গানের এক জীবন: উডি গাথরী ও তার সময় (প্রথম পর্ব)

“এই পৃথিবীটা এখনো এমন অনেক মানুষ এ ভর্তি যাদের আর কোথাও কোনো প্রয়োজন নেই—এমন কিছু মানুষ যারা আজও আমাদের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখতে চায়। ওরা ওদের গান করুক আর আমরা আমাদের গান গাইব।” উডি গাথরী1

উডি গাথরী ঝোড়ো মানুষ, ঝোড়ো সময়ের মানুষ। কখনো আক্ষরিক অর্থেই তা ১৯৩০-এর দশকে আমেরিকার বিস্তীর্ণ প্রেইরি সমভূমির উপর দিয়ে আসা ধুলো ঝড়, যে ঝড়ে ওই গোটা অঞ্চল এক রুক্ষ ধুলোর দেশে (Dust Bowl) বদলে যায়। টেক্সাস থেকে নেব্রাস্কা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আধুনিক গণতান্ত্রিক আমেরিকায় জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করেন। কেউ পৌঁছতে পারেন, কেউ বা পারেন না। যারা পারেন তাদের ঠাঁই হয় ঘেটোয়ে। টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো, নেব্রাস্কা আর ওকলাহোমার প্রায় আড়াই লাখ ডাস্ট বোওল রিফিউজির নতুন নাম জোটে—এরা সকলেই “ওকিজ” (Okies) —যেন ধুলোঝড় মানেই শুধু ওকলাহোমা আর তাই ধুলোঝড়ে ভিটেছাড়া মানুষ মানেই ‘ওকিজ’। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই মানুষগুলির প্রাপ্তি হয় বৈষম্য, বঞ্চনা, অর্থনৈতিক শোষণ, আর চূড়ান্ত অবজ্ঞা। ১৯২০-র শেষ থেকে ১৯৪০ অবধি ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা (The Great Depression) পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন করে তোলে। ডাস্ট বোওল পরিযায়ীদের দেখাদেখি গ্রামাঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ কাজের খোঁজে দলে দলে শহরে এসে জড়ো হন। ততদিনে ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর রং সে দেশের মানুষের চোখে অনেকটাই ফিকে। প্রবল অভাব, অবিচারের মধ্যে শ্রমজীবী, কৃষিজীবী ও প্রান্তিক মানুষ একজোট হচ্ছেন। বৃহৎ বামপন্থী ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের তখন জোয়ারের সময় আর সেই জোয়ারের নতুন ঢেউ উঠলো গান হয়ে। ১৯৪০-এ ডাস্ট বোওল রিফিউজিদের দুর্দশা আর লড়াইয়ের গল্প নিয়ে প্রকাশিত হল উডি গাথরীর প্রথম আধা-আত্মজীবনীমূলক গানের অ্যালবাম “ডাস্ট বোওল ব্যাল্যাডস্”। সেই বছরই গোড়ার দিকে গাথরীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল লিড বেলি, আর বয়সে খানিকটা ছোট পিট সিগারের সঙ্গে। ১৯৪১-এ আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয়তায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী লিবারাল ও বামেদের যৌথ মঞ্চ পপুলার ফ্রন্ট-এর অঙ্গ হিসেবে মিলর্ড লামপেল, লী হেইস, পিট সিগার ও উডি গাথরী মিলে তৈরি করলেন ‘দি আলমানাক সিঙ্গারস্’ গানের দল। সামাজিক, রাজনৈতিক, ও শ্রম আন্দোলনে মুখর মার্কিন দেশের প্রতিষ্ঠানবিরোধী গানের ধারাতেও এল নতুন এক বাঁক। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের চিরকালের গান আর প্রতিবাদের নাগরিক রাজনৈতিক অভিব্যক্তির সমকালীন তাগিদ আমেরিকার লোকসঙ্গীতের এক পুনরুজ্জীবন ঘটালো। পরের প্রজন্মের প্রগতিশীল সংগীতের ভাব ভঙ্গিও অনেকটাই নির্ধারণ করে দিল এই ধারা।

“ডাস্ট বোওল ব্যাল্যাডস্”-এর প্রকাশের মাস চারেক আগে, ১৯৪০-এর মার্চে নিউইয়র্ক শহরে গাথরী, বেলি আর সিগারের মোলাকাত এক ঐতিহাসিক’ ঘটনা কারণ এরা তিনজনে মিলে আমেরিকার গানের ইতিহাসে যে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন, একা একা বিচ্ছিন্নভাবে তা করতে পারতেন কিনা আমরা জানি না। এদের সাংগীতিক বোধ ও রুচি, রাজনৈতিক সত্তা এবং লোকসংস্কৃতির প্রতি নাড়ির টান আমেরিকার বামপন্থী প্রতিষ্ঠানবিরোধী লোকগানের ধারাকে এক নতুন জীবন দেয়, একে আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে যায়। উডি গাথরীদের এই গানের সঙ্গে তাদের ঠিক আগের প্রজন্মের প্রগতিশীল গান বাঁধিয়েদের গানের এইখানেই মৌলিক পার্থক্য। উডির আত্মপ্রকাশের এক দশক আগেও প্রগতিশীল বা প্রলেতারীয় সংগীত বলতে মূলত বিপ্লবী শ্রমিক কোরাসের গাওয়া প্রবল আত্মসচেতনভাবে পার্টিসান এক ধরনের সেমি-ক্লাসিক্যাল, আর্ট মিউজিককে বোঝা হত। নিউইয়র্ক শহর কেন্দ্রিক ‘কম্পোজার্স কালেক্টিভ’ (১৯৩২-৩৬)-এর বামপন্থী মনোভাবাপন্ন একদল অত্যন্ত শিক্ষিত শিল্পী সমকালীন রাজনৈতিক সংগ্রামের গানকে এক কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান। এদের মধ্যে রয় হ্যারিসের মতন কেউ কেউ নতুন গানের মধ্যে এক সত্যিকারের আমেরিকান আত্মপরিচয় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত নানা মিথলজির আশ্রয় নেন। কেউ কেউ অবশ্য আমেরিকার লোকসংগীত ও খ্রিস্টান স্তোত্র সমূহের লৌকিক আবেদনের দিকটি পুনরাবিষ্কার করার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু ‘কমপোজার্স কালেক্টিভ’-এর শিল্পীরা, যেমন—এলি সিগমেইস্টার, জেকব শেইফার, আর্ল রবিনসন, ল্যান আডোমিয়ন এবং পিট সিগারের বাবা চার্লস সিগার, সকলেই প্রায় ছিলেন সে দেশের সেরা সমস্ত মিউজিক কনজারভেটরির স্নাতক। তাছাড়া এরা প্রত্যেকেই প্রায় মডার্নিস্ট অস্ট্রিয়ান কম্পোজার হানস আইসলারের ভাব শিষ্য। হানস আইসলার মনে করতেন গানের রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে তার সুরের কাঠামোকেও প্রগতিশীল হতে হবে। তিনি নিজে পাশ্চাত্য সঙ্গীত রচনার ধ্রুপদী রীতিকে ভেঙে ‘টুয়েলভ টোন’ পদ্ধতির প্রবক্তা আর্নল্ড শ্যওনবর্গের ছাত্র। আইসলার ব্রেশটের বহু গানের সুরও দিয়েছেন তিনি। কাজেই একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে কম্পোজার্স কালেক্টিভ-এর সদস্যদের রচিত সংগীতের নান্দনিক ও রাজনৈতিক মূল্য যাই হোক তা আদপে আপামর শ্রমিক-কৃষকের কাছে তাদের একান্ত নিজের গান হয়ে ওঠেনি।

সে যাই হোক, নিউইয়র্ক শহর থেকে দূরে নর্থ ক্যারোলিনার কাপড় কলের শ্রমিকরা, কেন্টাকির কয়লা খনির শ্রমিকরা কিন্তু তাদের মতো করে তাদের নিজেদের গান গাইছিলেন। এলা মে উইগিনসের ‘ন্যাশনাল টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের’ সংগ্রামী শ্রমিকদের জন্য লেখা ‘এ মিল মাদার্স ল্যামেন্ট ‘, ফ্লোরেন্স রিসের বিখ্যাত গান ‘হুইচ সাইড আর ইউ অন’, কিংবা আন্ট মলি জ্যাকসনের ‘আই এম এ ইউনিয়ন ওম্যান’ বা ‘রাগেড হাংরি ব্লুজ’ এরকমই সব গান। এই সময়ে আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু লেবার কলেজের শ্রম আন্দোলনকর্মী আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের নিজস্ব লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক স্তোত্র গুলিকে নতুন করে সেই সময়কার দাবির প্রেক্ষিতে ব্যবহার করার চেষ্টা করছিলেন। পূর্ব টেনেসির হাইল্যান্ডার ফোক স্কুলের জিলফিয়া হর্টনের ‘উই উইল ওভারকাম’ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য। পিট সিগার এই গানটিকে ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ হিসেবে সামাজিক অধিকার আন্দোলনের গানে পরিণত করেন এবং শহুরে শ্রোতার কাছে গানটিকে বিপুল জনপ্রিয় করে তোলেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার কয়লাখনির শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের ‘উই শ্যাল নট বি মুভড্’ গানটিও ব্রুকউড লেবার স্কুলের সংগঠনের উদ্যোগে নিউ ইয়র্কের মানুষদের গোচরে আসে। ‘আলমানাক সিঙ্গারস্’-এর লী হেইস্ প্রথমে হাইল্যান্ডার ও পরে কমনওয়েলথ কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়ে শেখা অসংখ্য গান নিউ ইয়র্কের মানুষদের উপহার দেন। জিলফিয়া হর্টনের কথাও এখানে একটু বলা দরকার। জিলফিয়া নিজে একজন প্রশিক্ষিত গায়িকা এবং তার বাবা ছিলেন আরকানসাসের কয়লা খনির মালিক। বিখ্যাত খ্রিস্টান মার্ক্সবাদী ক্লড সি উইলিয়ামস এই কয়লা খনির শ্রমিকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। জিলফিয়া তার বাবার অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে  উইলিয়ামসের কাজের সঙ্গে যুক্ত হন এবং নিজেই ক্রমশ এক দক্ষ শ্রমিক সংগঠক হয়ে ওঠেন। পরে তিনি টেনেসির হাইল্যান্ডার ফোক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর মাইলস হর্টনকে বিয়ে করেন। লী হেইসের সঙ্গে জিলফিয়ার প্রথম পরিচয় হয় উইলিয়ামসের সূত্রেই। পরবর্তীতে হেইস হাইল্যান্ডার-এর সঙ্গে যুক্ত হলে জিলফিয়াই প্রথম তাকে সং লিডারের দায়িত্ব দেন।

এইভাবে ক্রমশ ফ্যাসিবিরোধী পপুলার ফ্রন্টের সক্রিয়তায় কমিউনিস্ট পার্টির ভিতরেও শ্রমিক আন্দোলন ও মার্কিন সংস্কৃতির সার্বিক প্রলেতারীয়করনের প্রশ্নে লোকসংগীতের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। কম্পোজার্স কলেক্টিভের গানেও লোকসঙ্গীতের নানা আঙ্গিক ও উপাদানের প্রভাব স্পষ্ট হয়। এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির ১৯৩৯ সালের রাইটার্স কংগ্রেসে প্যানেলে বক্তা হিসেবে দেখা যায় আন্ট মলি জ্যাকসন, ফোকলোরিস্ট বেঞ্জামিন এ বটকিন, আর্ল রবিনসন এবং অ্যালেন লোম্যাক্সকে। উডি গাথরীর সাঙ্গীতিক জীবনে তো বটেই, আমেরিকার লোকসঙ্গীতের পুনরুজ্জীবনের সামগ্রিক ক্ষেত্রেও অ্যালেন লোম্যাক্স-এর বিরাট অবদান রয়েছে। তিনিই উডি গাথরীর সঙ্গে পিট সিগার ও লিড বেলির দেখা করান। তিনি প্রথম লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস-এর জন্য উডির গান রেকর্ড করেন। আর সি এ ভিক্টর-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক রেকর্ডিং-এর যে চুক্তির ফলে ‘ডাস্ট বোওল ব্যালাডস’ বেরনোতেও অ্যালেন লোম্যাক্স-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

একবার এক লাইভ কনসার্টে উডি গাথরী মন্তব্য করেছিলেন, “আমি ঘটনাচক্রে ডাস্ট বোওলের মধ্যে পড়ে গেছিলাম। মানে আমি যে খুব নির্দিষ্টভাবে এর মধ্যে পড়তে চেয়েছিলাম তেমনটা নয়। কিন্তু পড়ে গিয়ে দেখলাম সেখানে আমিও আছি আর ধুলোও আছে। তখন আমার মনে হলো তাহলে এই নিয়ে ছোট্ট একটা গান লিখে ফেলি।2 উডি যতই বলুন না কেন তিনি ঘটনাচক্রে ডাস্ট বোওলের মধ্যে পড়ে নেহাত ছোট একখানা গান লেখার কথা ভেবেছিলেন, আসলে গানের মধ্যে দিয়ে তিনি ডাস্ট বোওল রিফিউজিদের যে জীবন্ত ছবি এঁকেছেন তা শৈল্পিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যে জন স্টেইনবেক-এর নভেল ‘দ্য গ্রেপস অব রথ’ (১৯৩৯), ডরোথি ল্যাঙ্-এর আলোকচিত্রের সিরিজ এবং চিত্রশিল্পী আলেকজান্ডার হোর ছবির সঙ্গে তুলনীয় এবং সম্ভবত এই সমস্ত কিছুর থেকে বেশি জনপ্রিয়। সত্যই ভয়াবহ ধুলোঝড়ে আমেরিকার দক্ষিণ ও দক্ষিণ মধ্যভাগের এতগুলি প্রদেশ বিপর্যস্ত না হলে, পারিবারিক নানা ঘাত-প্রতিঘাত উত্থান-পতনের পথ পেরিয়ে উডি গাথরী তার জন্মস্থান ওকলাহোমা থেকে টেক্সাস হয়ে ডাস্ট বোওল রিফিউজিদের সঙ্গে একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এসে না পৌঁছলে এবং লস এঞ্জেলেসের রেডিও স্টেশন কে এফ ভি ডি তে কাজ করার সূত্রে সমাজতান্ত্রিক অ্যাক্টিভিস্ট এড রবিনের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে ফ্রাঙ্কবার্ক, উইল গীয়র, এল রিচমন্ড এবং স্টেইনবেকের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য ও সাহচর্য না পেলে উডি ক্যালিফোর্নিয়ায় একজন নিছক রেডিওর লোকসংগীত শিল্পী হয়ে থেকে যেতেন কিনা সে প্রশ্ন অর্থহীন। কী হলে বা না হলে কী হতোর চেয়ে, যা হলো তা হতেই হত; উডির গোটা জীবটাই যেন তারই নজির।

১৯১২ সালে ওকলাহোমার ওকেমাতে উডি গাথরীর জন্ম। উডির বাবা চার্লস গাথরী রিয়েল এস্টেট স্পেকুলেটার আর মা নোরা বেল গাথরী। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশের ধারণা করা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের নামের অনুসারে উডির নামকরণের বিষয়টি দেখে। মজার কথা, সাধারণভাবে বর্ণ ও জাতি বিদ্বেষের প্রশ্নে রীতিমতো প্রতিক্রিয়াশীল ওকলাহোমা প্রদেশটি কিন্তু সেই সময়ে রাডিক্যাল বামপন্থী কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন এবং খ্রিস্টীয় সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারায় আলোড়িত। সমাজতান্ত্রিক চিন্তায় অনুপ্রাণিত ইউজিন ডেবস্ ছিলেন ওকলাহোমার রাডিক্যাল কৃষকদের স্থানীয় নায়ক। তিনি বিশ্বাস করতেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা একেবারে অন্তর্বস্তুগত ভাবেই ‘অন্যায্য, অমানবিক ও অযৌক্তিক’ একটি ব্যবস্থা। ১৯১৭ সালেও ওকলাহোমার ভাগ চাষীরা ‘গ্রীন কর্ন’ বিদ্রোহে সামিল হন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ও তার কনস্ক্রিপশন অ্যাক্টের বিরুদ্ধে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। ১৯১৯-২০ নাগাদ প্রথম লাল ভীতির (Red Scare) সময়ে আত্মগোপন করার আগে পর্যন্ত ওকলাহোমার তেল খনিগুলিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স অফ দা ওয়ার্ল্ডের (the Wobblies) যথেষ্ট প্রভাব ছিল। এর ঠিক উল্টোদিকে উডির পারিবারিক পরিসরে তার বাবা ছিলেন কুখ্যাত কু ক্লাক্স ক্ল্যানের সমর্থক। এই সমর্থনের পেছনে জাতিগত বিদ্বেষ যেমন ছিল তার চেয়েও বেশি ছিল সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার প্রতি তার তীব্র অবিশ্বাস ও বিতৃষ্ণা। কিন্তু উডির ওপর তার বাবার চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক শিক্ষার ফল হয়েছিল একেবারে উল্টো। তার নিজের কথায়—”At the age of about four or five years old, a long time before I went to school, I remember my dad used to teach me e little political speeches and rhymes. And I’d climb up in a hay wagon around all the the political meetings and rallies they had on the streets, and I’d make my little speeches. And it might be that I’ve turned out now where I don’t believe the speeches anymore, and I make speeches just the opposite.3 ১৯২০ সাল থেকেই উডি গাথরীর পারিবারিক জীবনে নানা বিপদ ঘনিয়ে আসে। এই সময় থেকেই চার্লসের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেউলিয়া হয়ে যান। গাথরী পরিবার শহরের এক ভগ্নপ্রায় অংশে থাকতে শুরু করে। ১৯২৩-২৪ নাগাদই উডি, জর্জ নামে এক স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ সংগীত শিল্পীর কাছে ট্রেনের হুইসেলের আওয়াজ নকল করে হার্মনিকা বাজাতে শেখেন। কার্টুন আঁকা শুরুও এই সময়ে। পারিবারিক জীবন আরো সংকটময় হতে থাকে। উডির বাবা কাজ হারান, এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে পুড়ে যান। উডির মা নোরা হাটিংটনস রোগে (তখনো অবশ্য এই দুরারোগ্য স্নায়ু রোগ সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা ছিল না ) হাসপাতালে ভর্তি হন। চার্লস টেক্সাসের প্যাম্পায় চলে যান আর উডি ১৯২৯ অব্দি ওকেমাতেই বাকি পরিবারের সঙ্গে থেকে যান। ১৯২৯-এ হাসপাতালে নোরার মৃত্যু হয়। উডি স্কুলের পাঠ চুকিয়ে প্যাম্পায় বাবাকে সাহায্য করতে চলে যান। এই সময় থেকেই বিজ্ঞাপনের জন্য সাইনবোর্ড লেখা আর কার্টার ফ্যামিলি রেকর্ডস থেকে গিটার শেখার শুরু। এর পরের বছর উডি তার দুই বন্ধু ম্যাট জেনিংস ও ক্লাস্টার বেকারের সঙ্গে প্রথম কান্ট্রি গানের দল ‘দ্য কর্ন কব ট্রায়ো’ তৈরি করেন। ১৯৩৩-এ ম্যাটের বোন মেরি জেনিংসকে বিয়ে করেন। ১৯৩৪-এ প্রথম গান লেখেন, “ওল্ড গ্রে টিম অব হরসেস”। স্টিক পরের বছর ১৪ এপ্রিল পাম সানডের দিন এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ধুলো ঝড় আছড়ে পড়ে প্যামপায় আর উডি রচনা করেন তার প্রথম দুটি ধুলোর গান—”দ্য গ্রেট ডাস্ট স্টর্ম” ও “ডাস্টি ওল্ড ডাস্ট”।

[চলবে]

গানের লিংক:

১. https://youtu.be/Q69onG2nXtg

২. https://youtu.be/Nzudto-FA5Y

৩. https://youtu.be/zBqusj2QsUo

৪. https://youtu.be/QX8VkplcgSs

৫. https://youtu.be/6tFvhg3fSoc

৬. https://youtu.be/M_Ld8JGv56E

৭. https://youtu.be/A3cJ7GVoOdA

৮. https://youtu.be/J34m9ppG3Bo

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *