথম স্পষ্ট উচ্চারণ। ‘ডন লিয়ন’-এর রচয়িতা যদিও নিজেকে আড়াল করার জন্য বেছে নিলেন সমকামিতার ‘দোষে দুষ্ট’ কবি বায়রনের নাম, নয় বছর আগেই যিনি মৃত!

আদতে জার্মান হেনরি গার্বার ১৯২৪ সালে সমকামিদের অধিকার নিয়ে আমেরিকায় প্রথম নথিভুক্ত সংগঠন ‘The Society for Human Rights’ (SHR) প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও আইনের চোখরাঙ্গানি এড়াতে সংগঠনের কী উদ্দেশ্য সেই বিবৃতিতে ‘সমকাম’ শব্দটি ছিল অনুপস্থিত, এবং গার্বারের আবেদনপত্রর ভাষা ছিল চমকপ্রদ, “[T]o promote and protect the interests of people who by reasons of mental and physical abnormalities are abused and hindered in the legal pursuit of happiness which is guaranteed them by the Declaration of Independence and to combat the public prejudices against them by dissemination of factors according to modern science among intellectuals of mature age. The Society stands only for law and order;” ‘মানসিক এবং শারীরিক অস্বাভাবিকতা’ শব্দকূলেরা আমরা নিশ্চয়ই ঠাওর করে নিয়েছি!

এবং সময় এগিয়ে গেলেও ‘আধুনিক বিজ্ঞান এবং বুদ্ধি’ তেমন ‘পরিপক্ব’ হয়ে উঠল কি? ১৯৫২য় আমেরিকান সাইক্রিয়াটিক এ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) তাঁদের ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়্যাল অব মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স (DSM)১-এ সমকামিতাকে যৌন বিকৃতি বা মনোবিকৃতির তালিকাভুক্ত করে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে গোটা পাঁচের এবং ছয়ের দশক জুড়ে আমেরিকায় যেমন কম্যুনিস্টরা রাষ্ট্রের জন্য ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে নানা হেনস্থার শিকার হতে থাকে, যৌন সংখ্যালঘু মানুষদেরও নানা ভাবে অত্যাচার করা হতে থাকে।
১৯৫০-এর সরকারি একটি তদন্ত রিপোর্টে বলা হয় “সাধারণভাবে এটাই বিশ্বাস করা হয় যে যারা খুব স্পষ্টতই নানা বিকৃত ক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে, তাঁরা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো মানসিকভাবে স্থিতিশীল নয়।” এবং সমস্ত সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এই একটি বিষয়ে পূর্ণ সহমত হয় যে সরকারি পদে ‘বিকৃত যৌনতার’ মানুষেরা থাকলে তা নিরাপত্তার জন্য ‘বিপজ্জনক’। সুতরাং ১৯৫৩ সালে প্রেসিডেন্ট আইসেনহাওয়ার অতি তৎপর হয়ে কাজটি সেরেই ফেললেন। শয়ে শয়ে মানুষ রাষ্ট্রের এমন বিচিত্র ভয়ে চাকরি হারাতে শুরু করলেন। পরবর্তীতে যিনি আমেরিকায় সমকামিদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠবেন, হাভার্ড থেকে পাশ করা সেই জ্যোতির্বিদ ফ্র্যাঙ্ক কামনিও তাঁদের মধ্যে একজন, আর্মি ম্যাপ সার্ভিস তাঁর চাকরি কেড়ে নিল। চাকরি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় কামনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তিনি হেরে যান, কিন্তু যৌন সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে এমন মামলা আমেরিকার আদালত সেই প্রথম দেখল।
আর এই সময় জুড়েই কিন্তু আমেরিকায় একে একে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে ম্যাটাশিন সোসাইটি, ডটারস্ অব বিলিটিস, জানুস সোসাইটি, ইস্ট কোস্ট হোমোফাইল অর্গানাইজেশন, ভ্যানগার্ড ইত্যাদি।

