ছোটগল্প

ঝাঁঝ

নলিনীবালা কখনো সরাসরি কথা বলতে পারেননি স্বামীর মুখে। আর একবার যদি তুমি সরাসরি কথা বলার অভ্যাস হারাও, কারোর সাথেই আর বলতে পারবে না। জমাদার বা কলের মিস্তিরি-র সংগেও না। মানে পুরুষমানুষ হলেই তাকে কোনো কথা বলার আগে পাঁচবার ভাবতেন, মুখ যেন কে আটকে ধরত। মেয়েদের সঙ্গে অবশ্য কোনো সমস্যা নেই। কাজের মেয়ে, তস্য মেয়ে, তাদের মুখ খারাপ করেন নি, কিন্তু বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে শুনিয়ে দিতে পারতেন বেশ। সে ভাবে ভেবে দেখলে পুরুষদের সব অন্যায় আবদার সহ্য করে নেওয়া আর মেয়েদের কারুকে কোনদিন ছেড়ে কথা বলেননি নলিনী। মেয়েদের পোশাক, মেয়েদের চলনবলনের উপর খবরদারি করে স্বামীসকাশে নিজের কথা না বলাটাকে উশুল করে নিতেন উনি।

শেয়ার করুন

মহামারী

এই রাণীর রাজা না থাকলেও স্বামী ছিলেন বিলক্ষণ। তবে বারো বছরের সংক্ষিপ্ত স্বামীসঙ্গে ছয়টি জীবিত ও একটি মৃত সন্তানের গর্ভদানের পর তিনি গত হন, অতঃপর দীর্ঘ চল্লিশ বছরের বৈধব্য। ১০ বছর আগে ইস্তক একফালি জমির শাকসব্জী গাঁটরি বেঁধে কলকাতার বাজারে বেচে আসতেন। একদিন রাত্তিরে স্বপ্ন দেখে হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি করতে গিয়ে বাম হাতটা কনুই থেকে ভাঙল। ডাক্তার বলেছিল অপারেশন করতে হবে। মঞ্জুরাণীর চোদ্দগুষ্টির কেউ কোনওদিন অপারেশন করায়নি। হঠাৎ এসে মঞ্জুরাণীর জন্য সে নিয়ম বদলাবে এমনটা কল্পনা করা ভুল। বাস্তবেও তেমনতর কিছু ঘটেনি। মঞ্জুরাণীর কনুই থেকে হাতটা তিনকোণা হয়ে বিপ্রতীপ কোণে বেঁকে ঝুলে থাকল।

শেয়ার করুন