নারীবাদী গল্প

ঝাঁঝ

নলিনীবালা কখনো সরাসরি কথা বলতে পারেননি স্বামীর মুখে। আর একবার যদি তুমি সরাসরি কথা বলার অভ্যাস হারাও, কারোর সাথেই আর বলতে পারবে না। জমাদার বা কলের মিস্তিরি-র সংগেও না। মানে পুরুষমানুষ হলেই তাকে কোনো কথা বলার আগে পাঁচবার ভাবতেন, মুখ যেন কে আটকে ধরত। মেয়েদের সঙ্গে অবশ্য কোনো সমস্যা নেই। কাজের মেয়ে, তস্য মেয়ে, তাদের মুখ খারাপ করেন নি, কিন্তু বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে শুনিয়ে দিতে পারতেন বেশ। সে ভাবে ভেবে দেখলে পুরুষদের সব অন্যায় আবদার সহ্য করে নেওয়া আর মেয়েদের কারুকে কোনদিন ছেড়ে কথা বলেননি নলিনী। মেয়েদের পোশাক, মেয়েদের চলনবলনের উপর খবরদারি করে স্বামীসকাশে নিজের কথা না বলাটাকে উশুল করে নিতেন উনি।

শেয়ার করুন

সরণ

অর্ধেক ডিম খেতে খেতে সে মায়ের চিৎকার শোনে, কি নোংরা নোংরা কথা বলে মা! তাদের বাংলা স্যার বলেন, সুন্দর করে কথা বলাটা একটা শিল্প। প্রতিটা শব্দ ধীরে ধীরে উচ্চারণ করবে। ফ্যাক করে হাসি পায় আভার। স্যারের বাড়িতে সবাই সুন্দর করে কথা বলে! জলপাইগুড়ি থেকে আসেন স্যার। কবিতা লেখেন পত্রিকায়, নিজেই বলেছেন। যদি উনি জানতেন আভাদের বাড়িতে সবাই কেমন করে কথা কয়! মা কথায় কথায় শতেকখোয়ারি, জন্মের পাপ, বথুয়া বলে নিভাকে, তাকেও; মাকে একটুও সুন্দর লাগে না তার। বাবার অফিসের সাহেবের ছেলের বিয়েতে যখন তাদের বাড়ির সবাইকে নেমন্তন্ন করেছিল, জ্বর আসছে বলে যায়নি আভা। আসলে সে ওদের সাথে যেতে চায়নি। মা আর নিভা লাল লিপস্টিক মেখে, রজনীগন্ধা সেন্টের গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে গেছিল। ওরা চলে যাওয়ার পর কুয়ার পাড়ে বসে গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করে ছিল সে।

শেয়ার করুন

মহামারী

এই রাণীর রাজা না থাকলেও স্বামী ছিলেন বিলক্ষণ। তবে বারো বছরের সংক্ষিপ্ত স্বামীসঙ্গে ছয়টি জীবিত ও একটি মৃত সন্তানের গর্ভদানের পর তিনি গত হন, অতঃপর দীর্ঘ চল্লিশ বছরের বৈধব্য। ১০ বছর আগে ইস্তক একফালি জমির শাকসব্জী গাঁটরি বেঁধে কলকাতার বাজারে বেচে আসতেন। একদিন রাত্তিরে স্বপ্ন দেখে হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি করতে গিয়ে বাম হাতটা কনুই থেকে ভাঙল। ডাক্তার বলেছিল অপারেশন করতে হবে। মঞ্জুরাণীর চোদ্দগুষ্টির কেউ কোনওদিন অপারেশন করায়নি। হঠাৎ এসে মঞ্জুরাণীর জন্য সে নিয়ম বদলাবে এমনটা কল্পনা করা ভুল। বাস্তবেও তেমনতর কিছু ঘটেনি। মঞ্জুরাণীর কনুই থেকে হাতটা তিনকোণা হয়ে বিপ্রতীপ কোণে বেঁকে ঝুলে থাকল।

শেয়ার করুন