পাঁচ পেরিয়ে ছয়ের দশকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আরও জোরদার হতে শুরু করল। ইতোমধ্যে ‘Glide Memorial Methodist Church’ এবং ডটারস্ অব বিলিটিস-এর উদ্যোগে তৈরি হ’ল ‘Council on Religion and the Homosexual’, অর্থাৎ এই ‘নিষিদ্ধ’ বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলাপ শুরু হ’ল। বচ্ছরকার শুরুর দিনেই সংগঠনের টাকা তোলার জন্য এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র ক’রে পুলিশি ঝামেলা-সংঘর্ষ-গ্রেফতার ইত্যাদি আইন-আদালত অবধি গড়াল। এরপর ১৯৬৫-র নিউ ইয়র্ক এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল। ইউনাইটেড নেশনস-এর সদর দফতরের সামনে যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আইন-আচরণের প্রতিবাদ জানালেন কিছু আন্দোলনকারী। মূলত দুটি দেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হ’ল। কোন দুটি দেশের বিরুদ্ধে? আমেরিকা এবং কিউবা! মজার নয়? কিউবায় কাস্ত্রো তখন জোর করে সমকামি মানুষদের লেবার ক্যাম্পে পাঠাচ্ছেন আর আমেরিকা মদের গেলাস থেকে শুরু করে চাকরি, সবই কেড়ে নিচ্ছে! যাদের সম্পর্কের রসায়ন বলতে আদা-কাঁচকলা ছাড়া আর কিচ্ছুটি ভাবার জো নেই, এই একটি বিষয়ে তাদের জ্ঞানবুদ্ধি-বিবেচনা কিন্তু একই রাস্তায় হেঁটেছে।

১৯৬৫ আরও অনেক আন্দোলন দেখল। ইস্ট কোস্ট হোমোফাইল অর্গানাইজেশন হোয়াইট হাউসের সামনে দু’বার বিক্ষোভ দেখাল। মিলিটারিতে বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে পেন্টাগনের সামনে, ফিলাডেলফিয়ায় বা সান ফ্রান্সিসকোতে একাধিকবার সংখ্যালঘুর স্বর গর্জে উঠল। ১৯৬৬-তে সান ফ্রান্সিসকোরই ‘কম্পটন্স ক্যাফে’-তে রূপান্তরকামী মানুষেরা পুলিশি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ল। প্রতিবাদের অনন্য ভঙ্গি নিয়ে এরপরে ‘ভ্যানগার্ড’-এর জনা পঞ্চাশেক সদস্য ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কারে বেরিয়ে পড়ে, নোংরা যেমন ঝেটিয়ে বিদেয় করা হয়, পুলিস প্রতিদিন যেন বা তাদের অস্তিত্বকে ঘৃণায়, নোংরাজ্ঞানে বিদেয় করে। এরপর ১৯৬৭র শুরুতেই লস এঞ্জেলসের ‘ব্ল্যাক ক্যাট ট্যাভার্ন’-এ নতুন বছরের পার্টি। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার জন্য ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করছিল সাদা পোশাকের পুলিস। নতুন বছর শুরুর আনন্দে দুই পুরুষের চুম্বনদৃশ্য দেখামাত্র আইনরক্ষকরা নিজরূপ নিয়ে শুরু করেছিল ধরপাকড়। জনতা কিন্তু সেদিন মুখ বুজে এই হামলা সহ্য করেনি। মাতম করে ফিরে না গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি কারণে। ‘ব্ল্যাক ক্যাট ট্যাভার্ন’-এর ওই জুলুমবাজির অভিঘাতে যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের নিজেদের কথা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল ‘দ্য এডভোকেট’ নামের পত্রিকা, আমেরিকায় এমন প্রকাশনা প্রথম এবং আজও প্রকাশিত হয়ে চলেছে ‘দ্য এডভোকেট’। মাথা নিচু ক’রে আর অনুনয়বিনয় নয়, রাষ্ট্রের এবং সমাজের চোখে চোখ রেখে কথা বলার তেলনুনলাকড়িও কিন্তু জমতে শুরু করল।

১৯৬৯-এর সেই সরাইখানার থেকে অনেক দূরে সরে এলাম হয়ত, কিন্তু বোঝা যাবে এমন প্রেমের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্র-পরিবারের ভঙ্গী, যে কোনও যুগে, কালে, সময়ে এমনই বিদ্বেষপূর্ণ, হৃদয়হীন ছিল। কিন্তু মানুষের লড়াই থেমে যায়নি, আজ এক প্রতিবাদী কণ্ঠের টুঁটি চেপে ধরলে আগামীতে সেই স্বরই হাজার গলায় সুর হয়ে বেজে উঠবে, দুনিয়া এই আশা নিয়েই বেঁচে থেকেছে। ৬৯-এর আমেরিকায় তখন ভিয়েতনামের যুদ্ধ শেষের দিকে চলেছে, নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ শুরু হয়ে গেছে, কয়েকদিন পরেই চাঁদের মাটিতে মানুষ পা রাখবে, এ হেন উত্তাল সময়ের আমেরিকায় ঘটল ‘স্টোনওয়াল ইন রায়ট’। ‘স্টোনওয়াল ইন আপরাইজিং’ বা ‘স্টোনওয়াল ইন রেবেলিয়ন’ বললে হয়ত সেই প্রতিবাদী আবেগকে আরও যথাযথ উপায়ে ধারণ করা যায়। পুলিশি হেনস্থার কারণে কোনও বারে গিয়ে শান্তিতে নিজের আয়েসে দু’পাত্তর মদ্যপানের কথাও ভাবা যেত না, কারণ সেই সময়কালে সমপ্রেমের যে কোনও রকমের প্রকাশ নিষিদ্ধ ছিল। ‘নিউ ইয়র্ক স্টেট লিকর অথরিটি’ একাধিক পানশালা হয় বন্ধ করে দিচ্ছিল অথবা জরিমানা করছিল। অপরাধ? সমকামিদের তাঁরা মদ পরিবেশন করেছেন! এবং এমন যে কোনও জমায়েত ‘বিশৃঙ্খলা’র সৃষ্টি করতে পারে এমন অজুহাতে পুলিশও তাল মিলিয়ে তাদের মর্জি-মাফিক হামলাহেনস্থা চালিয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের আন্দোলনও ক্রমশ তার প্রকৃতি বদল করছিল। সাবধানী পদক্ষেপে, অনেক ভাবনাচিন্তা করে আইনি পথের বাধাও যেমন রদবদলের চেষ্টা হচ্ছিল, তেমনই প্রতিবাদমুখর হয়ে পথেও নামা হচ্ছিল। ১৯৬৬ তে ম্যাটাশিন সোসাইটির সদস্যরা তাঁদের যৌন পছন্দ গোপন না রেখে পানশালা অভিযান শুরু করেন, যারা তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়া হয়। এই নিয়ে লাগাতার নানাবিধ আন্দোলন, আলোচনা হতে হতে শেষ পর্যন্ত ১৯৬৬ সালেই এইসব নিয়ম কিছুটা শিথিল হলেও বিধিনিষেধের বেড়ি কিন্তু পরানোই থাকে। এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধ চক্র চালানো জেনোভেসে পরিবার ওই এলাকার বেশ কয়েকটা ‘গে বার’-এর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ‘স্টোনওয়াল ইন’ ছিল তেমনই একটি পানশালা। শোনা যায় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বড়লোক ক্যুইয়ার মানুষদের থেকে এই পরিবার টাকাও নিত। বারটি মোটেই পরিচ্ছন্ন ছিল না, মানও ছিল অত্যন্ত সাধারণ। কিন্তু শুধু যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের প্রতিই নয়, ‘স্টোনওয়াল ইন’ রূপান্তরকামীদের বা ড্র্যাগকুইনদের প্রতিও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করত। সেই সময়ে যা খুবই বিরল। সস্তা এই বার ভবঘুরে, আস্তানাহীনের সাময়িক মাথা গোঁজার ঠাঁইও ছিল, সেই সঙ্গে নাচ করার অনুমতিও দিত। কিন্তু এমন ভাবার কোনও কারণ নেই যে খাপছাড়া মানুষদের আনাগোনায় সরগরম এই বেখাপ্পা বার দেখে পুলিশ তার টুপি খুলে দাঁড়াবে! সুতরাং নিয়ম ক’রে পুলিস আসত, হেনস্থাও করত কিন্তু বড় রকমের কিছু কখনও হয় নি। কিন্তু ২৮ জুনের সেই রাত্তিরে আচমকা পুলিশি হামলা এবং ১৩ জনকে আটক করা হলে জনতা আর সহ্য করে নি। মার খেয়ে বা হাতে হাতকড়া পরে মাথা নীচু করে, চোখে জল নিয়ে ফিরে যায় নি। সেই রাত্তিরে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, আরও অনেক অনেক বারের মতো। ইতিহাস তার পাতায় পাতায় দেশ জুড়ে হয়ে চলা প্রতিবাদের যে দিনলিপি লিখে রাখছিল, সেই ইতিহাস বুকে নিয়ে, অতীতের সব নিপীড়ন, লাঞ্ছনার, যন্ত্রণার হিসেব সেই রাত বুঝে নিতে চাইছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর-বোতল-গেলাস ছোঁড়া শুরু হল, চোখের জল আগুন হল, দমকল আর রায়ট পুলিশ এসে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙা জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও তার পরের পাঁচ-ছয় দিন ‘স্টোনওয়াল ইন’-এর রাস্তা পূর্ণ হয়ে রইল হাজার মানুষের স্রোতে। রংধনু পতাকার তখনও জন্ম হয়নি, কিন্তু আগামী দিনে তারে ‘বহিবার শকতি’ এক নতুন দিশা পেল। ১৯৭০-এর ২৮শে জুনে ‘স্টোনওয়াল ইন’-এর ঘটনার এক বছর পূর্তিতে যে মিছিল আমেরিকা দেখল তার নাম ছিল ‘Christopher Street Liberation Day March’। কত রকমের স্লোগান নিয়ে, নিজেদের দাবি স্পষ্ট উচ্চারণে ব্যানারে লিখে সে মিছিল পায়ে পায়ে হাঁটল। বলে উঠল “Say It Loud! Gay & Proud!” বলে উঠল “আমি গর্বিত, লজ্জিত নই।’’ ঘুমচোখ আমেরিকা পরের দিন সকালের নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন দেখল “Thousands of Homosexuals Hold A Protest Rally in Central Park.” চোখ কচলে গা ঝাড়া দিয়ে সংখ্যাগুরু নানা তরিকায় ভবিষ্যতেও জুলুমবাজির বিবিধ ফন্দী আঁটবে, ইতিহাস তার সাক্ষী থাকবে, কিন্তু সেই মিছিলের স্লোগান, সেই মিছিলের আগুনতাপ পায়ে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাবে কত দেশে, জনপদে। নিজের পরিচয় নিয়ে, মাথা উঁচু করে, গর্ব নিয়ে অবশেষে হাঁটতে শুরু করবে ‘প্রাইড মার্চ’।

আর হ্যাঁ, ২০১০-এ ফিদেল কাস্ত্রো ক্যুইয়ার মানুষদের নিয়ে তার দমননীতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইবেন এবং ‘স্টোনওয়াল ইন’ ঘটনার ৫০ বছর পূর্তিতে নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলবেন “The actions taken by the N.Y.P.D. were wrong — plain and simple”!

শেয়ার করুন

2 thoughts on “স্টোনওয়াল বিদ্রোহ : পাথুরে দেওয়ালের রঙধনু ইতিহাস”

    1. Debjani Rakshit

      Darun lekha..onek onek kichu jante parlam eta pore..thank u ei lekha tar jonno..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *