sukumari bhattacharya

প্রতিমার পশ্চাদপট, ঐতিহ্যের জোঁক: নারীচেতনার প্রশ্নে সুকুমারী ভট্টাচার্য

‘ভাবাদর্শ’কে একটি সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্যাটেগরি হিসেবে দেখতে সমস্যা ঠিক কী? যেভাবে আধুনিক কালে লেখাপড়ার জগতের আলোচনায় ভাবাদর্শের ধারণাটি নিজেই ক্রমে ভাবাদর্শে জারিত হয়ে গেল, ক্লিফর্ড গিয়র্টসের কাছে তা প্রহসনোপম ঠেকেছে।1 ম্যানহেইম একসময় এই বিবর্তন বেশ খানিক খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। গিয়র্টসের মতে তিনি বিশেষ সুবিধে করে উঠতে পারেননি। একক ব্যক্তির সমাজচিন্তা যে নিরালম্ব, স্বয়ম্ভূ নয়, বরং ব্যক্তির জীবন ও পরিস্থিতির দ্বারা নির্ধারিত – এ কথা সত্য বলে স্বীকার করে নিলেই যে সব সমস্যা মিটে যায়, তা একেবারেই নয়। বরং এ কথা স্বীকারে সমস্যা জটিলতর হয়। ম্যানহেইম ভাবাদর্শের একটা ‘অব্যাখ্যেয় ধারণা’ দিয়ে মোটামুটি সমাধান সূত্র খুঁজতে চেয়েছেন। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্যাটেগরি হিসেবে ভাবাদর্শকে এভাবে দেখতে গিয়ে তিনি এক জ্ঞানতাত্ত্বিক ও নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদের ফাঁপরে পড়ে গেছেন। যে ব্যক্তিকে পরিস্থিতির দাস বলে ভাবাদর্শের ধারণাকে প্রস্তাব আকারে পেশ করা হল, সেই ব্যক্তিই ঘুরে ফিরে আবার আমড়াতলার মোড়ে এসে হাজির। সঙ্গত যুক্তিতেই একে ম্যানহেইম-এর প্যারাডক্স বলে টলে যথেষ্ট সমালোচনাও করা হয়েছে।2

গিয়র্টস নিজে ভাবাদর্শকে এই অব্যাখ্যেয় ধারণা রূপে কল্পনা করে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনায় পদ্ধতিগত ক্ষেত্রে একে ব্যবহার করার কিছু রাস্তা বাতলেছেন। গিয়র্টসের মতে ভাবাদর্শকে এককভাবে একটা সম্পূর্ণ সত্তা হিসেবে কল্পনা করে নেওয়ায় অনেক সময় গোলমালের সূত্রপাত হয়।3 যেমন, কোনও এক চিন্তকের প্রতিবেদনকে তাঁর ব্যক্তিসত্তা থেকে আগাগোড়া বিযুক্ত করে নিয়ে ভাবাদর্শ নামক একটি তৃতীয় সত্তাকে জনয়িতা হিসেবে ধরে নেওয়ার প্রবণতা এই ধরনের গোলমালের একটা নিটোল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের আরেক কিসিমের প্রবণতা হল অযথা মনস্তত্ত্ব নিয়ে বেশি বিব্রত হয়ে পড়া। গিয়র্টস খানিক তাৎপর্যপ্রতীতিবাদী ঢঙে ভাবাদর্শের ভাবনাকল্পটির একটি পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব করেন। কোনও চিন্তাশীল পাঠকই গিয়র্টসের সঙ্গে মনে মনে তর্কে জড়ানোর লোভনীয় হাতছানি চট করে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু সুকুমারী ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষে তাঁর নারীচেতনা নিয়ে লিখতে বসা নিবন্ধকারের সামনে আরও গুরুতরভাবে এসে হাজির হয় সুকুমারীর নিজের বয়ান তথা তাঁর চিন্তাজালের নানা পদ্ধতিগত জট এবং ভাবাদর্শ ও চেতনার জটিল সমীকরণ।

একটু তেরছা দৃষ্টিতে তাকালে, নানা সময়ের নানা আঙ্গিকের নারীবাদ, বিশেষত সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রটিতে ম্যানহেইম প্যারাডক্সের ধারকের ভূমিকা পালন করে এসেছে। পিতৃতান্ত্রিক ভাবাদর্শের হরেক প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ, সীমানা ইত্যাদি শনাক্ত করার পদ্ধতিগত জায়গাগুলিতে গিয়র্টস-চিহ্নিত সমস্যা হানা দিয়েছে মাঝেমাঝেই। সুকুমারীর নারীচেতনার ক্ষেত্রে আরও এসে হাজির হয় ভাষার সমস্যা। গিয়র্টসকে দিয়ে নিবন্ধ শুরু করার আরও একটা কারণ এই ভাষার সমস্যার মোকাবিলা করা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাৎপর্যপ্রতীতির প্রশ্ন। সুকুমারীর নারীচেতনার প্রকাশ তাঁর নানা গদ্য রচনায়। নিজে নারীবাদী সংগঠনের অন্যতম মুখ ছিলেন আমৃত্যু। সেই সূত্রেও লেখালেখি করেছেন যথেষ্ট। মাঝেমধ্যে যা বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা লিখিত রূপ না পেলে জনপরিসরে সেভাবে ধারাবাহিক আলোচনার বহস তৈরি করে উঠতে পারেনি। ছাত্রছাত্রীদের মুখে তাঁর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের কিছু স্মৃতি উঠে এলেও, সুকুমারীর নিজস্ব চর্চা কার্যত আগাগোড়া মুদ্রণ সংস্কৃতি-আশ্রয়ী। বিদ্যায়তনিক চর্চার হিসেবে দেখলে সুকুমারীর সারস্বত সাধনায় নারীচেতনার দিকটি মূলত পশ্চিম ইউরোপীয় নারীবাদী ধারাগুলি সম্পর্কে বেশি ওয়াকিবহাল ও স্বচ্ছন্দ।

সুকুমারীর কাছে নারীর অধিকারের প্রশ্ন মুখ্যত হেগেল-উত্তর সামাজিক ন্যায়ের ধারণার সঙ্গে জড়িত। লিঙ্গ কেন্দ্রিক অধিকারের প্রশ্ন সুকুমারীর কাছে তেমনভাবে ধরা দেয় না। গেল শতকের সাতের দশক থেকে তাত্ত্বিকতাকে বেশি মাত্রায় আপন করে নিতে চাওয়া নারীবাদী ধারাগুলির অন্যতম দায় ছিল প্রতিনিধিত্ব, প্রান্তিকতা ইত্যাদি রাজনৈতিক প্রশ্নকে নিজেদের আওতাভুক্ত করার। অধিকারের প্রশ্নগুলির অভিমুখ, বাকভঙ্গী এমনকী বয়ানও পাল্টে গেছে ততদিনে বেশ কয়েকবার। বর্তমান প্রবন্ধ এমন দাবী করছে না যে সুকুমারীর নারীচেতনা কোনওভাবে সরাসরি এই বদলগুলির সঙ্গে আদানপ্রদানের কোনও সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছিল। বরং, পাঠক আরও বেশি করে ভাববেন সাংস্কৃতিক অপারিয়া দূরত্বের কথা যা তত্ত্বচর্চায় এরকম কোনও সম্পর্ক স্থাপন বা সংলাপ সাধন করাতে পারেনি।

প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের গবেষক সুকুমারী সাহিত্য সমালোচনাকেই তাঁর নারীচেতনার প্রকাশক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁর লেখক জীবনের এই পর্যায় মোটামুটিভাবে শুরু নয়ের দশকে। ততদিনে সুকুমারী The Indian Theogony, Literature in the Vedic Age বা History of Classical Sanskrit Literature লিখে ফেলেছেন। এ ধরনের এনসাইক্লোপিডিয়াধর্মী কাজের পরিবর্তে আকারে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট অভিমুখের বাংলা ও ইংরেজি প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনাতেই মনোনিবেশ করছেন তিনি। এই পর্যায়েরই প্রবন্ধ সংকলন ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত Women and Society in Ancient India যা পরবর্তীকালে বাংলা অনুবাদে প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ নামে বিপুল জনপ্রিয়তা পাবে পাঠক মহলে। এ বইয়ের প্রবন্ধগুলির বেশিরভাগই প্রাচীন ভারতে নারীর অধিকার ও অবস্থানের প্রশ্ন নিয়ে ভাবিত। শেষ তিনটি প্রবন্ধ এই ধারাবাহিকতার সাপেক্ষে সামান্য ব্যতিক্রমী। পদ্ধতিগত দিক থেকে সুকুমারীর সাহিত্য সমালোচনার তরিকা সহজবোধ্য। তাঁর কাছে অধিকার, প্রান্তিকতা, প্রতিনিধিত্ব এবং উপস্থাপনার মত রাজনৈতিক প্রশ্নগুলি আসে মূলত সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন হিসেবে। নারীর প্রান্তিকায়নের সমস্যাটিকে সুকুমারী দেখেন এক ধরনের সামাজিক অন্যায় হিসেবে।

সুকুমারীর এ পর্যায়ের লেখালেখির তাত্ত্বিক বুনিয়াদ বেশ খানিকটা ভরসা করে সংস্কৃত সাহিত্য প্রাচীন সমাজের বিশ্বস্ত প্রতিচ্ছবি এই ধরনের একটি স্বতঃগ্রাহ্য কল্পনায়। ইতোমধ্যেই, নয়ের দশকের আগেই ইউরোপে নানা কিসিমের নারীবাদী তত্ত্বায়নের জোয়ারে সাহিত্যের বিশ্বস্ততার খুঁটি উপরে গেছে। প্রান্তিকায়নের রাজনীতি নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় representation শব্দটির দ্বিবিধ অর্থের কথাও যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে ততদিনে।4 সুকুমারী এই তরঙ্গের বাইরে কলকাতায় কিছুটা নিভৃতে নিজস্ব পদ্ধতিতে গবেষণা চালিয়ে গেছেন, নারীর প্রান্তিকায়নের দৃষ্টান্ত তিনি খুঁজেছেন সংস্কৃত সাহিত্যে। কিন্তু সেক্ষেত্রে উপস্থাপন অর্থে representation নিয়ে তিনি ততটা ভাবিত হননি, বরং অধিকারের ক্ষেত্রে অসাম্য এবং প্রতিনিধিত্বের অর্থে representation নিয়ে ভাবিত থেকেছেন তিনি। বইয়ের প্রথম প্রবন্ধ “বৈদিক যুগে নারী”-তে যেমন, ঋগবেদের নানা শ্লোকে উঠে আসা বিভিন্ন চিত্রকল্পের নিবিড় পাঠের মাধ্যমে নারীর স্বাধীন বিচরণ বিষয়ে সেই সমাজের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। এ বইয়ের সামগ্রিক প্রতিপাদ্যের দুটি দিক: প্রথমত, প্রাচীন ভারতে নারীর অবস্থান বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ছিল – এ হেন দৃঢ় অনুসূত ধারণার খণ্ডন। দ্বিতীয়ত সুকুমারী প্রমাণ করেন, বৈদিক যুগের প্রথম পর্বে, অর্থাৎ সংহিতা গ্রন্থনের পর্যায়ে, শস্ত্রচালনা ও শাস্ত্রালোচনায় নারী ও পুরুষের সমানাধিকার স্বীকৃত হলেও ভারতভূমিতে আর্য বসতির স্থায়িত্বকরণের সমান্তরালে নারীর এই অধিকারগুলি খর্ব হতে থাকে।

বইয়ের পরবর্তী প্রবন্ধগুলিতে নির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অধিকার খর্ব হওয়ার অসংখ্য দৃষ্টান্ত আলোচিত হয়েছে। সুকুমারী দেখিয়েছেন বৈদিক যুগের এই পর্যায় থেকে পরবর্তী যুগে কীভাবে একে একে নারী উপনয়নে, বেদাধ্যয়নে, আনুষ্ঠানিকতায়, সম্পত্তিতে এবং শেষে নিজের শরীর ওপর থেকে অধিকার হারায়। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নারীর অর্থনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত প্রবন্ধটি, যার প্রাথমিক খসড়া ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি (EPW) পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই প্রবন্ধে সুকুমারীর বিশ্লেষণী দৃষ্টি পদ্ধতিগতভাবে সরাসরি মার্ক্সবাদী। স্ত্রীধন কীভাবে প্রাচীন সমাজে নারীর বিচ্ছিন্নায়নের অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠেছিল তা দেখিয়েছেন তিনি। 

একটি নির্দিষ্ট সমাজগোষ্ঠীতে নারীর অবস্থান বিচার করতে গিয়ে সুকুমারী সেই সমাজের ঐতিহাসিকতা  বিস্মৃত হন না। জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব স্থানিক ও কালিক চারিত্রিকতা, সীমাবদ্ধতা খেয়াল রেখেই তিনি সন্দর্ভ পেশ করেন। “তনয়া” বা “The Girlchild” প্রবন্ধটি এর অন্যতম দৃষ্টান্ত। তবে এক্ষেত্রেও প্রশ্ন ওঠে প্রাচীন সাহিত্য ও সমাজের সাপেক্ষে তাঁর আধুনিক সমাজের ভাইফোঁটা, জামাইষষ্ঠী ইত্যাদি অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা বিচারের প্রকল্পটিতে। তাঁর সংশয়ের যৌক্তিকতা এ দিক থেকে প্রশ্নাতীত, কিন্তু যুক্তিক্রমের পুনর্বিবেচনা জরুরি। প্রাচীন যুগের সাহিত্য এবং বর্তমান সমাজের অভিজ্ঞতালব্ধ বাস্তবতার মধ্যে যে বুনিয়াদি কাঠামোগত ধারাবাহিকতা কল্পনা করেন সুকুমারী, পরক্ষণেই তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে তা স্ববিরোধী হয়ে যায়। বস্তুত, প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ  বইয়ে এ প্রবণতা মাঝেমাঝেই উপস্থিত।

সুকুমারীর নারীচেতনার পরিণততর প্রকাশ বিবাহপ্রসঙ্গে, এয়োতি এবং ইত্যাদি ছোট বইগুলিতে। সুকুমারী এ বইগুলিতে সরাসরি বর্তমান সমাজের নানা পুংবাদী প্রবণতা, লৈঙ্গিক অসাম্য প্রভৃতিকে সরাসরি চিহ্নিত করেন, এবং আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তার নানা প্রতিচ্ছবি চিহ্নিত করেন তিনি। কবিতা সিংহর “জ্বলন্ত রমণী” কবিতার চিত্রকল্পে এই প্রকল্প সহজবোধ্য: “বুকের উপরে তাঁর রক্ত শোষে ঐতিহ্যের জোঁক”।5 সুকুমারী ঐতিহ্যের জোঁককে চিহ্নিত করতে সিদ্ধহস্ত। এ প্রসঙ্গে সুকুমারীর একটি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। “এয়োতি এবং” প্রবন্ধে তিনি প্রমাণ করেছেন, সিঁদুর, নোয়া, পলা, আলতা ইত্যাদি মাঙ্গলিক চিহ্নগুলির তাৎপর্য কীভাবে প্রাচীন আর্যশাস্ত্র থেকে আধুনিক কালের আচার ও আনুষ্ঠানিকতায় বিবর্তিত হয়েছে। সিঁদুরে মাঙ্গলিকত্বের সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক এবং পাঠভিত্তিক অর্থ অনুসন্ধানের পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক তাৎপর্যটি নিয়েও ভাবিত হয়েছেন। এই সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিকটি ভাবাদর্শের প্রশ্নে গিয়র্টস কথিত সমাধানের দিকে নিয়ে যায়। আদৌ কি সাংস্কৃতিক স্তরে নানা ভাবাদর্শ সদাসর্বদা আবশ্যিকভাবে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে মত্ত? এরকম মেকিয়াভেলিয়ান ভাবকল্পের পেছনে যুক্তিটাই বা কী? সুকুমারীর শেষপর্যায়ের লেখালেখি এধরনের সংঘর্ষময় ভাবজগতের কল্পনা থেকে বেরিয়ে এসে সংস্কৃতির তাৎপর্য অনুধাবনের পথে হাঁটতে চেয়েছিল। একুশ শতকের নারীবাদী দৃষ্টিকোণগুলি নিজেদের পদ্ধতিগত আঙ্গিকে ভাবাদর্শের প্রশ্নের পাশাপাশি এই তাৎপর্য অনুসন্ধানের পথে হাঁটার কথা নিশ্চয়ই চিন্তা করবে।

বস্তুত, আজকের দিনে সুকুমারী ভট্টাচার্যের নারীচেতনাবাদী লেখালেখির পুনঃপাঠের অর্থ আসলে সুকুমারীর পরিশ্রম এবং অঙ্গীকারকে অনুধাবন করা। ভাষাগত ব্যবধানের ভিতের ওপর গড়ে ওঠা প্রাচীন সাহিত্যের অগম্য মসনদের দরজা আমজনতার জন্য খুলে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই না, সে মসনদে রক্ষিত নানা মহার্ঘ্য মর্যাদাসিক্ত সাহিত্যসম্ভারের অজস্র দ্রষ্টব্য পংক্তি চিনিয়ে দিয়ে যেচে এক যথার্থ পথনির্দেশকের ভূমিকা স্বস্কন্ধে তুলে নিয়েছেন তিনি। আজকের নারীবাদী সমালোচকের কর্তব্য এহেন গবেষক-লেখকের এই পরিশ্রম, আত্মনিবেদন এবং অঙ্গীকারবদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাঁর গবেষণার পদ্ধতিগত দিক এবং অনুসিদ্ধান্ত-প্রতিপাদ্যগুলির পুনর্বিচারে উৎসাহী হওয়া। আনুষঙ্গিক কর্তব্য: ব্যক্তি সুকুমারী ভট্টচার্যের বহুচর্চিত মার্কসবাদী-নারীবাদী ভাবাদর্শের দিকটিকে সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের আওতায় আনলে অনিবার্যভাবে তৈরি হওয়া মানহেইমের প্রহেলিকার মোকাবিলা কীভাবে সম্ভব সেই পথ খোঁজা।

চিত্রঋণঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *