Kashmiri women representation

ক্যামেরার ত্রাণকর্তা দৃষ্টি: কান্নার আধারে কাশ্মীরি নারীদের পরিচয় নির্মাণের সমস্যা

‘কাশ্মীরি নারী’ এই কি-ওয়ার্ড দুটি ইন্টারনেটে কাশ্মীরি নারীকে দুটো খুব আলাদা ধরনের এবং প্রায় পরস্পরবিরোধী ছবি হিসাবে উপস্থাপন করে। ফটোগ্রাফগুলির একাংশ কাশ্মীরি মহিলাদের ফর্সা এবং সুন্দরী রূপে কল্পনা করতে নিবদ্ধ থাকে, যারা সর্বদা ঐতিহ্যবাহী উজ্জ্বল পোশাক পরে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসেন। অন্যান্য ছবিগুলি শুধুই শোকের, যা দৃশ্যত করুণ, ফ্যাকাশে, মধ্যবয়সী মহিলাদের উপস্থাপন করে। এই ফটোগুলিতে উপস্থাপিত দুঃখ ও শোক কাশ্মীর উপত্যকায় হিংসা বৃদ্ধির পরিণতি এবং প্রতিক্রিয়া। ছবিগুলির প্রথম অংশ কাশ্মীরি মহিলাদের সম্পর্কে চিরকালীন ‘বহিরাগত’ (ভ্রমণকারীরা, উপনিবেশবাদী, শাসক, পর্যটক, ফটোগ্রাফার, গবেষক) দৃষ্টির প্রত্যুত্তর করার লক্ষ্যে মূলনিবাসী কাশ্মীরি মহিলার এক অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি করে। অন্যদিকে ছবির দ্বিতীয় অংশ, বিশেষ করে গত দুই দশকে চিত্রসাংবাদিক এবং সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার আলোকচিত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কাশ্মীর সম্পর্কিত বিভিন্ন লিখিত বা দৃশ্যশ্রাব্য আখ্যানের ক্ষেত্রে ফিচার, কভার বা পোস্টার হিসাবে সহায়ক এই সমস্ত ছবি ইন্টারনেট মাধ্যমে একধরনের পুনর্জীবন লাভ করে।

Kashmiri women representation

চিত্র ১

প্রথম ভাগের ছবিতে উপস্থাপিত দৃশ্যগুলির সমস্যা কাশ্মীরি জনসাধারণের মধ্যে আলোচিত এবং প্রতিফলিত হলেও দ্বিতীয় অংশের ছবিগুলির চাতুর্য নিয়ে প্রায় কথাই হয় না। এর কারণ, কঠোর নজরদারির মুখে, তীব্র শোক ও ব্যথার এই ছবিগুলি কাশ্মীর সম্পর্কে রাষ্ট্রের ‘স্বাভাবিকতা’-র বিবরণ মোকাবিলায় এক দিক দিয়ে সহায়তা করে। কাশ্মীরের মানুষের কষ্টের কাহিনী নথিভুক্ত করার উপর নিষেধাজ্ঞা ভাঙার ক্ষেত্রে যেহেতু এই ছবিগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেহেতু এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন এটা নয় যে ইন্টারনেটে শোকার্ত কাশ্মীরি মহিলাদের ছবি কেন পাওয়া যায়, বরং জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন, কেন এই শোকের ছবিই কাশ্মীরি মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রধান বা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হয়ে উঠেছে? তাঁদের অশান্ত রাজনৈতিক অতীত এবং বর্তমানের প্রতিক্রিয়ায় কি কাশ্মীরি মহিলারা শুধুমাত্র চোখের জলকেই হাতিয়ার করেছেন? যদি তা না হয়, তাহলে কেন শুধু এই একটি বিশেষ ধরনের আবেগপ্রবণ প্রদর্শনের মাধ্যমেই কাশ্মীরি নারীদের চিত্রায়িত করা হয়?

Kashmiri women representation

চিত্র ২

কাশ্মীরের যেকোনো খবরের সঙ্গেই কাশ্মীরি মহিলাদের শোকার্ত ছবি জুড়ে দেওয়া হয়, যা উদ্বেগজনক। কাশ্মীরের সঙ্ঘর্ষের বিভিন্ন দিকের উপর লেখা প্রবন্ধের এইসমস্ত ছবিতে দেখা যায় – কাশ্মীরি মহিলাদের উপর মহামারীর প্রভাব (চিত্র ২), সংঘর্ষের বাস্তবতা কিভাবে কাশ্মীরি মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে (ছবি ৩), সংঘর্ষের পটভূমিকায় মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের শ্রেণিবিভাজন (চিত্র ৪), কাশ্মীরের প্রতিরোধ আন্দোলনে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা (চিত্র ৫), এবং কাশ্মীরের উপর একটি আলোচনার পোস্টার ছবির দৃশ্য (চিত্র ৬)। আশ্চর্যজনকভাবে এই নিবন্ধগুলিতে (ইন্টারনেটে এমন অনেক নিবন্ধ পাওয়া যায়) লিখিত বিষয়বস্তুর সাথে সরাসরি প্রাসঙ্গিক না হওয়া সত্ত্বেও শোকাহত কাশ্মীরি মহিলাদের ছবিগুলি সহায়ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। দৃশ্যায়নের এই ব্যাপকতার জন্যই প্রশ্ন ওঠে, এই ছবিগুলি কেন কাশ্মীর এবং কাশ্মীরি মহিলাদের প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি হয়ে ওঠে? 

Kashmiri women representation

চিত্র ৩

শুধু ভিজ্যুয়াল নথির ভিত্তিতে যদি কাশ্মীরের সংঘর্ষে নারীদের ভূমিকার সন্ধান করতে হয়, তাহলে সংঘাতের নিষ্ক্রিয় শিকার হিসেবে কাশ্মীরি নারীদের একটি অত্যন্ত স্থূল চিত্রায়ণ উঠে আসে। এই সব দৃশ্যের ভান্ডারে কাশ্মীরি মহিলাদের উপস্থিতি শুধুই তাদের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে চিহ্নিত হতে থাকছে। ফটোগ্রাফের মহিলারা প্রায় সবসময়েই ক্রন্দনরত অবস্থায় ধরা পড়েন, সাধারণত একটি মৃতদেহের পাশে (আত্মীয়, জঙ্গি, প্রতিবাদী, নাগরিক) তাঁদের শোকার্ত রূপ দেখা যায়। তাঁরা প্রায়শই তীব্র দুঃখ এবং ব্যথার একটি মুহূর্তে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানান। বিগত কয়েক দশক ধরে কাশ্মীরি মহিলাদের মুখের ছবি দিয়ে ‘সংঘাতের মূল রূপ’ তুলে ধরার জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে এই অন্তিম মিছিলগুলি। যদিও ক্যামেরায় শোকের এই চিত্রায়ণের মধ্যে সে অর্থে কিছু ভুল নেই (ব্যক্তির সম্মতিক্রমে ছবি তোলা হলে), তবে কাশ্মীরের সীমিত চাক্ষুষ ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরি মহিলাদের নির্দিষ্ট এক ধরনের ছবির পুনরাবৃত্তি করার এই ধারাকে পুনর্মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাশ্মীরি নারীরা কাঁদেন বা শোকপালন যেমন করেন, অথবা কান্না কখনোই প্রতিরোধ হয়ে উঠতে পারে না এমনটা নয়; তেমনিই, অন্যদিকে, তাঁরা রাগ করেন, কাজ করেন, দৌড়তে পারেন, প্রতিবাদ করেন, বাচ্চাদের বড় করেন, বাজার, রাস্তায় এবং গণপরিবহনে সশস্ত্র ও নিরস্ত্র পুরুষদের অসম্মানসূচক দৃষ্টি এবং হয়রানির সাথে লড়াই করেন। তাঁরা দখল, সামরিকীকরণ, পিতৃতন্ত্র, যৌন হয়রানি, দারিদ্র্য, গার্হস্থ্য নির্যাতন, জাতিবাদ, বৈষম্য, বেকারত্বকে প্রতিদিন বিভিন্নভাবে প্রতিরোধ করেন। তাহলে কেন চিত্রসাংবাদিক ক্যামেরা শুধু কাশ্মীরি নারীদের কান্নার চিত্রে মত্ত? আর ক্যামেরার সামনে শুধু এক ধরনের কান্নাই বা দেখা যায় কেন?

চিত্র ৪

 

চিত্র ৫

কাশ্মীরি নারীদের আবেগতাড়িত চিত্রায়ণের বহুল প্রচলন, যা বারবার নির্মাণ করা হয়, সংরক্ষণ করা হয় এবং পুনরুৎপাদন করা হয় তা উদ্বেগজনক কারণ এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, কাশ্মীর সম্বন্ধিত জ্ঞান ও আলোচনার দায়িত্বে থাকা শক্তির কাছে কাশ্মীরি মহিলাদের অবস্থান ঠিক কী। কাশ্মীরি মহিলারা প্রাথমিকভাবে সংঘাতের শোকে জর্জরিত শরীর মাত্র, এবং তাঁদের শ্রম (শারীরিক, রাজনৈতিক, মানসিক) এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাঁরা যে ভূমিকা পালন করেন সেগুলি এক্ষেত্রে গৌণ, ফলে ক্যামেরায় তাঁদের সেই চিত্র তুলে ধরা  যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়। সমাজে তাঁরা যে ভূমিকা পালন করেন তার অ-স্বীকৃতি এবং অদৃশ্যকরণ সক্রিয়ভাবে কাশ্মীরি নারীদের বিভিন্ন ধরনের সংগ্রামের আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরতে সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সংঘর্ষের বাস্তবতা শুধুমাত্র মৃত্যু এবং যৌন হিংসা হিসেবেই  কাশ্মীরি মহিলাদের উপর প্রভাব ফেলে না, যদিও এগুলিই একমাত্র ক্ষেত্র হয়ে ওঠে যেখানে সংঘর্ষ সম্পর্কে কাশ্মীরি নারীদের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। কাশ্মীরি নারীদের প্রতি এই ধরনের ত্রাণকর্তা সূচক মনোভাব কেবল তীব্র যন্ত্রণা এবং শোকের মুহূর্তেই তাঁদের দৃশ্যমান করে। এই ধরনের চিত্রায়ণের ফলে কাশ্মীরি মহিলাদের জটিল বাস্তবতা এবং তাঁদের সংগ্রাম একভাবে মুছে ফেলা হয়। কাশ্মীরের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, প্রতিবাদী, বুদ্ধিজীবী, তত্ত্বাবধায়ক, কর্মী এবং আরও অনেক কিছু হিসাবে নারীরা যেসব তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, এই ধরনের একমাত্রিক চিত্রায়ন সেই সমস্ত ভূমিকার বিভিন্নতাকে মুছে ফেলতে সাহায্য করে। 

চিত্রায়ণের মাধ্যমে সহানুভূতি নয়, সংহতি তৈরি করা

চিত্র ৬

ইন্টারনেটে কাশ্মীরি মহিলা বিষয়ক ভিজ্যুয়াল সম্পদ দেখে, এটা জিজ্ঞাসা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, এই ছবিগুলির মধ্যে ক’টি কাশ্মীরি নারীদের তোলা? কতজন কাশ্মীরি নারী এই ছবির ভাণ্ডার তৈরিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন? কতজন তাঁদের নিজস্ব আত্মপরিচয়ের এই উপলব্ধি গঠনে অবদান রেখেছেন? উত্তর, খুব নগণ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেসব আলোকচিত্রীরা এই দৃশ্য তৈরি করেছেন, এবং কাশ্মীরি নারীদের উপর এই পরিচয় চাপিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা পুরুষ (কাশ্মীরি এবং অ-কাশ্মীরি)। প্রতিনিধিত্বের রাজনীতি বোঝার জন্য ফটোগ্রাফারের পরিচয়ের রাজনীতি বোঝা খুবই জরুরি। আলোকচিত্রীরা তাঁদের ক্ষমতার অবস্থান ধরে রাখেন; তাঁদের রাজনীতি, অংশগ্রহণ, বৌদ্ধিক আবেগ এবং দক্ষতা ছবির ফ্রেমে ধরা পড়া মুহূর্ত, ছবির চারপাশে তৈরি করা আখ্যান এবং ছবিগুলি দর্শকদের মধ্যে কী ধরনের আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে – সেই সবই নির্ধারণ করে। চিত্রসাংবাদিকতার আঙিনায় কাশ্মীরি মহিলাদের উপস্থাপনের প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে হতে পারে, মহিলাদের কান্নাকাটি ও শোকের ছবি তোলার পিছনে কাশ্মীরের সংঘর্ষের মানবিক মূল্য প্রকাশ করার মাধ্যমে দর্শকদের আবেগে ঘা দেওয়াই এই সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য। জন বার্জার দর্শকদের হতবাক করার ক্ষেত্রে এই ক্ষমতাকেই বলেছেন ফটোগ্রাফের বিদ্ধ করার ক্ষমতা। ফটোগ্রাফে মহিলাদের চোখের জল কাশ্মীরি নারীদের যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে দর্শকদের বিবেককে জাগিয়ে তুলতে চায়। এখানে জাগিয়ে তোলা আবেগ হল সহানুভূতি। দর্শকরা ফটোগ্রাফে উপস্থাপিত মহিলাদের প্রতি যে সহানুভূতি অনুভব করেন, তা তাঁদের নিজস্ব মানবতাকে জাগিয়ে তুলবে। এই ভাবেই কাশ্মীরি মহিলাদের যে শোক তাঁরা ছবিতে দেখতে পান, সেই কষ্টের একটি অংশ দর্শকরা ভাগ করে নেবেন। অথচ, কাশ্মীরি মহিলাদের যা প্রয়োজন তা সহানুভূতি নয়, বরং সংহতি।

Kashmiri women representation

চিত্র ৭

রাজনৈতিকভাবে, সহানুভূতি একটি নিষ্ক্রিয় আবেগ। এটি প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার কাঠামোকেই স্থায়ী করে, এবং সহানুভূতির মাধ্যমে যা যা আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়াগুলি জন্ম নিতে পারে, তা সীমিত। রাজনৈতিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে, অন্যদের যন্ত্রণা স্বীকার করে মানুষ নিজের মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে, এবং এতে তাঁদের আত্মতুষ্টি ঘটে, আর সেখানেই সহানুভূতি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সংহতি তৈরির ক্ষেত্রে কীভাবে ফটোগ্রাফের বিদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত, যুদ্ধের ছবিগুলির অন্তর্দ্বন্দ্ব সম্পর্কে জন বার্জারের মন্তব্যগুলি তা বোঝার জন্য প্রাসঙ্গিক। তিনি বলছেন, “যে দর্শককে ফটোগ্রাফ দ্বারা বিদ্ধ করা হয়েছে তিনি হয়তো এই বিচ্ছিন্নতাকে নিজের ব্যক্তিগত নৈতিক অক্ষমতা হিসাবে ভাবতে পারেন। এবং যে মুহূর্তে এটি ঘটে, সেই মুহূর্তে তাঁর প্রাথমিক ধাক্কাও কেটে যায়: যুদ্ধে যত অপরাধ ঘটে সেগুলি আর তাঁর নিজের নৈতিক অক্ষমতা দুটোই দর্শককে একইভাবে পীড়া দেয়। হয় তিনি এই অক্ষমতাকে নিত্য পরিচিত হিসাবে কাটিয়ে ওঠেন, অথবা এক ধরনের প্রায়শ্চিত্ত করার চিন্তায় রত হন…।”

কাশ্মীরি নারীদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংহতি তৈরি করার প্রয়োজন আছে। কেবলমাত্র সহানুভূতির অনুভূতি যা প্রত্যক্ষ কর্মসূচীতে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই বিলীন হয়ে যায় তাকে অতিক্রম করার প্রয়োজন আছে। রাজনৈতিক সংহতি অতীতের সংগ্রাম এবং সহযোগিতার স্বীকৃতির মাধ্যমে নির্মিত হয়, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মসূচী স্থির করতে সহায়তা করে। পুরুষ ফটোগ্রাফার কর্তৃক ছবি তোলার মাধ্যমে সহানুভূতি তৈরির প্রকল্পটি লিঙ্গ রাজনীতি, শ্রেণী পার্থক্য এবং ‘বহিরাগত দৃষ্টি’-র আত্তীকরণের মাধ্যমে নির্মিত হয়। ‘বহিরাগত দৃষ্টি,’ যার ফলে কাশ্মীরি নারীরা হয় তাঁদের চরম সৌন্দর্য বা চরম যন্ত্রণায় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, বেশিরভাগ তরুণ ফটোগ্রাফারদের ছবিতেই এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষত পুরুষ এই ফটোগ্রাফাররা এমন পেশাদার জায়গাগুলিতে কাজ করেন, যেখানে কাশ্মীরি মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব এবং কণ্ঠস্বর নেই। ফলে তাঁদের চিত্রায়ণে কাশ্মীরি নারীরা আসলে কেমন, তার বদলে এই নারীদেরকে তাঁরা কেমনভাবে দেখেন তা-ই মূলত ধরা পড়ে। অন্যদিকে মাসরাত জাহরা (চিত্র ৭), সান্না ইরশাদ মাত্তোর মতো তরুণ ও সপ্রতিভ মহিলা ফটোগ্রাফারদের ছবিগুলি গণমাধ্যমে পরিচিতি এবং সত্তার প্রতিনিধিত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ সেদিকে আলোকপাত করে। এই মহিলা ফটোগ্রাফারদের ছবিতে যে মহিলারা ধরা পড়ে তাঁরাও সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার নারী, কিন্তু তাঁদের জীবনে সূক্ষ্মতা এবং জটিলতা রয়েছে। এঁদের ছবিতে শুধুই শোকের একমাত্রিক চিত্র নির্মাণকে পেরিয়ে কাশ্মীরি মহিলাদের, তাঁদের পূর্ণতা, আত্মমর্যাদা এবং জটিলতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার দৃশ্যায়নের  প্রচেষ্টা রয়েছে। যখন ফটোগ্রাফাররা একটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাঁদের সেই প্রতিনিধিত্বের নৈতিক ও আদর্শগত দায়িত্বও নিতে হবে। ফটোগ্রাফিক চর্চার পরিসরে কাশ্মীরি মহিলাদের ছবির ফ্রেমে বন্দী করার মাধ্যমে নির্দিষ্টভাবে দৃশ্যায়িত করে তাঁদের একমাত্রিক আখ্যান তৈরি এবং প্রচারের জন্য স্থানীয় এবং অ-স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের জবাবদিহি করতে হবে।

ভাষান্তর: জিগীষা ভট্টাচার্য

সূত্র এবং চিত্রঋণ

  1. Berger, John. Understanding a photograph. Penguin UK, 2013.
  2. https://www.outlookindia.com/blog/story/no-woman-loses-property-right-in-jk-if-she-marries-a-non-state-subject/3937
  3. http://southasiajournal.net/kashmir-of-pandemic-and-sufferings/
  4. https://www.forbes.com/sites/womensenews/2012/08/29/conflict-trauma-in-kashmir-leads-to-infertility-miscarriages/?sh=5fe38874db7d
  5. https://feminisminindia.com/2019/12/02/kashmir-women-conflict-category-intersectionality/
  6. https://www.aljazeera.com/news/2011/8/2/the-militant-in-her-women-and-resistance
  7. https://theindiaobserver.com/webinar-discusses-unique-dimensions-of-kashmir-situation/
  8. https://www.wandemag.com/photo-essay-strife-masrat-zahra/ 
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *